কুড়িগ্রামের উলিপুরে খাদ্য বিভাগের অবহেলার কারণে ডিলার নিয়োগে বিলম্ব হওয়ায় জনপ্রতিনিধিরা এখন ব্যবসায়ী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। সরকারের সকল সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যানরা খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণ করছেন।
জনপ্রতিনিধিদের নামে হয়েছে খাদ্য বান্ধব চাল বিতরণের ডিও। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের গুদাম ও জনবল ব্যবহার করে এ চাল বিতরণ করা হচ্ছে। উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ২৭ হাজার ২শ সুবিধাভোগীকে ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি করে ৮শ ১৬ মে.টন চাল বিতরণ করা হবে। জনপ্রতিনিধিরা ১ কেজি চাল ১৩ টাকায় ক্রয় করে ১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে ২ টাকা করে মুনফা হাতিয়ে নিবেন। অভিযোগ উঠেছে, সুবিধা নিয়ে এই সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দপ্তর।
উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ৪৮টি স্থানে ডিলারের মাধ্যমে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণ করা হয়ে আসছিল। গত জুন মাসে পূর্বের ডিলারদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় অজ্ঞাত কারণে নতুন ডিলার নিয়োগ বিলম্বিত হওয়ায় এ জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন ডিলার নিয়োগ না করেই খাদ্য বিভাগ ১৩টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যানদের নামে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির আগষ্ট মাসের চালের ডিও প্রদান করেন।
এরমধ্যে সাহেবের আলগা ইউনিয়নে ৪৩ মে.টন ৪শ ৭০ কেজি, থেতরাই ইউনিয়নে ৬৩ মে.টন ৩শ ৩০ কেজি, তবকপুর ইউনিয়নে ৭৭ মে. টন ৯শ ১০ কেজি, হাতিয়া ইউনিয়নে ৬৮ মে.টন ৬শ ৪ কেজি, দলদলিয়া ইউনিয়নে ৫৮ মে.টন ৯শ ৫০ কেজি, ধরনীবাড়ী ইউনিয়নে ৬৫ মে.টন ১শ ৩০ কেজি, ধামশ্রেনী ইউনিয়নে ৫২ মে. টন ৫শ ৬০ কেজি, বেগমগঞ্জ ইউনিয়নে ৪১ মে. টন ৩শ ৪ কেজিসহ ১৩টি ইউনিয়নে ৮শ ১৬ মে.টন চাল বিতরণ করার ডিও প্রদান করা হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা খাদ্য দপ্তরের অবহেলায় ডিলার নিয়োগ বিলম্বিত করে জনপ্রতিনিধিদের ব্যবসা করার সুযোগ করে দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
জনপ্রতিনিধিরা নিয়ম বর্হিভূতভাবে পরিষদের গুদাম ও সরকারি বেতন-ভাতাভূক্ত ইউনিয়ন পরিষদের জনবল ব্যবহার করে ওই চাল বিক্রি করবেন এবং মুনফা অর্জন করবেন। অপরদিকে নিয়ম অনুযায়ী ডিলারদের নিজস্ব গুদাম ও জনবল (শ্রমিক) ব্যবহার করে এই চাল বিতরণ করার কথা।
উপজেলার ধরনীবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী বলেন, উপজেলা খাদ্য অফিস থেকে আগষ্ট মাসের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ৬৫ মে. টন ১শ ৩০ কেজি চালের বিপরীতে ট্রেজারী চালান করতে বলা হয়।
এরপর অফিস থেকে আমার নামে চালের ডিও প্রদান করা হয়েছে। এই চালে কেজি প্রতি ২ টাকা করে লাভ হবে। এছাড়া পরিবহনের খরচের জন্য চালের খালি বস্তাগুলোও পাবো আমরা। সরকারি গুদাম ও জনবল ব্যবহার করে ব্যবসা করা অবৈধ কি না তা জানতে চাইলে তিনি সদুত্তর না দিয়ে বলেন, এখানে আমাদের করার কিছু নেই, খাদ্য অফিসকে জিজ্ঞাসা করেন।
এ বিষয়ে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ডিলার নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মিসবাহুল হোসাইনের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী ২৬ আগষ্ট ডিও করার শেষ সময় ছিল।
তাই এটি করা হয়েছে। ডিলার নিয়োগে বিলম্বের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, যাচাই-বাচাই ও পুণঃ যাচাই-বাচাই করতে গিয়ে বিলম্ব হচ্ছে। নিয়ম বর্হিভূতভাবে সরকারি গুদাম ও জনবল ব্যবহার করে জনপ্রতিনিধিদের ব্যবসার সুযোগ দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এ বিষয়ে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন।
খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর ডিলার নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নয়ন কুমার সাহা জানান, জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে চাল বিতরণের বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এর দপ্তর আমাকে জানিয়েছেন এটি বিধি সম্মতভাবে করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট ২০২৫
কুড়িগ্রামের উলিপুরে খাদ্য বিভাগের অবহেলার কারণে ডিলার নিয়োগে বিলম্ব হওয়ায় জনপ্রতিনিধিরা এখন ব্যবসায়ী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। সরকারের সকল সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যানরা খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণ করছেন।
জনপ্রতিনিধিদের নামে হয়েছে খাদ্য বান্ধব চাল বিতরণের ডিও। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের গুদাম ও জনবল ব্যবহার করে এ চাল বিতরণ করা হচ্ছে। উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ২৭ হাজার ২শ সুবিধাভোগীকে ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি করে ৮শ ১৬ মে.টন চাল বিতরণ করা হবে। জনপ্রতিনিধিরা ১ কেজি চাল ১৩ টাকায় ক্রয় করে ১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে ২ টাকা করে মুনফা হাতিয়ে নিবেন। অভিযোগ উঠেছে, সুবিধা নিয়ে এই সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দপ্তর।
উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ৪৮টি স্থানে ডিলারের মাধ্যমে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণ করা হয়ে আসছিল। গত জুন মাসে পূর্বের ডিলারদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় অজ্ঞাত কারণে নতুন ডিলার নিয়োগ বিলম্বিত হওয়ায় এ জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন ডিলার নিয়োগ না করেই খাদ্য বিভাগ ১৩টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যানদের নামে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির আগষ্ট মাসের চালের ডিও প্রদান করেন।
এরমধ্যে সাহেবের আলগা ইউনিয়নে ৪৩ মে.টন ৪শ ৭০ কেজি, থেতরাই ইউনিয়নে ৬৩ মে.টন ৩শ ৩০ কেজি, তবকপুর ইউনিয়নে ৭৭ মে. টন ৯শ ১০ কেজি, হাতিয়া ইউনিয়নে ৬৮ মে.টন ৬শ ৪ কেজি, দলদলিয়া ইউনিয়নে ৫৮ মে.টন ৯শ ৫০ কেজি, ধরনীবাড়ী ইউনিয়নে ৬৫ মে.টন ১শ ৩০ কেজি, ধামশ্রেনী ইউনিয়নে ৫২ মে. টন ৫শ ৬০ কেজি, বেগমগঞ্জ ইউনিয়নে ৪১ মে. টন ৩শ ৪ কেজিসহ ১৩টি ইউনিয়নে ৮শ ১৬ মে.টন চাল বিতরণ করার ডিও প্রদান করা হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা খাদ্য দপ্তরের অবহেলায় ডিলার নিয়োগ বিলম্বিত করে জনপ্রতিনিধিদের ব্যবসা করার সুযোগ করে দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
জনপ্রতিনিধিরা নিয়ম বর্হিভূতভাবে পরিষদের গুদাম ও সরকারি বেতন-ভাতাভূক্ত ইউনিয়ন পরিষদের জনবল ব্যবহার করে ওই চাল বিক্রি করবেন এবং মুনফা অর্জন করবেন। অপরদিকে নিয়ম অনুযায়ী ডিলারদের নিজস্ব গুদাম ও জনবল (শ্রমিক) ব্যবহার করে এই চাল বিতরণ করার কথা।
উপজেলার ধরনীবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী বলেন, উপজেলা খাদ্য অফিস থেকে আগষ্ট মাসের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ৬৫ মে. টন ১শ ৩০ কেজি চালের বিপরীতে ট্রেজারী চালান করতে বলা হয়।
এরপর অফিস থেকে আমার নামে চালের ডিও প্রদান করা হয়েছে। এই চালে কেজি প্রতি ২ টাকা করে লাভ হবে। এছাড়া পরিবহনের খরচের জন্য চালের খালি বস্তাগুলোও পাবো আমরা। সরকারি গুদাম ও জনবল ব্যবহার করে ব্যবসা করা অবৈধ কি না তা জানতে চাইলে তিনি সদুত্তর না দিয়ে বলেন, এখানে আমাদের করার কিছু নেই, খাদ্য অফিসকে জিজ্ঞাসা করেন।
এ বিষয়ে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ডিলার নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মিসবাহুল হোসাইনের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী ২৬ আগষ্ট ডিও করার শেষ সময় ছিল।
তাই এটি করা হয়েছে। ডিলার নিয়োগে বিলম্বের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, যাচাই-বাচাই ও পুণঃ যাচাই-বাচাই করতে গিয়ে বিলম্ব হচ্ছে। নিয়ম বর্হিভূতভাবে সরকারি গুদাম ও জনবল ব্যবহার করে জনপ্রতিনিধিদের ব্যবসার সুযোগ দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এ বিষয়ে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন।
খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর ডিলার নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নয়ন কুমার সাহা জানান, জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে চাল বিতরণের বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এর দপ্তর আমাকে জানিয়েছেন এটি বিধি সম্মতভাবে করা হয়েছে।