alt

অপরাধ ও দুর্নীতি

স্ত্রীকে গরম তেল ঢেলে হত্যা

যৌতুক, পরকীয়ায় বাধা দেয়াই কাল হয় স্বর্ণার

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট : বুধবার, ১৩ অক্টোবর ২০২১

যৌতুকের জন্য নিয়মিত চলত নির্যাতন। সেই সঙ্গে স্বামীর পরকীয়া সম্পর্ক ও ভরণপোষণের টাকা না দেয়ায় পারিবারিক কলহ লেগেই থাকত। স্বামীর নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে দুই সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান স্বর্ণা। একপর্যায়ে সাভারের জিরানিতে একটি গার্মেন্টসে চাকরি নেন। কিন্তু স্বামী মজনু মিয়ার তৎপরতা থামেনি। ঠিকানা জোগাড় করে স্বর্ণার কাছে গিয়ে আবার যৌতুক দাবি করেন। কিন্তু টাকা দিতে অপারগতা জানালে, ঘুমন্ত স্বর্ণার ওপর গরম তেল ঢেলে পালিয়ে যায় মজনু মিয়া। ঘাতক স্বামী মজনু মিয়াকে গ্রেপ্তারের পর এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) রাতে জামালপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করেছেন।

বুধবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর জানান, ২০০৭ সালে পারিবারিকভাবে মজনু মিয়া এবং স্বর্ণার তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা মজনু মিয়ার গ্রামের বাড়ি জামালপুরের সরিষাবাড়ীর পিংনা গ্রামে বসবাস করতেন। মজনু মিয়া স্থানীয় বাজারে রেডিমেড গার্মেন্টসের দোকানদারি করত। তাদের ওমর ফারুক সিফাত নামের ১১ বছরের একটি ছেলে ও খাদিজা নামের দুই বছরের একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।

মুক্তাধর জানান, স্বামীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে বাধা দেয়ায় এবং যৌতুকের দাবিতে প্রায়শই স্বর্ণাকে নির্যাতন করা হতো। এমনকি মজনু মিয়া সংসারের ভরণপোষণও সঠিকভাবে করত না। এর আগেও যৌতুকের দাবিতে মারপিট করে গুরুতর জখম করায় মৃত স্বর্ণার দুলাভাই মো. ময়নুল ইসলাম বাদী হয়ে আসামি মজনু মিয়ার বিরুদ্ধে সরিষাবাড়ী থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় মজনু মিয়া দুই মাস ১৯ দিন জেল হাজতে থাকেন। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্ততায় বাদী তার মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন।

কিন্তু কিছুদিন পরে আবারও স্বর্ণার ওপরে নির্যাতন শুরু হয়। মজনু মিয়ার নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে স্বর্ণা ছয়মাস আগে তার সন্তান নিয়ে বাবা-মার বাড়িতে সিরাজগঞ্জে চলে যান। কিন্তু অভাব অনাটনের কারণে তার ছেলেমেয়েদের মায়ের কাছে রেখে ঢাকার আশুলিয়ায় এসে ডরিন গার্মেন্টেসে পোশাকশ্রমিকের কাজ নেন। কিন্তু মজনু কৌশলে তার স্ত্রীর ঠিকানা জোগাড় করে ঢাকায় এসে অশান্তি শুরু করেন। যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকার করা হলে গত ২৫ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ২টার দিকে স্বর্ণার শরীরে গরম তেল ঢেলে পালিয়ে যান মজনু মিয়া।

রাতেই সহকর্মীরা তাকে সাভার থেকে জামালপুরের মজনু মিয়ার নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। পরদিন সকালে তাকে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে ফেলে রেখে শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ১৩ দিন চিকিৎসার পর মৃত্যু হয় ৫২ শতাংশ দগ্ধ হওয়া স্বর্ণার।

ছবি

গাজীপুরে চালককে হত্যা করে ইজিবাইক ছিনতাই

উখিয়া রোহিঙ্গা শিবির থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ ১৪ ডাকাত গ্রেপ্তার

ছবি

সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফের এপিএস আরও দুই দিনের রিমান্ডে

ছবি

ঘরের মেঝে খুঁড়ে বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার, আটক ১

ছবি

কুবিতে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মারামারির ঘটনায় আহত ১০

কুমিল্লায় সোশাল মিডিয়ায় অপপ্রচারের অভিযোগে আরও একজন গ্রেপ্তার

জবির চার শিক্ষার্থীসহ পাঁচ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট

বোয়ালমারীতে পুলিশের ওপর হামলা : আটক ৩

চাকরির বিজ্ঞাপনে প্রতারিত ১২শ’ যুবক : আটক ৩

ছবি

মিতু হত্যা : নারাজি আবেদনে বলা হয়, ‘বাবুল ষড়যন্ত্রের শিকার’

ছবি

কুমিল্লায় ‘উসকানি’ দিয়ে মন্দিরে হামলা : আটক ৪৩

ছবি

এহসান গ্রুপ, কিউকমসহ ১০ প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব স্থগিত

ছবি

বিতর্কিত কাউন্সিলর চিত্তরঞ্জন দাস কারাগারে

ছবি

তসলিমা নাসরিনসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

ছবি

রাজধানীতে মাদক বিরোধী অভিযানে আটক ৪২

বিয়ের পাঁচ দিনের মাথায় স্বামীকে অচেতন করে নববধূ উধাও

মুদি দোকানি থেকে মানব পাচারকারী

ছবি

রাজউকের সাবেক গাড়ি চালক ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

খিলগাঁওয়ে সিআইডি ইন্সপেক্টর শামসুদ্দিনের অত্যাচার, আতঙ্কে ১০ পরিবার

ছবি

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় নুরকে অব্যাহতি

লক্ষ্মীপুরে তাস খেলা বিবাদে জেলেকে হত্যার অভিযোগ

ছবি

ভান্ডারিয়ায় ফুটপাত দখল করে দোকান : যানজট

পাথরঘাটায় ছাত্রীকে উত্যক্তের প্রতিবাদী ৩ ছাত্রকে মারধর

প্রতিবাদী বৃদ্ধাকে মারধর

চেয়ারম্যানের প্রতারণায় হিন্দু পরিবার নিঃস্ব : তদন্তের নির্দেশ

ফরিদপুরে সাবেক মন্ত্রীর এপিএস ফুয়াদ আটক

ছবি

সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের এপিএস ফুয়াদ গ্রেপ্তার

ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে মানবপাচারকারী চক্রের প্রধানসহ আটক ৮

কিডনি বেচাকেনায় প্রতারণা, প্রতি কিডনি ২০ লাখ টাকা

শতাধিক ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারের দুর্নীতির অনুসন্ধানে দুদক

বগুড়ায় খাদ্যবান্ধব কর্মসুচীর ৭১ বস্তা চাল আটক

চাটখিলে অবাধে চলছে হাইড্রোলিক ট্রাক : দুর্ঘটনা প্রতিদিন

দুই জেলায় মা ইলিশ ধরায় ১৮২ জেলের কারাদন্ড শরীয়তপুর

কিশোরগঞ্জে ইয়াবা, যুবক ধৃত

সৈয়দপুরে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার

ছবি

সুইস ব্যাংকে প্রিন্স মুসার বিলিয়ন ডলারের সকল তথ্য মিথ্যা: ডিবি

tab

অপরাধ ও দুর্নীতি

স্ত্রীকে গরম তেল ঢেলে হত্যা

যৌতুক, পরকীয়ায় বাধা দেয়াই কাল হয় স্বর্ণার

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

বুধবার, ১৩ অক্টোবর ২০২১

যৌতুকের জন্য নিয়মিত চলত নির্যাতন। সেই সঙ্গে স্বামীর পরকীয়া সম্পর্ক ও ভরণপোষণের টাকা না দেয়ায় পারিবারিক কলহ লেগেই থাকত। স্বামীর নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে দুই সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান স্বর্ণা। একপর্যায়ে সাভারের জিরানিতে একটি গার্মেন্টসে চাকরি নেন। কিন্তু স্বামী মজনু মিয়ার তৎপরতা থামেনি। ঠিকানা জোগাড় করে স্বর্ণার কাছে গিয়ে আবার যৌতুক দাবি করেন। কিন্তু টাকা দিতে অপারগতা জানালে, ঘুমন্ত স্বর্ণার ওপর গরম তেল ঢেলে পালিয়ে যায় মজনু মিয়া। ঘাতক স্বামী মজনু মিয়াকে গ্রেপ্তারের পর এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) রাতে জামালপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করেছেন।

বুধবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর জানান, ২০০৭ সালে পারিবারিকভাবে মজনু মিয়া এবং স্বর্ণার তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা মজনু মিয়ার গ্রামের বাড়ি জামালপুরের সরিষাবাড়ীর পিংনা গ্রামে বসবাস করতেন। মজনু মিয়া স্থানীয় বাজারে রেডিমেড গার্মেন্টসের দোকানদারি করত। তাদের ওমর ফারুক সিফাত নামের ১১ বছরের একটি ছেলে ও খাদিজা নামের দুই বছরের একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।

মুক্তাধর জানান, স্বামীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে বাধা দেয়ায় এবং যৌতুকের দাবিতে প্রায়শই স্বর্ণাকে নির্যাতন করা হতো। এমনকি মজনু মিয়া সংসারের ভরণপোষণও সঠিকভাবে করত না। এর আগেও যৌতুকের দাবিতে মারপিট করে গুরুতর জখম করায় মৃত স্বর্ণার দুলাভাই মো. ময়নুল ইসলাম বাদী হয়ে আসামি মজনু মিয়ার বিরুদ্ধে সরিষাবাড়ী থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় মজনু মিয়া দুই মাস ১৯ দিন জেল হাজতে থাকেন। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্ততায় বাদী তার মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন।

কিন্তু কিছুদিন পরে আবারও স্বর্ণার ওপরে নির্যাতন শুরু হয়। মজনু মিয়ার নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে স্বর্ণা ছয়মাস আগে তার সন্তান নিয়ে বাবা-মার বাড়িতে সিরাজগঞ্জে চলে যান। কিন্তু অভাব অনাটনের কারণে তার ছেলেমেয়েদের মায়ের কাছে রেখে ঢাকার আশুলিয়ায় এসে ডরিন গার্মেন্টেসে পোশাকশ্রমিকের কাজ নেন। কিন্তু মজনু কৌশলে তার স্ত্রীর ঠিকানা জোগাড় করে ঢাকায় এসে অশান্তি শুরু করেন। যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকার করা হলে গত ২৫ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ২টার দিকে স্বর্ণার শরীরে গরম তেল ঢেলে পালিয়ে যান মজনু মিয়া।

রাতেই সহকর্মীরা তাকে সাভার থেকে জামালপুরের মজনু মিয়ার নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। পরদিন সকালে তাকে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে ফেলে রেখে শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ১৩ দিন চিকিৎসার পর মৃত্যু হয় ৫২ শতাংশ দগ্ধ হওয়া স্বর্ণার।

back to top