সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) : ভেঙে যাওয়া চরপানিয়া থেকে রাজহালট হয়ে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেস সড়ক -সংবাদ
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের চর পানিয়া এলাকায় অবৈধ ইটভাটার দৌরাত্ম্যে কোটি টাকার সংস্কারকৃত সড়ক ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। চর পানিয়া থেকে রাজহালট হয়ে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়ক সংস্কারে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা। কিন্তু প্রতিদিন শতাধিক ট্রাক ও মাহিন্দ্রায় ইট পরিবহনের কারণে মাত্র ছয় মাসের মাথায় সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। হাজী বাজারের ব্যবসায়ী মো. ইউনুস অভিযোগ করে বলেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রভাবশালীমহল এসব ইটভাটা পরিচালনা করছে।
ইউনিয়ন পরিষদের কিছু জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক মহলের যোগসাজশেই এ ব্যবসা চলছে বলে তাদের দাবি। বিষয়টি বালুচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী আওলাদ হোসেনকে জানালেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ভাঙাচোরা সড়কের কারণে অন্তত ১৫টি গ্রামের মানুষ এখন চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। চিকিৎসা, শিক্ষা ও কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। সড়কের বড় বড় গর্তে প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটছে। মোটরসাইকেল, ভ্যান ও অটোরিকশা উল্টে বহু মানুষ আহত হয়েছেন। কৃষকরাও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
মৌসুমি সবজি ও ধান সময়মতো বাজারে নিতে না পারায় অনেক ফসল নষ্ট হচ্ছে। অবৈধ ইটভাটা বন্ধ ও রাস্তা সংস্কারের দাবিতে এলাকাবাসী সম্প্রতি ইটবাহী ট্রাক আটকে সড়ক অবরোধ করেন। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও বড় আন্দোলনে নামবেন তারা। বালুচর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন বলেন, এই সড়কটি প্রশস্ত করে পাকা ঢালাই দিয়ে তৈরি করা দরকার। কারণ এ এলাকায় মিল ও কারখানা থাকায় বড় গাড়ি চলাচল করবেই। রাস্তার কাজ যদি মানসম্মত হয়, তবে ছয় মাসের মধ্যেই ভেঙে যাবে না। আপাতত যেখানে ভাঙন দেখা দিয়েছে, সেখানে ইট-সুরকি দিয়ে মেরামতের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে বালুচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী আওলাদ হোসেন বলেন, ঠিকাদার যদি আরও ভালোভাবে কাজ করত, তাহলে এত দ্রুত রাস্তা নষ্ট হতো না।
তার ওপর এলাকায় অন্তত দশটি ইটভাটার ট্রাক চলাচল করে। এসব ট্রাক ও মাহিন্দ্রার ওজন সড়কের ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি হওয়ায় দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে। আশা করি তারা যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। সিরাজদিখান উপজেলা প্রকৌশলী মো. আসিফ উল্লাহ বলেন, চর পানিয়া থেকে রাজহালট পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নয়-দশ মাস আগে সড়কটি সংস্কার করা হয়েছিল। ভারী যানবাহন ও মাহিন্দ্রার চাকার চাপে রাস্তা দ্রুত নষ্ট হয়ে গেছে।
সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) : ভেঙে যাওয়া চরপানিয়া থেকে রাজহালট হয়ে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেস সড়ক -সংবাদ
শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের চর পানিয়া এলাকায় অবৈধ ইটভাটার দৌরাত্ম্যে কোটি টাকার সংস্কারকৃত সড়ক ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। চর পানিয়া থেকে রাজহালট হয়ে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়ক সংস্কারে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা। কিন্তু প্রতিদিন শতাধিক ট্রাক ও মাহিন্দ্রায় ইট পরিবহনের কারণে মাত্র ছয় মাসের মাথায় সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। হাজী বাজারের ব্যবসায়ী মো. ইউনুস অভিযোগ করে বলেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রভাবশালীমহল এসব ইটভাটা পরিচালনা করছে।
ইউনিয়ন পরিষদের কিছু জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক মহলের যোগসাজশেই এ ব্যবসা চলছে বলে তাদের দাবি। বিষয়টি বালুচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী আওলাদ হোসেনকে জানালেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ভাঙাচোরা সড়কের কারণে অন্তত ১৫টি গ্রামের মানুষ এখন চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। চিকিৎসা, শিক্ষা ও কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। সড়কের বড় বড় গর্তে প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটছে। মোটরসাইকেল, ভ্যান ও অটোরিকশা উল্টে বহু মানুষ আহত হয়েছেন। কৃষকরাও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
মৌসুমি সবজি ও ধান সময়মতো বাজারে নিতে না পারায় অনেক ফসল নষ্ট হচ্ছে। অবৈধ ইটভাটা বন্ধ ও রাস্তা সংস্কারের দাবিতে এলাকাবাসী সম্প্রতি ইটবাহী ট্রাক আটকে সড়ক অবরোধ করেন। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও বড় আন্দোলনে নামবেন তারা। বালুচর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন বলেন, এই সড়কটি প্রশস্ত করে পাকা ঢালাই দিয়ে তৈরি করা দরকার। কারণ এ এলাকায় মিল ও কারখানা থাকায় বড় গাড়ি চলাচল করবেই। রাস্তার কাজ যদি মানসম্মত হয়, তবে ছয় মাসের মধ্যেই ভেঙে যাবে না। আপাতত যেখানে ভাঙন দেখা দিয়েছে, সেখানে ইট-সুরকি দিয়ে মেরামতের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে বালুচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী আওলাদ হোসেন বলেন, ঠিকাদার যদি আরও ভালোভাবে কাজ করত, তাহলে এত দ্রুত রাস্তা নষ্ট হতো না।
তার ওপর এলাকায় অন্তত দশটি ইটভাটার ট্রাক চলাচল করে। এসব ট্রাক ও মাহিন্দ্রার ওজন সড়কের ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি হওয়ায় দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে। আশা করি তারা যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। সিরাজদিখান উপজেলা প্রকৌশলী মো. আসিফ উল্লাহ বলেন, চর পানিয়া থেকে রাজহালট পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নয়-দশ মাস আগে সড়কটি সংস্কার করা হয়েছিল। ভারী যানবাহন ও মাহিন্দ্রার চাকার চাপে রাস্তা দ্রুত নষ্ট হয়ে গেছে।