alt

উপ-সম্পাদকীয়

পারিসার সাহস

মোহাম্মদ আবু নোমান

: শনিবার, ৩০ জুলাই ২০২২
image

পারিসা

মেয়েটি অনেক বড় রিস্ক নিয়েছিল। ছিনতাইকারীদের সঙ্গে সাধারণত ব্লেড ও চাকু থাকে। বড় ধরনের কোন ক্ষতি হতে পারত। এমনকি মারাও যেতে পারত। এই রকম ঝুঁকি নেয়া একেবারেই নিরাপদ নয়। জানবাজি রেখে অপরাধীকে ধরা অনেক বড় বীরত্বপূর্ণ সাহসিকতা। ভাগ্য ভালো তার কোন ক্ষতি হয়নি। গত ৮ অক্টোবর রাজধানীর টিকাটুলিতে ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে তাদের ছুরিকাঘাতে প্রাণ যায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র আবু তালহা খন্দকারের। আসলে মেয়েটি বিশ্ববিদ্যালয়ের থিসিসের জন্য সংগৃহীত গবেষণা খোয়া যাওয়ার আশঙ্কায় নিজেকে সামলাতে পারেনি হয়তো। মোবাইল হারালে মোবাইল ফিরে পাওয়া যেতো; কিন্তু জীবন গেলে সে জীবন আর ফিরে আসবেনা। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুই-দুটো ছিনতাইকারীকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষে শিক্ষার্থী পারিসা আক্তারকে ধন্যবাদ। সে সাহসের সঙ্গে একটি যুদ্ধ শেষ করে ইতিহাস হয়ে থাকলো। এ থেকে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শিক্ষা নেয়া উচিত। শিক্ষার্থীর সাহসী কাজকে আমরা সম্মান জানাই।

ছিনতাইকারীরা মহিলাদের গলার চেইন ছিনতাই, কান ছিঁড়ে গহনা নেয়া, হ্যাঁচকা টানে মহিলাদের পার্টস ছিনতাইয়ে মহিলাদের পড়ে যাওয়ার পর মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে। এই তো মাত্র কয়েক দিন হলো, সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র বুলবুল আহমেদ নামের এক শিক্ষার্থী ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন।

গত ২৫ জুলাই সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাশে গাজী কালু টিলা লাগোয়া ‘নিউজিল্যান্ড’ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গত ৭ জুলাই রাজধানী ঢাকার অদূরে আব্দুল্লাহপুর ব্রিজের কাছে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নির্মাণশ্রমিক মো. সাহেদ নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ছিনতাইকারীরা সাহেদকে ছুরি মেরে খুনের পর তার কাছে থাকা টাকা ও মুঠোফোন নিয়ে গেছে। এ ছাড়া গত ৭ জুলাই সেনাবাহিনীর সৈনিক হিসেবে কর্মরত শাহিন আলমকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাদানীনগর এলাকায় ছিনতাইকারীরা ছুরিকাঘাত করে। তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে সিএমএইচ হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থা মারা যান।

পুলিশের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন পারিসা আক্তার। একটি ভিডিও ফুটেজে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘দুজন ছিনতাইকারীকে ধরাইয়া দিলাম। এরপরও পুলিশ যদি আমার মোবাইল উদ্ধার করে দিতে না পারে, এর চেয়ে বড় ব্যর্থতা আর কিছু নাই।’ পারিসা বলেন, ‘মোবাইলের আমার থিসিসের অনেক ডকুমেন্ট ছিল। মোবাইল হারিয়ে যাওয়ায় গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করা এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। নতুন করে আবার থিসিসের কাজ করা খুব কষ্টকর। এক ধরনের মানসিক বিষণ্নতার মধ্যে রয়েছি।’

যখন আইন ঘুমাতে থাকে, তখনই সাধারণ জনগণের নিজের জন্য আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া ছাড়া কী করার! ছিনতাইকারীরা কীভাবে সহজেই জামিনে বের হয়ে আসে। তাছাড়া ওরা ছিনতাই করে অভাবে নাকি স্বভাবে, তার অনুন্ধান করে সমাধান করা জর’রি। এ দেশের আইন অপরাধীদের দমন করতে না পারলেও অপরাধীর জন্ম দিতে পারে। এক নারী শিক্ষার্থী ছিনতাইকারীকে ধরেছে, এক শিক্ষার্থী (আহমেদ রনি) একাই রেলের মত এতবড় প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি-অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে লড়াই করেছ। এগুলো ভালো লক্ষ্মণ কী? আমরা পারিসা ও আহমেদ রনির সাহসীকতার উত্তর চাই। সবার দ্বারা কি এভাবে দৌড়ে, ঝাপটে ছিনতাইকারীদের ধরা সম্ভব? একজন মানুষকে তার নিজের মোবাইলে কথা বলার সময় কেন সতর্ক থাকতে হবে? কেউ সে মোবাইল ছিনতাই করতে পারে, এই আশঙ্কায় কি সে রাস্তায় মোবাইল ব্যবহার করা বন্ধ করে দেবে?

আশ্চর্য এক ‘ভিডিও প্রজন্ম’ গড়ে উঠছে আমাদের চারপাশে! এখন দেখা যায় মরতে মরতেও ভিডিও করছে। সবাই দেখবে আর ভিডিও করবে, এটাই যেন সারা বাংলাদেশের চিত্র! দেশের মানুষ দর্শক বা ভিডিওগ্রাফার হিসেবে খুব ভালো! পারিসা আক্তারের সঙ্গে থাকা সহপাঠী বন্ধু শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘অনেক মানুষ এই ভিডিও করছিল। কিন্তু কেউ সাহায্য করতে এগিয়ে আসছিল না। ভিডিও করা শেষে সবাই যে যার মতো চলেও যেতে শুরু করেছিল। তখন আমাদের ভয় লাগতে শুরু করে। আমরা পুলিশে ফোন দিই। এক গণমাধ্যমকর্মী আমাদের সহায়তায় এগিয়ে আসে।’

ছিনতাইকারীকে পুলিশ ধরতে পারে না এটা পাগলেও বিশ্বাস করবে কী? পুলিশের কি জানা নেই কোথায় ছিনতাই হয়, আর কারা করে? রাজনৈতিক ঝামেলা ঠেকানো ও ভিআইপিদের নিরাপত্তায় পুলিশ মহাব্যস্ত! জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে তারা ন্যূনতম সচেষ্ট নয়। শুধু সক্ষমতা দিয়েই সব কিছু হয় না, ইচ্ছেও থাকতে হয়। দেশের কতিপয় পুলিশের (সবাই নয়) ডিউটি যেন শুধু ‘গাড়ি স্যারের পাশে দাঁড় করান’। নানা অজুহাতে বাইকারদের জরিমানা, রিক্সার চাকা ফুটা করা বা উল্টানো এই যেন তাদের কর্ম। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেন সাধারণ মানুষ ছিনতাইকারীকে ধরতে যাবে, এটা তো তার কাজ নয়। মানুষ ছিনতাইয়ের মতো বিপদে পড়লে যে ধরনের সহায়তামূলক আচরণ পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া উচিত, অনেক ক্ষেত্রেই তা পায় না। এ জন্য অনেকই থানায় যেতে চায় না। এই অবস্থার পরিবর্তনের জন্য পুলিশকে আরও গণমুখী কার্যক্রম হাতে নিতে হবে। বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা এই অপরাধের লাগাম টেনে ধরতে না পারায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। থানা-পুলিশের মামলা না নেয়ার অভিযোগ তো রয়েছেই।

ছিনতাইকারীরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে তাদের অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করছে। হেঁটে, রিকশায়, বাসে বা বাইকে যেভাবেই হোক, ছিনতাইকারীদের নাগালের বাইরে যাওয়া কঠিন। গুলি করে বা ছুরি মেরে, কখনো অস্ত্রের ভয় দেখিয়েই সবকিছু ছিনিয়ে নেয়া হয়। মোটরসাইকেল বা গাড়িতে করে এসে রিকশাযাত্রীদের ব্যাগ ছোঁ মেরে নিয়ে যাচ্ছে। হ্যাঁচকা টানে পড়ে গিয়ে মৃত্যু ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বহুবার।

রাজধানীর সায়দাবাদ, যাত্রাবাড়ী, গুলিস্তান, মিরপুর, এয়ারপোর্ট, আব্দুল্লাহপুর, আজমপুর, টঙ্গী, কলেজগেট, গাজীপুরে এরকম ঘটনা অহরহ ঘটছে। এসব স্পটে নিয়মিত ৮/১০টা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ছাড়া এটা জানে না এমন ঢাকাবাসী কেউ নেই। আসলে পুলিশ ভালোভাবেই জানে কারা ছিনতাইকারি, বাকিটা ইতিহাস! এসব এলাকায় এখনই পর্যাপ্ত গোয়েন্দা নজরদারি নেয়া হোক।

[লেখক: সাংবাদিক]

যুবসমাজ : সমস্যা ও সম্ভাবনা

বিচারকের সঙ্গে পুলিশের অসদাচরণ এবং জাস্টিস অব দ্য পিস

ছবি

বাংলা সিনেমার সুদিন কি ফিরছে

সামাজিক সংঘের ভূমিকা

সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ

আলোর ভেতর যত কালো

বাড়াতে হবে খাদ্য উৎপাদন

সাম্রাজ্যবাদের যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলা ও যুদ্ধবিরোধিতার গুরুত্ব

পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি : কৃষিপণ্যে প্রভাব

সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনায় ইসি কতটা সক্ষম

ছবি

সোশ্যাল মিডিয়া কি একাকিত্ব ও অহংবোধ বাড়িয়ে দিচ্ছে?

বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা : স্থপতি স্বর্ণকন্যা শেখ হাসিনা

আদিবাসী বিতর্ক

অনগ্রসর আদিবাসী জাতি

সাক্ষরতা ও শিক্ষা

সম্প্রীতির বাঁধন কি আলগা হয়ে আসছে?

অর্থনৈতিক সংকট : মুক্তি কোন পথে

গাড়িতে চাই শিশু আসন

ডলার সংকটের বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও উত্তরণের উপায়

ছবি

পরিবহন খাতে জ্বালানির ব্যবহার

বিশ্ব মন্দায় বাংলাদেশের শক্তি

দাগ তো চেহারার, আয়না মুছে কি হবে

টেকসই উন্নয়নে সাশ্রয়ী দৃষ্টিভঙ্গি

ছবি

ডলার সংকটের শেষ কোথায়?

পাবলিক পরীক্ষায় অপরাধ

মানব পাচারে প্রযুক্তির অপব্যবহার

ছবি

বাংলাদেশের কেন শ্রীলঙ্কা হওয়ার আশঙ্কা কম

শিক্ষকের মর্যাদা

ধেয়ে আসছে বৈশ্বিক ঋণসংকট, শ্রীলঙ্কাতেই শেষ নয়

সব ফিউজ বাল্বের মূল্য সমান

মাঙ্কিপক্সে আতঙ্ক নয়

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট : বাংলাদেশের উপায় কী

বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা : স্থপতি স্বর্ণকন্যা শেখ হাসিনা

ছবি

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা কি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে যাচ্ছে

কাগজ সংকট সভ্যতারও সংকট

শিশুদের পঠনদক্ষতা বাড়াতে পারে ‘ডাকপড়া’

tab

উপ-সম্পাদকীয়

পারিসার সাহস

মোহাম্মদ আবু নোমান

image

পারিসা

শনিবার, ৩০ জুলাই ২০২২

মেয়েটি অনেক বড় রিস্ক নিয়েছিল। ছিনতাইকারীদের সঙ্গে সাধারণত ব্লেড ও চাকু থাকে। বড় ধরনের কোন ক্ষতি হতে পারত। এমনকি মারাও যেতে পারত। এই রকম ঝুঁকি নেয়া একেবারেই নিরাপদ নয়। জানবাজি রেখে অপরাধীকে ধরা অনেক বড় বীরত্বপূর্ণ সাহসিকতা। ভাগ্য ভালো তার কোন ক্ষতি হয়নি। গত ৮ অক্টোবর রাজধানীর টিকাটুলিতে ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে তাদের ছুরিকাঘাতে প্রাণ যায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র আবু তালহা খন্দকারের। আসলে মেয়েটি বিশ্ববিদ্যালয়ের থিসিসের জন্য সংগৃহীত গবেষণা খোয়া যাওয়ার আশঙ্কায় নিজেকে সামলাতে পারেনি হয়তো। মোবাইল হারালে মোবাইল ফিরে পাওয়া যেতো; কিন্তু জীবন গেলে সে জীবন আর ফিরে আসবেনা। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুই-দুটো ছিনতাইকারীকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষে শিক্ষার্থী পারিসা আক্তারকে ধন্যবাদ। সে সাহসের সঙ্গে একটি যুদ্ধ শেষ করে ইতিহাস হয়ে থাকলো। এ থেকে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শিক্ষা নেয়া উচিত। শিক্ষার্থীর সাহসী কাজকে আমরা সম্মান জানাই।

ছিনতাইকারীরা মহিলাদের গলার চেইন ছিনতাই, কান ছিঁড়ে গহনা নেয়া, হ্যাঁচকা টানে মহিলাদের পার্টস ছিনতাইয়ে মহিলাদের পড়ে যাওয়ার পর মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে। এই তো মাত্র কয়েক দিন হলো, সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র বুলবুল আহমেদ নামের এক শিক্ষার্থী ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন।

গত ২৫ জুলাই সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাশে গাজী কালু টিলা লাগোয়া ‘নিউজিল্যান্ড’ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গত ৭ জুলাই রাজধানী ঢাকার অদূরে আব্দুল্লাহপুর ব্রিজের কাছে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নির্মাণশ্রমিক মো. সাহেদ নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ছিনতাইকারীরা সাহেদকে ছুরি মেরে খুনের পর তার কাছে থাকা টাকা ও মুঠোফোন নিয়ে গেছে। এ ছাড়া গত ৭ জুলাই সেনাবাহিনীর সৈনিক হিসেবে কর্মরত শাহিন আলমকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাদানীনগর এলাকায় ছিনতাইকারীরা ছুরিকাঘাত করে। তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে সিএমএইচ হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থা মারা যান।

পুলিশের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন পারিসা আক্তার। একটি ভিডিও ফুটেজে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘দুজন ছিনতাইকারীকে ধরাইয়া দিলাম। এরপরও পুলিশ যদি আমার মোবাইল উদ্ধার করে দিতে না পারে, এর চেয়ে বড় ব্যর্থতা আর কিছু নাই।’ পারিসা বলেন, ‘মোবাইলের আমার থিসিসের অনেক ডকুমেন্ট ছিল। মোবাইল হারিয়ে যাওয়ায় গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করা এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। নতুন করে আবার থিসিসের কাজ করা খুব কষ্টকর। এক ধরনের মানসিক বিষণ্নতার মধ্যে রয়েছি।’

যখন আইন ঘুমাতে থাকে, তখনই সাধারণ জনগণের নিজের জন্য আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া ছাড়া কী করার! ছিনতাইকারীরা কীভাবে সহজেই জামিনে বের হয়ে আসে। তাছাড়া ওরা ছিনতাই করে অভাবে নাকি স্বভাবে, তার অনুন্ধান করে সমাধান করা জর’রি। এ দেশের আইন অপরাধীদের দমন করতে না পারলেও অপরাধীর জন্ম দিতে পারে। এক নারী শিক্ষার্থী ছিনতাইকারীকে ধরেছে, এক শিক্ষার্থী (আহমেদ রনি) একাই রেলের মত এতবড় প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি-অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে লড়াই করেছ। এগুলো ভালো লক্ষ্মণ কী? আমরা পারিসা ও আহমেদ রনির সাহসীকতার উত্তর চাই। সবার দ্বারা কি এভাবে দৌড়ে, ঝাপটে ছিনতাইকারীদের ধরা সম্ভব? একজন মানুষকে তার নিজের মোবাইলে কথা বলার সময় কেন সতর্ক থাকতে হবে? কেউ সে মোবাইল ছিনতাই করতে পারে, এই আশঙ্কায় কি সে রাস্তায় মোবাইল ব্যবহার করা বন্ধ করে দেবে?

আশ্চর্য এক ‘ভিডিও প্রজন্ম’ গড়ে উঠছে আমাদের চারপাশে! এখন দেখা যায় মরতে মরতেও ভিডিও করছে। সবাই দেখবে আর ভিডিও করবে, এটাই যেন সারা বাংলাদেশের চিত্র! দেশের মানুষ দর্শক বা ভিডিওগ্রাফার হিসেবে খুব ভালো! পারিসা আক্তারের সঙ্গে থাকা সহপাঠী বন্ধু শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘অনেক মানুষ এই ভিডিও করছিল। কিন্তু কেউ সাহায্য করতে এগিয়ে আসছিল না। ভিডিও করা শেষে সবাই যে যার মতো চলেও যেতে শুরু করেছিল। তখন আমাদের ভয় লাগতে শুরু করে। আমরা পুলিশে ফোন দিই। এক গণমাধ্যমকর্মী আমাদের সহায়তায় এগিয়ে আসে।’

ছিনতাইকারীকে পুলিশ ধরতে পারে না এটা পাগলেও বিশ্বাস করবে কী? পুলিশের কি জানা নেই কোথায় ছিনতাই হয়, আর কারা করে? রাজনৈতিক ঝামেলা ঠেকানো ও ভিআইপিদের নিরাপত্তায় পুলিশ মহাব্যস্ত! জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে তারা ন্যূনতম সচেষ্ট নয়। শুধু সক্ষমতা দিয়েই সব কিছু হয় না, ইচ্ছেও থাকতে হয়। দেশের কতিপয় পুলিশের (সবাই নয়) ডিউটি যেন শুধু ‘গাড়ি স্যারের পাশে দাঁড় করান’। নানা অজুহাতে বাইকারদের জরিমানা, রিক্সার চাকা ফুটা করা বা উল্টানো এই যেন তাদের কর্ম। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেন সাধারণ মানুষ ছিনতাইকারীকে ধরতে যাবে, এটা তো তার কাজ নয়। মানুষ ছিনতাইয়ের মতো বিপদে পড়লে যে ধরনের সহায়তামূলক আচরণ পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া উচিত, অনেক ক্ষেত্রেই তা পায় না। এ জন্য অনেকই থানায় যেতে চায় না। এই অবস্থার পরিবর্তনের জন্য পুলিশকে আরও গণমুখী কার্যক্রম হাতে নিতে হবে। বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা এই অপরাধের লাগাম টেনে ধরতে না পারায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। থানা-পুলিশের মামলা না নেয়ার অভিযোগ তো রয়েছেই।

ছিনতাইকারীরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে তাদের অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করছে। হেঁটে, রিকশায়, বাসে বা বাইকে যেভাবেই হোক, ছিনতাইকারীদের নাগালের বাইরে যাওয়া কঠিন। গুলি করে বা ছুরি মেরে, কখনো অস্ত্রের ভয় দেখিয়েই সবকিছু ছিনিয়ে নেয়া হয়। মোটরসাইকেল বা গাড়িতে করে এসে রিকশাযাত্রীদের ব্যাগ ছোঁ মেরে নিয়ে যাচ্ছে। হ্যাঁচকা টানে পড়ে গিয়ে মৃত্যু ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বহুবার।

রাজধানীর সায়দাবাদ, যাত্রাবাড়ী, গুলিস্তান, মিরপুর, এয়ারপোর্ট, আব্দুল্লাহপুর, আজমপুর, টঙ্গী, কলেজগেট, গাজীপুরে এরকম ঘটনা অহরহ ঘটছে। এসব স্পটে নিয়মিত ৮/১০টা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ছাড়া এটা জানে না এমন ঢাকাবাসী কেউ নেই। আসলে পুলিশ ভালোভাবেই জানে কারা ছিনতাইকারি, বাকিটা ইতিহাস! এসব এলাকায় এখনই পর্যাপ্ত গোয়েন্দা নজরদারি নেয়া হোক।

[লেখক: সাংবাদিক]

back to top