কিশোরগঞ্জ : মিঠামইনে চলছে সড়ক নির্মাণের কাজ -সংবাদ
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে মুক্তিযোদ্ধার ভূমিতে পাকা রাস্তা নিমার্ণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী শহীদ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এ ব্যাপারে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেও ভূমি রক্ষা করতে পারছেন না। অভিযুক্ত নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের সাথে যোগাযোগ করতে অফিসে গিয়েও পাওয়া যায়নি। তবে মোবাইল ফোনে তিনি জানান, রাস্তাটি তিনি করছেন না। রাস্তাটি করছে এলজিইডি। কোনো অভিযোগ থাকলে ভুক্তভোগী এলজিইডিতে যেতে পারেন। এখানে ইউএনওর কোনো ভূমিকা নেই বলে তিনি জানান।
আদালত, ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার হাওর উপজেলা মিঠামইনের সদর ইউনিয়নের একাত্তরে শহীদ মামুদ আলীর ছেলে বীরমুক্তিযোদ্ধা ফরিদ উদ্দিন আহমেদ মিঠামইন মৌজার আর এস খতিয়ান নাম্বার ৬৯২, দাগ নাম্বার ৮৫৩ ও ৮৫৭, পরিমাণ ৫৫ শতাংশ ভূমি খরিদা সূত্রে এবং দেওয়ানী আদালতের ঘোষিত ডিক্রিমূলে দখলদার হিসেবে বহুবছর ধরে আছেন। মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ উদ্দিন আহমেদের ৫৫ শতাংশ ভূমি থেকে ২৪ শতাংশ ভূমি সরকার অধিগ্রহণ করে সেখানে উপজেলা অডিটরিয়াম নির্মাণ করা হয়েছে।
এরপর মিঠামইন উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে উপজেলা পরিষদ হয়ে মৌলভীপাড়া পর্যন্ত একটি পাকা রাস্তা নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত হয়। এতে মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ উদ্দিন আহমেদের ভূমির অনেকটাই রাস্তায় পড়ে যায়। এ অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ উদ্দিন আহমেদ গত ৬ মে ২০২৫ইং তারিখে মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে সার্ভেয়ার দিয়ে পরিমাপ করে রাস্তা নির্মাণ কাজ শুরু করার জন্য লিখিতভাবে অনুরোধ করেন। ওই সময় নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ উদ্দিন আহমেদের জায়গা মাপঝোক করে তারপর কাজ করার কথা দিলেও তিনি তার কথা রাখেননি। বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ উদ্দিন আহমেদের ভূমি দিয়ে পাকা রাস্তা নিমার্ণ কাজ চলছে।
মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এ প্রতিবেদককে জানান, ৫৫ শতাংশ জায়গার মালিক হয়েছি দেওয়ানী আদালতের ঘোষিত ডিক্রীমূলে। এছাড়াও কিশোরগঞ্জের যুগ্ম জেলা জজ ২নং আদালতে মোকাদ্দমা চলমান আছে। মোকাদ্দমা নাম্বার ৮২/২০১১। এর আগে অন্য মোকাদ্দমায় ২০/৪/২০০৬ ইং সালে সিনিয়র সহকারী জজ শামসুল আলম অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ জারি করেন। আদেশে বলা হয়, বিবাদী পক্ষ আগামী শুনানী না হওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ উপজেলা প্রশাসন যেন বাদীর ভূমিতে অন্যায়ভাবে প্রবেশ করতে না পারে তৎ মর্মে বিবাদীদের বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। অথচ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে আমার জায়াগা দিয়ে সরকারি রাস্তা করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের কার্যালয়ে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পিয়নের মাধ্যমে খবর পাঠানে তিনি অসুস্থ বলে আসতে পারবেন না বলে জানান। তবে মোবাইল ফোনে তিনি জানান, রাস্তাটি তিনি করছেন না। রাস্তাটি করছে এলজিইডি। কোনো অভিযোগ থাকলে ভুক্তভোগী এলজিইডিতে যেতে পারেন। এখানে ইউএনওর কোনো ভুমিকা নেই। শুধু শুধু ইউএনওকে দোষারোপ করা উচিত হয়নি বলে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান।
উপজেলা ভূমি অফিসার (এসিল্যান্ড) রুহুল আমিন শরীফের সাথে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউ এনও) আমার দপ্তরকে লিখিতভাবে নির্দেশ প্রদান করলে সার্ভেয়ার দিয়ে মাপঝোক করা হবে। তিনি আরো বলেন, ইউএনও স্যারের সাথে আমি এ বিষয়ে কথা বলব মুক্তিযোদ্ধা যেন তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয় বলে তিনি জানান।
কিশোরগঞ্জ : মিঠামইনে চলছে সড়ক নির্মাণের কাজ -সংবাদ
শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে মুক্তিযোদ্ধার ভূমিতে পাকা রাস্তা নিমার্ণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী শহীদ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এ ব্যাপারে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেও ভূমি রক্ষা করতে পারছেন না। অভিযুক্ত নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের সাথে যোগাযোগ করতে অফিসে গিয়েও পাওয়া যায়নি। তবে মোবাইল ফোনে তিনি জানান, রাস্তাটি তিনি করছেন না। রাস্তাটি করছে এলজিইডি। কোনো অভিযোগ থাকলে ভুক্তভোগী এলজিইডিতে যেতে পারেন। এখানে ইউএনওর কোনো ভূমিকা নেই বলে তিনি জানান।
আদালত, ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার হাওর উপজেলা মিঠামইনের সদর ইউনিয়নের একাত্তরে শহীদ মামুদ আলীর ছেলে বীরমুক্তিযোদ্ধা ফরিদ উদ্দিন আহমেদ মিঠামইন মৌজার আর এস খতিয়ান নাম্বার ৬৯২, দাগ নাম্বার ৮৫৩ ও ৮৫৭, পরিমাণ ৫৫ শতাংশ ভূমি খরিদা সূত্রে এবং দেওয়ানী আদালতের ঘোষিত ডিক্রিমূলে দখলদার হিসেবে বহুবছর ধরে আছেন। মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ উদ্দিন আহমেদের ৫৫ শতাংশ ভূমি থেকে ২৪ শতাংশ ভূমি সরকার অধিগ্রহণ করে সেখানে উপজেলা অডিটরিয়াম নির্মাণ করা হয়েছে।
এরপর মিঠামইন উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে উপজেলা পরিষদ হয়ে মৌলভীপাড়া পর্যন্ত একটি পাকা রাস্তা নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত হয়। এতে মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ উদ্দিন আহমেদের ভূমির অনেকটাই রাস্তায় পড়ে যায়। এ অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ উদ্দিন আহমেদ গত ৬ মে ২০২৫ইং তারিখে মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে সার্ভেয়ার দিয়ে পরিমাপ করে রাস্তা নির্মাণ কাজ শুরু করার জন্য লিখিতভাবে অনুরোধ করেন। ওই সময় নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ উদ্দিন আহমেদের জায়গা মাপঝোক করে তারপর কাজ করার কথা দিলেও তিনি তার কথা রাখেননি। বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ উদ্দিন আহমেদের ভূমি দিয়ে পাকা রাস্তা নিমার্ণ কাজ চলছে।
মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এ প্রতিবেদককে জানান, ৫৫ শতাংশ জায়গার মালিক হয়েছি দেওয়ানী আদালতের ঘোষিত ডিক্রীমূলে। এছাড়াও কিশোরগঞ্জের যুগ্ম জেলা জজ ২নং আদালতে মোকাদ্দমা চলমান আছে। মোকাদ্দমা নাম্বার ৮২/২০১১। এর আগে অন্য মোকাদ্দমায় ২০/৪/২০০৬ ইং সালে সিনিয়র সহকারী জজ শামসুল আলম অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ জারি করেন। আদেশে বলা হয়, বিবাদী পক্ষ আগামী শুনানী না হওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ উপজেলা প্রশাসন যেন বাদীর ভূমিতে অন্যায়ভাবে প্রবেশ করতে না পারে তৎ মর্মে বিবাদীদের বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। অথচ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে আমার জায়াগা দিয়ে সরকারি রাস্তা করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের কার্যালয়ে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পিয়নের মাধ্যমে খবর পাঠানে তিনি অসুস্থ বলে আসতে পারবেন না বলে জানান। তবে মোবাইল ফোনে তিনি জানান, রাস্তাটি তিনি করছেন না। রাস্তাটি করছে এলজিইডি। কোনো অভিযোগ থাকলে ভুক্তভোগী এলজিইডিতে যেতে পারেন। এখানে ইউএনওর কোনো ভুমিকা নেই। শুধু শুধু ইউএনওকে দোষারোপ করা উচিত হয়নি বলে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান।
উপজেলা ভূমি অফিসার (এসিল্যান্ড) রুহুল আমিন শরীফের সাথে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউ এনও) আমার দপ্তরকে লিখিতভাবে নির্দেশ প্রদান করলে সার্ভেয়ার দিয়ে মাপঝোক করা হবে। তিনি আরো বলেন, ইউএনও স্যারের সাথে আমি এ বিষয়ে কথা বলব মুক্তিযোদ্ধা যেন তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয় বলে তিনি জানান।