দূর থেকে নজরে আসা ঝুপড়ি মাথায় একপায়ে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রামের মাঠ ঘাট টেক টিলায় মনোমুগ্ধকর শোভা বর্ধণকারী প্রকৃতিবান্ধব মুল্যবান তালগাছ দিন দিন হারিয়ে যাওয়ায় যেমন মানুষের আয়ের অংশ কমে যাচ্ছে তেমনি এই প্রজন্মের মানুষের কাছে অচেনা হয়ে যাচ্ছে। বয়স্ক উঁচু তালগাছ গ্রামের মানুষকে ঝড় বৃষ্টির সময় ভয়ংকর বজ্রপাতের হাত থেকে রক্ষা করেছে। তাল গাছের শুকনো পাতা এক সময় নিম্নবিত্ত মানুষের ঘরের চাল ছাউনির কাজে ব্যবহৃত হতো। তাল পাতার হাত পাখা তৈরী করে গ্রামের হত দরিদ্র মানুষেরা জীবন জীবিকা নির্বাহ করতেন। পুরুষ তাল গাছের মাথায় এক ধরনের বাধা আসে কিন্তু তাল হয়না। ওইসব বাধা কেটে হাড়িপেতে রস সংগ্রহ করে তা বিক্রি করে টাকা উপার্জন করেন গাছী সম্প্রদায়ের লোকেরা। তালের রস থেকে তাল মিস্রি তৈরী হয় যা অনেক সময় গ্রামের মানুষ সর্দি কাশির রোগ উপসমে ঔষধ হিসেবে রোগীকে সেবন করাতেন। তাল গাছের প্রয়োজনীয়তা ও গুনাবলীর শেষ নেই। তাল কাঠ শক্ত আঁশ যুক্ত হওয়ায় এটি বহুকাল হতে গ্রামের মানুষ অধিক সময় স্থায়িত্বের জন্য ঘরের খাপ কোর ও পাইর ধন্যা হিসাবে ব্যবহার করে আসছেন। তাছারা গাছের তাল বিক্রি করে প্রতি বছর গ্রামের প্রায় গৃহস্থরা ভাল টাকা আয় করে থাকেন। প্রাপ্ত বয়স্ক একটি তাল গাছ ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে। তাল গাছে তালপাতা হতে সুতার মত মিহি আঁশ বের করে তা দিয়ে বাবুই পাখী সুনিপুন ভাবে দুই মুখ ওয়ালা ঝুলন্ত বাসা তৈরী করে একটি গাছে এক সাথে অনেকগুলে বাসায় শত শত বাবুই পাখী বসবাস করে আসছে যুগ যুগ ধরে। এখন তাল গাছ কমে যাওয়ায় বাবুই পাখীদের আবাসস্থল না থাকায় এদের বিলুপ্তি ঘটছে প্রকৃতি হতে।
গ্রামের এমন কোন পাড়া মহল্লা টেক চালা ছিলনা যেখানে অনেকটা বিশাল আকৃতির ছাতার মত দেখতে তাল গাছ অন্যান্য বৃক্ষরাজির উপরে মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে থাকতো। এক সময় গ্রামের মানুষের কাছে তাল গাছ গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাল সব মানুষের কাছেই একটি প্রিয় খাবার যা অপরিপক্ক অবস্থায় কেটে ভিতরের নরম সাস খাওয়া যায়। আবার শ্রাবণ ভাদ্র মাসে তাল পেকে গাছ থেকে মাটিতে পরা শুরু হয়। তাল পড়ার শব্দ শোনে বাড়ীর লোকজন তাল ধরার জন্য শুরু করতেন দৌড় প্রতিযোগিতা। তালের কাছে যে আগে পৌছতে পারতো সেই হতো ঝরে পরা কুড়ানো তালের মালিক। আবার মাঠে ঘাটে দুরের চালায় গাছ থেকে পরে থাকা তাল কুড়াতে গ্রামের ছেলেরা রাতের বেলা দলবেধে হারিকেন কিংবা টর্চ লাইট নিয়ে বেড়িয়ে যেতো। কুড়িয়ে আনা পাকা তাল অধিক নরম হলে বাড়ীর মা-চাচীরা তালের উপরের আবরণ ছাড়িয়ে বাঁশের চালুনে (নেট) এ ডলতে ডলতে ঘন রস পাতিলে বের করে শক্ত আটি গুলি স্তুপি করে রেখে দিতেন। হলদে রংয়ের কাঁচা তালের রস আঁখের গুড়া লালচিনি মিশিয়ে উনুনে দীর্ঘ সময় জ¦াল করার পর সুগন্ধ ছড়ানো ঘন তালের রসে পরিণত হওয়ার পর খাবারের জন্য পরিবেশন করা হতো। গ্রামের মানুষের প্রিয় খাবার ছিল আউশ ধানের শুকনো চিড়া ঘন তালের রসে মাখিয়ে খাওয়া। শ্রাবণ ভাদ্র মাস এলে গ্রামের মা-চাচীরা রাত জেগে ব্যস্ত সময় কাটাতেন নানা রকম তালের পিঠা তৈরীতে যা পরিবারের সকল সদস্যরা তৃপ্তি ভরে খেয়ে আনন্দ পেতো। তালের রস তালের পিঠা পাঠানো হতো আত্মীয় কুটুম বাড়ীতে। এখানেই শেষ নয় উঠানের এক কোনায় ফেলে রাখা আঁটি গুলো থেকে এক সময় লম্বাকৃতির অংকুর বের হলে তা কেটে ভিতরের নরম সাদা শাস বের করে তৃপ্তিসহ খাওয়া হয়। বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে তাল গাছের সংখ্যা দিন দিন কমে যাওয়ায় হাট বাজারে তাল কম উঠায় চড়া দামে তাল বিক্রি হয়।
অনেকেই পিঠা খাওয়ার জন্য বাজার থেকে ৩০ থেকে ৪০ টাকা দিয়ে একটি তাল কিনে নিয়ে যায়। সোয়াইল গ্রামের ষাটোর্ধ বৃদ্ধ করম আলী জানান তারা যখন যুবক ছিলেন তখন খেতের আইলে, পুকুর পাড়ে, বিলের পাড়ে তালে আঁটি রোপন করেছেন যা কয়েক বছরের মধ্যেই বড় বড় তাল গাছে রুপ নিয়েছে। তার ছেরে নাতি পুতিরা সে বিক্রি করে ঠাকা পেয়েছে ঠিকই কিন্ত একটি গাছও তারা লাগায় নাই। এ অবস্থা গ্রামের সব খানেই কেউ তাল গাছ লাগাতে চায়না যে কারনে এখন আর সাড়ি সাড়ি তাল গাছ চোখে পরেনা। তিনি জানান অনেক গুনের অধিকারী মানুষের খুবই প্রয়োজনীয় তাল গাছ রোপনে সকলকে আগ্রহী হতে হবে। মাত্র ৫ টি করে তালের আঁটি যদি গ্রামের প্রতি বাড়ীর একজন করে রোপন করে তাহলে ১০০ লোকের দ্বারা একটি গ্রামে ৫০০ তাল গাছ জন্ম নিবে। আর এর ফলে ওই গ্রাম ও আশ পাশের গ্রামের মানুষেরা তাল গাছের বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করতে সক্ষম হবে।
শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫
দূর থেকে নজরে আসা ঝুপড়ি মাথায় একপায়ে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রামের মাঠ ঘাট টেক টিলায় মনোমুগ্ধকর শোভা বর্ধণকারী প্রকৃতিবান্ধব মুল্যবান তালগাছ দিন দিন হারিয়ে যাওয়ায় যেমন মানুষের আয়ের অংশ কমে যাচ্ছে তেমনি এই প্রজন্মের মানুষের কাছে অচেনা হয়ে যাচ্ছে। বয়স্ক উঁচু তালগাছ গ্রামের মানুষকে ঝড় বৃষ্টির সময় ভয়ংকর বজ্রপাতের হাত থেকে রক্ষা করেছে। তাল গাছের শুকনো পাতা এক সময় নিম্নবিত্ত মানুষের ঘরের চাল ছাউনির কাজে ব্যবহৃত হতো। তাল পাতার হাত পাখা তৈরী করে গ্রামের হত দরিদ্র মানুষেরা জীবন জীবিকা নির্বাহ করতেন। পুরুষ তাল গাছের মাথায় এক ধরনের বাধা আসে কিন্তু তাল হয়না। ওইসব বাধা কেটে হাড়িপেতে রস সংগ্রহ করে তা বিক্রি করে টাকা উপার্জন করেন গাছী সম্প্রদায়ের লোকেরা। তালের রস থেকে তাল মিস্রি তৈরী হয় যা অনেক সময় গ্রামের মানুষ সর্দি কাশির রোগ উপসমে ঔষধ হিসেবে রোগীকে সেবন করাতেন। তাল গাছের প্রয়োজনীয়তা ও গুনাবলীর শেষ নেই। তাল কাঠ শক্ত আঁশ যুক্ত হওয়ায় এটি বহুকাল হতে গ্রামের মানুষ অধিক সময় স্থায়িত্বের জন্য ঘরের খাপ কোর ও পাইর ধন্যা হিসাবে ব্যবহার করে আসছেন। তাছারা গাছের তাল বিক্রি করে প্রতি বছর গ্রামের প্রায় গৃহস্থরা ভাল টাকা আয় করে থাকেন। প্রাপ্ত বয়স্ক একটি তাল গাছ ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে। তাল গাছে তালপাতা হতে সুতার মত মিহি আঁশ বের করে তা দিয়ে বাবুই পাখী সুনিপুন ভাবে দুই মুখ ওয়ালা ঝুলন্ত বাসা তৈরী করে একটি গাছে এক সাথে অনেকগুলে বাসায় শত শত বাবুই পাখী বসবাস করে আসছে যুগ যুগ ধরে। এখন তাল গাছ কমে যাওয়ায় বাবুই পাখীদের আবাসস্থল না থাকায় এদের বিলুপ্তি ঘটছে প্রকৃতি হতে।
গ্রামের এমন কোন পাড়া মহল্লা টেক চালা ছিলনা যেখানে অনেকটা বিশাল আকৃতির ছাতার মত দেখতে তাল গাছ অন্যান্য বৃক্ষরাজির উপরে মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে থাকতো। এক সময় গ্রামের মানুষের কাছে তাল গাছ গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাল সব মানুষের কাছেই একটি প্রিয় খাবার যা অপরিপক্ক অবস্থায় কেটে ভিতরের নরম সাস খাওয়া যায়। আবার শ্রাবণ ভাদ্র মাসে তাল পেকে গাছ থেকে মাটিতে পরা শুরু হয়। তাল পড়ার শব্দ শোনে বাড়ীর লোকজন তাল ধরার জন্য শুরু করতেন দৌড় প্রতিযোগিতা। তালের কাছে যে আগে পৌছতে পারতো সেই হতো ঝরে পরা কুড়ানো তালের মালিক। আবার মাঠে ঘাটে দুরের চালায় গাছ থেকে পরে থাকা তাল কুড়াতে গ্রামের ছেলেরা রাতের বেলা দলবেধে হারিকেন কিংবা টর্চ লাইট নিয়ে বেড়িয়ে যেতো। কুড়িয়ে আনা পাকা তাল অধিক নরম হলে বাড়ীর মা-চাচীরা তালের উপরের আবরণ ছাড়িয়ে বাঁশের চালুনে (নেট) এ ডলতে ডলতে ঘন রস পাতিলে বের করে শক্ত আটি গুলি স্তুপি করে রেখে দিতেন। হলদে রংয়ের কাঁচা তালের রস আঁখের গুড়া লালচিনি মিশিয়ে উনুনে দীর্ঘ সময় জ¦াল করার পর সুগন্ধ ছড়ানো ঘন তালের রসে পরিণত হওয়ার পর খাবারের জন্য পরিবেশন করা হতো। গ্রামের মানুষের প্রিয় খাবার ছিল আউশ ধানের শুকনো চিড়া ঘন তালের রসে মাখিয়ে খাওয়া। শ্রাবণ ভাদ্র মাস এলে গ্রামের মা-চাচীরা রাত জেগে ব্যস্ত সময় কাটাতেন নানা রকম তালের পিঠা তৈরীতে যা পরিবারের সকল সদস্যরা তৃপ্তি ভরে খেয়ে আনন্দ পেতো। তালের রস তালের পিঠা পাঠানো হতো আত্মীয় কুটুম বাড়ীতে। এখানেই শেষ নয় উঠানের এক কোনায় ফেলে রাখা আঁটি গুলো থেকে এক সময় লম্বাকৃতির অংকুর বের হলে তা কেটে ভিতরের নরম সাদা শাস বের করে তৃপ্তিসহ খাওয়া হয়। বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে তাল গাছের সংখ্যা দিন দিন কমে যাওয়ায় হাট বাজারে তাল কম উঠায় চড়া দামে তাল বিক্রি হয়।
অনেকেই পিঠা খাওয়ার জন্য বাজার থেকে ৩০ থেকে ৪০ টাকা দিয়ে একটি তাল কিনে নিয়ে যায়। সোয়াইল গ্রামের ষাটোর্ধ বৃদ্ধ করম আলী জানান তারা যখন যুবক ছিলেন তখন খেতের আইলে, পুকুর পাড়ে, বিলের পাড়ে তালে আঁটি রোপন করেছেন যা কয়েক বছরের মধ্যেই বড় বড় তাল গাছে রুপ নিয়েছে। তার ছেরে নাতি পুতিরা সে বিক্রি করে ঠাকা পেয়েছে ঠিকই কিন্ত একটি গাছও তারা লাগায় নাই। এ অবস্থা গ্রামের সব খানেই কেউ তাল গাছ লাগাতে চায়না যে কারনে এখন আর সাড়ি সাড়ি তাল গাছ চোখে পরেনা। তিনি জানান অনেক গুনের অধিকারী মানুষের খুবই প্রয়োজনীয় তাল গাছ রোপনে সকলকে আগ্রহী হতে হবে। মাত্র ৫ টি করে তালের আঁটি যদি গ্রামের প্রতি বাড়ীর একজন করে রোপন করে তাহলে ১০০ লোকের দ্বারা একটি গ্রামে ৫০০ তাল গাছ জন্ম নিবে। আর এর ফলে ওই গ্রাম ও আশ পাশের গ্রামের মানুষেরা তাল গাছের বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করতে সক্ষম হবে।