কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে আছমা খাতুন (২৮) ও তারই আপন ছোট ভাই জাহাঙ্গীর (২৫) দীর্ঘদিন ধরে শিকলবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। আছমা ১২ বছর আর জাহাঙ্গীর ১০ বছর ধরে হাত-পায়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
অর্থাভাবে এতদিন হয়নি তাদের চিকিৎসা। শিকলবন্দি ভাই-বোনের মানবেতর জীবনযাপনের কথা সংবাদকর্মীদের কাছে জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাঈদুল ইসলাম ছুটে যান তাদের বাড়িতে। পাবনা মানসিক হাসপাতাল পাঠিয়ে তাদের চিকিৎসা করানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
স্থানীয়রা জানান, ভাঙাচোরা ঘরের এক কোণে আছমার পা লোহার শিকলে বাঁধা থাকে। খানিকটা দূরে আরেক কোণে খুঁটির সঙ্গে বাঁধা জাহাঙ্গীর। শীত-গ্রীষ্ম, দিন-রাত একইভাবে ঘরের খুঁটি ও গাছের সঙ্গে শিকলবন্দি থাকতে হয় তাদের। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, খেয়ে-না খেয়ে বছরের পর বছর এভাবেই কাটছে তাদের জীবন।
আছমা ও জাহাঙ্গীর কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের গণেরগাঁও গ্রামের দরিদ্র দিনমজুর ফজলু মিয়ার সন্তান। বৃদ্ধ বাবা দিনমজুরি করে কোনো রকমে সংসার চালান। মা বয়সের ভারে ন্যুব্জ। অতি দারিদ্র্যের কারণে দুই ভাই-বোনের চিকিৎসার খরচ বহন করতে পারেননি তারা। ফলে সন্তানরা যাতে হারিয়ে না যায় বা কারও যেন কোনো ক্ষতি না করে ফেলে— এই ভয়ে তাদের সর্বাবস্থায় শিকলবন্দি করে রাখা হয়।
বোন সালমা আক্তার জানান, মাত্র ১৫ বছর বয়সে আছমা গার্মেন্টসে কাজ শুরু করেন। ভবিষ্যতের জন্য কিছু টাকা জমান স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে। পরে ওই ব্যক্তি আছমার টাকা আত্মসাৎ করে উধাও হয়ে গেলে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন তিনি। তখন থেকেই শিকলে বাঁধা পড়ে আছমার জীবন। এর কয়েক বছর পর লেখাপড়ার পাশাপাশি ব্যবসা করা ভাই জাহাঙ্গীর প্রেমঘটিত কারণে মানসিক ভারসাম্য হারালে তাকেও শিকলে বেঁধে রাখা হয়।
সালমা আরও বলেন, “আমরা চার বোন ও এক ভাই। তিন বোনের বিয়ে হয়েছে। আমাদের কোনো জমিজমা নেই। ঘরে কোনো আসবাবপত্র নেই। তিনবেলা ঠিকমতো খেতে পারি না। মানুষে দিলে খাই, না দিলে উপোস থাকি। এরই মধ্যে দুই ভাই-বোন মানসিক রোগী হয়ে পড়েছে। চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য আমাদের নেই। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাঈদুল ইসলাম জানান, ১২ বছর ধরে শিকলবন্দি ভাই-বোনের বিষয়টি সংবাদকর্মীদের কাছে জানতে পেরে সমাজসেবা কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে তাদের বাড়িতে গিয়েছি। তাদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছি। তাদের চিকিৎসার জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।
শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে আছমা খাতুন (২৮) ও তারই আপন ছোট ভাই জাহাঙ্গীর (২৫) দীর্ঘদিন ধরে শিকলবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। আছমা ১২ বছর আর জাহাঙ্গীর ১০ বছর ধরে হাত-পায়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
অর্থাভাবে এতদিন হয়নি তাদের চিকিৎসা। শিকলবন্দি ভাই-বোনের মানবেতর জীবনযাপনের কথা সংবাদকর্মীদের কাছে জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাঈদুল ইসলাম ছুটে যান তাদের বাড়িতে। পাবনা মানসিক হাসপাতাল পাঠিয়ে তাদের চিকিৎসা করানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
স্থানীয়রা জানান, ভাঙাচোরা ঘরের এক কোণে আছমার পা লোহার শিকলে বাঁধা থাকে। খানিকটা দূরে আরেক কোণে খুঁটির সঙ্গে বাঁধা জাহাঙ্গীর। শীত-গ্রীষ্ম, দিন-রাত একইভাবে ঘরের খুঁটি ও গাছের সঙ্গে শিকলবন্দি থাকতে হয় তাদের। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, খেয়ে-না খেয়ে বছরের পর বছর এভাবেই কাটছে তাদের জীবন।
আছমা ও জাহাঙ্গীর কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের গণেরগাঁও গ্রামের দরিদ্র দিনমজুর ফজলু মিয়ার সন্তান। বৃদ্ধ বাবা দিনমজুরি করে কোনো রকমে সংসার চালান। মা বয়সের ভারে ন্যুব্জ। অতি দারিদ্র্যের কারণে দুই ভাই-বোনের চিকিৎসার খরচ বহন করতে পারেননি তারা। ফলে সন্তানরা যাতে হারিয়ে না যায় বা কারও যেন কোনো ক্ষতি না করে ফেলে— এই ভয়ে তাদের সর্বাবস্থায় শিকলবন্দি করে রাখা হয়।
বোন সালমা আক্তার জানান, মাত্র ১৫ বছর বয়সে আছমা গার্মেন্টসে কাজ শুরু করেন। ভবিষ্যতের জন্য কিছু টাকা জমান স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে। পরে ওই ব্যক্তি আছমার টাকা আত্মসাৎ করে উধাও হয়ে গেলে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন তিনি। তখন থেকেই শিকলে বাঁধা পড়ে আছমার জীবন। এর কয়েক বছর পর লেখাপড়ার পাশাপাশি ব্যবসা করা ভাই জাহাঙ্গীর প্রেমঘটিত কারণে মানসিক ভারসাম্য হারালে তাকেও শিকলে বেঁধে রাখা হয়।
সালমা আরও বলেন, “আমরা চার বোন ও এক ভাই। তিন বোনের বিয়ে হয়েছে। আমাদের কোনো জমিজমা নেই। ঘরে কোনো আসবাবপত্র নেই। তিনবেলা ঠিকমতো খেতে পারি না। মানুষে দিলে খাই, না দিলে উপোস থাকি। এরই মধ্যে দুই ভাই-বোন মানসিক রোগী হয়ে পড়েছে। চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য আমাদের নেই। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাঈদুল ইসলাম জানান, ১২ বছর ধরে শিকলবন্দি ভাই-বোনের বিষয়টি সংবাদকর্মীদের কাছে জানতে পেরে সমাজসেবা কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে তাদের বাড়িতে গিয়েছি। তাদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছি। তাদের চিকিৎসার জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।