alt

উপ-সম্পাদকীয়

পদ্মা সেতু : স্বপ্ন এখন বাস্তব

মিহির কুমার রায়

: শুক্রবার, ২৪ জুন ২০২২
image

দেশের মানুষের অর্থায়নে প্রমত্তা পদ্মায় যে সেতু গড়ে উঠছে শুরুতে সে প্রকল্পে একটি বড় অর্থায়ন করার কথা ছিল বিশ্বব্যাংক ও কয়েকটি বিদেশি উন্নয়ন সংস্থার। তখন এই প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ হাজার কোটি টাকা। মোট অঙ্কের ভেতরে বিশ্বব্যাংক একাই অর্থায়ন করতে চেয়েছিল ১২০ কোটি মার্কিন ডলার। বাকি অর্থ এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক, জাপানী উন্নয়ন সংস্থা জাইকা ও বাংলাদেশ সরকারের জোগান দেয়ার কথা ছিল।

দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ায়। বিশ্বব্যাংক সরে যাওয়ায় অন্যান্য বিদেশি দাতাসংস্থাও প্রকল্পটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়নে বাংলাদেশের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ঋণচুক্তি ২০১২ সালের ২৯ জুলাই বাতিল করে বিশ্বব্যাংক। পরবর্তীকালে বিশ্বব্যাংক ও সরকারের মাঝে নানা আলোচনার একপর্যায়ে বিশ্বব্যাংক থেকে ঋণ সহায়তা না নেয়ার ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণ করা হবে বলে জাতীয় সংসদে ঘোষণা দেন। এ লক্ষ্যে তিনি দেশের মানুষ ও প্রবাসীদের সহযোগিতা করার জন্য আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের প্রেক্ষিতে শুরু হয় অর্থ সংগ্রহ। সব মন্ত্রী এক মাসের সম্মানী জমা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন, সচিবরাও দেন একটি উৎসব ভাতার সমপরিমাণ অর্থ। এভাবে চলতে থাকে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য অর্থ সংগ্রহের কাজ। অনেক চড়াই-উতরাই শেষে নিজস্ব অর্থায়নে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে শুরু হয় পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ। ২০১৭ সালে সেপ্টেম্বর মাসের শেষদিকে পদ্মা সেতুর প্রথম স্প্যান বসানোর কাজ শুরু হয়।

এটি একটি বহুমুখী বৃহদাকার বিনিয়োগ প্রকল্প তাাই এই প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে এর সম্ভাবতা যাচাই করেছে সেতু বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যা আলোচনার দাবি রাখে। পদ্মা সড়ক সেতুতে যে অর্থ বিনিয়োগ করা হবে তার বিপরীতে মুনাফার হার বছরে দাঁড়াবে ১৯ শতাংশ। বাংলাদেশে সাধারণত বিনিয়োগের বিপরীতে মুনাফার হার ১৫ শতাংশ। পদ্মা সেতুতে এ হার বেশি হওয়ার কারণ হচ্ছে-এটি বহুল ব্যবহৃত একটি অবকাঠামো হবে। যে কারণে এ থেকে রাজস্ব আয় ২০৫০ সাল পর্যাপ্ত বাড়তে থাকবে বলে গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সেতুকে কেন্দ্র করে এপারে এবং ওপারে বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এতে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বাড়ছে। গবেষণা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সেতুকে কেন্দ্র করে দুই পাড়ে ২৯ শতাংশ বাড়বে নির্মাণকাজ, সাড়ে ৯ শতাংশ কৃষিকাজের প্রবৃদ্ধি, ৮ শতাংশ বাড়বে উৎপাদন ও পরিবহন খাতের কাজ। এর প্রভাবে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ কোটি লোকের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি হবে। ফলে পদ্মা নদীর ওপারে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দারিদ্র্যের হার কমবে ১ শতাংশ। ওই অঞ্চলে দারিদ্র্য কমলে এর প্রভাব পড়বে সারা দেশে তখন জাতীয়ভাবে দারিদ্র্যের হার কমবে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ।

অর্থনৈতিক কর্মকান্ড ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার বাড়বে ১ .৭ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে জিডিপির আকার ৩২ লাখ কোটি টাকা। এ হিসাবে সেতুর কারণে জিডিপিতে বাড়তি জোগান হবে ৫৫ হাজার কোটি টাকা, সারা দেশে বাড়বে ০.৫৬ শতাংশ, ফলে জাতীয়ভাবে বাড়বে ১৮ হাজার কোটি টাকা। এভাবে জিডিপির আকার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ সেতুর অবদানও বাড়বে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকিং খাতে মোট আমানতের মধ্যে খুলনা বিভাগ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে ৫২ হাজার কোটি টাকা, যা মোট আমানতের ৬ শতাংশ, ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা যা মোট ঋণের ৩.৫ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে মোট আমানতের পরিমাণ সাড়ে ২২ হাজার কোটি টাকা, যা মোট আমানতের ৪.৫ শতাংশ, মোট ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ১১ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩ শতাংশ।

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিনিয়াগ বাড়লে ঋণের চাহিদা বাড়বে, তখন ঋণের প্রবাহও বেড়ে যাবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থানসহ অর্থনৈতিক সূচকগুলো বেশি সচল হবে এবং নতুন নতুন খাত যুক্ত হলে মানুষের আয় বাড়বে। তখন সঞ্চয়ও বাড়বে, যা জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সহায়ক হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়, পদ্মা সেতু চালু হলে ২০২২ সালে প্রতিদিন গড়ে যানবাহন চলাচল করবে প্রায় ৩৫ হাজার। এ থেকে রাজম্ব আয় হবে ৮২২ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৩৯ হাজারে দাঁড়াবে। রাজস্ব আয় হবে প্রায় হাজার কোটি টাকা।

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিনিয়াগ বাড়লে ঋণের চাহিদা বাড়বে, তখন ঋণের প্রবাহও বেড়ে যাবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থানসহ অর্থনৈতিক সূচকগুলো বেশি সচল হবে এবং নতুন নতুন খাত যুক্ত হলে মানুষের আয় বাড়বে। তখন সঞ্চয়ও বাড়বে, যা জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সহায়ক হবে

২০৩০ সালে তা আরও বেড়ে ৫৮ হাজারে যানবাহন চলবে। রাজস্ব আয় হবে ১ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা। ২০৩৫ সালে তা আরও বেড়ে ৬৬ হাজার যানবাহন এবং রাজস্ব আয় হবে দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি। এভাবে ২০৫০ সালে যানবাহনের সংখ্যা বাড়বে ৭৬ হাজার। রাজস্ব আয় বাড়বে ১ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। এক সমীক্ষা অনুযায়ী, পদ্মা সেতু খুলে দেয়ার পর জিডিপি ১.২৩ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে, অপরদিকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিডিপি বাড়বে ২. ৩ শতাংশ।

দেশের বড় তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প হবে পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র, আছে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র। বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়লে এই এলাকায় শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন হবে, পায়রা বন্দর, পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র, সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন, ফোর লেনের পায়রা সেতু, শেরে বাংলা নৌঘাঁটি ও ইপিজেড স্থাপিত হলে পুরো দক্ষিণাঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক জোনে পরিণত হবে। সাগরকন্যা কুয়াকাটায় পর্যটনের প্রসার বাড়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হবে। পদ্মা সেতু পূর্ব-পশ্চিমকে এক সূত্রে গাঁথার ফলে টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট ব্যবস্থায় পদ্মার দুই পাড়ের মধ্যে সুষম বণ্টন হবে। তাতে সব মিলিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলায় সরকারি উদ্যোগে ২৫টি হাইটেক পার্ক ও আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপিত হওয়াসহ ব্যক্তি উদ্যোগে তথ্য আদান-প্রদান, ডাটা প্রসেসিং ও আউটসোর্সিং, বৃহৎ ডাটা সেন্টার, সফটওয়্যার তৈরি, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, গবেষণা, কম্পিউটার ও হাইটেক প্রযুক্তি পণ্য উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য প্রভৃতির জন্য কয়েক হাজার প্রতিষ্ঠান ও কেন্দ্র গড়ে উঠবে।

একদিকে বৈপ্লবিক যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা স্থাপন, অন্যদিকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ শক্তিতে স্বয়ম্ভরতার ফলে আধুনিক প্রযুক্তি ও কলাকৌশল সমৃদ্ধ হয়ে নবরূপে কর্মচঞ্চল হয়ে উঠবে মৃতপ্রায় খুলনার খালিশপুর ও দৌলতপুর এবং যশোরের শিল্পাঞ্চল। নতুনভাবে উপকূলীয় জেলায় নারিকেল, পান, সুপারি, পেয়ারা, আমড়া ইত্যাদি সুস্বাদু, মুখরোচক ফল ও ফসলনির্ভর আধুনিক কৃষি-শিল্পকারখানা গড়ে ওঠার সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আধুনিক পদ্ধতিতে ধান, চাল, শাকসবজি চাষাবাদ, উৎপাদন, সংগ্রহ ও দ্রুত পরিবহন সম্ভব হবে। অন্যদিকে মাছের রাজা ইলিশসহ উপকূলবর্তী অঞ্চলের নানা প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ আহরণ, ঘের ও পুকুরে চিংড়ি এবং নদী-নালা, খাল-বিলে নানা প্রকার মিঠাপানির মাছ আধুনিক কৌশল ও পদ্ধিতে চাষাবাদ এবং দ্রুত পরিবহন করা যাবে।

সম্ভবত এসব কথা মাথায় রেখে এরই মধ্যে সরকারি উদ্যোগে; বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল; প্রকল্পের অধীনে ২১টি জেলার মধ্যে বাগেরহাটে ৫টি, ভোলায় ১টি, কুষ্টিয়ায় ১টি, বরিশালে ২টি, শরীয়তপুরে ২টি, গোপালগঞ্জে ২টি, খুলনায় ২টি, মাদারীপুরে ১টি, ফরিদপুরে ১টিসহ মোট ১৭টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, উৎপাদন এবং রপ্তানি বৃদ্ধি ও বহুমুখীকরণে উৎসাহ প্রদানের মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত পশ্চাৎপদ ও অনগ্রসর এসব এলাকার সার্বিকভাবে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধনের পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে।

একই সঙ্গে পর্যটন শিল্পের ক্ষেত্রে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রতিটি জেলায় অনেক ঐতিহাসিক, প্রসিদ্ধ ও দর্শনীয় স্থান রয়েছে। ওখানেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনসহ গোটা অঞ্চলের দক্ষিণ প্রান্তজুড়ে রয়েছে বঙ্গোপসাগরের বিস্তৃত উপকূল। পদ্মা সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে অবাধ ও দ্রুত যাতায়াতের কারণে এসব স্থানে নৈসর্গিক পরিবেশে গড়ে উঠবে আধুনিক সব সুবিধাসংবলিত হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, কটেজ, রেস্টুরেন্ট ও আকর্ষণীয় ভ্রমণকেন্দ্র সমৃদ্ধ পর্যটন শিল্প। পদ্মা সেতুর বহুমাত্রিক উপযোগিতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে দূরত্ব এবং যাতায়াতের সময় উভয়ই কল্পনাতীত কমে যাবে। রাজধানী ঢাকাসহ পদ্মার গোটা পূর্বপাড়ের সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর স্থানভেদে, বিশেষ করে রেলপথে ৫০ থেকে ২৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্ব কমে যাবে। আর সড়ক ও রেলের উভয় পথে স্থানভেদে যাতায়াতে সময় কম লাগবে ৪০ মিনিট থেকে সাড়ে ৪ ঘণ্টা।

এরি মধ্যে পদ্মা সেতুর টোলের হার নির্ধারণ করেছে সরকার তাতে ফেরির চেয়ে গড়ে প্রায় ৫০ শতাংশ টোল বেশি ধরা হয়েছে। পদ্মা সেতু দিয়ে যানবাহন পারাপারে ফেরির চেয়ে দেড়গুণ টোল গুনতে হবে। এর ফলে যাতায়াতের সময় বাঁচলেও বেড়ে যাবে খরচ, টোল সাধ্যের মধ্যে আনার দাবি করেছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ। দেশ উন্নয়নের মহসড়ক বেয়ে ২০৪১ সালের মধ্যে এক উন্নত বাংলাদেশ হবে আর পদ্মা সেতুই হবে সেই উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের কারিগর।

[লেখক : ডিন, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ও সিন্ডিকেট সদস্য, সিটি ইউনিভার্সিটি, ঢাকা]

ডেঙ্গু প্রতিরোধে দরকার সঠিক কর্মকৌশল

সেলিমই পারলেন জনগণ এবং আদালতকে সক্রিয় করতে

নিত্যপণ্যের দাম : কেমন আছে প্রান্তিক মানুষ

নাম তার পারুল চাকমা

মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি

সুইস ব্যাংকে পাচার হওয়া অর্থের গগনচুম্বী স্ফীতি

প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারে বাধা কোথায়

গ্যাস অনুসন্ধানে নজর দিতে হবে

ছবি

জন্মাষ্টমীর তাৎপর্য

নারীর নিরাপত্তা ও সমাজের দায়

বিদ্যালয়ে সন্তানসহ শিক্ষকের উপস্থিতি প্রসঙ্গে

বৈদেশিক ঋণে কি সংকট ঘুচবে

ছবি

শুভ জন্মাষ্টমী : শান্তিময় মানবিক বিশ্বের প্রত্যাশা

‘মানসম্মত হেলমেট’ পরুন

যুক্তরাজ্যে অবৈধ প্রবেশকারীদের রুয়ান্ডায় প্রেরণ

ছবি

বাঙালির পিতা বঙ্গবন্ধু

ছবি

কৃষি অন্তপ্রাণ নেতা

ছবি

১৫ আগস্ট আমাদের কাছে কী দাবি করে?

বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যে ছিল কারা

ছবি

বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড ও বাঙালির স্বপ্ন ছোঁয়ার প্রচেষ্টা

আইনে হিল্লা বিয়ে বলে কিছু নেই

কয়লা নিয়ে কী ভাবছে সরকার

জ্বালানি তেলের দাম ও কিছু প্রশ্ন

যুবসমাজ : সমস্যা ও সম্ভাবনা

বিচারকের সঙ্গে পুলিশের অসদাচরণ এবং জাস্টিস অব দ্য পিস

ছবি

বাংলা সিনেমার সুদিন কি ফিরছে

সামাজিক সংঘের ভূমিকা

সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ

আলোর ভেতর যত কালো

বাড়াতে হবে খাদ্য উৎপাদন

সাম্রাজ্যবাদের যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলা ও যুদ্ধবিরোধিতার গুরুত্ব

পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি : কৃষিপণ্যে প্রভাব

সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনায় ইসি কতটা সক্ষম

ছবি

সোশ্যাল মিডিয়া কি একাকিত্ব ও অহংবোধ বাড়িয়ে দিচ্ছে?

বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা : স্থপতি স্বর্ণকন্যা শেখ হাসিনা

আদিবাসী বিতর্ক

tab

উপ-সম্পাদকীয়

পদ্মা সেতু : স্বপ্ন এখন বাস্তব

মিহির কুমার রায়

image

শুক্রবার, ২৪ জুন ২০২২

দেশের মানুষের অর্থায়নে প্রমত্তা পদ্মায় যে সেতু গড়ে উঠছে শুরুতে সে প্রকল্পে একটি বড় অর্থায়ন করার কথা ছিল বিশ্বব্যাংক ও কয়েকটি বিদেশি উন্নয়ন সংস্থার। তখন এই প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ হাজার কোটি টাকা। মোট অঙ্কের ভেতরে বিশ্বব্যাংক একাই অর্থায়ন করতে চেয়েছিল ১২০ কোটি মার্কিন ডলার। বাকি অর্থ এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক, জাপানী উন্নয়ন সংস্থা জাইকা ও বাংলাদেশ সরকারের জোগান দেয়ার কথা ছিল।

দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ায়। বিশ্বব্যাংক সরে যাওয়ায় অন্যান্য বিদেশি দাতাসংস্থাও প্রকল্পটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়নে বাংলাদেশের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ঋণচুক্তি ২০১২ সালের ২৯ জুলাই বাতিল করে বিশ্বব্যাংক। পরবর্তীকালে বিশ্বব্যাংক ও সরকারের মাঝে নানা আলোচনার একপর্যায়ে বিশ্বব্যাংক থেকে ঋণ সহায়তা না নেয়ার ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণ করা হবে বলে জাতীয় সংসদে ঘোষণা দেন। এ লক্ষ্যে তিনি দেশের মানুষ ও প্রবাসীদের সহযোগিতা করার জন্য আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের প্রেক্ষিতে শুরু হয় অর্থ সংগ্রহ। সব মন্ত্রী এক মাসের সম্মানী জমা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন, সচিবরাও দেন একটি উৎসব ভাতার সমপরিমাণ অর্থ। এভাবে চলতে থাকে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য অর্থ সংগ্রহের কাজ। অনেক চড়াই-উতরাই শেষে নিজস্ব অর্থায়নে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে শুরু হয় পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ। ২০১৭ সালে সেপ্টেম্বর মাসের শেষদিকে পদ্মা সেতুর প্রথম স্প্যান বসানোর কাজ শুরু হয়।

এটি একটি বহুমুখী বৃহদাকার বিনিয়োগ প্রকল্প তাাই এই প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে এর সম্ভাবতা যাচাই করেছে সেতু বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যা আলোচনার দাবি রাখে। পদ্মা সড়ক সেতুতে যে অর্থ বিনিয়োগ করা হবে তার বিপরীতে মুনাফার হার বছরে দাঁড়াবে ১৯ শতাংশ। বাংলাদেশে সাধারণত বিনিয়োগের বিপরীতে মুনাফার হার ১৫ শতাংশ। পদ্মা সেতুতে এ হার বেশি হওয়ার কারণ হচ্ছে-এটি বহুল ব্যবহৃত একটি অবকাঠামো হবে। যে কারণে এ থেকে রাজস্ব আয় ২০৫০ সাল পর্যাপ্ত বাড়তে থাকবে বলে গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সেতুকে কেন্দ্র করে এপারে এবং ওপারে বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এতে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বাড়ছে। গবেষণা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সেতুকে কেন্দ্র করে দুই পাড়ে ২৯ শতাংশ বাড়বে নির্মাণকাজ, সাড়ে ৯ শতাংশ কৃষিকাজের প্রবৃদ্ধি, ৮ শতাংশ বাড়বে উৎপাদন ও পরিবহন খাতের কাজ। এর প্রভাবে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ কোটি লোকের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি হবে। ফলে পদ্মা নদীর ওপারে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দারিদ্র্যের হার কমবে ১ শতাংশ। ওই অঞ্চলে দারিদ্র্য কমলে এর প্রভাব পড়বে সারা দেশে তখন জাতীয়ভাবে দারিদ্র্যের হার কমবে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ।

অর্থনৈতিক কর্মকান্ড ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার বাড়বে ১ .৭ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে জিডিপির আকার ৩২ লাখ কোটি টাকা। এ হিসাবে সেতুর কারণে জিডিপিতে বাড়তি জোগান হবে ৫৫ হাজার কোটি টাকা, সারা দেশে বাড়বে ০.৫৬ শতাংশ, ফলে জাতীয়ভাবে বাড়বে ১৮ হাজার কোটি টাকা। এভাবে জিডিপির আকার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ সেতুর অবদানও বাড়বে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকিং খাতে মোট আমানতের মধ্যে খুলনা বিভাগ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে ৫২ হাজার কোটি টাকা, যা মোট আমানতের ৬ শতাংশ, ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা যা মোট ঋণের ৩.৫ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে মোট আমানতের পরিমাণ সাড়ে ২২ হাজার কোটি টাকা, যা মোট আমানতের ৪.৫ শতাংশ, মোট ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ১১ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩ শতাংশ।

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিনিয়াগ বাড়লে ঋণের চাহিদা বাড়বে, তখন ঋণের প্রবাহও বেড়ে যাবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থানসহ অর্থনৈতিক সূচকগুলো বেশি সচল হবে এবং নতুন নতুন খাত যুক্ত হলে মানুষের আয় বাড়বে। তখন সঞ্চয়ও বাড়বে, যা জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সহায়ক হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়, পদ্মা সেতু চালু হলে ২০২২ সালে প্রতিদিন গড়ে যানবাহন চলাচল করবে প্রায় ৩৫ হাজার। এ থেকে রাজম্ব আয় হবে ৮২২ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৩৯ হাজারে দাঁড়াবে। রাজস্ব আয় হবে প্রায় হাজার কোটি টাকা।

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিনিয়াগ বাড়লে ঋণের চাহিদা বাড়বে, তখন ঋণের প্রবাহও বেড়ে যাবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থানসহ অর্থনৈতিক সূচকগুলো বেশি সচল হবে এবং নতুন নতুন খাত যুক্ত হলে মানুষের আয় বাড়বে। তখন সঞ্চয়ও বাড়বে, যা জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সহায়ক হবে

২০৩০ সালে তা আরও বেড়ে ৫৮ হাজারে যানবাহন চলবে। রাজস্ব আয় হবে ১ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা। ২০৩৫ সালে তা আরও বেড়ে ৬৬ হাজার যানবাহন এবং রাজস্ব আয় হবে দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি। এভাবে ২০৫০ সালে যানবাহনের সংখ্যা বাড়বে ৭৬ হাজার। রাজস্ব আয় বাড়বে ১ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। এক সমীক্ষা অনুযায়ী, পদ্মা সেতু খুলে দেয়ার পর জিডিপি ১.২৩ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে, অপরদিকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিডিপি বাড়বে ২. ৩ শতাংশ।

দেশের বড় তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প হবে পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র, আছে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র। বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়লে এই এলাকায় শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন হবে, পায়রা বন্দর, পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র, সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন, ফোর লেনের পায়রা সেতু, শেরে বাংলা নৌঘাঁটি ও ইপিজেড স্থাপিত হলে পুরো দক্ষিণাঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক জোনে পরিণত হবে। সাগরকন্যা কুয়াকাটায় পর্যটনের প্রসার বাড়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হবে। পদ্মা সেতু পূর্ব-পশ্চিমকে এক সূত্রে গাঁথার ফলে টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট ব্যবস্থায় পদ্মার দুই পাড়ের মধ্যে সুষম বণ্টন হবে। তাতে সব মিলিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলায় সরকারি উদ্যোগে ২৫টি হাইটেক পার্ক ও আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপিত হওয়াসহ ব্যক্তি উদ্যোগে তথ্য আদান-প্রদান, ডাটা প্রসেসিং ও আউটসোর্সিং, বৃহৎ ডাটা সেন্টার, সফটওয়্যার তৈরি, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, গবেষণা, কম্পিউটার ও হাইটেক প্রযুক্তি পণ্য উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য প্রভৃতির জন্য কয়েক হাজার প্রতিষ্ঠান ও কেন্দ্র গড়ে উঠবে।

একদিকে বৈপ্লবিক যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা স্থাপন, অন্যদিকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ শক্তিতে স্বয়ম্ভরতার ফলে আধুনিক প্রযুক্তি ও কলাকৌশল সমৃদ্ধ হয়ে নবরূপে কর্মচঞ্চল হয়ে উঠবে মৃতপ্রায় খুলনার খালিশপুর ও দৌলতপুর এবং যশোরের শিল্পাঞ্চল। নতুনভাবে উপকূলীয় জেলায় নারিকেল, পান, সুপারি, পেয়ারা, আমড়া ইত্যাদি সুস্বাদু, মুখরোচক ফল ও ফসলনির্ভর আধুনিক কৃষি-শিল্পকারখানা গড়ে ওঠার সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আধুনিক পদ্ধতিতে ধান, চাল, শাকসবজি চাষাবাদ, উৎপাদন, সংগ্রহ ও দ্রুত পরিবহন সম্ভব হবে। অন্যদিকে মাছের রাজা ইলিশসহ উপকূলবর্তী অঞ্চলের নানা প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ আহরণ, ঘের ও পুকুরে চিংড়ি এবং নদী-নালা, খাল-বিলে নানা প্রকার মিঠাপানির মাছ আধুনিক কৌশল ও পদ্ধিতে চাষাবাদ এবং দ্রুত পরিবহন করা যাবে।

সম্ভবত এসব কথা মাথায় রেখে এরই মধ্যে সরকারি উদ্যোগে; বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল; প্রকল্পের অধীনে ২১টি জেলার মধ্যে বাগেরহাটে ৫টি, ভোলায় ১টি, কুষ্টিয়ায় ১টি, বরিশালে ২টি, শরীয়তপুরে ২টি, গোপালগঞ্জে ২টি, খুলনায় ২টি, মাদারীপুরে ১টি, ফরিদপুরে ১টিসহ মোট ১৭টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, উৎপাদন এবং রপ্তানি বৃদ্ধি ও বহুমুখীকরণে উৎসাহ প্রদানের মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত পশ্চাৎপদ ও অনগ্রসর এসব এলাকার সার্বিকভাবে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধনের পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে।

একই সঙ্গে পর্যটন শিল্পের ক্ষেত্রে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রতিটি জেলায় অনেক ঐতিহাসিক, প্রসিদ্ধ ও দর্শনীয় স্থান রয়েছে। ওখানেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনসহ গোটা অঞ্চলের দক্ষিণ প্রান্তজুড়ে রয়েছে বঙ্গোপসাগরের বিস্তৃত উপকূল। পদ্মা সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে অবাধ ও দ্রুত যাতায়াতের কারণে এসব স্থানে নৈসর্গিক পরিবেশে গড়ে উঠবে আধুনিক সব সুবিধাসংবলিত হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, কটেজ, রেস্টুরেন্ট ও আকর্ষণীয় ভ্রমণকেন্দ্র সমৃদ্ধ পর্যটন শিল্প। পদ্মা সেতুর বহুমাত্রিক উপযোগিতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে দূরত্ব এবং যাতায়াতের সময় উভয়ই কল্পনাতীত কমে যাবে। রাজধানী ঢাকাসহ পদ্মার গোটা পূর্বপাড়ের সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর স্থানভেদে, বিশেষ করে রেলপথে ৫০ থেকে ২৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্ব কমে যাবে। আর সড়ক ও রেলের উভয় পথে স্থানভেদে যাতায়াতে সময় কম লাগবে ৪০ মিনিট থেকে সাড়ে ৪ ঘণ্টা।

এরি মধ্যে পদ্মা সেতুর টোলের হার নির্ধারণ করেছে সরকার তাতে ফেরির চেয়ে গড়ে প্রায় ৫০ শতাংশ টোল বেশি ধরা হয়েছে। পদ্মা সেতু দিয়ে যানবাহন পারাপারে ফেরির চেয়ে দেড়গুণ টোল গুনতে হবে। এর ফলে যাতায়াতের সময় বাঁচলেও বেড়ে যাবে খরচ, টোল সাধ্যের মধ্যে আনার দাবি করেছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ। দেশ উন্নয়নের মহসড়ক বেয়ে ২০৪১ সালের মধ্যে এক উন্নত বাংলাদেশ হবে আর পদ্মা সেতুই হবে সেই উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের কারিগর।

[লেখক : ডিন, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ও সিন্ডিকেট সদস্য, সিটি ইউনিভার্সিটি, ঢাকা]

back to top