
সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট : 2026-02-28
ছোটপর্দার অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিনোদন অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে পুলিশ এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে। ঘটনাটি তদন্তাধীন।
এ ঘটনার একদিন আগে ইকরা তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি আক্ষেপভরা পোস্ট দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি লেখেন, “কারও পুরো জীবন ভেঙে যাওয়ার পর, একদিনের ক্ষতিতে কান্না—বিদ্রূপটা যেন কান্নার চেয়েও জোরালো।”পোস্টটির ভাষা ছিল গভীর হতাশা ও বেদনায় ভরা। তবে তিনি সেখানে কারও নাম উল্লেখ করেননি বা নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার কথা বলেননি।
ইকরার এই স্ট্যাটাস সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নানা ব্যাখ্যা সামনে আসছে। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিশ্চিত তথ্য ছাড়া কোনো অনুমান করা ঠিক হবে না। একজন মানুষের ব্যক্তিগত অনুভূতি বা মানসিক অবস্থার বহিঃপ্রকাশ অনেক সময় মুহূর্তের আবেগ থেকেও আসতে পারে- যা সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নাও থাকতে পারে।
স্ত্রীর মৃত্যুর খবর পেয়ে বর্তমানে নেপালে শুটিংয়ে থাকা জাহের আলভী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেন। তিনি লেখেন, “আজ (শনিবার) দুপুরে মিরপুর ডিওএইচএসের বাসায় আমার স্ত্রী ইকরা আত্মহত্যা করেছে। আমি বর্তমানে নেপালে শুটিংরত। খবরটা শোনার পর থেকে কথা বলার মতো অবস্থায় নেই।” নিজের একমাত্র সন্তানের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “আমি বুঝতে পারছি না আমাদের সন্তান আর আমার কথা না ভেবে সে কেন এভাবে চলে গেল।”
শোকাহত এই অভিনেতা সাংবাদিক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে সময় চেয়েছেন। দ্রুত দেশে ফেরার চেষ্টা করছেন জানিয়ে তিনি অনুরোধ করেছেন, এ কঠিন সময়ে যেন কোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো না হয়। বিশেষ করে তাঁদের সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে ২০১০ সালের ৯ নভেম্বর ভালোবেসে ইকরাকে বিয়ে করেছিলেন জাহের আলভী। প্রায় ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাঁদের ‘রিজিক’ নামে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। পরিবার-পরিজন ও ঘনিষ্ঠজনদের কাছে তাঁরা ছিলেন পরিচিত একটি দম্পতি। তাই এই আকস্মিক মৃত্যু অনেককেই স্তব্ধ করে দিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সুরতহাল প্রতিবেদন ও অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। এ মুহূর্তে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করতে নারাজ তদন্তসংশ্লিষ্টরা।
একটি অকাল মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, একটি শিশুর ভবিষ্যৎ, অসংখ্য স্মৃতি ও সম্পর্ককে নাড়িয়ে দেয়। ইকরার শেষ ফেসবুক পোস্টের আক্ষেপ ঠিক কী ইঙ্গিত বহন করছিল- তা হয়তো এখনই স্পষ্ট নয়। তবে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, এ ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়-মানসিক কষ্ট অনেক সময় নীরব থাকে, দৃশ্যমান হয় না।