alt

উপ-সম্পাদকীয়

নতুন শিক্ষাক্রম ও বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক

মাছুম বিল্লাহ

: বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২

ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণীতে পরিমার্জিত শিক্ষাক্রমের আলোকে প্রণীত নতুন পাঠ্যপুস্তক ও শিখনসামগ্রীর বাস্তবায়ন শুরু হতে যাচ্ছে আগামী জানুয়ারিতে। নতুন কারিকুলামে শিক্ষকদের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি এবং গুরুত্বপূর্ণ। কারিকুলাম অনুযায়ী বেশির ভাগ বিষয়ে ৫০ শতাংশ নম্বরের জন্য পরীক্ষা ও বাকি ৫০ শতাংশের ধারাবাহিক মূল্যায়ন করা হবে শ্রেণীকক্ষে। অর্থাৎ এখানেও শিক্ষকদেরই বিশাল ভূমিকা। নতুন শিক্ষাক্রমে ১০টি বিষয় রয়েছে। সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর বিদ্যমান পদগুলোতে যারা শিক্ষক হিসেবে বর্তমানে কর্মরত আছেন, তারা বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নন। দেখা যায় সমাজ বিজ্ঞানের শিক্ষকরা ইংরেজি পড়াচ্ছেন, কৃষিবিজ্ঞানের শিক্ষক গণিত কিংবা বিজ্ঞান পড়াচ্ছেন।

কিন্তু নতুন কারিকুলাম অনুযায়ী বিভিন্ন বিষয় পড়ানোর জন্য একটি বিষয়ে একাধিক শিক্ষক এবং কোন বিষয়ে শিক্ষক নেই এভাবে বণ্টন করা যাবে না। নতুন শিক্ষাক্রম অনুসারে কে কোন বিষয়ে শ্রেণী কার্যক্রম পরিচালনা করবেন এবং কোন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন, তা বিন্যস্ত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান প্রধানরা এই তালিকা অনুসরণ করে তার প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের জন্য বিষয় বণ্টন করবেন। তালিকা অনুসরণ করে প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা তাদের শিক্ষকদের জন্য বিষয় বণ্টন করে অনলাইনে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকদের ডাটা এন্ট্রি দেবেন।

অনলাইনে বিদ্যামন সব বিষয়ের শিক্ষককে পরিমার্জিত শিক্ষাক্রম অনুযায়ী নির্বাচিত বিষয়গুলোর কোন না কোন বিষয়ের নাম এন্ট্রি দিতে হবে। কোন বিদ্যালয়ে শিক্ষকের সংখ্যা ১০ জন হলে ১০ জন শিক্ষককে পরিমার্জিত শিক্ষাক্রমের ১০টি বিষয়ে বণ্টন করে দিতে হবে। একটি বিষয়ে একাধিক শিক্ষক এবং কোন বিষয়ে শিক্ষক নেই এভাবে বণ্টন করা যাবে না। শিক্ষক সংখ্যা ১০ জনের বেশি হলে ম্যাচিং তালিকা অনুযায়ী নতুন শিক্ষাক্রমের ১০টি বিষয়ে ১০ জনকে দায়িত্ব বণ্টনের পর অন্য শিক্ষকদের জন্য তালিকা অনুযায়ী বিষয় বণ্টন করতে হবে। শিক্ষক সংখ্যা ১০ জনের কম হলে ম্যাচিং তালিকা অনুযায়ী তাদের বিষয় বণ্টন করে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে অন্য বিষয়গুলো তাদের নিজ বিষয়, আগ্রহ ও দক্ষতা বিবেচনায় রেখে বণ্টন করে দিতে হবে।

বর্তমানে বাংলার শিক্ষকদের নতুন শিক্ষাক্রম অনুসারে বিষয় হবে বাংলা, ইংরেজি শিক্ষকদের ইংরেজি, গণিত শিক্ষকদের গণিত, ভৌতবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞানের শিক্ষকদের বিষয় হবে বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান ও ভূগোল শিক্ষকদের নতুন শিক্ষাক্রম অনুসারে বিষয় হবে ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান, ভৌতবিজ্হান বা আইসিটিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বা আইসিটিতে দক্ষ যে কোন বিষয়ের শিক্ষকদের বিষয় নতুন শিক্ষাক্রমে হবে ডিজিটাল প্রযুক্তি। কৃষি শিক্ষা ও ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষকদের নতুন শিক্ষাক্রম অনুসারে বিষয় হবে কৃষি শিক্ষা ও ব্যবসায় শিক্ষা, শারীরিক শিক্ষা ও গার্হস্থ্য অর্থনীতি ও জীববিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষকদের বিষয় নতুন শিক্ষাক্রমে হবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা, ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষকদের নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী বিষয় হবে ধর্ম শিক্ষা এবং চারু ও কারুকলা বিষয়ে শিক্ষকদের বিষয় নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী হবে শিল্প ও সংস্কৃতি।

বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক মাধ্যমিকে সব বিষয়ে না থাকা একটি বাস্তবতা। এটির জন্য এককভাবে কেউ দায়ী নয়। তবে, বেশির ভাগ শিক্ষকই ইংরেজি, গণিত বিষয়ে পাঠদান করতে চান প্রাইভেট টিউশনির জন্য। আর এজন্য কর্তৃপক্ষের আনুকুল্য পেতে হয়। আর একটি সমস্যা হচ্ছে গ্রামীণ এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকদের এমনিতেই ঘাটতি রয়েছে, তারপর বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক থাকার তো প্রশ্নই আসে না। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে রয়েছে অন্য ধরনের সমস্যা। ঢাকাসহ দেশের বড় বড় শহরে এবং অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক অঞ্চলে অবস্থিত সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে রয়েছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত শিক্ষক। আর গ্রামীণ এলাকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে রয়েছে প্রয়োজনের তুলনায় খুব কম-সংখ্যক শিক্ষক।

তারপরও খোদ রাজধানীর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিষয়ভিত্তিক ধরন অনুসারে শিক্ষক পদায়ন করা নেই। এসব বিদ্যালয়ে এক বিষয়ের শিক্ষক আরেক বিষয়ের ক্লাস নিচ্ছেন প্রতিনিয়ত। এখানে নতুন কারিকুলাম কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, তা নিয়ে সন্দিহান খোদ শিক্ষকরাই। নতুন কারিকুলামে প্রশিক্ষণবিহীন কোন শিক্ষক আগামী ৩১ ডিসেম্বরের পর আর ক্লাস নিতে পারবেন না। ডিসেম্বরের আগেই ঢাকার স্কুলগুলোর শিক্ষকদের বিষয় সমন্বয় করে ফেলা হবে বলে মন্তব্য করেছেন মাউশির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিদ্যমান শিক্ষকদের সফটওয়্যারের মাধ্যমে সমন্বয় করাতে প্রধান শিক্ষকদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। নতুন শিক্ষাক্রমে মোট ১০টি বিষয় থাকছে। এর আলোকে বর্তমানে বিষয়ভিত্তিক পদে কর্মরত শিক্ষকদের বিষয় নির্ধারণ করে সেপ্টেম্বর ১০-এর মধ্যে ইএমআইএস ডাটাবেইজ হালনাগাদ করতে বলা হয়েছিল, এই তারিখ আবার বর্ধিত করা হয়েছে।

২০২৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে সারা দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের বিদ্যালয়, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণীতে জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা ২০২১-এর আলোকে প্রণীত শিক্ষাক্রম ও পাঠপুস্তকের সাহায্যে শিখন কার্যক্রম চালু হতে যাচ্ছে। নতুন শিক্ষাক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদান এবং প্রশিক্ষণ প্রদানের আগে নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানরত শিক্ষকদের বিষয় নির্ধারণ করা প্রয়োজন। জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখার আলোকে মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানরত শিক্ষকদের বিষয় নির্ধারণ করে শিক্ষকদের ডাটাবেজ হালনাগাদ করার জন্য ইএমআইএস ওয়েবসাইটে একটি মডিউল করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমিক পর্যায়ের সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান যাদের ইআইআইএন নম্বর আছে, তারা ইএমআইএস ওয়েবসাইটে লগইন করে তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বিষয় নির্ধারণ করতে পারবেন।

ঢাকাসহ দেশের বড় বড় শহরে এবং অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক অঞ্চলে অবস্থিত সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে রয়েছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত শিক্ষক। আর গ্রামীণ এলাকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে রয়েছে প্রয়োজনের তুলনায় খুব কমসংখ্যক শিক্ষক

সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী একজন শিক্ষক একই এলাকায় সর্বোচ্চ তিন বছর থাকতে পারেন। তবে সুবিধাভোগীদের কেউ কেউ রাজধানীতে আছেন ২৬ থেকে ২৭ বছর পর্যন্ত। সবাই ঢাকায় থাকলে অন্যান্য এলাকার শিক্ষার্থীদের এবং শিক্ষার কি হবে? এই অসম অবস্থা তৈরির জন্য সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত। কারণ শিক্ষক স্বল্পতা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করে আমাদের শিক্ষার্থীদের। যাদের জন্য এই বিশাল ব্যবস্থা, তারাই যদি উপকৃত না হয় বরং ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে রাষ্ট্র পরিচালিত এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন কি? কোথাও এক চর্তুথাংশ শিক্ষক কাজ করবেন আবার ঢাকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে উপচে পড়া শিক্ষক... এ কেমন বৈষম্য? শিক্ষক স্বল্পতা ও অতিরিক্ত শিক্ষক, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকা বা তার ধারে কাছেও না যাওয়া বিষয়গুলো শ্রেণীকক্ষের শিক্ষাদানকে নিরুৎসাহিত করে প্রাইভেট কোচিং, কোচিং সেন্টার ও দুর্নীতিকে উৎসাহিত করছে। কাজেই এ বিষয়টিতে সমতা এবং স্বচ্ছতা নিয়ে আসা সময়ের দাবি।

[লেখক : সাবেক শিক্ষক, রাজউক কলেজ]

উত্তরবঙ্গের পর্যটন ও সম্ভাবনা : একটি অনুভাবনা

জাগো বহ্নিশিখা

মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের আচরণ প্রসঙ্গে

ছবি

শাকিব খান, দুষ্মন্ত-শকুন্তলা এবং নায়িকা সমাচার

ছোটদের লেখাপড়ায় নিতে হবে মেগা প্রকল্প

ছবি

সার্বজনীন দুর্গাৎসব

বেদিয়া ও কুর্মি জাতিসত্তার হোক স্বতন্ত্র পরিচয়

ডিজিটাল শিল্পযুগ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ

ছবি

সর্বজনীন থেকে বিশ্বজনীন হয়ে ওঠা দুর্গোৎসব

যে কারণে শিক্ষাব্যবস্থার জাতীয়করণ প্রয়োজন

সীমান্তে উত্তেজনা, কী চায় মায়ানমার

সত্যি ওরা পেরেছে

শিশু নির্যাতনের প্রতিকারের পথে বাধা কী

আত্মগোপন, নিখোঁজ আর গুম

আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস

বাঁচো, বাঁচো এবং বাঁচো

কন্যাশিশুকে শিক্ষায়ও এগিয়ে থাকতে হবে 

বুদ্ধিজীবিতার দায়

আদিবাসীর তালিকা নিয়ে বিতর্ক কেন

সত্য কাজে কেউ নয় রাজি

মেগা প্রকল্প ঘিরে পর্যটনের সম্ভাবনা

বিশ্বব্যাপী ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে

শেষ আফ্রিকান টিক ওক গাছটি কি মারা গেছে?

তথ্যপ্রযুক্তির যুগে জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত হোক

ছবি

সময়মতো শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছাক পাঠ্যবই

ডিজিটাল শিল্পযুগ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ

আঞ্চলিক যোগাযোগের গুরুত্ব

কৃষি ও কম্পিউটার শিক্ষা বাস্তবমুখী হওয়া প্রয়োজন

জনপ্রিয়তা, সম্মান এবং সৃষ্টি সুখের গোপন তরিকা

ছবি

বছরে ১০ বিলিয়ন ডলার চামড়া রপ্তানি করা সম্ভব

ছবি

স্বপ্নছোঁয়া জয় ও এগিয়ে যাওয়ার পথনকশা

সড়ক দুর্ঘটনার মূল্য কত

ছবি

হার না মানা লাল-সবুজের মেয়েরা

ছবি

জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু

নারী ফুটবল দলকে অভিনন্দন

সেলিম : ভারতে বামপন্থার পুনর্জাগরণের ঋত্ত্বিক

tab

উপ-সম্পাদকীয়

নতুন শিক্ষাক্রম ও বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক

মাছুম বিল্লাহ

বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২

ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণীতে পরিমার্জিত শিক্ষাক্রমের আলোকে প্রণীত নতুন পাঠ্যপুস্তক ও শিখনসামগ্রীর বাস্তবায়ন শুরু হতে যাচ্ছে আগামী জানুয়ারিতে। নতুন কারিকুলামে শিক্ষকদের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি এবং গুরুত্বপূর্ণ। কারিকুলাম অনুযায়ী বেশির ভাগ বিষয়ে ৫০ শতাংশ নম্বরের জন্য পরীক্ষা ও বাকি ৫০ শতাংশের ধারাবাহিক মূল্যায়ন করা হবে শ্রেণীকক্ষে। অর্থাৎ এখানেও শিক্ষকদেরই বিশাল ভূমিকা। নতুন শিক্ষাক্রমে ১০টি বিষয় রয়েছে। সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর বিদ্যমান পদগুলোতে যারা শিক্ষক হিসেবে বর্তমানে কর্মরত আছেন, তারা বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নন। দেখা যায় সমাজ বিজ্ঞানের শিক্ষকরা ইংরেজি পড়াচ্ছেন, কৃষিবিজ্ঞানের শিক্ষক গণিত কিংবা বিজ্ঞান পড়াচ্ছেন।

কিন্তু নতুন কারিকুলাম অনুযায়ী বিভিন্ন বিষয় পড়ানোর জন্য একটি বিষয়ে একাধিক শিক্ষক এবং কোন বিষয়ে শিক্ষক নেই এভাবে বণ্টন করা যাবে না। নতুন শিক্ষাক্রম অনুসারে কে কোন বিষয়ে শ্রেণী কার্যক্রম পরিচালনা করবেন এবং কোন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন, তা বিন্যস্ত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান প্রধানরা এই তালিকা অনুসরণ করে তার প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের জন্য বিষয় বণ্টন করবেন। তালিকা অনুসরণ করে প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা তাদের শিক্ষকদের জন্য বিষয় বণ্টন করে অনলাইনে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকদের ডাটা এন্ট্রি দেবেন।

অনলাইনে বিদ্যামন সব বিষয়ের শিক্ষককে পরিমার্জিত শিক্ষাক্রম অনুযায়ী নির্বাচিত বিষয়গুলোর কোন না কোন বিষয়ের নাম এন্ট্রি দিতে হবে। কোন বিদ্যালয়ে শিক্ষকের সংখ্যা ১০ জন হলে ১০ জন শিক্ষককে পরিমার্জিত শিক্ষাক্রমের ১০টি বিষয়ে বণ্টন করে দিতে হবে। একটি বিষয়ে একাধিক শিক্ষক এবং কোন বিষয়ে শিক্ষক নেই এভাবে বণ্টন করা যাবে না। শিক্ষক সংখ্যা ১০ জনের বেশি হলে ম্যাচিং তালিকা অনুযায়ী নতুন শিক্ষাক্রমের ১০টি বিষয়ে ১০ জনকে দায়িত্ব বণ্টনের পর অন্য শিক্ষকদের জন্য তালিকা অনুযায়ী বিষয় বণ্টন করতে হবে। শিক্ষক সংখ্যা ১০ জনের কম হলে ম্যাচিং তালিকা অনুযায়ী তাদের বিষয় বণ্টন করে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে অন্য বিষয়গুলো তাদের নিজ বিষয়, আগ্রহ ও দক্ষতা বিবেচনায় রেখে বণ্টন করে দিতে হবে।

বর্তমানে বাংলার শিক্ষকদের নতুন শিক্ষাক্রম অনুসারে বিষয় হবে বাংলা, ইংরেজি শিক্ষকদের ইংরেজি, গণিত শিক্ষকদের গণিত, ভৌতবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞানের শিক্ষকদের বিষয় হবে বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান ও ভূগোল শিক্ষকদের নতুন শিক্ষাক্রম অনুসারে বিষয় হবে ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান, ভৌতবিজ্হান বা আইসিটিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বা আইসিটিতে দক্ষ যে কোন বিষয়ের শিক্ষকদের বিষয় নতুন শিক্ষাক্রমে হবে ডিজিটাল প্রযুক্তি। কৃষি শিক্ষা ও ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষকদের নতুন শিক্ষাক্রম অনুসারে বিষয় হবে কৃষি শিক্ষা ও ব্যবসায় শিক্ষা, শারীরিক শিক্ষা ও গার্হস্থ্য অর্থনীতি ও জীববিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষকদের বিষয় নতুন শিক্ষাক্রমে হবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা, ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষকদের নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী বিষয় হবে ধর্ম শিক্ষা এবং চারু ও কারুকলা বিষয়ে শিক্ষকদের বিষয় নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী হবে শিল্প ও সংস্কৃতি।

বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক মাধ্যমিকে সব বিষয়ে না থাকা একটি বাস্তবতা। এটির জন্য এককভাবে কেউ দায়ী নয়। তবে, বেশির ভাগ শিক্ষকই ইংরেজি, গণিত বিষয়ে পাঠদান করতে চান প্রাইভেট টিউশনির জন্য। আর এজন্য কর্তৃপক্ষের আনুকুল্য পেতে হয়। আর একটি সমস্যা হচ্ছে গ্রামীণ এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকদের এমনিতেই ঘাটতি রয়েছে, তারপর বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক থাকার তো প্রশ্নই আসে না। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে রয়েছে অন্য ধরনের সমস্যা। ঢাকাসহ দেশের বড় বড় শহরে এবং অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক অঞ্চলে অবস্থিত সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে রয়েছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত শিক্ষক। আর গ্রামীণ এলাকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে রয়েছে প্রয়োজনের তুলনায় খুব কম-সংখ্যক শিক্ষক।

তারপরও খোদ রাজধানীর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিষয়ভিত্তিক ধরন অনুসারে শিক্ষক পদায়ন করা নেই। এসব বিদ্যালয়ে এক বিষয়ের শিক্ষক আরেক বিষয়ের ক্লাস নিচ্ছেন প্রতিনিয়ত। এখানে নতুন কারিকুলাম কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, তা নিয়ে সন্দিহান খোদ শিক্ষকরাই। নতুন কারিকুলামে প্রশিক্ষণবিহীন কোন শিক্ষক আগামী ৩১ ডিসেম্বরের পর আর ক্লাস নিতে পারবেন না। ডিসেম্বরের আগেই ঢাকার স্কুলগুলোর শিক্ষকদের বিষয় সমন্বয় করে ফেলা হবে বলে মন্তব্য করেছেন মাউশির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিদ্যমান শিক্ষকদের সফটওয়্যারের মাধ্যমে সমন্বয় করাতে প্রধান শিক্ষকদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। নতুন শিক্ষাক্রমে মোট ১০টি বিষয় থাকছে। এর আলোকে বর্তমানে বিষয়ভিত্তিক পদে কর্মরত শিক্ষকদের বিষয় নির্ধারণ করে সেপ্টেম্বর ১০-এর মধ্যে ইএমআইএস ডাটাবেইজ হালনাগাদ করতে বলা হয়েছিল, এই তারিখ আবার বর্ধিত করা হয়েছে।

২০২৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে সারা দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের বিদ্যালয়, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণীতে জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা ২০২১-এর আলোকে প্রণীত শিক্ষাক্রম ও পাঠপুস্তকের সাহায্যে শিখন কার্যক্রম চালু হতে যাচ্ছে। নতুন শিক্ষাক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদান এবং প্রশিক্ষণ প্রদানের আগে নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানরত শিক্ষকদের বিষয় নির্ধারণ করা প্রয়োজন। জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখার আলোকে মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানরত শিক্ষকদের বিষয় নির্ধারণ করে শিক্ষকদের ডাটাবেজ হালনাগাদ করার জন্য ইএমআইএস ওয়েবসাইটে একটি মডিউল করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমিক পর্যায়ের সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান যাদের ইআইআইএন নম্বর আছে, তারা ইএমআইএস ওয়েবসাইটে লগইন করে তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বিষয় নির্ধারণ করতে পারবেন।

ঢাকাসহ দেশের বড় বড় শহরে এবং অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক অঞ্চলে অবস্থিত সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে রয়েছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত শিক্ষক। আর গ্রামীণ এলাকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে রয়েছে প্রয়োজনের তুলনায় খুব কমসংখ্যক শিক্ষক

সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী একজন শিক্ষক একই এলাকায় সর্বোচ্চ তিন বছর থাকতে পারেন। তবে সুবিধাভোগীদের কেউ কেউ রাজধানীতে আছেন ২৬ থেকে ২৭ বছর পর্যন্ত। সবাই ঢাকায় থাকলে অন্যান্য এলাকার শিক্ষার্থীদের এবং শিক্ষার কি হবে? এই অসম অবস্থা তৈরির জন্য সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত। কারণ শিক্ষক স্বল্পতা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করে আমাদের শিক্ষার্থীদের। যাদের জন্য এই বিশাল ব্যবস্থা, তারাই যদি উপকৃত না হয় বরং ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে রাষ্ট্র পরিচালিত এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন কি? কোথাও এক চর্তুথাংশ শিক্ষক কাজ করবেন আবার ঢাকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে উপচে পড়া শিক্ষক... এ কেমন বৈষম্য? শিক্ষক স্বল্পতা ও অতিরিক্ত শিক্ষক, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকা বা তার ধারে কাছেও না যাওয়া বিষয়গুলো শ্রেণীকক্ষের শিক্ষাদানকে নিরুৎসাহিত করে প্রাইভেট কোচিং, কোচিং সেন্টার ও দুর্নীতিকে উৎসাহিত করছে। কাজেই এ বিষয়টিতে সমতা এবং স্বচ্ছতা নিয়ে আসা সময়ের দাবি।

[লেখক : সাবেক শিক্ষক, রাজউক কলেজ]

back to top