সীতাকুন্ড (চট্টগ্রাম) : ভাঙা জাহাজের মালামালের সাথে আসছে বিখ্যাত চিত্রশিল্পীদের চিত্রকর্ম -সংবাদ
চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের মাদামবিবির হাট এলাকায় মহাসড়কের দুই পাশে পুরোনো জাহাজ থেকে সংগ্রহ করে আনা আসবাব, ইলেকট্রনিক পণ্য, সিঁড়ি, দড়িসহ নানা জিনিসের সারি সারি দোকান। ওই এলাকায় ইউটার্নের কাছে সড়কের পূর্ব পাশে একটা দ্বিতল দোকান। প্রথম দেখায় বিশেষত্ব বোঝার উপায় নেই। বাইরে থেকে একঝলক দেখে মনে হবে, এটিও জাহাজের নানা ব্যবহৃত জিনিসে ঠাসা বাকি দোকানগুলোর মতোই। কিন্তু সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতেই বিস্ময়ের ধাক্কা লাগবে। দেয়ালে দেয়ালে ঝুলছে সারি সারি চিত্রকর্ম।
কাছে যেতেই চোখ কপালে ওঠার দশা। অস্ট্রিয়ার শিল্পী গুস্তাভ ক্লিমন্ট, ফরাসি শিল্পী অঁরি মাতিস আর ক্লদ মনেঁর মতো বিখ্যাত শিল্পীদের চিত্রকর্ম শোভা পাচ্ছে সেখানে। দেখে বোঝার উপায় নেই সেগুলো প্রিন্ট বা কপি করা। সুদৃশ্য ফ্রেমিং আর নিখুঁত ছাপার কারণে মনে হবে আসল। তবে বিখ্যাত শিল্পীদের কপি করা কাজের পাশাপাশি সেখানে দেখা গেল পাশ্চাত্যের অখ্যাত শিল্পীদের ছাপচিত্র, লিথোগ্রাফি, স্ক্রলসহ নানা ধরনের শিল্পকর্ম।
দেয়ালে যা ঝোলানো ছিল, তার চেয়ে বেশি স্তুপ করে রাখা। দোকানির কাছ থেকে জানা গেল, এসব শিল্পকর্মের দাম পাঁচশ থেকে হাজারের মধ্যেই। তবে কিছু কিছু শিল্পকর্মের দাম পাঁচ হাজার টাকার মতো। কেবল চিত্রকর্ম আর স্ক্রল চিত্র নয়, জাহাজ থেকে সংগ্রহ করা আলোকচিত্রও বিক্রি হয় সেখানে।
মাদামবিবিরহাট বাজারে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পশ্চিম পাশে খোরশেদ আলম এন্টারপ্রাইজ নামক দোকানে বিভিন্ন রাসায়নিক ও ইলেকট্রনিক সামগ্রীর সঙ্গে চিত্রকর্মের সামগ্রী স্তুপ করে রাখা হয়েছে। বিক্রেতাও এসব শিল্পকর্মকে সাধারণ শৌখিন সামগ্রীর চেয়ে বেশি কিছু ভাবেন না। ইলেকট্রনিক কিংবা নিরাপত্তা সামগ্রী কিনতে আসা ক্রেতারাই এসব শিল্পকর্মও কিনে নিয়ে যান। মাদামবিবিরহাটে মরিয়ম ট্র্রেডার্স নামের আরও একটি দোকানে বিক্রি হচ্ছিল এমন শিল্পকর্ম। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, এমন অনেক দোকানে জাহাজ থেকে সংগ্রহ করা শিল্পকর্ম পাওয়া যায়। বিভিন্ন দোকানের বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদেশের বড় জাহাজগুলোর অন্দরসজ্জার (ইন্টেরিয়র) জন্য সে দেশের বড় শিল্পীদের কপি করা চিত্রকর্ম ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি বিখ্যাত নন এমন শিল্পীদেরও জলরং, স্ক্রল চিত্র আর ফটোগ্রাফও রাখা হয় জাহাজে।
জাহাজ ভাঙার ইয়ার্ডে আনা জাহাজ থেকে এসব শিল্পসামগ্রী নিলামে কিনে নেন ব্যবসায়ীরা। এরপর খুচরায় বিক্রি হয় নানা ধরনের জাহাজের পুরোনো সামগ্রীর সঙ্গে। দোকানগুলোতে কপি করা কাজের পাশাপাশি ফাইবারের তৈরি ত্রিমাত্রিক রিলিফ, লিথোগ্রাফি, ক্যানভাসে আঁকা রংতুলির চিত্রকর্মও দেখা গেল।
এসব শিল্পকর্মের কেমন মূল্য জানতে চাইলে বিক্রেতারা জানান, প্রতিটি চিত্রকর্ম বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে। যেসব চিত্রকর্ম শিল্পীর হাতে আঁকা, সেসবের দাম কিছুটা বেশি। এ ছাড়া কপি করা কাজের দাম নির্ধারণ হয় ফ্রেমের ওপর। ফ্রেম আর বাঁধাই যত ভালো, ছবির দামও তত বেশি। ফটোগ্রাফির দামও এভাবেই নির্ধারণ করা হয়। শৌখিন মানুষ, শিল্পপ্রেমী, সংগ্রাহকদের পাশাপাশি বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁ আর বাড়িঘরের অন্দরসজ্জার জন্য এসব চিত্রকর্ম কিনে নিয়ে যান ক্রেতারা।
মরিয়ম ট্রের্ডাসের মালিক মোহাম্মদ জয়নাল বলেন, পুরোনো জাহাজ থেকে তাঁরা অন্তত ৩০ ধরনের পণ্য নিলামে কিনে নেন। বিশেষ করে বিভিন্ন কারখানার সেফটি আইটেম বেশি কেনেন তারা। সেই সঙ্গে চিত্রকর্মও ওজন দরে ক্রয় করেন। মূলত হোটেল-মোটেল আর নতুন বাড়ির অন্দরসজ্জার জন্য এসব শিল্পকর্মের চাহিদা আছে। জয়নাল আরও বলেন, বিভিন্ন ফ্রেমের চিত্রকর্মের দাম বিভিন্ন রকম। কোনো ফ্রেম যদি দামি হয়, তখন চিত্রকর্মের দামও বেশি হয়।
শিল্পকর্ম কিনতে যাওয়া আবুল কাশেম বলেন, দূর থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই এগুলো কপি করা। শিল্পীদের সিগনেচার, আর্টিস্ট প্রুফ নম্বর সবই আছে। প্রিন্ট এবং বাঁধাইয়ের মান খুবই ভালো। এছাড়া বেশ কিছু জলরং, রিলিফ ও স্ক্রল চিত্র আছে শিল্পীর আঁকা প্রকৃত চিত্রকর্ম। শৌখিন মানুষ ও সংগ্রাহকেরা এখানে এলে মূল্যবান অনেক কিছুই পাবেন।
সীতাকুন্ড (চট্টগ্রাম) : ভাঙা জাহাজের মালামালের সাথে আসছে বিখ্যাত চিত্রশিল্পীদের চিত্রকর্ম -সংবাদ
শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫
চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের মাদামবিবির হাট এলাকায় মহাসড়কের দুই পাশে পুরোনো জাহাজ থেকে সংগ্রহ করে আনা আসবাব, ইলেকট্রনিক পণ্য, সিঁড়ি, দড়িসহ নানা জিনিসের সারি সারি দোকান। ওই এলাকায় ইউটার্নের কাছে সড়কের পূর্ব পাশে একটা দ্বিতল দোকান। প্রথম দেখায় বিশেষত্ব বোঝার উপায় নেই। বাইরে থেকে একঝলক দেখে মনে হবে, এটিও জাহাজের নানা ব্যবহৃত জিনিসে ঠাসা বাকি দোকানগুলোর মতোই। কিন্তু সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতেই বিস্ময়ের ধাক্কা লাগবে। দেয়ালে দেয়ালে ঝুলছে সারি সারি চিত্রকর্ম।
কাছে যেতেই চোখ কপালে ওঠার দশা। অস্ট্রিয়ার শিল্পী গুস্তাভ ক্লিমন্ট, ফরাসি শিল্পী অঁরি মাতিস আর ক্লদ মনেঁর মতো বিখ্যাত শিল্পীদের চিত্রকর্ম শোভা পাচ্ছে সেখানে। দেখে বোঝার উপায় নেই সেগুলো প্রিন্ট বা কপি করা। সুদৃশ্য ফ্রেমিং আর নিখুঁত ছাপার কারণে মনে হবে আসল। তবে বিখ্যাত শিল্পীদের কপি করা কাজের পাশাপাশি সেখানে দেখা গেল পাশ্চাত্যের অখ্যাত শিল্পীদের ছাপচিত্র, লিথোগ্রাফি, স্ক্রলসহ নানা ধরনের শিল্পকর্ম।
দেয়ালে যা ঝোলানো ছিল, তার চেয়ে বেশি স্তুপ করে রাখা। দোকানির কাছ থেকে জানা গেল, এসব শিল্পকর্মের দাম পাঁচশ থেকে হাজারের মধ্যেই। তবে কিছু কিছু শিল্পকর্মের দাম পাঁচ হাজার টাকার মতো। কেবল চিত্রকর্ম আর স্ক্রল চিত্র নয়, জাহাজ থেকে সংগ্রহ করা আলোকচিত্রও বিক্রি হয় সেখানে।
মাদামবিবিরহাট বাজারে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পশ্চিম পাশে খোরশেদ আলম এন্টারপ্রাইজ নামক দোকানে বিভিন্ন রাসায়নিক ও ইলেকট্রনিক সামগ্রীর সঙ্গে চিত্রকর্মের সামগ্রী স্তুপ করে রাখা হয়েছে। বিক্রেতাও এসব শিল্পকর্মকে সাধারণ শৌখিন সামগ্রীর চেয়ে বেশি কিছু ভাবেন না। ইলেকট্রনিক কিংবা নিরাপত্তা সামগ্রী কিনতে আসা ক্রেতারাই এসব শিল্পকর্মও কিনে নিয়ে যান। মাদামবিবিরহাটে মরিয়ম ট্র্রেডার্স নামের আরও একটি দোকানে বিক্রি হচ্ছিল এমন শিল্পকর্ম। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, এমন অনেক দোকানে জাহাজ থেকে সংগ্রহ করা শিল্পকর্ম পাওয়া যায়। বিভিন্ন দোকানের বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদেশের বড় জাহাজগুলোর অন্দরসজ্জার (ইন্টেরিয়র) জন্য সে দেশের বড় শিল্পীদের কপি করা চিত্রকর্ম ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি বিখ্যাত নন এমন শিল্পীদেরও জলরং, স্ক্রল চিত্র আর ফটোগ্রাফও রাখা হয় জাহাজে।
জাহাজ ভাঙার ইয়ার্ডে আনা জাহাজ থেকে এসব শিল্পসামগ্রী নিলামে কিনে নেন ব্যবসায়ীরা। এরপর খুচরায় বিক্রি হয় নানা ধরনের জাহাজের পুরোনো সামগ্রীর সঙ্গে। দোকানগুলোতে কপি করা কাজের পাশাপাশি ফাইবারের তৈরি ত্রিমাত্রিক রিলিফ, লিথোগ্রাফি, ক্যানভাসে আঁকা রংতুলির চিত্রকর্মও দেখা গেল।
এসব শিল্পকর্মের কেমন মূল্য জানতে চাইলে বিক্রেতারা জানান, প্রতিটি চিত্রকর্ম বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে। যেসব চিত্রকর্ম শিল্পীর হাতে আঁকা, সেসবের দাম কিছুটা বেশি। এ ছাড়া কপি করা কাজের দাম নির্ধারণ হয় ফ্রেমের ওপর। ফ্রেম আর বাঁধাই যত ভালো, ছবির দামও তত বেশি। ফটোগ্রাফির দামও এভাবেই নির্ধারণ করা হয়। শৌখিন মানুষ, শিল্পপ্রেমী, সংগ্রাহকদের পাশাপাশি বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁ আর বাড়িঘরের অন্দরসজ্জার জন্য এসব চিত্রকর্ম কিনে নিয়ে যান ক্রেতারা।
মরিয়ম ট্রের্ডাসের মালিক মোহাম্মদ জয়নাল বলেন, পুরোনো জাহাজ থেকে তাঁরা অন্তত ৩০ ধরনের পণ্য নিলামে কিনে নেন। বিশেষ করে বিভিন্ন কারখানার সেফটি আইটেম বেশি কেনেন তারা। সেই সঙ্গে চিত্রকর্মও ওজন দরে ক্রয় করেন। মূলত হোটেল-মোটেল আর নতুন বাড়ির অন্দরসজ্জার জন্য এসব শিল্পকর্মের চাহিদা আছে। জয়নাল আরও বলেন, বিভিন্ন ফ্রেমের চিত্রকর্মের দাম বিভিন্ন রকম। কোনো ফ্রেম যদি দামি হয়, তখন চিত্রকর্মের দামও বেশি হয়।
শিল্পকর্ম কিনতে যাওয়া আবুল কাশেম বলেন, দূর থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই এগুলো কপি করা। শিল্পীদের সিগনেচার, আর্টিস্ট প্রুফ নম্বর সবই আছে। প্রিন্ট এবং বাঁধাইয়ের মান খুবই ভালো। এছাড়া বেশ কিছু জলরং, রিলিফ ও স্ক্রল চিত্র আছে শিল্পীর আঁকা প্রকৃত চিত্রকর্ম। শৌখিন মানুষ ও সংগ্রাহকেরা এখানে এলে মূল্যবান অনেক কিছুই পাবেন।