
বিনোদন প্রতিবেদক : 2025-09-19
থিয়েটারে কি ভাবে আসা হলো?
শিল্পের উর্বর ভূমি খ্যাত সিরাজগঞ্জে জন্ম হওয়ার সুবাদে শৈশবকাল থেকেই শিল্পের সাথে বসবাস। ২০০৪ সাল থেকে নাট্যলোক সিরাজগঞ্জের একজন সক্রিয় নাট্যকর্মী হিসেবে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে থিয়েটারে পথ চলা শুরু। পরবর্তীতে ২০১০ সাল থেকে আরণ্যক নাট্যদলের সাথে যুক্ত হই। আজ অবধি আরণ্যক নাট্যদলের সঙ্গেই যুক্ত আছি।
বর্তমান থিয়েটার অবস্থা কেমন? আগামীতে থিয়েটার কেমন হবে আপনি মনে করেন?
প্রতিটি মানুষই মৌলিক চাহিদার পাশাপাশি বিনোদন প্রত্যাশী। সেক্ষেত্রে নাটক এমন একটি মাধ্যম যেখানে শিল্পের সব ধরনের কলার রস আস্বাদন করা যায় একমাত্র নাটকের মাধ্যমে। এ কারণেই দর্শক নাটকের প্রতি যথেষ্ট দুর্বল। শিল্পচর্চাটা অবারিত এবং উন্মুখ হওয়া উচিত। কোন দলকে হল দেবো কোন দলকে হল দেবো না এইটা নির্ধারণ করাটা কালো চশমা পড়ে মোটেই ঠিক না। আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই যারা শিল্পচর্চায় নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতে চায় তাদেরকে রাষ্ট্রীয় এবং বড় বড় প্রাইভেট কোম্পানির মাধ্যমে তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। তাদের পাশে দাঁড়ানো মানেই শিল্পের পাশে দাঁড়ানো। লোক দেখানোর জন্য নয় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে নিয়মিতভাবেই পেশাদার অভিনয়শিল্পী তৈরি করুক বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এটুকুই প্রত্যাশা।
‘বাঘ’ নাটকটি সম্পর্কে কিছু বলুন।
এই নাটক সম্পর্কে বলতে গেলে প্রথমে কৃতজ্ঞতা জানাতে হবে এই নাটকের নির্দেশক তোসাদ্দেক হোসাইন মান্না ভাইকে তিনি আমাকে এই চরিত্রের জন্য নির্বাচন করেছেন। সেই সাথে আমার মঞ্চে সহ অভিনেত্রী প্রমা হুসাইন যে প্রথম মঞ্চের নতুন অভিনেত্রী হিসেবে আমাকে দারুন এগিয়ে নিয়ে গেছে। মান্না ভাইয়ের নির্দেশনা অসাধারণ এবং আনন্দের সাথে কাজ করেছি। আর নাট্যপালা’র সকল সদস্যের কাছে কৃতজ্ঞ। সম্পূর্ণ টিম ওয়াকের মাধ্যমে সফল ভাবে মঞ্চে প্রদর্শনী হচ্ছে। বাঘ নাটকটি মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ের উপর লেখা, বাদল সরকার উদ্ভট ভাবনা থেকে নাটক তৈরী করেন, যা তার বিভিন্ন নাটকে প্রকাশ পায়, তার মধ্যে বাঘ একটি অন্যতম। ১৯৬৫ সালে রচিত এই নাটক এখনো সমসাময়িক বিশেষ করে শিক্ষা ব্যাবস্থা, তরুনদের মধ্যে অস্থিরতা, বই পড়া থেকে বিরত থাকা ও সমাজের নানা বিধ সমস্যার কথা এই নাটকে তুলে ধরেছেন। বাঘ শুধু জঙ্গলে নয় মানুষের ভেতরে ভয় লোভ প্রেম আর দ্রোহের প্রতীক। একদিকে প্রকৃতির বেঁচে থাকার লড়াই অন্যদিকে মানুষের লুকানো অন্ধকার, যদি বাঘ বিলীন হয় মানুষ কি টিকে থাকবে? বাঘ কি কেবল শিকারি, নাকি আমাদের রক্তমাংসের প্রতিবিম্ব? কে আসল হিংস্র জঙ্গলের বাঘ নাকি সভ্যতার মানুষ? এই বিষয়ে নিয়ে আমাদের দুজনের আলাপ ও ঘাত প্রতিঘাতের মাধ্যমে বাঘ নাটক এগিয়ে যায় এবং যাবে। বাঘ নাটক বাদল সরকারের সবচেয়ে বেশী মঞ্চায়িত নাটক। মান্না ভাইয়ের নির্দেশনায় আমরাও আশা করি এগিয়ে যাব, নাট্যপালাও এগিয়ে যাবে বাঘ নিয়ে।
আরণ্যকের নিয়মিত সদস্য হয়েও নাট্যপালার সাথে এবং মিডিয়ার সঙ্গে কাজ কিভাবে সম্বনয় করেন?
বৈশ্বিক বিবেচনায় শিল্পচর্চাটা এখন অবারিত। সেই প্রেক্ষাপটকে বিবেচনা করে আরণ্যক এমন একটি দল যে দলটি প্রতিনিয়ত অভিনয়শিল্পী, কোরিওগ্রাফার, মিউজিশিয়ান, সেট ডিজাইনার আলোক পরিকল্পক এমনকি নির্দেশকদেরও স্ব স্ব প্রতিভাকে বিকশিত করার সুযোগ করে দিয়েছে। দলের রেগুলার শোতে অভিনয়ের বাইরে আমরা যারা মিডিয়া এবং রেপার্টরি দলগুলোতে কাজ করি এক্ষেত্রে আরণ্যক আমাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে থাকে। এ কারণেই দলের বাইরে কাজ করার অফুরন্ত সুযোগ আমরা পেয়ে থাকি।
এই নাটকের নির্দেশক কে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন ?
আমি সৌভাগ্যবান শ্রদ্ধেয় মামুনুর রশীদের মতো একজন গুণী নির্দেশকের নির্দেশনায় কাজ করতে পেরেছি। তার নির্দেশিত কহে ফেসবুক নাটকটি বিশেষ করে আমার নেতা চরিত্রটি আমাকে অভিনেতা হিসেবে নিজেকে উপস্থাপিত করতে অনেক বেশি উৎসাহিত করে। চরিত্রটির জন্য আমি দারুন সাড়াও পেয়েছি। শ্রদ্ধেয় মামুনুর রশীদ আমার প্রথম গুরু ও শিল্পের অন্যতম কারিগর এবং তারপর যদি কাউকে চিন্তা করি আজকে পর্যন্ত তোসাদ্দেক হোসাইন মান্না আমার দৃষ্টিতে দ্বিতীয় শিল্পের কারিগর। যা বাদল সরকারের “বাঘ” নাটকের মাধ্যমে প্রকাশ পাশ। তারা দুজনেই একজন শিল্পীকে কিভাবে পরিচালিত করতে হয় এটা খুব ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পারেন। তার ফলে, তারা যেভাবে আমাদের দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন আমরা সেভাবেই নিজেদেরকে উপস্থাপিত করে থাকি। সেক্ষেত্রে ছোট ছোট কিছু ভাবনা শেয়ার করি। প্রযোজনার ক্ষেত্রে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে তারা সেটা বিবেচনা করে। এটাই একজন নির্দেশক এবং অভিনেতার মধ্যে যোগসুত্র স্থাপন করে।
বাদল সরকারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বাঘ নাটকটি কতটুকু যুক্তিযুক্ত আমাদের বাংলাদেশ?
অত্যন্ত সময়োপযোগী একটি নাটক বাদল সরকারের বাঘ। ১৯৬৮ সালে প্রথম মঞ্চায়ন হলেও এই নাটকের প্রেক্ষাপট নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, শিক্ষা ব্যবস্থা, একাকীত্ব, বন্ধুত্ব এবং সর্বোপরি একজন স্বশিক্ষিত মানুষের জীবনাচরণ সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। শ্রদ্ধেয় বাদল সরকারের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বাঘ নাটকটি অত্যন্ত যুগোপযোগী একটি প্রযোজনা। আমার অনুরোধ অধিকতর সার্বজনীন এই নাটকটি প্রতিটি মানুষের কাছে পৌছে দেয়াটা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব।