সিলেটে ভারতীয় মেডিকেল ও ডাবল এন্ট্রি ভিসার জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে। একজন রোগী বা ভারতের অভ্যন্তরে ভিসা নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোতে গমনেচ্ছুকরা বর্তমানে চরম বেকায়দায় রয়েছেন। কেউ কেউ একাধিকবার আবেদন জমা দিয়ে ভিসা পেতে ব্যর্থ হচ্ছেন। এতে বিশেষ করে ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে পোল্যান্ড ও পর্তুগাল যেতে ইচ্ছুকরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন। ভারতীয় সহকারি হাইকমিশন সূত্রের দাবি, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তো রয়েছেই; এর বাইরে হ্যাকাররা এজন্য দায়ী। সূত্র বলছে, ভারতীয় ভিসা পেতে আইভিসি নামের যে ওয়েবসাইটটি রয়েছে সেটি অনেকটাই হ্যাকাররা নিয়ন্ত্রণ করছে। সহকারি হাইকমিশনের পক্ষ থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে কয়েকজন হ্যাকার সম্পর্কে মহানগর পুলিশসহ বিভিন্নজনকে বিস্তারিত তথ্য দিলেও কোন ফলাফল পাওয়া যায়নি।
হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে ওয়েবসাইট, পুলিশ বলছে জানে না
ক্ষতিগ্রস্তের শিকার পর্তুগাল ও পোল্যান্ড গমনেচ্ছুকরা
সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার মইনপুর এলাকার মো. জাবেদ হোসেন জানান, বেশ কয়েক লাখ টাকা খরচ করে পর্তুগাল ওয়ার্ক পারমিটে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ইতিমধ্যে সেদেশ থেকে ওয়ার্ক পারমিটের কাগজও এসেছে। সেই কাগজ নিয়ে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর ভারতের দিল্লিতে পর্তুগাল ভিসা এপ্লিকেশন সেন্টারে ফাইল জমা দেয়ার কথা। এজন্য তিনি ভারতীয় ভিসার জন্য অনলাইনে ফাইল আপলোড করেন। কিন্তু বারবার চেষ্টা করেও অনলাইনে ভিসা ফি দিতে পারেননি। এ কারণে ভিসা এপ্লিকেশন সেন্টারে ফাইল জমা দেয়ার তারিখও পাননি। জাবেদ আহমেদের মত এরকম অনেক যুবক এই ভোগান্তির শিকার।
সিলেটস্থ ভারতীয় সহকারি হাই কমিশনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ভারতীয় টুরিস্ট ভিসা বন্ধ রয়েছে। তবে জরুরি ক্ষেত্রে যেমন মেডিকেল, স্টুডেন্ট ও ডাবল এন্টি ভিসা সীমিত আকারে চালু আছে। তিনি বলেন, একটা পর্যায়ে ভিসা করিয়ে দেওয়ার নামে একটি চক্র হাই কমিশন কর্মকর্তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বিষয়টি সহকারি হাই কমিশনের দৃষ্টিগোচর হলে অনুসন্ধান শুরু করা হয়। ওই কর্মকর্তা বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা যায় অনেকে লিখছেন তারা মেডিকেল এবং ডাবল এন্ট্রি ভিসা করিয়ে দেবেন। তিনি প্রশ্ন তুলেন, তারা ভিসা করিয়ে দেয়ার তারা কে! তিনি বলেন, অনেকে আছেন কম্পিউটারে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন না। তাই তারা কোন ট্রাভেল এজেন্সি বা কম্পিউটারের দোকানের দারস্ত হন। সেখানেও সহজ সরল অনেক মানুষ প্রতারিত হচ্ছেন। উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন, ধরুন পড়াশোনা জানা নেই বা সরল প্রকৃতির কোন ব্যক্তি দোকানে গিয়ে মেডিকেল ভিসার আবেদনের কথা বলল। ওই দোকানদার প্রথমে তার নিজস্ব একটা সার্ভিস চার্জ নেন। এরপর ভারতীয় কোনো হসপিটাল থেকে অ্যাপোয়েন্টমেন্ট এনে দেয়ার নামে আরো কিছু টাকা নেন। অনেকাংশে কোন কোন দোকানদার পুরনো কারো অ্যাপয়েন্টমেন্ট নাম পরিবর্তন করে তার একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট তৈরি করে দেন। পরে ঐ ব্যক্তি ভিসা সেন্টারে ফাইল জমা করেন। ফাইলটি সহকারি হাই কমিশনে আসার পর এখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট হসপিটালে ই-মেইলের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট সম্পর্কে জানতে চান। হসপিটাল থেকে যখন জানানো হয় অ্যাপয়েন্টমেন্টটি ভুঁয়া তখন ওই ব্যক্তিকে আর ভিসা দেয়া হয় না। এক্ষেত্রে তিনি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হলেন এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং প্রতারিত হলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন দোকানদার যখন অপপ্রচার চালাচ্ছে যে, তারা মেডিকেল এবং ডাবল এন্ট্রি ভিসা করিয়ে দেন ঠিক সে সময়ে হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় ভিসা আবেদনের ওয়েবসাইট। এর ফলে সাধারণ আবেদনকারী নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে ঢুকে অনলাইনের মাধ্যমে ভিসা ফি জমা না দেয়ার পাশাপাশি আবেদনকারীরা ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে গিয়ে তাদের ফাইলও জমা করতে পারছেন না।
হাইকমিশন সূত্র জানায়, তারা হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। তবে বেশ কয়েকজন হ্যাকার সনাক্ত করতে পেরেছেন। বিষয়টি তারা মহানগর পুলিশসহ বিভিন্ন জনকে অনানুষ্ঠানিক ভাবে অবগত করেছেন। কিন্তু এতে করে কোন ফলাফল পাওয়া যায়নি।
যোগাযোগ করা হলে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. রেজাউল করিম বলেন, ভারতীয় ভিসা এপ্লিকেশন সেন্টারের ওয়েবসাইট হ্যাকিং হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই। এটা সহকারি হাইকমিশন ভালো করে বলতে পারবে। হাই কমিশন থেকে অবগত হয়েছিলেন কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, না আমাকে কেউ অবগত করেননি। হাইকমিশন সূত্র দাবি করেছে অনানুষ্ঠানিকভাবে হ্যাকারদের একটি তালিকা আপনাকে হোয়াটসঅ্যাপ করা হয়েছিল- এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কমিশনার বলেন, না এটা আমার জানা নেই।
শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫
সিলেটে ভারতীয় মেডিকেল ও ডাবল এন্ট্রি ভিসার জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে। একজন রোগী বা ভারতের অভ্যন্তরে ভিসা নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোতে গমনেচ্ছুকরা বর্তমানে চরম বেকায়দায় রয়েছেন। কেউ কেউ একাধিকবার আবেদন জমা দিয়ে ভিসা পেতে ব্যর্থ হচ্ছেন। এতে বিশেষ করে ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে পোল্যান্ড ও পর্তুগাল যেতে ইচ্ছুকরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন। ভারতীয় সহকারি হাইকমিশন সূত্রের দাবি, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তো রয়েছেই; এর বাইরে হ্যাকাররা এজন্য দায়ী। সূত্র বলছে, ভারতীয় ভিসা পেতে আইভিসি নামের যে ওয়েবসাইটটি রয়েছে সেটি অনেকটাই হ্যাকাররা নিয়ন্ত্রণ করছে। সহকারি হাইকমিশনের পক্ষ থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে কয়েকজন হ্যাকার সম্পর্কে মহানগর পুলিশসহ বিভিন্নজনকে বিস্তারিত তথ্য দিলেও কোন ফলাফল পাওয়া যায়নি।
হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে ওয়েবসাইট, পুলিশ বলছে জানে না
ক্ষতিগ্রস্তের শিকার পর্তুগাল ও পোল্যান্ড গমনেচ্ছুকরা
সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার মইনপুর এলাকার মো. জাবেদ হোসেন জানান, বেশ কয়েক লাখ টাকা খরচ করে পর্তুগাল ওয়ার্ক পারমিটে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ইতিমধ্যে সেদেশ থেকে ওয়ার্ক পারমিটের কাগজও এসেছে। সেই কাগজ নিয়ে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর ভারতের দিল্লিতে পর্তুগাল ভিসা এপ্লিকেশন সেন্টারে ফাইল জমা দেয়ার কথা। এজন্য তিনি ভারতীয় ভিসার জন্য অনলাইনে ফাইল আপলোড করেন। কিন্তু বারবার চেষ্টা করেও অনলাইনে ভিসা ফি দিতে পারেননি। এ কারণে ভিসা এপ্লিকেশন সেন্টারে ফাইল জমা দেয়ার তারিখও পাননি। জাবেদ আহমেদের মত এরকম অনেক যুবক এই ভোগান্তির শিকার।
সিলেটস্থ ভারতীয় সহকারি হাই কমিশনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ভারতীয় টুরিস্ট ভিসা বন্ধ রয়েছে। তবে জরুরি ক্ষেত্রে যেমন মেডিকেল, স্টুডেন্ট ও ডাবল এন্টি ভিসা সীমিত আকারে চালু আছে। তিনি বলেন, একটা পর্যায়ে ভিসা করিয়ে দেওয়ার নামে একটি চক্র হাই কমিশন কর্মকর্তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বিষয়টি সহকারি হাই কমিশনের দৃষ্টিগোচর হলে অনুসন্ধান শুরু করা হয়। ওই কর্মকর্তা বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা যায় অনেকে লিখছেন তারা মেডিকেল এবং ডাবল এন্ট্রি ভিসা করিয়ে দেবেন। তিনি প্রশ্ন তুলেন, তারা ভিসা করিয়ে দেয়ার তারা কে! তিনি বলেন, অনেকে আছেন কম্পিউটারে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন না। তাই তারা কোন ট্রাভেল এজেন্সি বা কম্পিউটারের দোকানের দারস্ত হন। সেখানেও সহজ সরল অনেক মানুষ প্রতারিত হচ্ছেন। উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন, ধরুন পড়াশোনা জানা নেই বা সরল প্রকৃতির কোন ব্যক্তি দোকানে গিয়ে মেডিকেল ভিসার আবেদনের কথা বলল। ওই দোকানদার প্রথমে তার নিজস্ব একটা সার্ভিস চার্জ নেন। এরপর ভারতীয় কোনো হসপিটাল থেকে অ্যাপোয়েন্টমেন্ট এনে দেয়ার নামে আরো কিছু টাকা নেন। অনেকাংশে কোন কোন দোকানদার পুরনো কারো অ্যাপয়েন্টমেন্ট নাম পরিবর্তন করে তার একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট তৈরি করে দেন। পরে ঐ ব্যক্তি ভিসা সেন্টারে ফাইল জমা করেন। ফাইলটি সহকারি হাই কমিশনে আসার পর এখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট হসপিটালে ই-মেইলের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট সম্পর্কে জানতে চান। হসপিটাল থেকে যখন জানানো হয় অ্যাপয়েন্টমেন্টটি ভুঁয়া তখন ওই ব্যক্তিকে আর ভিসা দেয়া হয় না। এক্ষেত্রে তিনি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হলেন এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং প্রতারিত হলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন দোকানদার যখন অপপ্রচার চালাচ্ছে যে, তারা মেডিকেল এবং ডাবল এন্ট্রি ভিসা করিয়ে দেন ঠিক সে সময়ে হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় ভিসা আবেদনের ওয়েবসাইট। এর ফলে সাধারণ আবেদনকারী নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে ঢুকে অনলাইনের মাধ্যমে ভিসা ফি জমা না দেয়ার পাশাপাশি আবেদনকারীরা ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে গিয়ে তাদের ফাইলও জমা করতে পারছেন না।
হাইকমিশন সূত্র জানায়, তারা হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। তবে বেশ কয়েকজন হ্যাকার সনাক্ত করতে পেরেছেন। বিষয়টি তারা মহানগর পুলিশসহ বিভিন্ন জনকে অনানুষ্ঠানিক ভাবে অবগত করেছেন। কিন্তু এতে করে কোন ফলাফল পাওয়া যায়নি।
যোগাযোগ করা হলে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. রেজাউল করিম বলেন, ভারতীয় ভিসা এপ্লিকেশন সেন্টারের ওয়েবসাইট হ্যাকিং হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই। এটা সহকারি হাইকমিশন ভালো করে বলতে পারবে। হাই কমিশন থেকে অবগত হয়েছিলেন কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, না আমাকে কেউ অবগত করেননি। হাইকমিশন সূত্র দাবি করেছে অনানুষ্ঠানিকভাবে হ্যাকারদের একটি তালিকা আপনাকে হোয়াটসঅ্যাপ করা হয়েছিল- এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কমিশনার বলেন, না এটা আমার জানা নেই।