বদরগঞ্জ (রংপুর) : খামারের ভাঙা আবাসন প্রকল্পের জরাজীর্ণ ঘর -সংবাদ
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের খামারের ডাঙ্গা আবাসন প্রকল্পে সুবিধা বঞ্চিত বাসিন্দারা চরম মানবেতর জীবন যাপন করছেন। জীবন বাঁচাতে ইতোমধ্যে ব্যারাক ছেড়েছেন অর্ধেক বাসিন্দা। বাকী অর্ধেক বাসিন্দা আছেন জরাজীর্ণ ঘরে পলিথিন মুড়িয়ে।
জানা যায়, ২০০০ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের আমলে উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ওসমানপুর এলাকার খামারের ডাঙ্গায় একটি আবাসন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। সেখানে সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে ২০টি ব্যারাক নির্মাণ করা হয়। প্রত্যেকটি ব্যারাকে ১০টি পরিবারের জন্য টিনশেডের ঘর নির্মাণ করা হয়। সে অনুযায়ী ২০টি ব্যারাকে ২শ’ পরিবারের বসবাস উপযোগী ঘর নির্মাণ করার পর উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বদরগঞ্জ উপজেলায় এটিই একমাত্র আবাসন প্রকল্প। এরপর উপজেলা প্রশাসন ১০ ইউনিয়ন থেকে ২শ’ হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষকে বাছাই শেষে সেখানে বসবাসের সুযোগ করে দেয়। শুরুতে প্রশাসনের কর্মকর্তারা বাসিন্দাদের জন্য নানা সুবিধা দিলেও আস্তে আস্তে তা কমতে কমতে শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। এমনকি টিনে মরিচা ধরে জরাজীর্ণ হয়ে ঘরগুলো বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ঘর সংস্কারের জন্য বাসিন্দারা বছরের পর বছর নানা আবেদন নিবেদন করলেও কোন কাজ হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে কেউ কেউ বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে নিজেরাই ঘরের টিন পরিবর্তন করেছেন। আর যাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি তাদের বেশিরভাগই পলিথিন মুড়িয়ে চরম মানবেতর জীবন যাপন করছেন। আবার অনেকেই স্ত্রী-সন্তান নিয়ে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছেন। ফলে ২০০ পরিবারের মধ্যে মাত্র ১০০ পরিবার সেখানে এখনো টিকে আছেন।
সরেজমিন আবাসন প্রকল্প পরিদর্শণকালে কথা হয় ৫নং ব্যারাকের ৫নং ঘরে বসবাসকারী বেলি বেগমের সাথে। তিনি বলেন, স্বামী রবিউল ইসলাম অ্যাজমায় আক্রান্ত। ছেলেমেয়ের বিয়ে হওয়ায় তারা অন্যত্র বসবাস করছে। তাই জীবন বাঁচাতে কৃষি শ্রমিকের কাজ করে যা পাই তা দিয়ে স্বামীর ওষুধপথ্যের পাশাপাশি পেটে ভাত দেই। কিন্তু বৃষ্টি হলে কষ্টের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। কারণ টিনের চালা ফুটো হওয়ায় অনবরত পানি ঝরতে থাকে। এ অবস্থায় পলিথিন মুড়িয়ে থাকতে হয়।
৩নং ব্যারাকের ৪নং ঘরের বাসিন্দা নূর মোহাম্মদের স্ত্রী মজিদা বেগম স্থানীয় ভাষায় বলেন, কাম করি পেটের ভাতে জোগাড় করা যায়না টিন দেমো ক্যাংকা করি। কিন্তুক ছইলের ঘরে তোকনে এনজিও থাকি টাকা নিয়া টিন বদলেবার বাধ্য হচি। একই কথা বলেন ৪নং ব্যারাকের ১নং ঘরের বাসিন্দা মনিরা খাতুন। তবে তিনি এটাও বলেন, হামরা সরকারি সউগ সুবিধা থাকি বঞ্চিত। ১৫ নং ব্যারাকের ১০নং ঘরের বাসিন্দা মাহফুজ আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হামাক একখ্যান কার্ড কাঁয়ো দেয়না।
সেই তোকনে ৪নং ব্যারাকের ২নং ঘরের বাসিন্দা সেকেন্দার বউ-ছইল নিয়্যা যে কোনটে গেইচে কেউ কবার পারেনা। ১৬ নং ব্যারাকের ৪নং ঘরের বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, সরকার থাকি খালি ঘর পাইনো আর কিচ্ছু পাইনোনা। ১৬ নং ব্যারাকের ২নং ঘরের বাসিন্দা ভ্যানচালক আরিফ বলেন, ভ্যানের ব্যাটারি নস্ট হওয়ায় ঠেলতে হচ্ছে। তাই একবেলা ভ্যান ঠেলে যা পাই তা দিয়ে সংসার চলছে। ১৯ নং ব্যারাকের ৪নং ঘরের বাসিন্দা শারীরীক প্রতিবন্ধী সাহারা বানু বলেন, প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে বিয়েশাদী হয়নি। বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই।
প্রতিবন্ধী ভাতার অর্থ দিয়ে কোনরকমে খেয়ে বেঁচে আছি। কিন্তু ঘরে আর থাকতে পারছিনা। আমার যাওয়ার মত কোন জায়গাও নেই। খামারের ডাঙ্গা আবাসন প্রকল্প সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আইনুল হক বলেন, ঘর সংস্কারের জন্য কয়েক বছর ধরে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অফিসে ঘুরছি। কিন্তু কোন কাজ হয়নি। সর্বশেষ আমি কর্মকর্তাদের কাছে অনুরোধ করে বলেছি আপনার আসুন, দেখে যান-আমরা কেমন আছি। তারা শুধু বলেছেন-যাব। কিন্তু আজো কেউ আসেননি। সভাপতি আজমল হোসেন স্থানীয় ভাষায় বলেন, কোন জাগাত কোন কতায় খাটোচেনা। চেয়ারম্যান-মেম্বারের গোড়োত গেইলে ধমক দিয়্যা খ্যাদে দেয়।
এব্যাপারে জানতে চাইলে বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, খামারের ডাঙ্গা আবাসন প্রকল্প আমার ওয়ার্ডেই অবস্থিত। সেখানে দুইশ পরিবারের বসবাস। আমি ওয়ার্ডভিত্তিক ভিজিডি কার্ডের বরাদ্দ পাই মাত্র ২০টি।
আমার ওয়ার্ডে পাড়ার সংখ্যাই হল ২০টি। তাহলে আমি সেখানে বরাদ্দ দেব কিভাবে। একই অবস্থা ভিজিএফ’র ক্ষেত্রেও। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিভাগীয় কমিশনারসহ প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা অনেকবার আবাসন প্রকল্প পরিদর্শণ করেছেন। কিন্তু কোন কাজ হয়নি।
এবিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। কর্মচারিরা শুধু জানিয়েছেন তিনি বাইরে গেছেন। তবে তিনি কখন ফিরবেন তা’ জানাতে পারেননি। পরে তার সেলফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনকল রিসিভ না করায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বদরগঞ্জ (রংপুর) : খামারের ভাঙা আবাসন প্রকল্পের জরাজীর্ণ ঘর -সংবাদ
শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের খামারের ডাঙ্গা আবাসন প্রকল্পে সুবিধা বঞ্চিত বাসিন্দারা চরম মানবেতর জীবন যাপন করছেন। জীবন বাঁচাতে ইতোমধ্যে ব্যারাক ছেড়েছেন অর্ধেক বাসিন্দা। বাকী অর্ধেক বাসিন্দা আছেন জরাজীর্ণ ঘরে পলিথিন মুড়িয়ে।
জানা যায়, ২০০০ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের আমলে উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ওসমানপুর এলাকার খামারের ডাঙ্গায় একটি আবাসন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। সেখানে সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে ২০টি ব্যারাক নির্মাণ করা হয়। প্রত্যেকটি ব্যারাকে ১০টি পরিবারের জন্য টিনশেডের ঘর নির্মাণ করা হয়। সে অনুযায়ী ২০টি ব্যারাকে ২শ’ পরিবারের বসবাস উপযোগী ঘর নির্মাণ করার পর উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বদরগঞ্জ উপজেলায় এটিই একমাত্র আবাসন প্রকল্প। এরপর উপজেলা প্রশাসন ১০ ইউনিয়ন থেকে ২শ’ হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষকে বাছাই শেষে সেখানে বসবাসের সুযোগ করে দেয়। শুরুতে প্রশাসনের কর্মকর্তারা বাসিন্দাদের জন্য নানা সুবিধা দিলেও আস্তে আস্তে তা কমতে কমতে শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। এমনকি টিনে মরিচা ধরে জরাজীর্ণ হয়ে ঘরগুলো বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ঘর সংস্কারের জন্য বাসিন্দারা বছরের পর বছর নানা আবেদন নিবেদন করলেও কোন কাজ হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে কেউ কেউ বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে নিজেরাই ঘরের টিন পরিবর্তন করেছেন। আর যাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি তাদের বেশিরভাগই পলিথিন মুড়িয়ে চরম মানবেতর জীবন যাপন করছেন। আবার অনেকেই স্ত্রী-সন্তান নিয়ে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছেন। ফলে ২০০ পরিবারের মধ্যে মাত্র ১০০ পরিবার সেখানে এখনো টিকে আছেন।
সরেজমিন আবাসন প্রকল্প পরিদর্শণকালে কথা হয় ৫নং ব্যারাকের ৫নং ঘরে বসবাসকারী বেলি বেগমের সাথে। তিনি বলেন, স্বামী রবিউল ইসলাম অ্যাজমায় আক্রান্ত। ছেলেমেয়ের বিয়ে হওয়ায় তারা অন্যত্র বসবাস করছে। তাই জীবন বাঁচাতে কৃষি শ্রমিকের কাজ করে যা পাই তা দিয়ে স্বামীর ওষুধপথ্যের পাশাপাশি পেটে ভাত দেই। কিন্তু বৃষ্টি হলে কষ্টের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। কারণ টিনের চালা ফুটো হওয়ায় অনবরত পানি ঝরতে থাকে। এ অবস্থায় পলিথিন মুড়িয়ে থাকতে হয়।
৩নং ব্যারাকের ৪নং ঘরের বাসিন্দা নূর মোহাম্মদের স্ত্রী মজিদা বেগম স্থানীয় ভাষায় বলেন, কাম করি পেটের ভাতে জোগাড় করা যায়না টিন দেমো ক্যাংকা করি। কিন্তুক ছইলের ঘরে তোকনে এনজিও থাকি টাকা নিয়া টিন বদলেবার বাধ্য হচি। একই কথা বলেন ৪নং ব্যারাকের ১নং ঘরের বাসিন্দা মনিরা খাতুন। তবে তিনি এটাও বলেন, হামরা সরকারি সউগ সুবিধা থাকি বঞ্চিত। ১৫ নং ব্যারাকের ১০নং ঘরের বাসিন্দা মাহফুজ আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হামাক একখ্যান কার্ড কাঁয়ো দেয়না।
সেই তোকনে ৪নং ব্যারাকের ২নং ঘরের বাসিন্দা সেকেন্দার বউ-ছইল নিয়্যা যে কোনটে গেইচে কেউ কবার পারেনা। ১৬ নং ব্যারাকের ৪নং ঘরের বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, সরকার থাকি খালি ঘর পাইনো আর কিচ্ছু পাইনোনা। ১৬ নং ব্যারাকের ২নং ঘরের বাসিন্দা ভ্যানচালক আরিফ বলেন, ভ্যানের ব্যাটারি নস্ট হওয়ায় ঠেলতে হচ্ছে। তাই একবেলা ভ্যান ঠেলে যা পাই তা দিয়ে সংসার চলছে। ১৯ নং ব্যারাকের ৪নং ঘরের বাসিন্দা শারীরীক প্রতিবন্ধী সাহারা বানু বলেন, প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে বিয়েশাদী হয়নি। বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই।
প্রতিবন্ধী ভাতার অর্থ দিয়ে কোনরকমে খেয়ে বেঁচে আছি। কিন্তু ঘরে আর থাকতে পারছিনা। আমার যাওয়ার মত কোন জায়গাও নেই। খামারের ডাঙ্গা আবাসন প্রকল্প সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আইনুল হক বলেন, ঘর সংস্কারের জন্য কয়েক বছর ধরে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অফিসে ঘুরছি। কিন্তু কোন কাজ হয়নি। সর্বশেষ আমি কর্মকর্তাদের কাছে অনুরোধ করে বলেছি আপনার আসুন, দেখে যান-আমরা কেমন আছি। তারা শুধু বলেছেন-যাব। কিন্তু আজো কেউ আসেননি। সভাপতি আজমল হোসেন স্থানীয় ভাষায় বলেন, কোন জাগাত কোন কতায় খাটোচেনা। চেয়ারম্যান-মেম্বারের গোড়োত গেইলে ধমক দিয়্যা খ্যাদে দেয়।
এব্যাপারে জানতে চাইলে বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, খামারের ডাঙ্গা আবাসন প্রকল্প আমার ওয়ার্ডেই অবস্থিত। সেখানে দুইশ পরিবারের বসবাস। আমি ওয়ার্ডভিত্তিক ভিজিডি কার্ডের বরাদ্দ পাই মাত্র ২০টি।
আমার ওয়ার্ডে পাড়ার সংখ্যাই হল ২০টি। তাহলে আমি সেখানে বরাদ্দ দেব কিভাবে। একই অবস্থা ভিজিএফ’র ক্ষেত্রেও। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিভাগীয় কমিশনারসহ প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা অনেকবার আবাসন প্রকল্প পরিদর্শণ করেছেন। কিন্তু কোন কাজ হয়নি।
এবিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। কর্মচারিরা শুধু জানিয়েছেন তিনি বাইরে গেছেন। তবে তিনি কখন ফিরবেন তা’ জানাতে পারেননি। পরে তার সেলফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনকল রিসিভ না করায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।