alt

উপ-সম্পাদকীয়

দুঃস্বপ্নে-বেকারত্বে পাটকল শ্রমিক

এম এ কবীর

: সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২

সে প্রায় একশ বছর আগের কথা, শরৎচন্দ্রের ‘মহেশ’ গল্পের সেই বিখ্যাত কৃষক গফুর রাতের অন্ধকারে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে চলে গিয়েছিল শহরে। কাজ নেবে সে পাটের কলে। কিছুতেই যেতে চায়নি। পাটের কলে কুলিবস্তিতে তার মাতৃহীন একমাত্র সন্তান আমিনার ইজ্জত বাঁচবে না বলে তার গভীর শঙ্কা ছিল। তবু যেতে হলো, কারণ ব্রাহ্মণ-জমিদারশাসিত গ্রামে সে ভয়ঙ্কর এক অপরাধ করে ফেলেছে, গরু হত্যা করেছে। গরুটা অন্য কারও নয়, তার নিজেরই; গরুর নাম রেখেছে সে মহেশ। মহেশ গফুরের অতি আপনজন। গফুরদের পূর্বপুরুষ ছিল তাঁতি; সেই তাঁত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এসে গিলে খেয়েছে, গফুরকে তাই কৃষক হতে হয়েছে। কিন্তু চাষবাসে যে উপকরণ লাগে তা তার নেই। জমি নেই, লাঙলটা গেছে ভেঙে, ভরসা ছিল মহেশের ওপর, সে এখন বৃদ্ধ। গ্রামে ভীষণ খরা। পানীয় জলের অভাব। দূরের টিউবওয়েল থেকে জল আনতে আমিনার অনেক কষ্ট, গা বাঁচিয়ে চলতে হয়, ছুঁয়ে দিলে হিন্দু মহিলাদের জাত যাবে। গ্রীষ্মের ভর দুপুরে এক কলসি জল এনেছিল, অতিশয় তৃষ্ণার্ত মহেশ সেই জল খেতে গিয়ে আমিনার কলসি দিয়েছে ভেঙে। রাগে, অভিমানে, দুঃখে অন্ধ গফুর তার ভাঙা লাঙলের ফালটা এনে মেরেছে মহেশের মাথায়। সঙ্গে সঙ্গে মহেশের মৃত্যু এবং তারপর গ্রাম ছেড়ে গফুরের পলায়ন।

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর লেখা এই গল্পে তাঁতি পূর্বপূরুষের পেশা হারিয়ে কৃষক হয়ে ওঠা গফুর সামাজিক বৈষম্য ও আর্থিক টানাপোড়েনের জের ধরে হালচাষের একমাত্র উপকরণ মহেশ নামের গরুটিও যখন হারায় তখন সে শ্রমিক হতে শহরের দিকে পা বাড়ায়। ‘গফুর এখন কোথায় যাবে’ শিরোনামের কলামটিতে তিনি পরিহাস করে লিখেছেন, ‘তা সেকালের গফুরের তবু ভরসা ছিল পাটকলে।’ বাস্তবতা হচ্ছে বর্তমানে পাটকল আর গফুরের গন্তব্য হতে পারছে না।

সংবাদপত্রে প্রকাশিত ‘অসময়ে পাটে প্রণোদনা’ এবং ‘আকিজ জুট মিলের ৬৩০০ শ্রমিককে আকস্মিক ছাঁটাই’ শিরোনামে প্রকাশিত দুটি প্রতিবেদনে পাটচাষি ও পাটকল শ্রমিকদের দুর্দশার সেই চিত্রই ফুটে উঠেছে। কৃষকদের মধ্যে সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষিতে ভর্তুকিসহ বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দিয়ে সহযোগিতা করে আসছে সরকার। যার ধারাবাহিকতায় পাটের উৎপাদন বাড়াতে পাটচাষিদের জন্য বিনামূল্যে বীজ, সার ও কীটনাশক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কিন্তু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লালমনিরহাটের পাটগ্রামে প্রণোদনার এই পাটবীজ, সার ও কীটনাশক যথাসময়ে বিতরণ করা হয়নি। কৃষকদের বীজ দেয়ার তিন মাস পর দেয়া হয়েছে প্রণোদনার সার ও কীটনাশক। ফলে সময়মতো ক্ষেতের পরিচর্যা করতে পারেননি কৃষক। একাধিক কৃষক অভিযোগ করেন, উপজেলা পাট উন্নয়ন কার্যালয়ের কর্মকর্তারা চাষিদের কাছে সশরীরে আসেন না। তারা ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের কাছে যান এবং তাদের পছন্দমতো কৃষকদের তালিকা করে বীজ ও সার দেন। এতে সময়মতো বীজ-সার না পেয়ে উৎপাদন ব্যাহত হয়। অন্যদিকে, প্রকৃত পাটচাষিদের বঞ্চিত করে জনপ্রতিনিধিরা স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে পছন্দের ব্যক্তিকে সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেন।

জেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুস ছাত্তারের দাবি, ‘পাটবীজ দেয়ার সময় সারের বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। পরে বরাদ্দ পেয়ে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।’ অন্য প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, হঠাৎ করেই ৬ হাজার ৩০০ কর্মীকে কাজে আসতে নিষেধ করেছে বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় পাটকল আকিজ জুট মিল। মিলের নির্বাহী পরিচালক শেখ আবদুল হাকিম জানান, ‘উৎপাদিত পণ্যের রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়ায় এবং পাটের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কারখানাটি পুরোপুরি সচল রাখা যাচ্ছে না এ কারণেই বদলি শ্রমিকদের আসতে নিষেধ করা হয়েছে।’ জানা যায়, কর্তৃপক্ষ স্থায়ী ৭০০ শ্রমিক বাদে সবাইকে কাজে আসতে নিষেধ করেছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার কাঁচা পাটের দাম বেড়েছে। অতিরিক্ত দাম ও সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি মহামারী ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে ক্রয় আদেশ বাতিল হয়েছে। এর চাপ গিয়ে পড়েছে শ্রমিকদের ওপর, ফলে বেকারত্বের জাঁতাকলে পিষ্ট পাটকল শ্রমিকরা। পাটশিল্পের সামগ্রিক উন্নয়নে বিনিয়োগ ও আধুনিকায়নের সমন্বিত নীতিমালা না থাকার কারণেই শ্রমিকদের পরিস্থিতি এতটা নাজুক অবস্থায় পৌঁছেছে।

এখন আবার বিশ্বজুড়ে পরিবেশ সচেতনতার কারণে বায়োডিগ্রেডেবল আঁশের গুরুত্ব বাড়ছে। এ কারণে বিশ্বব্যাপী পাটের চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী। পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে তৃতীয়। তবে শুধু কাঁচা পাট রপ্তানিতে বাংলাদেশ এখনও বিশ্বে প্রথম অবস্থানে। বাংলাদেশের কাঁচা পাট বেশ উন্নতমানের হলেও কাঁচা পাটের দাম কম। প্রতিবেশী ভারত ও চীন পাটজাত বিভিন্ন পণ্য তৈরি করে বিশ্ববাজারে ভালো ব্যবসা করলেও বাংলাদেশ এখনও সে বিষয়ে মনোযোগী নয়। কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে ফড়িয়া-মজুদদারদের দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের কায়েমি স্বার্থের অপতৎপরতা বন্ধ না হলে কৃষকদের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিও বিপর্যস্ত হবে। আর পাটশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে না পারলে গফুরদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকবে না।

অলস মস্তিষ্ক শয়তানের বাসা। ক্ষুধার্ত মানুষের কোনো ধর্ম নেই, আদর্শ নেই। ক্ষুধা নিবারণের চেষ্টা সে করবেই। সারাদেশে বিজেএমসির অধীন মোট ২৭টি পাটকল রয়েছে। এসব পাটকলের নিয়মিত শ্রমিক প্রায় ৮০ হাজার। বাকিরা মাস্টার রোলে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করেন। সব মিলিয়ে দেশব্যাপী পাটশিল্পের ওপর নির্ভরশীল কয়েক লাখ পরিবার। দেশে একের পর এক পাটকল বন্ধ হওয়া আর নানা সমস্যায় জর্জরিত পাটকলগুলোর লোকসানি শিল্পে পরিণত হওয়ার প্রেক্ষাপটে দীর্ঘদিন ধরেই নানা দাবি-দাওয়ায় আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যে রয়েছেন পাটকল শ্রমিকরা।

পরিতাপের বিষয় হলো, একসময় ‘সোনালি আঁশ’ খ্যাত পাট নিয়ে গর্ব করা হলেও বিগত কয়েক দশকে ক্রমাগত ধস নেমেছে দেশের পাটশিল্পে। সত্তরের দশকে কৃত্রিম তন্তু এবং পলিথিনের আবিষ্কার সোনালি আঁশ পাটের দুর্দিন ডেকে আনে। কিন্তু এখন আবার বিশ্বজুড়ে পরিবেশ সচেতনতার কারণে বায়োডিগ্রেডেবল আঁশের গুরুত্ব বাড়ছে। এ কারণে বিশ্বব্যাপী পাটের চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী। সম্প্রতি বাংলাদেশি বিজ্ঞানীরা পাটের ‘জেনম সিকোয়েন্স’ আবিষ্কারের পর অনেক হৈচৈ হলেও পাটশিল্পের উন্নয়নে তার কোনো প্রভাব দেখতে পাওয়া যায় না। বাংলাদেশে পাটের একরপ্রতি উৎপাদন কম এবং ভারতীয় বীজের ওপর নির্ভরশীলতা কৃষককে পাট চাষে নিরুৎসাহিত করছে। এরপরও পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান এখন বিশ্বে তৃতীয়। প্রথম অবস্থানে ভারত, তার পরে রয়েছে চীন।

তবে শুধু কাঁচা পাট রপ্তানিতে বাংলাদেশ এখনও বিশ্বে প্রথম অবস্থানে। বাংলাদেশের কাঁচা পাট বেশ উন্নতমানের হলেও কাঁচা পাটের দাম কম। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে ধস নেমেছে। সাম্প্রতিক সময় এই খাতে বাংলাদেশ অবনমনের দিকেই হাঁটছে। আগের বছরের তুলনায় এ বছর পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি কমেছে ২৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ। রপ্তানিকারকরা বলছেন, উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত দিক থেকে পিছিয়ে থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে পাটশিল্প টিকে থাকাটা কঠিন হয়ে পড়ছে। আর এই সুযোগটি কাজে লাগাতে মরিয়া হয়ে ওঠেছে অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভারত। যা পাটশিল্পের জন্য অশনি সংকেত বলে মনে করছেন তারা। বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সবের্শষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৮-১৯ অথর্বছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) বাংলাদেশ পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে আয় করেছে ৪৯৮ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলার। অথচ আগের অথর্বছরের (২০১৭-১৮) একই সময় এই খাতের রপ্তানি আয় ছিল ৬৬১ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলার। অথার্ৎ আগের বছরের তুলনায় বাংলাদেশ পাট রপ্তানিতে ২৪ দশমিক ৬৬ পিছিয়ে পড়েছে।

বিশ্ববাজারে পাটের চাহিদা অনেক। কিন্তু উৎপাদনে পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে না পারায় বাংলাদেশ এক্ষেত্রে পিছিয়েই যাচ্ছে। রিসার্চ অ্যান্ড মার্কেটসের এক গবেষণায় বলা হয়ছে, ২০২২ সালে শুধু পাটের ব্যাগের বৈশি^ক বাজার ২৬০ কোটি ডলারের। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ (ইইউ) বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্লাস্টিকের ব্যাগ নিষিদ্ধের কারণে এই বাজার তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ, ভারত, চীনসহ পাটপণ্য উৎপাদনকারী দেশগুলোর সামনে এই বাজারে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে উৎপাদিত পাটজাত সুতার সবচেয়ে বড় বাজার তুরস্ক। এরপরই রয়েছে চীন, ভারত, মিসর, ইরান, বেলজিয়াম, রাশিয়া, পাকিস্তান ও মেক্সিকো। পাটের অন্যান্য পণ্য সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয় সুদান, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, কেনিয়া, বেলজিয়াম ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে।

পাটপণ্যের বহুমুখীকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করছে জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি)। এরই মধ্যে ২৩৫ ধরনের দৃষ্টিনন্দন বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদনও হচ্ছে। এছাড়া পাট থেকে পলিথিনের বিকল্প ‘সোনালি ব্যাগ’, ভিসকস, কম্পোজিট জুট টেক্সটাইল ও গার্মেন্ট, চারকোল, পাট পাতার পানীয় উৎপাদনের মাধ্যমে পাটশিল্পের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে কাজ করছে। ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০’-এর আওতায় ১৭টি পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ বাজারে পাটের বস্তার চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে বছরে প্রায় ১০০ কোটি পিস।

পাটপণ্যকে উৎসাহিত করতে ৬ মার্চকে জাতীয় পাট দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে। ইপিবির প্রতিবেদনের পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি অথর্বছরের প্রথম সাত মাসে পাটের কাঁচামাল রপ্তানি হয়েছে ৭৮ দশমিক ৮২ মিলিয়ন ডলার। আগের বছর একই সময় এই খাতে রপ্তানি হয়েছিল ৯৫ দশমিক ৫১ মিলিয়ন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে কমেছে ১৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ। পাটের সুতা ও কুন্ডলি রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৩০৩ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন ডলার। আগের বছর একই সময় যা হয়েছিল ৪১৪ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলারের। অর্থাৎ একবছরের ব্যবধানে এ জাতীয় পণ্যের রপ্তানি আয় কমেছে ২৬ দশমিক ৭২ ডলার। বস্তা ও ব্যাগ রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৫৫ দশমিক ৩০ মিলিয়ন ডলার। আগের অথর্বছরে এই খাতে আয় ছিল ৯২ দশমিক ৫৮ মিলিয়ন ডলার। বছরের ব্যবধানে এই আয় কমেছে ৪০ দশমিক ২৭ শতাংশ।

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী আরও লিখেছেন- সাতচল্লিশে যখন ভাগ হলো দেশ তখন অনেকেই মনে করেছিল পূর্ববঙ্গ টিকবেই না। কী করে টিকবে? তার শিল্পকারখানা কোথায়? ভরসা ছিল ধান ও পাটেই। ধান থেকে খোরাকি জুটবে, পাট থেকে আসবে কাঁচা পয়সা। তা পাটের পয়সা পাওয়ার ক্ষেত্রে তেমন সুবিধা না হলেও, ধান ঠিকই বাঁচিয়েছে আমাদের। তার মূল কারণ কিন্তু প্রকৃতি নয়, মূল কারণ চাষির শ্রম। আর ওই যে পাটের ফলন তারও মূল কারণ চাষির শ্রমই। তিনি লিখেছেন- নদী ক্ষেপে উঠেছে, পাড় ভাঙবে, সামলায় কার সাধ্য?

[লেখক: ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক; সভাপতি, ঝিনাইদহ জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটি]

কৃষি খাতে যান্ত্রিকীকরণ

দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে

ধর্মীয় সংখ্যালঘু খ্রিস্টানরা ভালো নেই

বঙ্গবন্ধু, বাংলা ও বাঙালি

ডিসি সম্মেলন : ধান ভানতে শিবের গীত

সন্তানের অভিভাবক হিসেবে মায়ের স্বীকৃতি ও বাস্তবতা

নতুন কারিকুলামে ইংরেজি শিখন-শেখানো কেমন হবে

নতুন কারিকুলামে ইংরেজি শিখন-শেখানো কেমন হবে

বিপর্যয়ের মুখে ধান ও পাট আবাদ : বিপাকে কৃষককুল

বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস

নগরে আগুন লাগলে দেবালয় কি অক্ষত থাকে

স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে বিকেন্দ্রীকরণ জরুরি

পাঠ্য বইয়ে ডারউইনের তত্ত্ব

ভাঙ্গা-মাওয়া এক্সপ্রেস সড়কে দুর্ঘটনা রোধে ব্যবস্থা নিন

প্রাণীর জন্য ভালোবাসা

সন্দেহের বশে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার

শিক্ষকরাই পারেন শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধ শেখাতে

ফ্লোর প্রাইস ও স্থিতিশীল শেয়ারবাজার

ছবি

বায়ুদূষণের ঝুঁকিতে দেশ

বিএনপি নেতৃত্বের সংকট ও আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ

তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে সচেতনতা

‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়তে চাই দক্ষ জনসম্পদ

ছবি

অঙ্গদানের অনন্য উদাহরণ

মডেল গ্রাম মুশুদ্দির গল্প

ফাইভ-জি : ডিজিটাল শিল্পযুগের মহাসড়ক

ছবি

স্মৃতির পাতায় ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান

ছবি

দক্ষিণডিহির স্মৃতিতে রবীন্দ্রনাথ

একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি এক্সট্রা কারিকুলাম জরুরি

বায়ুদূষণে বাংলাদেশের শীর্ষ অবস্থান আর কতকাল

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা সুশাসনের প্রধান উপাদান

নিয়মের বেড়াজালে ‘অপারেশন জ্যাকপট’

নতুন কারিকুলামে বিজ্ঞান শিক্ষা

নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা

খেলার মাঠের বিকল্প নেই

কেমন আছে খ্রিস্টান সম্প্রদায়

কিছু মানুষের কারণে...

tab

উপ-সম্পাদকীয়

দুঃস্বপ্নে-বেকারত্বে পাটকল শ্রমিক

এম এ কবীর

সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২

সে প্রায় একশ বছর আগের কথা, শরৎচন্দ্রের ‘মহেশ’ গল্পের সেই বিখ্যাত কৃষক গফুর রাতের অন্ধকারে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে চলে গিয়েছিল শহরে। কাজ নেবে সে পাটের কলে। কিছুতেই যেতে চায়নি। পাটের কলে কুলিবস্তিতে তার মাতৃহীন একমাত্র সন্তান আমিনার ইজ্জত বাঁচবে না বলে তার গভীর শঙ্কা ছিল। তবু যেতে হলো, কারণ ব্রাহ্মণ-জমিদারশাসিত গ্রামে সে ভয়ঙ্কর এক অপরাধ করে ফেলেছে, গরু হত্যা করেছে। গরুটা অন্য কারও নয়, তার নিজেরই; গরুর নাম রেখেছে সে মহেশ। মহেশ গফুরের অতি আপনজন। গফুরদের পূর্বপুরুষ ছিল তাঁতি; সেই তাঁত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এসে গিলে খেয়েছে, গফুরকে তাই কৃষক হতে হয়েছে। কিন্তু চাষবাসে যে উপকরণ লাগে তা তার নেই। জমি নেই, লাঙলটা গেছে ভেঙে, ভরসা ছিল মহেশের ওপর, সে এখন বৃদ্ধ। গ্রামে ভীষণ খরা। পানীয় জলের অভাব। দূরের টিউবওয়েল থেকে জল আনতে আমিনার অনেক কষ্ট, গা বাঁচিয়ে চলতে হয়, ছুঁয়ে দিলে হিন্দু মহিলাদের জাত যাবে। গ্রীষ্মের ভর দুপুরে এক কলসি জল এনেছিল, অতিশয় তৃষ্ণার্ত মহেশ সেই জল খেতে গিয়ে আমিনার কলসি দিয়েছে ভেঙে। রাগে, অভিমানে, দুঃখে অন্ধ গফুর তার ভাঙা লাঙলের ফালটা এনে মেরেছে মহেশের মাথায়। সঙ্গে সঙ্গে মহেশের মৃত্যু এবং তারপর গ্রাম ছেড়ে গফুরের পলায়ন।

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর লেখা এই গল্পে তাঁতি পূর্বপূরুষের পেশা হারিয়ে কৃষক হয়ে ওঠা গফুর সামাজিক বৈষম্য ও আর্থিক টানাপোড়েনের জের ধরে হালচাষের একমাত্র উপকরণ মহেশ নামের গরুটিও যখন হারায় তখন সে শ্রমিক হতে শহরের দিকে পা বাড়ায়। ‘গফুর এখন কোথায় যাবে’ শিরোনামের কলামটিতে তিনি পরিহাস করে লিখেছেন, ‘তা সেকালের গফুরের তবু ভরসা ছিল পাটকলে।’ বাস্তবতা হচ্ছে বর্তমানে পাটকল আর গফুরের গন্তব্য হতে পারছে না।

সংবাদপত্রে প্রকাশিত ‘অসময়ে পাটে প্রণোদনা’ এবং ‘আকিজ জুট মিলের ৬৩০০ শ্রমিককে আকস্মিক ছাঁটাই’ শিরোনামে প্রকাশিত দুটি প্রতিবেদনে পাটচাষি ও পাটকল শ্রমিকদের দুর্দশার সেই চিত্রই ফুটে উঠেছে। কৃষকদের মধ্যে সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষিতে ভর্তুকিসহ বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দিয়ে সহযোগিতা করে আসছে সরকার। যার ধারাবাহিকতায় পাটের উৎপাদন বাড়াতে পাটচাষিদের জন্য বিনামূল্যে বীজ, সার ও কীটনাশক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কিন্তু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লালমনিরহাটের পাটগ্রামে প্রণোদনার এই পাটবীজ, সার ও কীটনাশক যথাসময়ে বিতরণ করা হয়নি। কৃষকদের বীজ দেয়ার তিন মাস পর দেয়া হয়েছে প্রণোদনার সার ও কীটনাশক। ফলে সময়মতো ক্ষেতের পরিচর্যা করতে পারেননি কৃষক। একাধিক কৃষক অভিযোগ করেন, উপজেলা পাট উন্নয়ন কার্যালয়ের কর্মকর্তারা চাষিদের কাছে সশরীরে আসেন না। তারা ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের কাছে যান এবং তাদের পছন্দমতো কৃষকদের তালিকা করে বীজ ও সার দেন। এতে সময়মতো বীজ-সার না পেয়ে উৎপাদন ব্যাহত হয়। অন্যদিকে, প্রকৃত পাটচাষিদের বঞ্চিত করে জনপ্রতিনিধিরা স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে পছন্দের ব্যক্তিকে সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেন।

জেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুস ছাত্তারের দাবি, ‘পাটবীজ দেয়ার সময় সারের বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। পরে বরাদ্দ পেয়ে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।’ অন্য প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, হঠাৎ করেই ৬ হাজার ৩০০ কর্মীকে কাজে আসতে নিষেধ করেছে বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় পাটকল আকিজ জুট মিল। মিলের নির্বাহী পরিচালক শেখ আবদুল হাকিম জানান, ‘উৎপাদিত পণ্যের রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়ায় এবং পাটের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কারখানাটি পুরোপুরি সচল রাখা যাচ্ছে না এ কারণেই বদলি শ্রমিকদের আসতে নিষেধ করা হয়েছে।’ জানা যায়, কর্তৃপক্ষ স্থায়ী ৭০০ শ্রমিক বাদে সবাইকে কাজে আসতে নিষেধ করেছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার কাঁচা পাটের দাম বেড়েছে। অতিরিক্ত দাম ও সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি মহামারী ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে ক্রয় আদেশ বাতিল হয়েছে। এর চাপ গিয়ে পড়েছে শ্রমিকদের ওপর, ফলে বেকারত্বের জাঁতাকলে পিষ্ট পাটকল শ্রমিকরা। পাটশিল্পের সামগ্রিক উন্নয়নে বিনিয়োগ ও আধুনিকায়নের সমন্বিত নীতিমালা না থাকার কারণেই শ্রমিকদের পরিস্থিতি এতটা নাজুক অবস্থায় পৌঁছেছে।

এখন আবার বিশ্বজুড়ে পরিবেশ সচেতনতার কারণে বায়োডিগ্রেডেবল আঁশের গুরুত্ব বাড়ছে। এ কারণে বিশ্বব্যাপী পাটের চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী। পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে তৃতীয়। তবে শুধু কাঁচা পাট রপ্তানিতে বাংলাদেশ এখনও বিশ্বে প্রথম অবস্থানে। বাংলাদেশের কাঁচা পাট বেশ উন্নতমানের হলেও কাঁচা পাটের দাম কম। প্রতিবেশী ভারত ও চীন পাটজাত বিভিন্ন পণ্য তৈরি করে বিশ্ববাজারে ভালো ব্যবসা করলেও বাংলাদেশ এখনও সে বিষয়ে মনোযোগী নয়। কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে ফড়িয়া-মজুদদারদের দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের কায়েমি স্বার্থের অপতৎপরতা বন্ধ না হলে কৃষকদের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিও বিপর্যস্ত হবে। আর পাটশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে না পারলে গফুরদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকবে না।

অলস মস্তিষ্ক শয়তানের বাসা। ক্ষুধার্ত মানুষের কোনো ধর্ম নেই, আদর্শ নেই। ক্ষুধা নিবারণের চেষ্টা সে করবেই। সারাদেশে বিজেএমসির অধীন মোট ২৭টি পাটকল রয়েছে। এসব পাটকলের নিয়মিত শ্রমিক প্রায় ৮০ হাজার। বাকিরা মাস্টার রোলে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করেন। সব মিলিয়ে দেশব্যাপী পাটশিল্পের ওপর নির্ভরশীল কয়েক লাখ পরিবার। দেশে একের পর এক পাটকল বন্ধ হওয়া আর নানা সমস্যায় জর্জরিত পাটকলগুলোর লোকসানি শিল্পে পরিণত হওয়ার প্রেক্ষাপটে দীর্ঘদিন ধরেই নানা দাবি-দাওয়ায় আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যে রয়েছেন পাটকল শ্রমিকরা।

পরিতাপের বিষয় হলো, একসময় ‘সোনালি আঁশ’ খ্যাত পাট নিয়ে গর্ব করা হলেও বিগত কয়েক দশকে ক্রমাগত ধস নেমেছে দেশের পাটশিল্পে। সত্তরের দশকে কৃত্রিম তন্তু এবং পলিথিনের আবিষ্কার সোনালি আঁশ পাটের দুর্দিন ডেকে আনে। কিন্তু এখন আবার বিশ্বজুড়ে পরিবেশ সচেতনতার কারণে বায়োডিগ্রেডেবল আঁশের গুরুত্ব বাড়ছে। এ কারণে বিশ্বব্যাপী পাটের চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী। সম্প্রতি বাংলাদেশি বিজ্ঞানীরা পাটের ‘জেনম সিকোয়েন্স’ আবিষ্কারের পর অনেক হৈচৈ হলেও পাটশিল্পের উন্নয়নে তার কোনো প্রভাব দেখতে পাওয়া যায় না। বাংলাদেশে পাটের একরপ্রতি উৎপাদন কম এবং ভারতীয় বীজের ওপর নির্ভরশীলতা কৃষককে পাট চাষে নিরুৎসাহিত করছে। এরপরও পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান এখন বিশ্বে তৃতীয়। প্রথম অবস্থানে ভারত, তার পরে রয়েছে চীন।

তবে শুধু কাঁচা পাট রপ্তানিতে বাংলাদেশ এখনও বিশ্বে প্রথম অবস্থানে। বাংলাদেশের কাঁচা পাট বেশ উন্নতমানের হলেও কাঁচা পাটের দাম কম। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে ধস নেমেছে। সাম্প্রতিক সময় এই খাতে বাংলাদেশ অবনমনের দিকেই হাঁটছে। আগের বছরের তুলনায় এ বছর পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি কমেছে ২৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ। রপ্তানিকারকরা বলছেন, উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত দিক থেকে পিছিয়ে থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে পাটশিল্প টিকে থাকাটা কঠিন হয়ে পড়ছে। আর এই সুযোগটি কাজে লাগাতে মরিয়া হয়ে ওঠেছে অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভারত। যা পাটশিল্পের জন্য অশনি সংকেত বলে মনে করছেন তারা। বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সবের্শষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৮-১৯ অথর্বছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) বাংলাদেশ পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে আয় করেছে ৪৯৮ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলার। অথচ আগের অথর্বছরের (২০১৭-১৮) একই সময় এই খাতের রপ্তানি আয় ছিল ৬৬১ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলার। অথার্ৎ আগের বছরের তুলনায় বাংলাদেশ পাট রপ্তানিতে ২৪ দশমিক ৬৬ পিছিয়ে পড়েছে।

বিশ্ববাজারে পাটের চাহিদা অনেক। কিন্তু উৎপাদনে পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে না পারায় বাংলাদেশ এক্ষেত্রে পিছিয়েই যাচ্ছে। রিসার্চ অ্যান্ড মার্কেটসের এক গবেষণায় বলা হয়ছে, ২০২২ সালে শুধু পাটের ব্যাগের বৈশি^ক বাজার ২৬০ কোটি ডলারের। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ (ইইউ) বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্লাস্টিকের ব্যাগ নিষিদ্ধের কারণে এই বাজার তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ, ভারত, চীনসহ পাটপণ্য উৎপাদনকারী দেশগুলোর সামনে এই বাজারে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে উৎপাদিত পাটজাত সুতার সবচেয়ে বড় বাজার তুরস্ক। এরপরই রয়েছে চীন, ভারত, মিসর, ইরান, বেলজিয়াম, রাশিয়া, পাকিস্তান ও মেক্সিকো। পাটের অন্যান্য পণ্য সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয় সুদান, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, কেনিয়া, বেলজিয়াম ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে।

পাটপণ্যের বহুমুখীকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করছে জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি)। এরই মধ্যে ২৩৫ ধরনের দৃষ্টিনন্দন বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদনও হচ্ছে। এছাড়া পাট থেকে পলিথিনের বিকল্প ‘সোনালি ব্যাগ’, ভিসকস, কম্পোজিট জুট টেক্সটাইল ও গার্মেন্ট, চারকোল, পাট পাতার পানীয় উৎপাদনের মাধ্যমে পাটশিল্পের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে কাজ করছে। ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০’-এর আওতায় ১৭টি পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ বাজারে পাটের বস্তার চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে বছরে প্রায় ১০০ কোটি পিস।

পাটপণ্যকে উৎসাহিত করতে ৬ মার্চকে জাতীয় পাট দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে। ইপিবির প্রতিবেদনের পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি অথর্বছরের প্রথম সাত মাসে পাটের কাঁচামাল রপ্তানি হয়েছে ৭৮ দশমিক ৮২ মিলিয়ন ডলার। আগের বছর একই সময় এই খাতে রপ্তানি হয়েছিল ৯৫ দশমিক ৫১ মিলিয়ন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে কমেছে ১৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ। পাটের সুতা ও কুন্ডলি রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৩০৩ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন ডলার। আগের বছর একই সময় যা হয়েছিল ৪১৪ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলারের। অর্থাৎ একবছরের ব্যবধানে এ জাতীয় পণ্যের রপ্তানি আয় কমেছে ২৬ দশমিক ৭২ ডলার। বস্তা ও ব্যাগ রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৫৫ দশমিক ৩০ মিলিয়ন ডলার। আগের অথর্বছরে এই খাতে আয় ছিল ৯২ দশমিক ৫৮ মিলিয়ন ডলার। বছরের ব্যবধানে এই আয় কমেছে ৪০ দশমিক ২৭ শতাংশ।

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী আরও লিখেছেন- সাতচল্লিশে যখন ভাগ হলো দেশ তখন অনেকেই মনে করেছিল পূর্ববঙ্গ টিকবেই না। কী করে টিকবে? তার শিল্পকারখানা কোথায়? ভরসা ছিল ধান ও পাটেই। ধান থেকে খোরাকি জুটবে, পাট থেকে আসবে কাঁচা পয়সা। তা পাটের পয়সা পাওয়ার ক্ষেত্রে তেমন সুবিধা না হলেও, ধান ঠিকই বাঁচিয়েছে আমাদের। তার মূল কারণ কিন্তু প্রকৃতি নয়, মূল কারণ চাষির শ্রম। আর ওই যে পাটের ফলন তারও মূল কারণ চাষির শ্রমই। তিনি লিখেছেন- নদী ক্ষেপে উঠেছে, পাড় ভাঙবে, সামলায় কার সাধ্য?

[লেখক: ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক; সভাপতি, ঝিনাইদহ জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটি]

back to top