অস্ত্রপচার না করেই সে বাবদ দেখানো হয় খরচ। বরাদ্দের অনেক ঔষধ পাননা রোগীরা। দেওয়া হচ্ছে মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ। কেটে রাখা হয় আয়া-সুইপারদের মুজুরির একটি অংশ। এভাবেই চলছে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা মিলে ৫ বছরে লোপাট করেছে প্রায় ৪ কোটি টাকা। অভিযোগ উঠেছে এ লোপাটের হোতা ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হেলেনা আক্তার নীপা। আর তার সহযোগী সাবেক বড় বাবু হাসান আর বর্তমানে স্টোর কিপার কাম বড় বাবু হুমায়ুন কবীর।
সরেজমিনে দেখা যায়, অযত্নে-অবহেলায় পড়ে আছে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন থিয়েটার। অথচ এখানেই দেখানো হয়েছে ৫ বছরে কয়েকশ অস্ত্রোপচারের হিসাব। ওটি খরচবাবদ সরকারি ব্যয় হয়েছে ১ কোটি টাকারও বেশি। এমন তথ্যই এসেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো প্রতিবেদনে।
জানা গেছে, গত ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ওটি যন্ত্রপাতি মেরামত বাবদ ৩ লাখ টাকা, ২০২০-২১ অর্থ বছরে ৩ লাখ, ২০২১-২২ অর্থবছরে আড়াই লাখ, ২০২২-২৩ অর্থ বছরে দুই লাখ, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে ৩ লাখ, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে সাড়ে ৭ লাখসহ মোট ২১ লাখ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। আর ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ১২ লাখ, ২০২০-২১ অর্থ বছরে ১৪ লাখ, ২০২১-২২ অর্থ বছরে ১১ লাখ, ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ১২ লাখ, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে ১২ লাখ, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ১৮ লাখ টাকাসহ মোট ৭৯ লাখ টাকার সার্জিক্যাল মালামাল ক্রয় করা হয়েছ, যা ১ কোটি টাকার উপরে। যেখানে অপারেশনই করা হয় না সেখানে এত ওটির যন্ত্রপাতি ও সার্জিক্যাল মালামাল গেলো কোথায়?
এছাড়া বিগত ৫ বছরে দামুড়হুদা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইডিসিএল বর্হিভূত ঔষধ এবং অন্যান্য মালামাল ক্রয় করা হয়েছে প্রায় আড়াই কোটি টাকার। যেমন-২০২০-২১ অর্থবছরে ক্রয় করা হয়েছে ২৫ লাখ টাকা এবং একই বছরে হাসপাতালটিতে অতিরিক্ত ঔষধের বরাদ্দ এসেছে সাড়ে ৪৫ লাখ, ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ৪৫ লাখ ২৫ হাজার এবং একই বছরে হাসপাতালটিতে ঔষধের অতিরিক্ত বরাদ্দ এসেছে সাড়ে ১৭ লাখ, ২০২৩-২৪ সালে ৫৯ লাখ ২৫ হাজার, ২০২৪-২৫ সালে ৬০ লাখ টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ঔষধ পরিবহন ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
হাসপাতলের বরাদ্দ অনুযায়ী বছরে গড়ে ২০ লাখ টাকা এসেছে ওটির যন্ত্রপাতি মেরামত ও অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয় মালামাল কেনার জন্য। কিন্তু হাসপাতাল রেজিস্টারের এর কোনো মিল নেই।
হাসপাতালের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২০ সাল থেকে প্রতি বছর অসংখ্য অপারেশন করা হয়েছে সরকারি রিপোর্টে। যেমন-২০২০ সালে হাসপাতালটিতে ৯টি বড় আর ১ হাজার ৯৬৮টি ছোট ধরনের অপারেশন, ২০২৩ সালে ৩৯টি বড় ও ৫ হাজার ৫২৯টি ছোট ধরনের অপারেশন, ২০২৪ সালে ১৪১টি বড় ও ৫ হাজার ১১৭টি ছোট ধরনের অপারেশন এবং চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত ৬১টি বড় অপারেশন ও ১ হাজার ৯১৯টি ছোট ধরনের অপারেশন করা হয়েছে। অথচ হাসপাতালের ওটি রেজিষ্ট্ররে বলছে ভিন্ন কথা। ওটি রেজিষ্ট্রারে গত ৫ বছরে অর্ধশতাধিকেরও কম অপারেশনের তথ্য লিপিবদ্ধ রয়েছে।
হাসপাতালের অপারেশনের বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যানবিদ মোহাম্মদ শাহজাহান আলী জানান, হাসপাতালের কোন অপারেশনই হয় না। যে হিসাব স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয় সেটি স্কোর বাড়ানোর জন্য। এদিকে, গত ২৩ জুলাই হাসপাতাল থেকে ১১০ জন রোগীর মাঝে ৩০ পিচের একটি কৌটায় বিতরণ করা হয় নিউট্রাম গোল্ড নামে ভিটামিন ওষুধ। রোগীরা সে ওষুধ সেবন করবে ৩০ দিন ধরে। অথচ সেই ওষুধের মেয়াদ মাত্র ৭দিনের। আর ২৩ দিন রোগীরা সেবন করবে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ।
মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ বিতরণের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালটির ফার্মাসিস্ট ফারুক হোসেন জানান, এতো কম সময়ের মেয়াদের ওষুধ রোগীদের মাঝে বিতরণ করতে চাইনি। হাসপাতালের স্টোরকিপার কাম বড়বাবু হুমায়ুন কবির আমাকে বাধ্য করেছে ওষুধ বিতরণ করতে। আর স্টোর কিপার কাম বড় বাবু হুমায়ুন কবীর জানান, মৌখিক নির্দেশে ফার্মাসিস্টকে কম সময়ের মেয়াদী ওষুধ বিতরণ করতে বলা হয়েছে। তবে কৌটা থেকে ৭টি করে ট্যাবলেট বের করে বিতরণের জন্য বলা হয়েছিল।
এছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে হাসপাতালটিতে ২০জি ও ২২জি সাইজের আইভি ক্যানোলা ক্রয় করা হয় ২০ হাজার। যার প্রতি পিচের মূল্য ৩৭.৯৯১ টাকা। ২০ হাজার ক্যানোলার মূল্য প্রায় ৮ লাখ টাকা। অথচ ক্রয় করা হয়েছে ১৮জি ক্যানোলা। ১৮জি ক্যানোলার যার প্রতিটির মূল্য ২০ টাকা করে। অর্থাৎ বাজেটের অর্ধেক টাকা গেছে কর্মকর্তদের পকেটে। আর সে ক্যানোলা এখন কোন কাজেই আসছে না রোগীদের। তাদেরকে বাধ্য হয়েই বাইরে থেকে ক্যানোলা কিনতে হচ্ছে। মাইক্রোপোর টেপ ক্রয় করায় ও হয়েছে দুর্নীতি। সিডিউল অনুযায়ী ক্রয় করা হয়নি মাইক্রোপোর টেপও।
দামুড়হুদা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ফাহানা ওয়াহিদ তানি জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ্যাসেনথেসিয়া চিকিৎসক না থাকায় অপারেশন বন্ধ রয়েছে। তিনি আরো জানান, বিগত ৫ বছর আগে আমি এখানে জয়েন করার পরে কয়েকটি অপারেশন হয়েছে। যে অপারেশনগুলো আমিই করেছি। আমি যেহেতু গাইনীতে এফসিপিএস ডিগ্রীধারী। সে কারণে অপারেশনগুলো হয়েছে।
বিগত ৫ বছরে কোন অপারেশন না হলেও প্রতি বছর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপারেশন থিয়েটারে বিভিন্ন জিনিসপত্র মেরামত বাবদ আড়াই লাখ থেকে ৩ লাখ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। এছাড়া অপারেশন বাবদ বিভিন্ন ধরনের মূল্যবান সুতা, স্পাইনাল নিডিল নিমিষেই গায়েব করা হয়েছে। কথিত রয়েছে সে সব সুতা ও ওষধ গিয়েছে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হেলেনা আক্তার নীপার জীবননগরে অবস্থিত কেয়ার সনো নাসিং হোমে। আর এসব অনিয়ম-দুর্নীতির সহযোগিতায় ছিলেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হেলেনার আক্তার নীপার আস্থাভাজন সাবেক বড় বাবু হাসান আহমেদ। বর্তমানে হাসান চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসে কর্মরত। এতো সব অভিযোগের তীর ডাক্তার হেলেনা আক্তার নিপার দিকে। তিনি তার পদবি ব্যবহারেও করছেন অনিয়ম। স্বাস্থ্য কর্মকর্তার চেয়ারে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে বসলেও পরিচয় দেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। অনুসন্ধানে মিলেছে, হেলেনা আক্তার নিপার সব অপকর্মের সহযোগী ছিলেন হাসপাতলটির সাবেক বড় বাবু হাসান আহমেদ ও বর্তমানে স্টোর কিপার কাম বড় বাবু হুমায়ূন কবীর।
সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দীন অহমেদ বলেন, ওটি রেজিষ্ট্রার মেইনটেইন করেই অপারেশনের তালিকা লিপিবদ্ধ করতে হবে।
সে অনুযায়ী তাদেরকে রিপোর্ট প্রদান করতে হবে। এটার ব্যত্যয় হওয়ার সুযোগ নেই। প্রকৃত যেগুলো অপারেশন করা হবে তাইই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে। অপারেশন না করে স্কোর বাড়ানোর জন্য অতিরিক্তি অপারেশন দেখানোর কোন সুযোগ নেই।
দামুড়হুদা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হেলেনা আক্তার নীপা তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সাবেক বড় বাবু বর্তমানে হাসপাতালটির স্টোর কিপার এর কাছে সব ডকুমেন্টস রয়েছে তথ্য না দেখে কোন কিছু বলা সম্ভব না।
বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট ২০২৫
অস্ত্রপচার না করেই সে বাবদ দেখানো হয় খরচ। বরাদ্দের অনেক ঔষধ পাননা রোগীরা। দেওয়া হচ্ছে মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ। কেটে রাখা হয় আয়া-সুইপারদের মুজুরির একটি অংশ। এভাবেই চলছে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা মিলে ৫ বছরে লোপাট করেছে প্রায় ৪ কোটি টাকা। অভিযোগ উঠেছে এ লোপাটের হোতা ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হেলেনা আক্তার নীপা। আর তার সহযোগী সাবেক বড় বাবু হাসান আর বর্তমানে স্টোর কিপার কাম বড় বাবু হুমায়ুন কবীর।
সরেজমিনে দেখা যায়, অযত্নে-অবহেলায় পড়ে আছে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন থিয়েটার। অথচ এখানেই দেখানো হয়েছে ৫ বছরে কয়েকশ অস্ত্রোপচারের হিসাব। ওটি খরচবাবদ সরকারি ব্যয় হয়েছে ১ কোটি টাকারও বেশি। এমন তথ্যই এসেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো প্রতিবেদনে।
জানা গেছে, গত ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ওটি যন্ত্রপাতি মেরামত বাবদ ৩ লাখ টাকা, ২০২০-২১ অর্থ বছরে ৩ লাখ, ২০২১-২২ অর্থবছরে আড়াই লাখ, ২০২২-২৩ অর্থ বছরে দুই লাখ, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে ৩ লাখ, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে সাড়ে ৭ লাখসহ মোট ২১ লাখ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। আর ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ১২ লাখ, ২০২০-২১ অর্থ বছরে ১৪ লাখ, ২০২১-২২ অর্থ বছরে ১১ লাখ, ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ১২ লাখ, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে ১২ লাখ, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ১৮ লাখ টাকাসহ মোট ৭৯ লাখ টাকার সার্জিক্যাল মালামাল ক্রয় করা হয়েছ, যা ১ কোটি টাকার উপরে। যেখানে অপারেশনই করা হয় না সেখানে এত ওটির যন্ত্রপাতি ও সার্জিক্যাল মালামাল গেলো কোথায়?
এছাড়া বিগত ৫ বছরে দামুড়হুদা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইডিসিএল বর্হিভূত ঔষধ এবং অন্যান্য মালামাল ক্রয় করা হয়েছে প্রায় আড়াই কোটি টাকার। যেমন-২০২০-২১ অর্থবছরে ক্রয় করা হয়েছে ২৫ লাখ টাকা এবং একই বছরে হাসপাতালটিতে অতিরিক্ত ঔষধের বরাদ্দ এসেছে সাড়ে ৪৫ লাখ, ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ৪৫ লাখ ২৫ হাজার এবং একই বছরে হাসপাতালটিতে ঔষধের অতিরিক্ত বরাদ্দ এসেছে সাড়ে ১৭ লাখ, ২০২৩-২৪ সালে ৫৯ লাখ ২৫ হাজার, ২০২৪-২৫ সালে ৬০ লাখ টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ঔষধ পরিবহন ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
হাসপাতলের বরাদ্দ অনুযায়ী বছরে গড়ে ২০ লাখ টাকা এসেছে ওটির যন্ত্রপাতি মেরামত ও অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয় মালামাল কেনার জন্য। কিন্তু হাসপাতাল রেজিস্টারের এর কোনো মিল নেই।
হাসপাতালের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২০ সাল থেকে প্রতি বছর অসংখ্য অপারেশন করা হয়েছে সরকারি রিপোর্টে। যেমন-২০২০ সালে হাসপাতালটিতে ৯টি বড় আর ১ হাজার ৯৬৮টি ছোট ধরনের অপারেশন, ২০২৩ সালে ৩৯টি বড় ও ৫ হাজার ৫২৯টি ছোট ধরনের অপারেশন, ২০২৪ সালে ১৪১টি বড় ও ৫ হাজার ১১৭টি ছোট ধরনের অপারেশন এবং চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত ৬১টি বড় অপারেশন ও ১ হাজার ৯১৯টি ছোট ধরনের অপারেশন করা হয়েছে। অথচ হাসপাতালের ওটি রেজিষ্ট্ররে বলছে ভিন্ন কথা। ওটি রেজিষ্ট্রারে গত ৫ বছরে অর্ধশতাধিকেরও কম অপারেশনের তথ্য লিপিবদ্ধ রয়েছে।
হাসপাতালের অপারেশনের বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যানবিদ মোহাম্মদ শাহজাহান আলী জানান, হাসপাতালের কোন অপারেশনই হয় না। যে হিসাব স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয় সেটি স্কোর বাড়ানোর জন্য। এদিকে, গত ২৩ জুলাই হাসপাতাল থেকে ১১০ জন রোগীর মাঝে ৩০ পিচের একটি কৌটায় বিতরণ করা হয় নিউট্রাম গোল্ড নামে ভিটামিন ওষুধ। রোগীরা সে ওষুধ সেবন করবে ৩০ দিন ধরে। অথচ সেই ওষুধের মেয়াদ মাত্র ৭দিনের। আর ২৩ দিন রোগীরা সেবন করবে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ।
মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ বিতরণের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালটির ফার্মাসিস্ট ফারুক হোসেন জানান, এতো কম সময়ের মেয়াদের ওষুধ রোগীদের মাঝে বিতরণ করতে চাইনি। হাসপাতালের স্টোরকিপার কাম বড়বাবু হুমায়ুন কবির আমাকে বাধ্য করেছে ওষুধ বিতরণ করতে। আর স্টোর কিপার কাম বড় বাবু হুমায়ুন কবীর জানান, মৌখিক নির্দেশে ফার্মাসিস্টকে কম সময়ের মেয়াদী ওষুধ বিতরণ করতে বলা হয়েছে। তবে কৌটা থেকে ৭টি করে ট্যাবলেট বের করে বিতরণের জন্য বলা হয়েছিল।
এছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে হাসপাতালটিতে ২০জি ও ২২জি সাইজের আইভি ক্যানোলা ক্রয় করা হয় ২০ হাজার। যার প্রতি পিচের মূল্য ৩৭.৯৯১ টাকা। ২০ হাজার ক্যানোলার মূল্য প্রায় ৮ লাখ টাকা। অথচ ক্রয় করা হয়েছে ১৮জি ক্যানোলা। ১৮জি ক্যানোলার যার প্রতিটির মূল্য ২০ টাকা করে। অর্থাৎ বাজেটের অর্ধেক টাকা গেছে কর্মকর্তদের পকেটে। আর সে ক্যানোলা এখন কোন কাজেই আসছে না রোগীদের। তাদেরকে বাধ্য হয়েই বাইরে থেকে ক্যানোলা কিনতে হচ্ছে। মাইক্রোপোর টেপ ক্রয় করায় ও হয়েছে দুর্নীতি। সিডিউল অনুযায়ী ক্রয় করা হয়নি মাইক্রোপোর টেপও।
দামুড়হুদা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ফাহানা ওয়াহিদ তানি জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ্যাসেনথেসিয়া চিকিৎসক না থাকায় অপারেশন বন্ধ রয়েছে। তিনি আরো জানান, বিগত ৫ বছর আগে আমি এখানে জয়েন করার পরে কয়েকটি অপারেশন হয়েছে। যে অপারেশনগুলো আমিই করেছি। আমি যেহেতু গাইনীতে এফসিপিএস ডিগ্রীধারী। সে কারণে অপারেশনগুলো হয়েছে।
বিগত ৫ বছরে কোন অপারেশন না হলেও প্রতি বছর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপারেশন থিয়েটারে বিভিন্ন জিনিসপত্র মেরামত বাবদ আড়াই লাখ থেকে ৩ লাখ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। এছাড়া অপারেশন বাবদ বিভিন্ন ধরনের মূল্যবান সুতা, স্পাইনাল নিডিল নিমিষেই গায়েব করা হয়েছে। কথিত রয়েছে সে সব সুতা ও ওষধ গিয়েছে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হেলেনা আক্তার নীপার জীবননগরে অবস্থিত কেয়ার সনো নাসিং হোমে। আর এসব অনিয়ম-দুর্নীতির সহযোগিতায় ছিলেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হেলেনার আক্তার নীপার আস্থাভাজন সাবেক বড় বাবু হাসান আহমেদ। বর্তমানে হাসান চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসে কর্মরত। এতো সব অভিযোগের তীর ডাক্তার হেলেনা আক্তার নিপার দিকে। তিনি তার পদবি ব্যবহারেও করছেন অনিয়ম। স্বাস্থ্য কর্মকর্তার চেয়ারে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে বসলেও পরিচয় দেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। অনুসন্ধানে মিলেছে, হেলেনা আক্তার নিপার সব অপকর্মের সহযোগী ছিলেন হাসপাতলটির সাবেক বড় বাবু হাসান আহমেদ ও বর্তমানে স্টোর কিপার কাম বড় বাবু হুমায়ূন কবীর।
সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দীন অহমেদ বলেন, ওটি রেজিষ্ট্রার মেইনটেইন করেই অপারেশনের তালিকা লিপিবদ্ধ করতে হবে।
সে অনুযায়ী তাদেরকে রিপোর্ট প্রদান করতে হবে। এটার ব্যত্যয় হওয়ার সুযোগ নেই। প্রকৃত যেগুলো অপারেশন করা হবে তাইই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে। অপারেশন না করে স্কোর বাড়ানোর জন্য অতিরিক্তি অপারেশন দেখানোর কোন সুযোগ নেই।
দামুড়হুদা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হেলেনা আক্তার নীপা তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সাবেক বড় বাবু বর্তমানে হাসপাতালটির স্টোর কিপার এর কাছে সব ডকুমেন্টস রয়েছে তথ্য না দেখে কোন কিছু বলা সম্ভব না।