
বিনোদন প্রতিবেদক : 2025-12-11
ঢাকায় একের পর এক কনসার্ট বাতিল হওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে আলোচনার ঝড়। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তার উদ্বেগের কারণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কনসার্টের অনুমতি দিচ্ছে না। আয়োজকদের দাবি, তারা নানা প্রস্তুতির পরও শেষ মুহূর্তে কনসার্ট স্থগিত করার ফলে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন, দর্শকরাও টিকিটের টাকা ফেরত না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন। অবশ্য, এই অবস্থায় কিছু আয়োজক “প্রাইভেট কনসার্ট” আয়োজনের চেষ্টা করছেন। যেমন, পাকিস্তানি শিল্পী আলী আজমতের কনসার্ট বাতিল হওয়ার পর তার একটি প্রাইভেট কনসার্ট বসুন্ধরা আইসিসিবিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে কিছু আয়োজক সুবিধা নিলেও, বেশিরভাগ কনসার্টই বাতিল বা স্থগিত হয়ে যাচ্ছে। এদিকে, কনসার্ট বাতিলের ফলে শুধু আয়োজকদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে না, শিল্পীদের সম্মানও কমে যাচ্ছে। আয়োজক প্রতিষ্ঠান প্রাইম ওয়েভ কমিউনিকেশনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইনফতার দানিয়াল বলেন, কনসার্টের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেও অনুমতি না মেলা “ভীষণ হতাশাজনক”। তিনি আরও জানান, সরকারের পক্ষ থেকে সমর্থন না পাওয়ার কারণে শিল্পীদের পারফরম্যান্সের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা দেশের বিনোদন শিল্পের জন্য নেতিবাচক প্রভাব
ফেলতে পারে। কনসার্ট স্থগিতের কারণে দর্শকদের মধ্যে ক্ষোভও দেখা দিয়েছে। অনেকেই জানান, টিকিট কেনার পর কনসার্ট বাতিল হওয়ার ফলে তারা হতাশ হয়েছেন এবং তাদের টাকা ফেরত পাওয়ার বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ঘোষণা হয়নি। এছাড়া, গত নভেম্বরে পাকিস্তানি ব্যান্ড ‘জাল’র কনসার্টও বাতিল করা হয় এবং টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার ঘোষণা দিলেও, এখনো সেগুলি ফেরত পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিরাপত্তার কারণে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কনসার্ট অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না। তবে, কিছু আয়োজক অভিযোগ করছেন, সরকারের সিদ্ধান্ত একপাক্ষিক এবং প্রভাবশালী মানুষের জন্য “প্রাইভেট কনসার্ট” আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য ঠিক নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে ১৩ ডিসেম্বর পাকিস্তানি গায়ক আতিফ আসলামের কনসার্টও অনুমতি না পাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।