আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘ইতিহাসের সেরা ভোট’ হিসেবে উপহার দেয়ার কথা আবারও বলেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে এটিকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ নির্বাচন হিসেবেও দেখছে এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিশন। বিতর্কিত নির্বাচনের জেরে সাবেক নির্বাচন কমিশনারদের কারাবরণ ও জুতার মালা পরানোর ঘটনাকে সামনে এনে ইসি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে কমিশন কর্মকর্তাদের। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ নৈতিকতা, পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) গলায় জুতার মালা পরানো হলে তার দায়ভার কর্মকর্তাদেরও নিতে হবে।
কোনো সন্দেহ নেই, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: ইসি আনোয়ারুল ইসলাম
কারও দিকে না তাকিয়ে শুধু সংবিধান ও আইন মেনে কর্মকর্তাদের কাজ করতে হবে: ইসি রহমানেল মাছউদ
শুক্রবার,(২৯ আগস্ট ২০২৫) ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) ‘ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী কোর প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনাররা এমন কঠোর বার্তা দেন। অনুষ্ঠানে সিইসি, চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার নির্বাচন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন; এতে কোনো সন্দেহ নেই। অতীতের রক্তপাত ও মানুষের দুঃখ-কষ্টের কারণ ছিল সঠিক নির্বাচনের অভাব।’ তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আজকে নির্বাচন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের গলায় যদি জুতার মালা হয় এটির অংশীদার কিন্তু আপনি।’ তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে কোনো ধরনের ‘ধানাই-পানাই’, ফাঁকিবাজি বা ধোঁকাবাজি করা যাবে না। জীবন গেলেও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রায় ৫০ হাজার প্রিজাইডিং অফিসার সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করলে নির্বাচন ভালো হবে বলে মনে করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ পূর্ববর্তী কমিশনের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘একজন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে জুতার মালা পরানো হয়েছে এবং অন্যজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ পরিস্থিতির জন্য কে দায়ী তা নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ ও গবেষণা হওয়া প্রয়োজন।’ কারও দিকে না তাকিয়ে শুধু সংবিধান ও আইন মেনে কর্মকর্তাদের কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন তার বক্তব্যে প্রশিক্ষণার্থীদের পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেন। তিনি বলেন, ‘প্রশিক্ষণের বটমলাইন হচ্ছে প্রোফেশনালিজম, প্রোফেশনালিজম, প্রোফেশনালিজম অ্যান্ড নিউট্রালিটি, নিউট্রালিটি, নিউট্রালিটি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগামী দিনে অপতথ্য, মিথ্যা তথ্য ও এআই-এর অপব্যবহারের মতো নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসবে, যা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে বুথের সংখ্যা পুনর্নির্ধারণ করে প্রায় ১০০ কোটি টাকা সাশ্রয় করা হয়েছে। পুরুষ ও নারী ভোটারের জন্য বুথপ্রতি যথাক্রমে ৬০০ ও ৫০০ জন ভোটার নির্ধারণ করায় প্রায় ৪৯ হাজার বুথ এবং দেড় লাখ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার প্রয়োজনীয়তা কমেছে। নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ প্রশিক্ষকদের ইতিবাচক অর্থে ‘দাদাগিরি’ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘এমনভাবে প্রশিক্ষণ দিতে হবে যেন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রশিক্ষকদের নির্দেশনা ছাড়া আর কিছু ভাবতে না পারেন।’
ইটিআই মহাপরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান জানান, আগামী চার মাসে ১০ লাখের বেশি ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।
শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘ইতিহাসের সেরা ভোট’ হিসেবে উপহার দেয়ার কথা আবারও বলেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে এটিকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ নির্বাচন হিসেবেও দেখছে এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিশন। বিতর্কিত নির্বাচনের জেরে সাবেক নির্বাচন কমিশনারদের কারাবরণ ও জুতার মালা পরানোর ঘটনাকে সামনে এনে ইসি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে কমিশন কর্মকর্তাদের। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ নৈতিকতা, পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) গলায় জুতার মালা পরানো হলে তার দায়ভার কর্মকর্তাদেরও নিতে হবে।
কোনো সন্দেহ নেই, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: ইসি আনোয়ারুল ইসলাম
কারও দিকে না তাকিয়ে শুধু সংবিধান ও আইন মেনে কর্মকর্তাদের কাজ করতে হবে: ইসি রহমানেল মাছউদ
শুক্রবার,(২৯ আগস্ট ২০২৫) ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) ‘ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী কোর প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনাররা এমন কঠোর বার্তা দেন। অনুষ্ঠানে সিইসি, চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার নির্বাচন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন; এতে কোনো সন্দেহ নেই। অতীতের রক্তপাত ও মানুষের দুঃখ-কষ্টের কারণ ছিল সঠিক নির্বাচনের অভাব।’ তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আজকে নির্বাচন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের গলায় যদি জুতার মালা হয় এটির অংশীদার কিন্তু আপনি।’ তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে কোনো ধরনের ‘ধানাই-পানাই’, ফাঁকিবাজি বা ধোঁকাবাজি করা যাবে না। জীবন গেলেও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রায় ৫০ হাজার প্রিজাইডিং অফিসার সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করলে নির্বাচন ভালো হবে বলে মনে করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ পূর্ববর্তী কমিশনের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘একজন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে জুতার মালা পরানো হয়েছে এবং অন্যজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ পরিস্থিতির জন্য কে দায়ী তা নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ ও গবেষণা হওয়া প্রয়োজন।’ কারও দিকে না তাকিয়ে শুধু সংবিধান ও আইন মেনে কর্মকর্তাদের কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন তার বক্তব্যে প্রশিক্ষণার্থীদের পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেন। তিনি বলেন, ‘প্রশিক্ষণের বটমলাইন হচ্ছে প্রোফেশনালিজম, প্রোফেশনালিজম, প্রোফেশনালিজম অ্যান্ড নিউট্রালিটি, নিউট্রালিটি, নিউট্রালিটি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগামী দিনে অপতথ্য, মিথ্যা তথ্য ও এআই-এর অপব্যবহারের মতো নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসবে, যা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে বুথের সংখ্যা পুনর্নির্ধারণ করে প্রায় ১০০ কোটি টাকা সাশ্রয় করা হয়েছে। পুরুষ ও নারী ভোটারের জন্য বুথপ্রতি যথাক্রমে ৬০০ ও ৫০০ জন ভোটার নির্ধারণ করায় প্রায় ৪৯ হাজার বুথ এবং দেড় লাখ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার প্রয়োজনীয়তা কমেছে। নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ প্রশিক্ষকদের ইতিবাচক অর্থে ‘দাদাগিরি’ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘এমনভাবে প্রশিক্ষণ দিতে হবে যেন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রশিক্ষকদের নির্দেশনা ছাড়া আর কিছু ভাবতে না পারেন।’
ইটিআই মহাপরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান জানান, আগামী চার মাসে ১০ লাখের বেশি ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।