চলতি মৌসুমে সিরাজগঞ্জের তাড়াশের নওগাঁ গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন ৪ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করে ছিলেন। খরচ হয়েছিল ৪৫ হাজার টাকা। পাট হয়েছে ৪১ মন। প্রতি মন পাট ৩ হাজার ৪ শত ৩০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। অর্থাৎ লাভ হয়েছে ৯৫ হাজার ৬ শত ৩০ টাকা।
আবুল হোসেন বলেন, অন্য ফসল আবাদ করে ৪ বিঘা জমিতে এ পরিমাণ লাভ পাওয়া সম্ভব নয়। অনেকেই এবার পাট চাষ করে লাভবান হয়েছেন। চলনবিলে সোনালী আঁশ পাটের আবাদে সুদিন ফিরতে শুরু করেছে বলে জানান এই কৃষক।
৬০-৭০ এর দশকেও নদী কেন্দ্রিক চলনবিল পাটের জন্য প্রসিদ্ধ ছিল। এখানকার পাট বন্দরগুলোর মধ্যে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সলঙ্গা, চান্দাইকোনা, উল্লাপাড়া উপজেলার ঝিকড়া বন্দর, তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ হাট, গুরুদাস পুর উপজেলার চাঁচকৈড়, ভাঙ্গুড়া উপজেলার মির্জাপুর এবং চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়ালসহ বেশ কিছু পাট বন্দর উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে এগুলো ছাড়াও সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের পাঙ্গাশী, ঘ্রুকা, পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার অমৃত গুন্ডা, মহেলা কাটাখালী, ভাঙ্গুড়া উপজেলার বড়াল ব্রিজ, নাটোর জেলার সিংড়া বন্দর, বিয়াস হাটে হরদম চলছে পাট বেচাকেনা।
সরেজমিনে তাড়াশের নওগাঁ হাটে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতা-বিক্রেতা, কুলি- শ্রমিকের উপস্থিতিতে হাট সরগরম হয়ে উঠছে। নতুন পাটের আমদানিও গত বছরের তুলনায় বেশি। দামও গত বছরের তুলনায় প্রকারভেদে মনপ্রতি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২ শত টাকা বেড়েছে। এ হাটে পাট কিনতে এসেছেন গুরুদাসপুরের মহাজন আমজাদ আলী। তিনি জানান, প্রতি বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক হাটে ১৫ হাজার থেকে ১৬ হাজার মন পাট বিক্রি হয়। চলনবিল সংলগ্ন প্রায় সব হাটেই শতশত মন পাট বিক্রি হচ্ছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলনবিলে বোরো ধান আবাদের পর পাট আবাদ করা হয়েছে। এ বছর সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ৬ শত ৮৫ হেক্টর, তাড়াশে ৮ শত ১০ হেক্টর, শাহজাদপুরে ৩ শত ৮৭ হেক্টর, নাটোরের গুরুদাসপুরে ৪ হাজার ৭ শত ৫০ হেক্টর, সিংড়ায় ১ হাজার ৭ শত ৪০ হেক্টর, পাবনার চাটমোহরে ৮ হাজার ৯ শত ৬০ হেক্টরসহ ৯ উপজেলায় ২২ হাজার ১ শত ৩ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে প্রায় ১ হাজার ১ শত ৯১ হেক্টর বেশি জমিতে পাট আবাদ হয়েছে।
আগে এ এলাকার চাষীরা তোষা জাতের পাটের আবাদ করতেন। ৫/৬ বছর ধরে কেনাফ, পেস্তা, রবি-১সহ গুটি কয়েক জাতের পাট আবাদ শুরু করেছেন। বিঘায় ৮ থেকে ১২ মন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যাচ্ছে। রায়গঞ্জের পাঙ্গাশী ইউনিয়নের নওদা শালুওয়া ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মুঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ৭০ থেকে ৮০ দিনের মধ্যে পাটের ফলন পাওয়া যায়। পাট প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহনীয়। ধান, সরিষা, আলু বা অন্য ফসলের তুলনায় মুনাফাও বেশি বটে। এ কারণে বোরো ধান আবাদের পর পাট রোপণ করেন চাষীরা।
চলনবিলের হাট- বাজারে মেস্তা জাতের পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৫ শত থেকে ৪ হাজার ২ শত টাকা, তোষা ৩ হাজার ১ শত থেকে ৩ হাজার ৫ শত টাকা,কেনাফ ৩ হাজার ৩ শত থেকে ৩ হাজার ৬ শত টাকা, রবি-১ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৭ শত থেকে ৩ হাজার ২ শত টাকায়। চাঁচকৈড় হাটে আসা নাটোরের মহাজন সুধাংশু সরকার জানান, গত বছর চলনবিলের হাট-বাজারে পাটের দর ওঠানামার মধ্য দিয়ে গেলেও প্রতি মন ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫ শত টাকার বেশি ছিল না। এ বছর মৌসুমের শুরুতেই প্রকারভেদে সব ধরনের পাট ২ হাজার ৭ শত থেকে ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে; যা গত বছরের তুলনায় হাজার থেকে ১ হাজার ২ শত টাকা বেশি। মৌসুমের শেষের দিকে দাম আরও বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।
রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মমিন ইসলাম বলেন, চলনবিল পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও নাটোর জেলার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া বৃহৎ বিল। এ এলাকায় এবার পাটের আবাদ তুলনামূলক বেশি হয়েছে। ভালো ফলনের সাথে সাথে অধিক মুনাফা পেয়ে কৃষক খুশি।
বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট ২০২৫
চলতি মৌসুমে সিরাজগঞ্জের তাড়াশের নওগাঁ গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন ৪ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করে ছিলেন। খরচ হয়েছিল ৪৫ হাজার টাকা। পাট হয়েছে ৪১ মন। প্রতি মন পাট ৩ হাজার ৪ শত ৩০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। অর্থাৎ লাভ হয়েছে ৯৫ হাজার ৬ শত ৩০ টাকা।
আবুল হোসেন বলেন, অন্য ফসল আবাদ করে ৪ বিঘা জমিতে এ পরিমাণ লাভ পাওয়া সম্ভব নয়। অনেকেই এবার পাট চাষ করে লাভবান হয়েছেন। চলনবিলে সোনালী আঁশ পাটের আবাদে সুদিন ফিরতে শুরু করেছে বলে জানান এই কৃষক।
৬০-৭০ এর দশকেও নদী কেন্দ্রিক চলনবিল পাটের জন্য প্রসিদ্ধ ছিল। এখানকার পাট বন্দরগুলোর মধ্যে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সলঙ্গা, চান্দাইকোনা, উল্লাপাড়া উপজেলার ঝিকড়া বন্দর, তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ হাট, গুরুদাস পুর উপজেলার চাঁচকৈড়, ভাঙ্গুড়া উপজেলার মির্জাপুর এবং চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়ালসহ বেশ কিছু পাট বন্দর উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে এগুলো ছাড়াও সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের পাঙ্গাশী, ঘ্রুকা, পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার অমৃত গুন্ডা, মহেলা কাটাখালী, ভাঙ্গুড়া উপজেলার বড়াল ব্রিজ, নাটোর জেলার সিংড়া বন্দর, বিয়াস হাটে হরদম চলছে পাট বেচাকেনা।
সরেজমিনে তাড়াশের নওগাঁ হাটে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতা-বিক্রেতা, কুলি- শ্রমিকের উপস্থিতিতে হাট সরগরম হয়ে উঠছে। নতুন পাটের আমদানিও গত বছরের তুলনায় বেশি। দামও গত বছরের তুলনায় প্রকারভেদে মনপ্রতি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২ শত টাকা বেড়েছে। এ হাটে পাট কিনতে এসেছেন গুরুদাসপুরের মহাজন আমজাদ আলী। তিনি জানান, প্রতি বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক হাটে ১৫ হাজার থেকে ১৬ হাজার মন পাট বিক্রি হয়। চলনবিল সংলগ্ন প্রায় সব হাটেই শতশত মন পাট বিক্রি হচ্ছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলনবিলে বোরো ধান আবাদের পর পাট আবাদ করা হয়েছে। এ বছর সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ৬ শত ৮৫ হেক্টর, তাড়াশে ৮ শত ১০ হেক্টর, শাহজাদপুরে ৩ শত ৮৭ হেক্টর, নাটোরের গুরুদাসপুরে ৪ হাজার ৭ শত ৫০ হেক্টর, সিংড়ায় ১ হাজার ৭ শত ৪০ হেক্টর, পাবনার চাটমোহরে ৮ হাজার ৯ শত ৬০ হেক্টরসহ ৯ উপজেলায় ২২ হাজার ১ শত ৩ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে প্রায় ১ হাজার ১ শত ৯১ হেক্টর বেশি জমিতে পাট আবাদ হয়েছে।
আগে এ এলাকার চাষীরা তোষা জাতের পাটের আবাদ করতেন। ৫/৬ বছর ধরে কেনাফ, পেস্তা, রবি-১সহ গুটি কয়েক জাতের পাট আবাদ শুরু করেছেন। বিঘায় ৮ থেকে ১২ মন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যাচ্ছে। রায়গঞ্জের পাঙ্গাশী ইউনিয়নের নওদা শালুওয়া ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মুঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ৭০ থেকে ৮০ দিনের মধ্যে পাটের ফলন পাওয়া যায়। পাট প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহনীয়। ধান, সরিষা, আলু বা অন্য ফসলের তুলনায় মুনাফাও বেশি বটে। এ কারণে বোরো ধান আবাদের পর পাট রোপণ করেন চাষীরা।
চলনবিলের হাট- বাজারে মেস্তা জাতের পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৫ শত থেকে ৪ হাজার ২ শত টাকা, তোষা ৩ হাজার ১ শত থেকে ৩ হাজার ৫ শত টাকা,কেনাফ ৩ হাজার ৩ শত থেকে ৩ হাজার ৬ শত টাকা, রবি-১ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৭ শত থেকে ৩ হাজার ২ শত টাকায়। চাঁচকৈড় হাটে আসা নাটোরের মহাজন সুধাংশু সরকার জানান, গত বছর চলনবিলের হাট-বাজারে পাটের দর ওঠানামার মধ্য দিয়ে গেলেও প্রতি মন ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫ শত টাকার বেশি ছিল না। এ বছর মৌসুমের শুরুতেই প্রকারভেদে সব ধরনের পাট ২ হাজার ৭ শত থেকে ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে; যা গত বছরের তুলনায় হাজার থেকে ১ হাজার ২ শত টাকা বেশি। মৌসুমের শেষের দিকে দাম আরও বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।
রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মমিন ইসলাম বলেন, চলনবিল পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও নাটোর জেলার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া বৃহৎ বিল। এ এলাকায় এবার পাটের আবাদ তুলনামূলক বেশি হয়েছে। ভালো ফলনের সাথে সাথে অধিক মুনাফা পেয়ে কৃষক খুশি।