জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে এডিস মশা মানুষের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত দুই বছর ৮ মাসে (৩০ আগস্ট পর্যন্ত) এই মশার কামড়ে ২ হাজার ৩শ’ মানুষের মৃত্যু ও ৪ লাখ ৩০ হাজার মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে। এভাবে প্রতি বছর ডেঙ্গু মশার কামড়ে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন এবং মারাও যাচ্ছেন।
দুই বছর ৮ মাসে ২৩শ’ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৪ লাখ ৩০ হাজার
গবেষণা ও নিয়ন্ত্রণে জাতীয় প্রতিষ্ঠান দরকার: গবেষক
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যে সতর্কতা জারি করেছে যে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ছে।
বাংলাদেশে এর প্রভাব পড়ছে। গত ২০ আগস্ট বিশ্ব মশা দিবস পালন করা হয়েছে। ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগে মানুষ প্রতি বছর আক্রান্ত হচ্ছে বিশেষজ্ঞরা তাদের বক্তব্যে তা তুলে ধরেন।
মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ্ ইমার্জেন্সি ও কন্ট্রোলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডা. জাহিদুল ইসলাম শনিবার,(৩০ আগস্ট ২০২৫) জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৩৬৭ জন আক্রান্ত হয়েছে।
এ নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে শনিবার ৩০ আগস্ট ( ৮ মাস) পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ৩০ হাজার ৯০৮ জন আর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ১১৮ জন।
আক্রান্তের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৫৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৯ জন, ঢাকা বিভাগে ১০৮ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ২৯ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৬৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৭ জন আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তের মধ্যে ৫ বছর বয়সের শিশু ২০ জন, ৬-১০ বছর বয়সের শিশু ২৩ জন, ১১-১৫ বছর বয়সের ৩৪ জন, ১৬-২০ বছর বয়সের ৪৯ জন, ২১-২৫ বছর বয়সের ৫৪ জন, ৮০ বছর বয়সের ১ জন, ৭১-৭৫ বছর বয়সের ৩ জন। প্রাপ্ত তথ্যমতে, বয়স ভেদে আক্রান্তের মধ্যে শিশুর বয়সই বেশি।
হাসপাতালের তথ্য: আক্রান্ত ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছে ৭৮ জন, মিটফোর্ড হাসপাতালে ৩৯ জন, সোহ্রাওয়ার্দী হাসপাতালে ২২ জন, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬১ জন, কুর্মিটোলা জেনারেল ৩৯ জন, মহাখালী ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালে ৫৪ জন। এভাবে রাজধানীর ১৮টি সরকারি হাসপাতালে এখনও ৩৪৪ জন ভর্তি আছে। সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এখনও ভর্তি আছে ১৪৬২ জন।
মৃত্যুর তথ্য: গত জানুয়ারি মাসে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ জনের মৃত্যু, ফেব্রুয়ারি মাসে ৩ জনের মৃত্যু, এপ্রিল মাসে ৭ জন, মে মাসে ৩ জন, জুন মাসে ১৯ জন, জুলাইতে ৪১ জন, আগস্ট মাসে ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এভাবে গত জানুয়ারি থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এডিস মশা বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, আগামী অক্টোবরের শেষের দিকে শীত পড়তে শুরু করলে মশার উপদ্রব কিছৃুটা কমতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
২০২৪ সালের তথ্য: দেশজুড়ে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার দাপট ছিল। জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন। তার মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে ৫৭৫ জন।
২০২৩ সালের প্রাপ্ততথ্য: ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ১৭০৫ জন।
গেল ২০০০ সাল থেকে শুরু করে প্রতি বছর শিশু থেকে বয়স্ক পর্যন্ত প্রতি বছর ডেঙ্গুতে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। কীটতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরলেও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না। এতে থেমে নেই আক্রান্ত ও মৃত্যু।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের কীটতত্ত্ববিদ ও গবেষক কবিরুল বাসার তার এক প্রতিবেদনে বলেছেন, বাংলাদেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু মশার প্রজননের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। মশার ঘনত্ব ও প্রজাতির বৈচিত্র্য বেশি থাকার কারণে মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বেশি বাংলাদেশে। বাংলাদেশের ঢাকায় প্রায় ১৪ থেকে ১৬ প্রজাতির মশা শনাক্ত হয়েছে। আর মশাবাহিত রোগগুলোর মধ্যে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া ও জাপানিজ অ্যানসেফালাইটিস।
এই বিশেষজ্ঞ বলেছেন, মশাবাহিত রোগ থেকে মানুষের জীবন বাঁচানো, জনদুর্ভোগ ও আর্থিক ক্ষতি ঠেকাতে টেকসই পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন দরকার।
আর পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো মশাবাহিত রোগ নিয়ে গবেষণা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য জাতীয় প্রতিষ্ঠান হওয়া দরকার। মশাবাহিত রোগ থেকে দেশের মানুষকে বাঁচাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, কীটতত্ত্ববিদ, গবেষক ও অন্যান্য অংশীজনের সম্মিলিত প্রয়াস ঘটাতে পারলে মশাবাহিত রোগ থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন।
শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫
জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে এডিস মশা মানুষের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত দুই বছর ৮ মাসে (৩০ আগস্ট পর্যন্ত) এই মশার কামড়ে ২ হাজার ৩শ’ মানুষের মৃত্যু ও ৪ লাখ ৩০ হাজার মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে। এভাবে প্রতি বছর ডেঙ্গু মশার কামড়ে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন এবং মারাও যাচ্ছেন।
দুই বছর ৮ মাসে ২৩শ’ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৪ লাখ ৩০ হাজার
গবেষণা ও নিয়ন্ত্রণে জাতীয় প্রতিষ্ঠান দরকার: গবেষক
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যে সতর্কতা জারি করেছে যে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ছে।
বাংলাদেশে এর প্রভাব পড়ছে। গত ২০ আগস্ট বিশ্ব মশা দিবস পালন করা হয়েছে। ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগে মানুষ প্রতি বছর আক্রান্ত হচ্ছে বিশেষজ্ঞরা তাদের বক্তব্যে তা তুলে ধরেন।
মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ্ ইমার্জেন্সি ও কন্ট্রোলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডা. জাহিদুল ইসলাম শনিবার,(৩০ আগস্ট ২০২৫) জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৩৬৭ জন আক্রান্ত হয়েছে।
এ নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে শনিবার ৩০ আগস্ট ( ৮ মাস) পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ৩০ হাজার ৯০৮ জন আর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ১১৮ জন।
আক্রান্তের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৫৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৯ জন, ঢাকা বিভাগে ১০৮ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ২৯ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৬৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৭ জন আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তের মধ্যে ৫ বছর বয়সের শিশু ২০ জন, ৬-১০ বছর বয়সের শিশু ২৩ জন, ১১-১৫ বছর বয়সের ৩৪ জন, ১৬-২০ বছর বয়সের ৪৯ জন, ২১-২৫ বছর বয়সের ৫৪ জন, ৮০ বছর বয়সের ১ জন, ৭১-৭৫ বছর বয়সের ৩ জন। প্রাপ্ত তথ্যমতে, বয়স ভেদে আক্রান্তের মধ্যে শিশুর বয়সই বেশি।
হাসপাতালের তথ্য: আক্রান্ত ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছে ৭৮ জন, মিটফোর্ড হাসপাতালে ৩৯ জন, সোহ্রাওয়ার্দী হাসপাতালে ২২ জন, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬১ জন, কুর্মিটোলা জেনারেল ৩৯ জন, মহাখালী ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালে ৫৪ জন। এভাবে রাজধানীর ১৮টি সরকারি হাসপাতালে এখনও ৩৪৪ জন ভর্তি আছে। সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এখনও ভর্তি আছে ১৪৬২ জন।
মৃত্যুর তথ্য: গত জানুয়ারি মাসে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ জনের মৃত্যু, ফেব্রুয়ারি মাসে ৩ জনের মৃত্যু, এপ্রিল মাসে ৭ জন, মে মাসে ৩ জন, জুন মাসে ১৯ জন, জুলাইতে ৪১ জন, আগস্ট মাসে ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এভাবে গত জানুয়ারি থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এডিস মশা বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, আগামী অক্টোবরের শেষের দিকে শীত পড়তে শুরু করলে মশার উপদ্রব কিছৃুটা কমতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
২০২৪ সালের তথ্য: দেশজুড়ে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার দাপট ছিল। জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন। তার মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে ৫৭৫ জন।
২০২৩ সালের প্রাপ্ততথ্য: ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ১৭০৫ জন।
গেল ২০০০ সাল থেকে শুরু করে প্রতি বছর শিশু থেকে বয়স্ক পর্যন্ত প্রতি বছর ডেঙ্গুতে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। কীটতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরলেও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না। এতে থেমে নেই আক্রান্ত ও মৃত্যু।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের কীটতত্ত্ববিদ ও গবেষক কবিরুল বাসার তার এক প্রতিবেদনে বলেছেন, বাংলাদেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু মশার প্রজননের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। মশার ঘনত্ব ও প্রজাতির বৈচিত্র্য বেশি থাকার কারণে মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বেশি বাংলাদেশে। বাংলাদেশের ঢাকায় প্রায় ১৪ থেকে ১৬ প্রজাতির মশা শনাক্ত হয়েছে। আর মশাবাহিত রোগগুলোর মধ্যে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া ও জাপানিজ অ্যানসেফালাইটিস।
এই বিশেষজ্ঞ বলেছেন, মশাবাহিত রোগ থেকে মানুষের জীবন বাঁচানো, জনদুর্ভোগ ও আর্থিক ক্ষতি ঠেকাতে টেকসই পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন দরকার।
আর পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো মশাবাহিত রোগ নিয়ে গবেষণা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য জাতীয় প্রতিষ্ঠান হওয়া দরকার। মশাবাহিত রোগ থেকে দেশের মানুষকে বাঁচাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, কীটতত্ত্ববিদ, গবেষক ও অন্যান্য অংশীজনের সম্মিলিত প্রয়াস ঘটাতে পারলে মশাবাহিত রোগ থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন।