ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত
মৌলভীবাজার জেনারেল হাসপাতালের ডায়ালাইসিস ইউনিটে যেন মৃত্যুর ঘণ্টাধ্বনি বাজছে। সরকারি ভর্তুকির অর্থ বরাদ্দ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জেলার এই একমাত্র সরকারি হাসপাতালটিতে কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস সেবা বন্ধ হয়ে যেতে বসেছে। গত এক মাস ধরে নতুন কোনো রোগী এই সেবা পাচ্ছেন না। আর পুরোনো রোগীদের চিকিৎসাও চলবে মাত্র সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এরপর কী হবে—সেটা নিয়ে সংশয়ে চিকিৎসক, রোগী ও তাদের পরিবার। সাধারণত ডায়ালাইসিস সেবা মানেই প্রতি সেশনে কয়েক হাজার টাকার খরচ। কিন্তু মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ২০ হাজার টাকার প্যাকেজে ৪৮টি সেশন পাওয়া যেত, যেখানে প্রতিটি সেশনের খরচ হতো গড়ে ৪০০ টাকা। বাকি অর্থ সরকার ভর্তুকি হিসেবে দিত। এ সুযোগই ছিল সীমিত আয়ের কিডনি রোগীদের বাঁচার শেষ আশ্রয়। কিন্তু হাসপাতালের বরাদ্দকৃত ভর্তুকির অর্থ শেষ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে ১৫ জন পুরোনো রোগী ছাড়া কেউ এই সেবা পাচ্ছেন না। সেপ্টেম্বরের পর তারাও আর পাবেন না যদি না সময়মতো নতুন বরাদ্দ আসে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী এক বছরের জন্য ডায়ালাইসিস চালু রাখতে প্রয়োজন ১ কোটি টাকা।
লোকমান আহমেদ নামের এক রোগী বলেন, প্রতিসপ্তাহে আমার দু’টি ডায়ালাইসিস লাগে। সদর হাসপাতালে গেলে বলে, নতুন রোগী নিচ্ছে না। প্রাইভেট হাসপাতালে প্রতি সেশনে লাগে ৩ হাজার ৫০০ টাকা, তার ওপর ওষুধ আর যাতায়াত খরচ। এভাবে আর কতদিন চালানো যাবে? অনেকেই চিকিৎসার খরচ চালাতে না পেরে বাড়িতে পড়ে থাকেন। কেউ কেউ মারা যান সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে।
মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক প্রণয় কান্তি দাশ গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, চলতি বরাদ্দ শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে ১ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। আশা করছি, বরাদ্দ পেলে আবার পূর্ণমাত্রায় সেবা চালু করা যাবে।
মৌলভীবাজারে সরকারি হাসপাতাল ছাড়া আর মাত্র কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ডায়ালাইসিস সেবা দিয়ে থাকে। তবে খরচের দিক দিয়ে এসব প্রতিষ্ঠান অনেকের নাগালের বাইরে। অনেকে বাধ্য হয়ে সিলেট শহরে গিয়ে চিকিৎসা নেন, তবে যাতায়াতসহ পুরো খরচ মেটাতে গিয়ে অনেকে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছেন।
কিডনি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে কিডনি রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি। যাদের মধ্যে ২৫ শতাংশেরও কম রোগী চিকিৎসার খরচ বহনে সক্ষম। আর যাদের নিয়মিত ডায়ালাইসিস দরকার, তাদের ৭০ শতাংশই অর্থাভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. ইসরাইল হোসেন গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, আমরা বিষয়টি খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য সচিবের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে ১ কোটি টাকা বরাদ্দের জন্য। এই টাকা পেলে কমপক্ষে এক বছর সেবা চালু রাখা সম্ভব।
ডায়ালাইসিস কোনো বিলাসিতা নয়, এটি জীবন রক্ষাকারী জরুরি চিকিৎসা। মৌলভীবাজারের মতো জেলার অসহায় রোগীদের জীবন বাঁচাতে যত দ্রুত সম্ভব ভর্তুকির অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। সময়মতো এই পদক্ষেপ না নিলে শুধুই সেবা নয়, হারিয়ে যাবে অনেকগুলো তাজা প্রাণ।
ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত
শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫
মৌলভীবাজার জেনারেল হাসপাতালের ডায়ালাইসিস ইউনিটে যেন মৃত্যুর ঘণ্টাধ্বনি বাজছে। সরকারি ভর্তুকির অর্থ বরাদ্দ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জেলার এই একমাত্র সরকারি হাসপাতালটিতে কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস সেবা বন্ধ হয়ে যেতে বসেছে। গত এক মাস ধরে নতুন কোনো রোগী এই সেবা পাচ্ছেন না। আর পুরোনো রোগীদের চিকিৎসাও চলবে মাত্র সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এরপর কী হবে—সেটা নিয়ে সংশয়ে চিকিৎসক, রোগী ও তাদের পরিবার। সাধারণত ডায়ালাইসিস সেবা মানেই প্রতি সেশনে কয়েক হাজার টাকার খরচ। কিন্তু মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ২০ হাজার টাকার প্যাকেজে ৪৮টি সেশন পাওয়া যেত, যেখানে প্রতিটি সেশনের খরচ হতো গড়ে ৪০০ টাকা। বাকি অর্থ সরকার ভর্তুকি হিসেবে দিত। এ সুযোগই ছিল সীমিত আয়ের কিডনি রোগীদের বাঁচার শেষ আশ্রয়। কিন্তু হাসপাতালের বরাদ্দকৃত ভর্তুকির অর্থ শেষ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে ১৫ জন পুরোনো রোগী ছাড়া কেউ এই সেবা পাচ্ছেন না। সেপ্টেম্বরের পর তারাও আর পাবেন না যদি না সময়মতো নতুন বরাদ্দ আসে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী এক বছরের জন্য ডায়ালাইসিস চালু রাখতে প্রয়োজন ১ কোটি টাকা।
লোকমান আহমেদ নামের এক রোগী বলেন, প্রতিসপ্তাহে আমার দু’টি ডায়ালাইসিস লাগে। সদর হাসপাতালে গেলে বলে, নতুন রোগী নিচ্ছে না। প্রাইভেট হাসপাতালে প্রতি সেশনে লাগে ৩ হাজার ৫০০ টাকা, তার ওপর ওষুধ আর যাতায়াত খরচ। এভাবে আর কতদিন চালানো যাবে? অনেকেই চিকিৎসার খরচ চালাতে না পেরে বাড়িতে পড়ে থাকেন। কেউ কেউ মারা যান সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে।
মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক প্রণয় কান্তি দাশ গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, চলতি বরাদ্দ শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে ১ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। আশা করছি, বরাদ্দ পেলে আবার পূর্ণমাত্রায় সেবা চালু করা যাবে।
মৌলভীবাজারে সরকারি হাসপাতাল ছাড়া আর মাত্র কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ডায়ালাইসিস সেবা দিয়ে থাকে। তবে খরচের দিক দিয়ে এসব প্রতিষ্ঠান অনেকের নাগালের বাইরে। অনেকে বাধ্য হয়ে সিলেট শহরে গিয়ে চিকিৎসা নেন, তবে যাতায়াতসহ পুরো খরচ মেটাতে গিয়ে অনেকে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছেন।
কিডনি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে কিডনি রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি। যাদের মধ্যে ২৫ শতাংশেরও কম রোগী চিকিৎসার খরচ বহনে সক্ষম। আর যাদের নিয়মিত ডায়ালাইসিস দরকার, তাদের ৭০ শতাংশই অর্থাভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. ইসরাইল হোসেন গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, আমরা বিষয়টি খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য সচিবের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে ১ কোটি টাকা বরাদ্দের জন্য। এই টাকা পেলে কমপক্ষে এক বছর সেবা চালু রাখা সম্ভব।
ডায়ালাইসিস কোনো বিলাসিতা নয়, এটি জীবন রক্ষাকারী জরুরি চিকিৎসা। মৌলভীবাজারের মতো জেলার অসহায় রোগীদের জীবন বাঁচাতে যত দ্রুত সম্ভব ভর্তুকির অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। সময়মতো এই পদক্ষেপ না নিলে শুধুই সেবা নয়, হারিয়ে যাবে অনেকগুলো তাজা প্রাণ।