alt

সারাদেশ

টানা তাপপ্রাবাহে ফলন তলানিতে, বাজারে চড়া দাম লিচুর

জেলা বার্তা পরিবেশক,রাজশাহী : বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪

লিচুর জন্য বিখ্যাত দিনাজপুরের এক সময়ের নাম থাকলেও এখন তা দখল করে নিচ্ছে ঈশ্বরদী। পিছিয়ে নেই রাজশাহীও রাজশাহী সাহেব বাজার , রেল ষ্টেশন বিন্দুর মোড় শাল বাগান এলাকায় লিচুর বাজারে গিয়ে দেখা গেছে দাম বেজায় চড়া। ১০০টি লিচুর দাম চাওয়া হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০টাকা। ফলে সাধ্যের বাইরে হওয়ায় সাধ থাকলেও আগাম লিচু কিনতে পারছেন না অনেকেই।

তবে, তীব্র তাপপ্রবাহ ও প্রচন্ড খরায় বেশির ভাগ গাছের লিচু ঝরে পড়ায় ও ফেটে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চলতি মৌসুমে দাম বেশিই থাকবে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, চলতি মৌসুমে গাছে গাছে লিচুর প্রচুর মুকুল এসেছিল। কিন্তু হঠাৎ মার্চ মাসের ২০ ও ২১ তারিখে বৃষ্টি হয়ে অধিকাংশ মুকুল ঝরে যায়। অবশিষ্ট মুকুল থেকে গুটি ও লিচু হয়ে গেলেও বৃষ্টির কোনো দেখা মেলেনি। বরং প্রচন্ড তাপপ্রবাহ ও খরায় ৬০ শতাংশ লিচু ফেটে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে ব্যাপক লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে ৫৩০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৮ হেক্টর বেশি। এ বছর লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮০০ টন। তবে, তীব্র তাপপ্রবাহ, প্রচন্ড খরায় বেশির ভাগ গাছের লিচু ঝরে পড়ছে। যেগুলোতে লিচু ছিল, সেগুলোতেও অনেক লিচু শুকিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

রাজশাহী মহানগরীর রায়পাড়া, বড়বনগ্রাম, পবা এবং মোহনপুর উপজেলার কয়েকটি বাগান ঘুরে দেখা গেছে, এ বছর বোম্বাই, মাদ্রাজি, কাদমি, মোজাফফরপুরী, বেদানা, কালীবাড়ি, মঙ্গলবাড়ী, চায়না-৩, বারি-১, বারি-২ ও বারি-৩ জাতের লিচু বেশি চাষ হয়েছে। তবে ঝরে পড়ায় ফলন খুব কম রয়েছে। যেগুলো রয়েছে সেগুলোর মধ্যে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ লিচু রোদের খরতাপে ফেটে নষ্ট হয়ে গেছে।

রাজশাহী নগরীর মেহেরচন্ডির এলাকার লিচুচাষি মুক্তার ভান্ডারি বলেন, তীব্র খরার কারণে গাছে ফেটে নষ্ট হচ্ছে লিচু। এমন ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য আগাম গাছ থেকে লিচু নামিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে।

নগরীর বড়বনগ্রাম এলাকার খলিল সরকারের মোড় এলাকার লিচু চাষি লিয়াকত হোসে বলেন, তবে বৈরী আবহাওয়ায় শুরু থেকেই ফলন কম ছিল। পরে প্রচন্ড দাবদাহ ও অনাবৃষ্টিতে লিচু ফেটে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে একদিকে লিচুর সংখ্যা কমে গেছে, অন্যদিকে লিচু বাছাই করতে করতেই দিন শেষ হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে শ্রমিকও বেশি লাগায় খরচ বেড়ে যাচ্ছে। যে টাকায় বাগান কিনেছিলাম ১০০ লিচু ৩০০ টাকা করে বিক্রি করলেও লাভ হবে না। কিন্তু আমরা ১ হাজার লিচু খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে ২ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। তারা বেশি দামে বিক্রি করবে।’

ভরা মৌসুমে রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার, বিন্দুরমোড়, লক্ষ্মীপুর, কোর্ট স্টেশন ও শালবাগান বাজার, কাজলা বাজার, বিনোদপুর বাজার, কাটাখালী বাজার, ছাড়াও শিরোইল বাস টার্মিনাল সংলগ্ন বিভিন্ন সড়কের দুই পাশে বাহারি এ ফলের পসরা সাজিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা। তবে কেবল সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে কয়েকটি দোকানে কিছু লিচু রয়েছে। এই লিচু বছরের প্রথম ফল হিসেবে শখ করে বেশি দাম দিয়েই কিনছেন কেউ কেউ। ফল ব্যবসায়ীরা জানান, জানান, লিচুকে অতিথি ফল বলা হয়। কারণ এই ফল বাজারে মাত্র এক থেকে দেড় মাসে থাকে। এ কারণে লিচুর দাম বেশি। বাজারে দিনাজপুর ও রাজশাহীর লিচু এলেই দাম সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে চলে আসবে। তখন সবাই লিচুর স্বাদ নিতে পারবেন।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোছা. উম্মে ছালমা বলেন, ‘চলতি মৌসুমে গাছে গাছে প্রচুর লিচুর মুকুল এলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক ঝরে গেছে। তবে কৃষি অধিদপ্তরের পরামর্শে গাছের ও মুকুলের যতœ নেওয়ায় এখনো পর্যাপ্ত লিচু আছে। ফলে বাজারে লিচুর কোনো সংকট হবে না।

ছবি

সুনামগঞ্জে ঈদের আনন্দ মলিন হয়ে গেছে আকস্মিক বন্যায়

ঈশ্বরগঞ্জে ঈদ আনন্দ উপভোগ করা হলনা চাচা ভাতিজার

সখীপুরে গৃহবধূ নিখোঁজের পর পুকুর থেকে লাশ উদ্ধার

দুই ভাইয়ের চিরদিনের ছুটি

সিলেটে তিন নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে

ছবি

ঘড়ি ছাড়াই হাতের দিকে তাকিয়েই সময় বলে দেন ইয়াছিন!

নড়াইলে এবারও ঈদ করতে পারছেন না ২০০ পরিবার,আজাদ হত্যা মামলা নিয়ে উত্তেজনা

ছবি

রংপুরে ঈদ উপলক্ষে বরাদ্দ চাল কালোবাজারে বিক্রি,৪ হাজার কেজি ভিজিএফের চাল উদ্ধার

ছবি

রংপুরে ১৫ কিলোমিটার যানজট, যাত্রীদের চরম দূর্ভোগ

ছবি

বরিশাল জেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীন ঘোষণা

ছবি

তিস্তার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, ডুবেছে ফসলি জমি

ছবি

ঈদের দিন ৩ বিভাগে ভারী বৃষ্টির আভাস

রাঙ্গামাটিতে বজ্রপাতে চারজনের মৃত্যু

চাঁদাবাজির অভিয়োগে ৫ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

ছবি

বাড়তি ভাড়ায় ফিটনেসবিহীন লঞ্চে দ্বিগুণ যাত্রী পারাপার

ছবি

জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে খুলে দেওয়া হলো বেনজীরের সাভানা পার্ক

ছবি

সেন্ট মার্টিনে ২৩০০ পরিবারকে চাল সহায়তা

ফরিদপুরে পুলিশের কাছে চাঁদা বন্ধের আবেদন বরলো ইউপি চেয়ারম্যান

সোনারগাঁয়ে গরু বিক্রেতাদের মেরে নগদ টাকা মোবাইল ও গরু ছিনতাই, আহত ৫

ছবি

দেশকে রক্ষার সক্ষমতা আছে: সেনাপ্রধান

ছবি

নাফনদীতে মায়ানমারের ৩টি জাহাজ, নেই কোনো বিস্ফোরণের শব্দ

ছবি

বরিশালে অটোরিকশা-ইজিবাইক মুখোমুখি সংঘর্ষে নারী নিহত

শেষ সময়ে ঈদে বাড়ি যেতে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বেড়েছে সড়ক মহাসড়কে

ছবি

বনানীতে বাসের ধাক্কায় বাইকচালক নিহত

ছবি

কাভার্ডভ্যানের পেছনে লিচুবাহী ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ২

ছবি

সামিট-ওরিয়নের দুটিসহ রেন্টাল ৬ বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ ফের বাড়ছে

ছবি

ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি: র‌্যাবের অভিযানে ১০ জনকে গ্রেপ্তার

ফরিদপুরে পুকুর থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার

ছবি

নিত্যপণ্য নিয়ে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন যাচ্ছে জাহাজ

ছবি

রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে অস্ত্র ও গুলিসহ আরসা সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার

ছবি

গাজীপুরে পুকুরে ডুবে দুই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু

ছবি

বেতন-বোনাসের দাবিতে কুমিল্লায় শ্রমিক বিক্ষোভ, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ধীরগতি

ছবি

টাঙ্গাইলে মহাসড়‌কে ট্রাক উল্টে ১৫ কিলোমিটার যানজট

ছবি

মাদকের টাকার জন্য ছোট ভাইয়ের সঙ্গে ঝগড়া, নিজের বুকে ছুরি চালাল কিশোর

ছবি

দুম্বা পালন করে স্বাবলম্বী ভৈরবের সবুজ

আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে প্রথমবার জিরা আমদানি

tab

সারাদেশ

টানা তাপপ্রাবাহে ফলন তলানিতে, বাজারে চড়া দাম লিচুর

জেলা বার্তা পরিবেশক,রাজশাহী

বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪

লিচুর জন্য বিখ্যাত দিনাজপুরের এক সময়ের নাম থাকলেও এখন তা দখল করে নিচ্ছে ঈশ্বরদী। পিছিয়ে নেই রাজশাহীও রাজশাহী সাহেব বাজার , রেল ষ্টেশন বিন্দুর মোড় শাল বাগান এলাকায় লিচুর বাজারে গিয়ে দেখা গেছে দাম বেজায় চড়া। ১০০টি লিচুর দাম চাওয়া হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০টাকা। ফলে সাধ্যের বাইরে হওয়ায় সাধ থাকলেও আগাম লিচু কিনতে পারছেন না অনেকেই।

তবে, তীব্র তাপপ্রবাহ ও প্রচন্ড খরায় বেশির ভাগ গাছের লিচু ঝরে পড়ায় ও ফেটে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চলতি মৌসুমে দাম বেশিই থাকবে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, চলতি মৌসুমে গাছে গাছে লিচুর প্রচুর মুকুল এসেছিল। কিন্তু হঠাৎ মার্চ মাসের ২০ ও ২১ তারিখে বৃষ্টি হয়ে অধিকাংশ মুকুল ঝরে যায়। অবশিষ্ট মুকুল থেকে গুটি ও লিচু হয়ে গেলেও বৃষ্টির কোনো দেখা মেলেনি। বরং প্রচন্ড তাপপ্রবাহ ও খরায় ৬০ শতাংশ লিচু ফেটে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে ব্যাপক লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে ৫৩০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৮ হেক্টর বেশি। এ বছর লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮০০ টন। তবে, তীব্র তাপপ্রবাহ, প্রচন্ড খরায় বেশির ভাগ গাছের লিচু ঝরে পড়ছে। যেগুলোতে লিচু ছিল, সেগুলোতেও অনেক লিচু শুকিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

রাজশাহী মহানগরীর রায়পাড়া, বড়বনগ্রাম, পবা এবং মোহনপুর উপজেলার কয়েকটি বাগান ঘুরে দেখা গেছে, এ বছর বোম্বাই, মাদ্রাজি, কাদমি, মোজাফফরপুরী, বেদানা, কালীবাড়ি, মঙ্গলবাড়ী, চায়না-৩, বারি-১, বারি-২ ও বারি-৩ জাতের লিচু বেশি চাষ হয়েছে। তবে ঝরে পড়ায় ফলন খুব কম রয়েছে। যেগুলো রয়েছে সেগুলোর মধ্যে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ লিচু রোদের খরতাপে ফেটে নষ্ট হয়ে গেছে।

রাজশাহী নগরীর মেহেরচন্ডির এলাকার লিচুচাষি মুক্তার ভান্ডারি বলেন, তীব্র খরার কারণে গাছে ফেটে নষ্ট হচ্ছে লিচু। এমন ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য আগাম গাছ থেকে লিচু নামিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে।

নগরীর বড়বনগ্রাম এলাকার খলিল সরকারের মোড় এলাকার লিচু চাষি লিয়াকত হোসে বলেন, তবে বৈরী আবহাওয়ায় শুরু থেকেই ফলন কম ছিল। পরে প্রচন্ড দাবদাহ ও অনাবৃষ্টিতে লিচু ফেটে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে একদিকে লিচুর সংখ্যা কমে গেছে, অন্যদিকে লিচু বাছাই করতে করতেই দিন শেষ হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে শ্রমিকও বেশি লাগায় খরচ বেড়ে যাচ্ছে। যে টাকায় বাগান কিনেছিলাম ১০০ লিচু ৩০০ টাকা করে বিক্রি করলেও লাভ হবে না। কিন্তু আমরা ১ হাজার লিচু খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে ২ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। তারা বেশি দামে বিক্রি করবে।’

ভরা মৌসুমে রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার, বিন্দুরমোড়, লক্ষ্মীপুর, কোর্ট স্টেশন ও শালবাগান বাজার, কাজলা বাজার, বিনোদপুর বাজার, কাটাখালী বাজার, ছাড়াও শিরোইল বাস টার্মিনাল সংলগ্ন বিভিন্ন সড়কের দুই পাশে বাহারি এ ফলের পসরা সাজিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা। তবে কেবল সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে কয়েকটি দোকানে কিছু লিচু রয়েছে। এই লিচু বছরের প্রথম ফল হিসেবে শখ করে বেশি দাম দিয়েই কিনছেন কেউ কেউ। ফল ব্যবসায়ীরা জানান, জানান, লিচুকে অতিথি ফল বলা হয়। কারণ এই ফল বাজারে মাত্র এক থেকে দেড় মাসে থাকে। এ কারণে লিচুর দাম বেশি। বাজারে দিনাজপুর ও রাজশাহীর লিচু এলেই দাম সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে চলে আসবে। তখন সবাই লিচুর স্বাদ নিতে পারবেন।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোছা. উম্মে ছালমা বলেন, ‘চলতি মৌসুমে গাছে গাছে প্রচুর লিচুর মুকুল এলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক ঝরে গেছে। তবে কৃষি অধিদপ্তরের পরামর্শে গাছের ও মুকুলের যতœ নেওয়ায় এখনো পর্যাপ্ত লিচু আছে। ফলে বাজারে লিচুর কোনো সংকট হবে না।

back to top