খুলনা : শিশু পার্কের প্রবেশদ্বারে জনসভার তোড়ন -সংবাদ
খুলনা নগরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত গোলকমনি শিশুপার্ক। নামে শিশুপার্ক হলেও সেখানে শিশুদের খেলাধুলার জন্য কোনো রাইড নেই। নেই শিশুবান্ধব ন্যুনতম পরিবেশও।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুধু গোলকমনি শিশুপার্কই নয়, খুলনা সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন সাতটি পার্কের অবস্থাই প্রায় একরকম। কোনো পার্ক ব্যবহৃত হয় সামাজিক অনুষ্ঠানের ভেন্যু হিসেবে। কোনোটিতে আবার চলে রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি। কোনো কোনো পার্কে চলে মাদকসেবীদের আড্ডা।
নগরবাসী বলছেন, শিশুদের দৈহিক, মানসিক, সামাজিক বিকাশ এবং বিনোদনের জন্য খেলাধুলা ও বিনোদনের কোনও বিকল্প নেই। একটি আদর্শ নগরে শিশুদের খেলাধুলার এবং বিনোদনের ব্যবস্থা করা সিটি করপোরেশনের প্রধান দায়িত্বগুলোর একটি। এই ক্ষেত্রে অনেকটাই উদাসীন খুলনা সিটি করপোরেশন। নগরের কোনো শিশুপার্কই শিশুদের খেলাধুলা ও বিনোদনের জন্য উপযুক্ত নয়। ফলে নগরে বসবাসকারী লাখ লাখ শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ নিয়ে শিশুদের অভিভাবকরাও ক্ষুব্ধ, হতাশ।
নগরবাসী বলছেন, শিশুদের জন্য নগরে যে কয়েকটি বিনোদন পার্ক রয়েছে সেগুলোয় প্রবেশাধিকারের জন্য বড় অংকের টাকা খরচ করতে হয়। ফলে সাধারণ ও নিম্নবিত্ত পরিবারের শিশুরা এ সুবিধাগুলো উপভোগ করতে পারে না।
খুলনা সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির অধীনে নগরে সাতটি পার্ক রয়েছে। এগুলো হলো- নিরালা পার্ক, সোনাডাঙ্গা সোলার পার্ক, গল্লামারী লিনিয়ার পার্ক, শহীদ হাদিস পার্ক, খালিশপুর শিশুপার্ক, জাতিসংঘ শিশুপার্ক এবং গোলকমনি শিশুপার্ক।
পার্কগুলো পরিদর্শন ও খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, এই সাতটি পার্কের মধ্যে গোলকমনি শিশুপার্ক কেবল নামেই। এখানে রাইড বা শিশুবান্ধব বিনোদনের কোনো পরিবেশ নেই। পার্কটি মাঝেমধ্যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এসব পার্কে আবার চা, পান-সিগারেট ও খাবারের দোকান বসানোয় জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত সোলার পার্কেও উপযুক্ত শিশু পরিবেশের অভাব রয়েছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে মানুষ এখানে চান না। সন্ধ্যা নামলেই পার্কটি মাদকসেবীদের আড্ডায় পরিণত হয়, এমনকি প্রকাশ্যে চলে মাদক সেবন।
নগর ভবনের সামনে অবস্থিত শহীদ হাদিস পার্কে বেশিরভাগ সময় রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়, ফলে সেখানেও শিশুদের খেলাধুলার সুযোগ বা পরিবেশ কম। নিরালা পার্কে চারটি দোলনা থাকলেও তা ভাঙাচোরা। এ পার্কটির বেশিরভাগ অংশে সীমানাপ্রাচীর নেই। গল্লামারী লিনিয়ার পার্ক ও খালিশপুর শিশুপার্ক ইজারা দেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রবেশমূল্য থেকে রাইড ফি সবই নিম্নবিত্তের সাধ্যের বাইরে।
খুলনা সরকারি সুন্দরবন কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও মনোবিজ্ঞানী প্রকাশ চন্দ্র অধিকারী বলেন, শহরের শিশুদের জীবনযাত্রা বাসা-বাড়িকেন্দ্রিক। তাই শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলা ও বিনোদনের গুরুত্ব অপরিসীম। খেলাধুলা ও বিনোদন শিশুদের চিন্তাভাবনা, নেতৃত্ব, ভাবের আদান-প্রদান ও মেলামেশার গুণাবলি গড়ে তোলে, যা তাদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে সহায়তা করে। এছাড়া খেলাধুলায় মনোযোগী শিশুরা মোবাইল আসক্তি ও সামাজিক অসৎ কাজ থেকে দূরে থাকে। কিন্তু নগরের পার্কগুলোর দৈন্যদশার কারণে শিশুদের এই বিকাশের সুযোগ সীমিত, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উদ্বেগজনক।
খুলনা শিশু হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য উপযুক্ত পরিবেশের বিকল্প নেই। পার্কগুলোতে দোলনা, রাইড স্থাপন ও নিরাপত্তা বৃদ্ধির মাধ্যমে শিশুদের সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির-উল-জব্বার বলেন, পার্কগুলোকে শিশুবান্ধব ও উন্নত করতে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে রাইডসহ সব চাহিদা পূরণ হবে।
খুলনা : শিশু পার্কের প্রবেশদ্বারে জনসভার তোড়ন -সংবাদ
শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫
খুলনা নগরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত গোলকমনি শিশুপার্ক। নামে শিশুপার্ক হলেও সেখানে শিশুদের খেলাধুলার জন্য কোনো রাইড নেই। নেই শিশুবান্ধব ন্যুনতম পরিবেশও।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুধু গোলকমনি শিশুপার্কই নয়, খুলনা সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন সাতটি পার্কের অবস্থাই প্রায় একরকম। কোনো পার্ক ব্যবহৃত হয় সামাজিক অনুষ্ঠানের ভেন্যু হিসেবে। কোনোটিতে আবার চলে রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি। কোনো কোনো পার্কে চলে মাদকসেবীদের আড্ডা।
নগরবাসী বলছেন, শিশুদের দৈহিক, মানসিক, সামাজিক বিকাশ এবং বিনোদনের জন্য খেলাধুলা ও বিনোদনের কোনও বিকল্প নেই। একটি আদর্শ নগরে শিশুদের খেলাধুলার এবং বিনোদনের ব্যবস্থা করা সিটি করপোরেশনের প্রধান দায়িত্বগুলোর একটি। এই ক্ষেত্রে অনেকটাই উদাসীন খুলনা সিটি করপোরেশন। নগরের কোনো শিশুপার্কই শিশুদের খেলাধুলা ও বিনোদনের জন্য উপযুক্ত নয়। ফলে নগরে বসবাসকারী লাখ লাখ শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ নিয়ে শিশুদের অভিভাবকরাও ক্ষুব্ধ, হতাশ।
নগরবাসী বলছেন, শিশুদের জন্য নগরে যে কয়েকটি বিনোদন পার্ক রয়েছে সেগুলোয় প্রবেশাধিকারের জন্য বড় অংকের টাকা খরচ করতে হয়। ফলে সাধারণ ও নিম্নবিত্ত পরিবারের শিশুরা এ সুবিধাগুলো উপভোগ করতে পারে না।
খুলনা সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির অধীনে নগরে সাতটি পার্ক রয়েছে। এগুলো হলো- নিরালা পার্ক, সোনাডাঙ্গা সোলার পার্ক, গল্লামারী লিনিয়ার পার্ক, শহীদ হাদিস পার্ক, খালিশপুর শিশুপার্ক, জাতিসংঘ শিশুপার্ক এবং গোলকমনি শিশুপার্ক।
পার্কগুলো পরিদর্শন ও খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, এই সাতটি পার্কের মধ্যে গোলকমনি শিশুপার্ক কেবল নামেই। এখানে রাইড বা শিশুবান্ধব বিনোদনের কোনো পরিবেশ নেই। পার্কটি মাঝেমধ্যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এসব পার্কে আবার চা, পান-সিগারেট ও খাবারের দোকান বসানোয় জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত সোলার পার্কেও উপযুক্ত শিশু পরিবেশের অভাব রয়েছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে মানুষ এখানে চান না। সন্ধ্যা নামলেই পার্কটি মাদকসেবীদের আড্ডায় পরিণত হয়, এমনকি প্রকাশ্যে চলে মাদক সেবন।
নগর ভবনের সামনে অবস্থিত শহীদ হাদিস পার্কে বেশিরভাগ সময় রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়, ফলে সেখানেও শিশুদের খেলাধুলার সুযোগ বা পরিবেশ কম। নিরালা পার্কে চারটি দোলনা থাকলেও তা ভাঙাচোরা। এ পার্কটির বেশিরভাগ অংশে সীমানাপ্রাচীর নেই। গল্লামারী লিনিয়ার পার্ক ও খালিশপুর শিশুপার্ক ইজারা দেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রবেশমূল্য থেকে রাইড ফি সবই নিম্নবিত্তের সাধ্যের বাইরে।
খুলনা সরকারি সুন্দরবন কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও মনোবিজ্ঞানী প্রকাশ চন্দ্র অধিকারী বলেন, শহরের শিশুদের জীবনযাত্রা বাসা-বাড়িকেন্দ্রিক। তাই শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলা ও বিনোদনের গুরুত্ব অপরিসীম। খেলাধুলা ও বিনোদন শিশুদের চিন্তাভাবনা, নেতৃত্ব, ভাবের আদান-প্রদান ও মেলামেশার গুণাবলি গড়ে তোলে, যা তাদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে সহায়তা করে। এছাড়া খেলাধুলায় মনোযোগী শিশুরা মোবাইল আসক্তি ও সামাজিক অসৎ কাজ থেকে দূরে থাকে। কিন্তু নগরের পার্কগুলোর দৈন্যদশার কারণে শিশুদের এই বিকাশের সুযোগ সীমিত, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উদ্বেগজনক।
খুলনা শিশু হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য উপযুক্ত পরিবেশের বিকল্প নেই। পার্কগুলোতে দোলনা, রাইড স্থাপন ও নিরাপত্তা বৃদ্ধির মাধ্যমে শিশুদের সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির-উল-জব্বার বলেন, পার্কগুলোকে শিশুবান্ধব ও উন্নত করতে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে রাইডসহ সব চাহিদা পূরণ হবে।