alt

উপ-সম্পাদকীয়

বিদায় রানী এলিজাবেথ

এম এ কবীর

: শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২
image

৮ সেপ্টেম্বর,২০২২। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর পর তার ৭০ বছর রাজত্ব আর ৯৬ বছরের বর্ণাঢ্য জীবনের অবসান হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলে ব্রিটিশ উপনিবেশ তখন গুটিয়ে এসেছে। নতুন রানির দায়িত্ব নিয়ে তিনি যখন ১৯৫৩ সালে কমনওয়েলথ দেশগুলোতে দীর্ঘ সফরে বের হন, তখন ভারতীয় উপমহাদেশসহ অনেক দেশে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হয়েছে। ক্রমে রাজতন্ত্রের প্রতি সাধারণ মানুষের অবিচ্ছিন্ন আনুগত্যে বদল আসতে শুরু করে। সমাজে নানা ধ্যান-ধারণা দ্রুত বদলাতে থাকে। রানিও যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলান। ক্রমে ‘রাজতন্ত্র’র জায়গা নেয় ‘রাজপরিবার’।

রানির রাজত্বকালের মূল স্তম্ভ হয়ে ওঠে সাংবিধানিক সততা রক্ষা। সরকারের দৈনন্দিন কর্মকান্ড থেকে দূরে চলে যান রানি। তার দায়িত্ব সীমিত থাকে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন, দেশের ঘটনা সম্পর্কে অবহিত থাকা, সরকারকে পরামর্শ দেয়ার মধ্যে। ষাটের দশকের শেষদিকে, বাকিংহাম প্রাসাদ সিদ্ধান্ত নেয় রাজপরিবারকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। রানি এবং তার পরিবারও যে আর পাঁচটা সাধারণ পরিবারের মতো ঘরকন্নার নানা কাজ করে তা দেখাতে বিবিসিকে ‘রয়্যাল ফ্যামিলি’ নামে একটি তথ্যচিত্র তৈরির অনুমতি দেয়া হয়। রানির দৈনন্দিন ঘর-সংসারের নানা ছবি ধারণ করা হয়। অনেকে বলেন, ওই তথ্যচিত্র রাজপরিবারের প্রতি সাধারণ জনগণের আস্থা-ভালোবাসা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।

রানি এলিজাবেথ নিজের দায়িত্ব পালনে নানা দেশে ভ্রমণ অব্যাহত রাখেন। ১৯৬১ সালে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের ঢাকা এবং চট্টগ্রামে প্রথম সফরে আসেন রানি। বাংলাদেশে তার দ্বিতীয় সফর ১৯৮৩ সালে। ১৯৮৩ সালের ১৬ নভেম্বর দিনটি চিরস্মরণীয় হয়ে আছে গাজীপুরের শ্রীপুরবাসীর কাছে। এ দিনে তিনি শ্রীপুরের বৈরাগীর চালা আদর্শ গ্রামে পা রাখেন। রানির পদস্পর্শে শ্রীপুরের মাটিতে শুরু হয় শিল্পায়ন। রানির কল্যাণে আজ শ্রীপুর শিল্পাঞ্চল। ১৯৯১ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধের পর তিনি আমেরিকা সফরে যান। তিনিই ছিলেন প্রথম ব্রিটিশ রানি যিনি আমেরিকান কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেন। এর এক বছরের মধ্যে তার পরিবারে নানা ধরনের কেলেঙ্কারি ও দুর্যোগের ঘটনা শুরু হয়। রানির দ্বিতীয় ছেলে ডিউক অব ইয়র্ক এডওয়ার্ড ও স্ত্রী সারা আলাদা হয়ে যান। মেয়ে প্রিন্সেস অ্যান ও স্বামী মার্ক ফিলিপসের বিয়ে ভেঙে যায়।

প্রিন্স ও প্রিন্সেস অব ওয়েলস, অর্থাৎ চার্লস ও ডায়ানা বিয়েতে যে গভীর অসুখী এ খবর জানাজানি হয়। তারাও আলাদা হয়ে যান। রানির প্রিয় বাসভবন উইন্ডসর ক্যাসলে ওই বছরই

বিরাট অগ্নিকান্ড হয়। ওই ভবন মেরামতের খরচ সাধারণ মানুষ জোগাবে নাকি তা রানির তহবিল থেকে ব্যয় করা উচিত তা নিয়ে চলে তুমুল বিতর্ক।

এক দিকে ইউরোপের সঙ্গে নতুন জোট গঠনের মধ্য দিয়ে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে ব্রিটেনের যোগাযোগ কিছুটা শিথিল হয়ে আসা, অন্য দিকে ব্রিটেনে রাজতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে জনমনে অব্যাহত বিতর্ক-এর মধ্যেও যখন রানি রাজপরিবারের উজ্জ্বল স্তম্ভ হিসেবে তার দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট, তখন প্রিন্সেস ডায়ানার আকস্মিক মৃত্যু ব্রিটেনের রাজপরিবারের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হয়ে আসে। ১৯৯৭ সালের আগস্টে প্যারিসে গাড়ি দুর্ঘটনায় ডায়ানা মারা যাওয়ার পর রানির বিরুদ্ধে ওঠে সমালোচনার ঝড়। যখন প্রাসাদের বাইরে বিশাল মানুষের ঢল ফুলের শ্রদ্ধার্ঘ্যে ভরে উঠে প্রাসাদের ফটকের বাইরের রাস্তাঘাট, তখন সেই শোকের মুহূর্তের সঙ্গে রানির আপাতদৃষ্টিতে একাত্ম হতে না পারায় মানুষ সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠে। মানুষের তীব্র সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত রানিকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে হয়, যে ভাষণে তিনি ডায়ানার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এবং সময়ের সঙ্গে রাজপরিবারকে বদলানোর অঙ্গীকার দেন। রাজপরিবারের প্রতি ব্রিটেনের মানুষের আগ্রহ, উদ্দীপনা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ২০০২ সালে মহাসমারোহে উদ্যাপিত হয় রানির সিংহাসন আরোহণের সুবর্ণজয়ন্তী, এরপর রানির ৮০ বছরের জন্মদিনে উইন্ডসরের রাস্তায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার বিশেষ সাক্ষাৎ-সফর, রানি ও প্রিন্স ফিলিপের বিয়ের ৬০তম বার্ষিকী উৎসব এবং ২০১১ সালে রানির নাতি উইলিয়াম ও ক্যাথরিনের বিয়ে ও ২০১২ রানির সিংহাসন আরোহণের হীরকজয়ন্তী। সর্বশেষ ২০২২-এর জুন মাসে মহাসমারোহে উদ্যাপিত হয় রানির সিংহাসন আরোহণের ৭০তম বার্ষিকী বা প্ল্যাটিনাম জয়ন্তী। রানির জীবনাবসানের মাত্র দুই দিন আগে ৬ সেপ্টেম্বর লিজ ট্রাস যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ পেতে স্কটল্যান্ডের বালমোরাল ক্যাসলে রানির কাছে যান। ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের প্রথা ভেঙে এটা করা হয়। সাধারণত রানি লন্ডনে থাকেন, সেখানে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন হবু প্রধানমন্ত্রীরা। লিজ ট্রাসের বিরল সৌভাগ্য যে তিনি রানির শুভাশীষ পাওয়া ১৫ জন প্রধানমন্ত্রীর (উইনস্টন চার্চিল থেকে লিজ ট্রাস) সারিতে নাম লেখাতে পেরেছেন।

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর পর যুক্তরাজ্যের নতুন রাজা

হয়েছেন তার বড় ছেলে চার্লস ফিলিপ আর্থার জর্জ। সিংহাসনে মায়ের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার অপেক্ষায় চার্লস কার্যত তার পুরো জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন। বস্তুত চার্লস সিংহাসনে আরোহণের পথে দীর্ঘ সময়ের উত্তরাধিকারী হিসেবে রেকর্ড গড়েছেন। যদিও রানির বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তার অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য চার্লস পেয়েছেন। একবার চার্লস বলেছিলেন, ‘সমস্যাটা হলো এখানে কাজের কোনো বিবরণ নেই। তাই যদি এগিয়ে যেতে চাও, বরং নিজেই সেটা তৈরি করে নাও।’

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর পর ব্রিটিশ রাজপরিবারের রাজনৈতিক ও সামাজিকসহ সব ইতিবৃত্তের সূচিমুখ খুলে যাচ্ছে। ইংল্যান্ডের রানি কেবল সাংবিধানিক রানি হলেও রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে এবং কমনওয়েলথের ১৫টি দেশের রানি হিসেবেও তিনি ছিলেন খুবই সম্মানিত এক ব্যক্তিত্ব। সেই সঙ্গে ব্রিটিশ চেতনার রাজনৈতিক জীবনেরও তিনি প্রভাবশালী

ছিলেন তার ব্যক্তিগত সৌম্যময় অবস্থানের জন্য। দীর্ঘ ৭০ বছরের রানি জীবনের প্রতিটি ধাপে তিনি যেমন উজ্জ্বল ভূমিকা রেখেছেন, তেমনি রানি ও তার পরিবারের জটিল জীবনের ক্রসকারেন্টের (চোরাস্রোত) অভিঘাতে জর্জরিত হয়েছেন।

দেখেছেন যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ক্ষমতার জোর কমতে এবং বাড়তেও। তিনি ব্রিটেনের ১৫ জন প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগদাতা এবং তার নামেই পরিচালিত হয়ে থাকে সেই দেশের সরকার। যদিও সাংবিধানিকপ্রধান তিনি, তার বাইরে তিনি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন তার সমাজসেবামূলক মানবহিতৈষীর জন্য। তিনি যখন রানি হন তখন পর্যন্ত বিভিন্ন উপনিবেশের ৬০ কোটি মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণ ছিল সে সাম্রাজ্যের। কিন্তু তিনি রাজসিংহাসনে আসীন হওয়ার পাঁচ বছর আগেই ভারতবর্ষে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান হয়। তবে তখনো আফ্রিকার বিরাট অংশজুড়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের উপনিবেশ বজায় ছিল। যার প্রায় সব কটি পরে স্বাধীন হয়েছে। তার রাজত্বকালে ১৯৫৭ সালে প্রথম স্বাধীন হয় ঘানা। আর জীবদ্দশায় শেষ প্রজাতন্ত্র হয় ক্যারিবীয় দেশ বার্বাডোজ, গত বছরের নভেম্বরে। ওইসব রাষ্ট্রের স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিকতায় রানি নিজে উপস্থিত থাকেননি, কিন্তু রাজপরিবারের প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন, যার উপস্থিতিতে ব্রিটিশ পতাকা নামানো হয়েছে। তবে এসব রাষ্ট্র স্বাধীন হলেও প্রায় সবাই কমনওয়েলথ জোটের সদস্যপদ গ্রহণ করে।

সাবেক উপনিবেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে রানির বিশেষ আগ্রহ দেখা গেছে। তার সিংহাসনে আরোহণের ২৫তম, ৫০তম ও ৭৫তম বার্ষিকীতে ওইসব দেশে তিনি নিজে অথবা রাজপরিবারের কোনো একজন সদস্য বিশেষ সফরে গেছেন।

রানির মৃত্যুর খবর কেনিয়ার সংবাদপত্রগুলো যেভাবে প্রকাশ করেছে, তা প্রায় ব্রিটিশ পত্রিকাগুলোর সঙ্গে তুলনীয়। রাজা ষষ্ঠ জর্জ যখন মারা যান, তখন এলিজাবেথ কেনিয়ায় সফরে ছিলেন এবং সেখান থেকে ফিরেই তিনি সিংহাসনে আসীন হন। ব্রিটিশ রানি হিসেবে দ্বিতীয় এলিজাবেথ যে শুধু রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিলেন তা নয়, তিনি ছিলেন খ্রিস্টধর্মের প্রটেস্ট্যান্ট শাখার প্রধান। ২০১১ সালে রানি আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্র সফর করেন। ক্যাথলিকপ্রধান আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক দ্বন্দ্ব এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের সহিংসতার রক্তাক্ত ইতিহাসের পটভূমিতে ওই সফর ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

তবে যারা রুটস উপন্যাসটি পড়েছেন, তারা জানেন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীরা কেনিয়া থেকে মানুষদের ধরে নিয়ে গিয়ে আমেরিকায় দাশ হিসেবে বিক্রির ব্যবসা করত। যারা ওই উপন্যাস রুটসের চলচ্চিত্রায়ণ দেখেছেন তারা জানেন, সাদা চামড়ার ব্রিটিশদের নির্মমতা। রানি এলিজাবেথ ওইসব অমানবিক দস্যুতারই উত্তরাধিকারী, তিনি তাই বহন করেছেন ৭০ বছর ধরে।

দক্ষিণ আফিকা থেকে শুরু করে যেসব দেশ কমনওয়েলথের সদস্য, প্রতিটি দেশই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের নারকীয় শাসন ও শোষণের কথা একবারও স্মরণ করছে না। কিন্তু কেনিয়ান একজন অ্যাক্টিভিস্ট বলেছেন, রানির মৃত্যুর জন্য আমি কেন শোক প্রকাশ করব?

পূর্বসূরিদের নরকসদৃশ শাসন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, তিনি সেই উত্তরাধিকারই বহন করছেন। কমনওয়েলথের দেশে যেসব রাজনৈতিক নেতা শাসন করছেন তারা ব্রিটিশদেরই লিগেসির বাহক। তাই তারা রানির মৃত্যুর পর এমন বাক্যে তাদের শোক জানাচ্ছেন, যেন তিনিই তাদের রাজনৈতিক অভিভাবক। অথচ তিনি ছিলেন ব্রিটেনের গণতান্ত্রিক সরকারের সাংবিধানিক রাষ্ট্রপ্রধানমাত্র। তিনি সরকারের কাছ থেকে প্রতি বছর মাসোহারা হিসেবে পেতেন ৯৬ লাখ পাউন্ড। সেই টাকায় তিনি তার রাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য খরচ বহন করতেন। তাদের দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে।

সেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আয়ের টাকাই রানির ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ডের সম্পদ। এর বাইরে তিনি ওয়েলসের বিপুল পরিমাণ জমির মালিক। অথচ তার পূর্বসূরি রাজা অষ্টম জর্জ ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সঙ্গে করা এক চুক্তিতে তাদের সব সম্পত্তি লিখে

দেন জনগণের জন্য, পার্লামেন্টকে। পার্লামেন্টই মূলত জনগণের মালিক এবং পার্লামেন্টই সেই মালিকানাস্বত্ব ব্যবহার করে থাকে।

[লেখক : ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক; সভাপতি,

ঝিনাইদহ জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটি]

যে কারণে শিক্ষাব্যবস্থার জাতীয়করণ প্রয়োজন

সীমান্তে উত্তেজনা, কী চায় মায়ানমার

সত্যি ওরা পেরেছে

শিশু নির্যাতনের প্রতিকারের পথে বাধা কী

আত্মগোপন, নিখোঁজ আর গুম

আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস

বাঁচো, বাঁচো এবং বাঁচো

কন্যাশিশুকে শিক্ষায়ও এগিয়ে থাকতে হবে 

বুদ্ধিজীবিতার দায়

আদিবাসীর তালিকা নিয়ে বিতর্ক কেন

সত্য কাজে কেউ নয় রাজি

মেগা প্রকল্প ঘিরে পর্যটনের সম্ভাবনা

বিশ্বব্যাপী ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে

শেষ আফ্রিকান টিক ওক গাছটি কি মারা গেছে?

তথ্যপ্রযুক্তির যুগে জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত হোক

ছবি

সময়মতো শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছাক পাঠ্যবই

ডিজিটাল শিল্পযুগ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ

আঞ্চলিক যোগাযোগের গুরুত্ব

কৃষি ও কম্পিউটার শিক্ষা বাস্তবমুখী হওয়া প্রয়োজন

জনপ্রিয়তা, সম্মান এবং সৃষ্টি সুখের গোপন তরিকা

ছবি

বছরে ১০ বিলিয়ন ডলার চামড়া রপ্তানি করা সম্ভব

ছবি

স্বপ্নছোঁয়া জয় ও এগিয়ে যাওয়ার পথনকশা

সড়ক দুর্ঘটনার মূল্য কত

ছবি

হার না মানা লাল-সবুজের মেয়েরা

ছবি

জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু

নারী ফুটবল দলকে অভিনন্দন

সেলিম : ভারতে বামপন্থার পুনর্জাগরণের ঋত্ত্বিক

ছবি

পোলট্রি শিল্পের সংকট

সর্প দংশনের কার্যকর চিকিৎসা পেতে চ্যালেঞ্জ এবং বাধা

খেলনা শিল্পের সম্ভাবনা

অভিযোজন সক্ষমতা বাড়াতে গাছ লাগানোর গুরুত্ব

ছবি

যানজট : অর্থনীতির নীরব ঘাতক

বিপজ্জনক বর্জ্য এবং এর ব্যবস্থাপনা

কৃষি খাতের উন্নয়ন ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ

নতুন শিক্ষাক্রম ও বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক

বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে ঢাকা

tab

উপ-সম্পাদকীয়

বিদায় রানী এলিজাবেথ

এম এ কবীর

image

শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

৮ সেপ্টেম্বর,২০২২। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর পর তার ৭০ বছর রাজত্ব আর ৯৬ বছরের বর্ণাঢ্য জীবনের অবসান হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলে ব্রিটিশ উপনিবেশ তখন গুটিয়ে এসেছে। নতুন রানির দায়িত্ব নিয়ে তিনি যখন ১৯৫৩ সালে কমনওয়েলথ দেশগুলোতে দীর্ঘ সফরে বের হন, তখন ভারতীয় উপমহাদেশসহ অনেক দেশে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হয়েছে। ক্রমে রাজতন্ত্রের প্রতি সাধারণ মানুষের অবিচ্ছিন্ন আনুগত্যে বদল আসতে শুরু করে। সমাজে নানা ধ্যান-ধারণা দ্রুত বদলাতে থাকে। রানিও যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলান। ক্রমে ‘রাজতন্ত্র’র জায়গা নেয় ‘রাজপরিবার’।

রানির রাজত্বকালের মূল স্তম্ভ হয়ে ওঠে সাংবিধানিক সততা রক্ষা। সরকারের দৈনন্দিন কর্মকান্ড থেকে দূরে চলে যান রানি। তার দায়িত্ব সীমিত থাকে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন, দেশের ঘটনা সম্পর্কে অবহিত থাকা, সরকারকে পরামর্শ দেয়ার মধ্যে। ষাটের দশকের শেষদিকে, বাকিংহাম প্রাসাদ সিদ্ধান্ত নেয় রাজপরিবারকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। রানি এবং তার পরিবারও যে আর পাঁচটা সাধারণ পরিবারের মতো ঘরকন্নার নানা কাজ করে তা দেখাতে বিবিসিকে ‘রয়্যাল ফ্যামিলি’ নামে একটি তথ্যচিত্র তৈরির অনুমতি দেয়া হয়। রানির দৈনন্দিন ঘর-সংসারের নানা ছবি ধারণ করা হয়। অনেকে বলেন, ওই তথ্যচিত্র রাজপরিবারের প্রতি সাধারণ জনগণের আস্থা-ভালোবাসা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।

রানি এলিজাবেথ নিজের দায়িত্ব পালনে নানা দেশে ভ্রমণ অব্যাহত রাখেন। ১৯৬১ সালে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের ঢাকা এবং চট্টগ্রামে প্রথম সফরে আসেন রানি। বাংলাদেশে তার দ্বিতীয় সফর ১৯৮৩ সালে। ১৯৮৩ সালের ১৬ নভেম্বর দিনটি চিরস্মরণীয় হয়ে আছে গাজীপুরের শ্রীপুরবাসীর কাছে। এ দিনে তিনি শ্রীপুরের বৈরাগীর চালা আদর্শ গ্রামে পা রাখেন। রানির পদস্পর্শে শ্রীপুরের মাটিতে শুরু হয় শিল্পায়ন। রানির কল্যাণে আজ শ্রীপুর শিল্পাঞ্চল। ১৯৯১ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধের পর তিনি আমেরিকা সফরে যান। তিনিই ছিলেন প্রথম ব্রিটিশ রানি যিনি আমেরিকান কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেন। এর এক বছরের মধ্যে তার পরিবারে নানা ধরনের কেলেঙ্কারি ও দুর্যোগের ঘটনা শুরু হয়। রানির দ্বিতীয় ছেলে ডিউক অব ইয়র্ক এডওয়ার্ড ও স্ত্রী সারা আলাদা হয়ে যান। মেয়ে প্রিন্সেস অ্যান ও স্বামী মার্ক ফিলিপসের বিয়ে ভেঙে যায়।

প্রিন্স ও প্রিন্সেস অব ওয়েলস, অর্থাৎ চার্লস ও ডায়ানা বিয়েতে যে গভীর অসুখী এ খবর জানাজানি হয়। তারাও আলাদা হয়ে যান। রানির প্রিয় বাসভবন উইন্ডসর ক্যাসলে ওই বছরই

বিরাট অগ্নিকান্ড হয়। ওই ভবন মেরামতের খরচ সাধারণ মানুষ জোগাবে নাকি তা রানির তহবিল থেকে ব্যয় করা উচিত তা নিয়ে চলে তুমুল বিতর্ক।

এক দিকে ইউরোপের সঙ্গে নতুন জোট গঠনের মধ্য দিয়ে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে ব্রিটেনের যোগাযোগ কিছুটা শিথিল হয়ে আসা, অন্য দিকে ব্রিটেনে রাজতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে জনমনে অব্যাহত বিতর্ক-এর মধ্যেও যখন রানি রাজপরিবারের উজ্জ্বল স্তম্ভ হিসেবে তার দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট, তখন প্রিন্সেস ডায়ানার আকস্মিক মৃত্যু ব্রিটেনের রাজপরিবারের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হয়ে আসে। ১৯৯৭ সালের আগস্টে প্যারিসে গাড়ি দুর্ঘটনায় ডায়ানা মারা যাওয়ার পর রানির বিরুদ্ধে ওঠে সমালোচনার ঝড়। যখন প্রাসাদের বাইরে বিশাল মানুষের ঢল ফুলের শ্রদ্ধার্ঘ্যে ভরে উঠে প্রাসাদের ফটকের বাইরের রাস্তাঘাট, তখন সেই শোকের মুহূর্তের সঙ্গে রানির আপাতদৃষ্টিতে একাত্ম হতে না পারায় মানুষ সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠে। মানুষের তীব্র সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত রানিকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে হয়, যে ভাষণে তিনি ডায়ানার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এবং সময়ের সঙ্গে রাজপরিবারকে বদলানোর অঙ্গীকার দেন। রাজপরিবারের প্রতি ব্রিটেনের মানুষের আগ্রহ, উদ্দীপনা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ২০০২ সালে মহাসমারোহে উদ্যাপিত হয় রানির সিংহাসন আরোহণের সুবর্ণজয়ন্তী, এরপর রানির ৮০ বছরের জন্মদিনে উইন্ডসরের রাস্তায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার বিশেষ সাক্ষাৎ-সফর, রানি ও প্রিন্স ফিলিপের বিয়ের ৬০তম বার্ষিকী উৎসব এবং ২০১১ সালে রানির নাতি উইলিয়াম ও ক্যাথরিনের বিয়ে ও ২০১২ রানির সিংহাসন আরোহণের হীরকজয়ন্তী। সর্বশেষ ২০২২-এর জুন মাসে মহাসমারোহে উদ্যাপিত হয় রানির সিংহাসন আরোহণের ৭০তম বার্ষিকী বা প্ল্যাটিনাম জয়ন্তী। রানির জীবনাবসানের মাত্র দুই দিন আগে ৬ সেপ্টেম্বর লিজ ট্রাস যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ পেতে স্কটল্যান্ডের বালমোরাল ক্যাসলে রানির কাছে যান। ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের প্রথা ভেঙে এটা করা হয়। সাধারণত রানি লন্ডনে থাকেন, সেখানে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন হবু প্রধানমন্ত্রীরা। লিজ ট্রাসের বিরল সৌভাগ্য যে তিনি রানির শুভাশীষ পাওয়া ১৫ জন প্রধানমন্ত্রীর (উইনস্টন চার্চিল থেকে লিজ ট্রাস) সারিতে নাম লেখাতে পেরেছেন।

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর পর যুক্তরাজ্যের নতুন রাজা

হয়েছেন তার বড় ছেলে চার্লস ফিলিপ আর্থার জর্জ। সিংহাসনে মায়ের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার অপেক্ষায় চার্লস কার্যত তার পুরো জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন। বস্তুত চার্লস সিংহাসনে আরোহণের পথে দীর্ঘ সময়ের উত্তরাধিকারী হিসেবে রেকর্ড গড়েছেন। যদিও রানির বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তার অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য চার্লস পেয়েছেন। একবার চার্লস বলেছিলেন, ‘সমস্যাটা হলো এখানে কাজের কোনো বিবরণ নেই। তাই যদি এগিয়ে যেতে চাও, বরং নিজেই সেটা তৈরি করে নাও।’

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর পর ব্রিটিশ রাজপরিবারের রাজনৈতিক ও সামাজিকসহ সব ইতিবৃত্তের সূচিমুখ খুলে যাচ্ছে। ইংল্যান্ডের রানি কেবল সাংবিধানিক রানি হলেও রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে এবং কমনওয়েলথের ১৫টি দেশের রানি হিসেবেও তিনি ছিলেন খুবই সম্মানিত এক ব্যক্তিত্ব। সেই সঙ্গে ব্রিটিশ চেতনার রাজনৈতিক জীবনেরও তিনি প্রভাবশালী

ছিলেন তার ব্যক্তিগত সৌম্যময় অবস্থানের জন্য। দীর্ঘ ৭০ বছরের রানি জীবনের প্রতিটি ধাপে তিনি যেমন উজ্জ্বল ভূমিকা রেখেছেন, তেমনি রানি ও তার পরিবারের জটিল জীবনের ক্রসকারেন্টের (চোরাস্রোত) অভিঘাতে জর্জরিত হয়েছেন।

দেখেছেন যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ক্ষমতার জোর কমতে এবং বাড়তেও। তিনি ব্রিটেনের ১৫ জন প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগদাতা এবং তার নামেই পরিচালিত হয়ে থাকে সেই দেশের সরকার। যদিও সাংবিধানিকপ্রধান তিনি, তার বাইরে তিনি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন তার সমাজসেবামূলক মানবহিতৈষীর জন্য। তিনি যখন রানি হন তখন পর্যন্ত বিভিন্ন উপনিবেশের ৬০ কোটি মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণ ছিল সে সাম্রাজ্যের। কিন্তু তিনি রাজসিংহাসনে আসীন হওয়ার পাঁচ বছর আগেই ভারতবর্ষে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান হয়। তবে তখনো আফ্রিকার বিরাট অংশজুড়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের উপনিবেশ বজায় ছিল। যার প্রায় সব কটি পরে স্বাধীন হয়েছে। তার রাজত্বকালে ১৯৫৭ সালে প্রথম স্বাধীন হয় ঘানা। আর জীবদ্দশায় শেষ প্রজাতন্ত্র হয় ক্যারিবীয় দেশ বার্বাডোজ, গত বছরের নভেম্বরে। ওইসব রাষ্ট্রের স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিকতায় রানি নিজে উপস্থিত থাকেননি, কিন্তু রাজপরিবারের প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন, যার উপস্থিতিতে ব্রিটিশ পতাকা নামানো হয়েছে। তবে এসব রাষ্ট্র স্বাধীন হলেও প্রায় সবাই কমনওয়েলথ জোটের সদস্যপদ গ্রহণ করে।

সাবেক উপনিবেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে রানির বিশেষ আগ্রহ দেখা গেছে। তার সিংহাসনে আরোহণের ২৫তম, ৫০তম ও ৭৫তম বার্ষিকীতে ওইসব দেশে তিনি নিজে অথবা রাজপরিবারের কোনো একজন সদস্য বিশেষ সফরে গেছেন।

রানির মৃত্যুর খবর কেনিয়ার সংবাদপত্রগুলো যেভাবে প্রকাশ করেছে, তা প্রায় ব্রিটিশ পত্রিকাগুলোর সঙ্গে তুলনীয়। রাজা ষষ্ঠ জর্জ যখন মারা যান, তখন এলিজাবেথ কেনিয়ায় সফরে ছিলেন এবং সেখান থেকে ফিরেই তিনি সিংহাসনে আসীন হন। ব্রিটিশ রানি হিসেবে দ্বিতীয় এলিজাবেথ যে শুধু রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিলেন তা নয়, তিনি ছিলেন খ্রিস্টধর্মের প্রটেস্ট্যান্ট শাখার প্রধান। ২০১১ সালে রানি আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্র সফর করেন। ক্যাথলিকপ্রধান আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক দ্বন্দ্ব এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের সহিংসতার রক্তাক্ত ইতিহাসের পটভূমিতে ওই সফর ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

তবে যারা রুটস উপন্যাসটি পড়েছেন, তারা জানেন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীরা কেনিয়া থেকে মানুষদের ধরে নিয়ে গিয়ে আমেরিকায় দাশ হিসেবে বিক্রির ব্যবসা করত। যারা ওই উপন্যাস রুটসের চলচ্চিত্রায়ণ দেখেছেন তারা জানেন, সাদা চামড়ার ব্রিটিশদের নির্মমতা। রানি এলিজাবেথ ওইসব অমানবিক দস্যুতারই উত্তরাধিকারী, তিনি তাই বহন করেছেন ৭০ বছর ধরে।

দক্ষিণ আফিকা থেকে শুরু করে যেসব দেশ কমনওয়েলথের সদস্য, প্রতিটি দেশই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের নারকীয় শাসন ও শোষণের কথা একবারও স্মরণ করছে না। কিন্তু কেনিয়ান একজন অ্যাক্টিভিস্ট বলেছেন, রানির মৃত্যুর জন্য আমি কেন শোক প্রকাশ করব?

পূর্বসূরিদের নরকসদৃশ শাসন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, তিনি সেই উত্তরাধিকারই বহন করছেন। কমনওয়েলথের দেশে যেসব রাজনৈতিক নেতা শাসন করছেন তারা ব্রিটিশদেরই লিগেসির বাহক। তাই তারা রানির মৃত্যুর পর এমন বাক্যে তাদের শোক জানাচ্ছেন, যেন তিনিই তাদের রাজনৈতিক অভিভাবক। অথচ তিনি ছিলেন ব্রিটেনের গণতান্ত্রিক সরকারের সাংবিধানিক রাষ্ট্রপ্রধানমাত্র। তিনি সরকারের কাছ থেকে প্রতি বছর মাসোহারা হিসেবে পেতেন ৯৬ লাখ পাউন্ড। সেই টাকায় তিনি তার রাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য খরচ বহন করতেন। তাদের দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে।

সেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আয়ের টাকাই রানির ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ডের সম্পদ। এর বাইরে তিনি ওয়েলসের বিপুল পরিমাণ জমির মালিক। অথচ তার পূর্বসূরি রাজা অষ্টম জর্জ ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সঙ্গে করা এক চুক্তিতে তাদের সব সম্পত্তি লিখে

দেন জনগণের জন্য, পার্লামেন্টকে। পার্লামেন্টই মূলত জনগণের মালিক এবং পার্লামেন্টই সেই মালিকানাস্বত্ব ব্যবহার করে থাকে।

[লেখক : ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক; সভাপতি,

ঝিনাইদহ জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটি]

back to top