ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৯তম মহাপ্রয়াণ উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার নজরুল চর্চা ও গবেষণা কেন্দ্র ‘আমিই নজরুল’ তিনজন নজরুল গুণীকে সম্মাননা প্রদান করেছে। সম্মাননাপ্রাপ্ত হলেন- নজরুলের দৌহিত্রী, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইনস্টিটিউটের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সংগীতশিল্পী খিলখিল কাজী, প্রখ্যাত নজরুল সংগীতশিল্পী ইয়াসমিন মুশতারী ও নজরুল গবেষক ও লেখক অনুপম হায়াৎ।
সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে কবির দৌহিত্রী খিলখিল কাজী বলেন, ‘আমিই নজরুল সম্মাননা পেয়ে গর্বিত বোধ করছি। আমি দাদু নজরুল ইসলামকে পাশে পেয়ে বড় হয়েছি। দাদু ধর্মের চেয়ে মানুষকে ভালোবাসতেন। তিনি সারাজীবন অত্যাচার-অনাচারের বিরুদ্ধে লিখেছেন। ধর্মের বেড়া ভেঙে মানুষকেই বড় করে দেখেছেন। মানুষের চেয়ে মহান কিছু নেই এ জয়গান তিনি গেয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ‘কবির রচনা ও দর্শন বাংলাদেশের অমূল্য সম্পদ। নজরুল সব ধর্মের মানুষকে মিলেমিশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তার কথা ও গান শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিতে হবে।’
স্কুল-কলেজগুলোতে জাতীয় কবির জন্মদিন ও প্রয়াণদিবস পালনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে নজরুলকে পৌঁছে দেয়া জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শিল্পী ইয়াসমিন মুশতারী বলেন, ‘বাংলাদেশকে ভালোবাসতে হবে এ শিক্ষা আমাদের নজরুল শিখিয়েছেন। নজরুলকে ভালোবাসা মানেই বাংলাদেশকে ভালোবাসা। তিনি যে অমূল্য লেখা ও সৃষ্টিকর্ম আমাদের জন্য রেখে গেছেন, সেগুলো ছড়িয়ে দিতে পারলেই বাংলাদেশ সঠিক পথে অগ্রসর হবে।’
অনুপম হায়াৎ পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করে তার ছেলে ইশতিয়াক রহমান। বাবার লিখিত বক্তব্য পাঠ করার সময় তিনি বলেন, ‘আমিই নজরুল সংগঠনের নাম উচ্চারণ করলেই নজরুলের উপস্থিতি অনুভব করি। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে নজরুলচর্চা আরও বিকশিত হবে। কাজী নজরুল ইসলাম একজন মহাসমুদ্র। সাহিত্য থেকে চলচ্চিত্র সব শাখায় তিনি অনবদ্য অবদান রেখে গেছেন। মানবকবি নজরুল বেঁচে থাকলেই আমরা আমাদের অস্তিত্বে টিকে থাকব।’
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন- ‘আমিই নজরুল’-এর নির্বাহী পরিচালক আবু সাঈদ। তিনি বলেন, আমিই নজরুল চর্চা ও গবেষণা কেন্দ্র ২০১৮ সাল থেকে নিয়মিত নজরুল নিয়ে অনলাইন ও অফলাইনে কাজ করে যাচ্ছে। সেই বছরই এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। তরুণ প্রজন্মের কাছে কবির সাম্যবাদী চিন্তা ও মানবিক ভাবনা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইতিহাস অলিম্পিয়াড কমিটির সভাপতিম-লীর সদস্য এ কে এম শাহনাওয়াজ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান মো. এমরান জাহান, প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী সিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ বুক অলিম্পিয়াড কমিটির সভাপতি, কবি রোকেয়া ইসলাম, সভাপতিম-লীর সদস্য অনুবাদক এলহাম হোসেন, নজরুল গবেষক নাসির আহমেদ, কথাসাহিত্যিক মনি হায়দারসহ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন শিল্পী ইয়াসমিন মুশতারী, আমিই নজরুলের পরিচালক উম্মে রুমা ট্রফি, সদস্য শাহিনা পারভীন, শায়লা রহমান, সংগীতা পাল, ইশরাত জাহান, মো. সম্রাট, মোহনা রেজা, অদ্বিতীয়া। নজরুলের অভিভাষণ পাঠ করেন আবৃত্তিকার শওকত আলী তারা এবং নাচ পরিবেশন করেন সেজুতি দাস।
ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত
শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৯তম মহাপ্রয়াণ উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার নজরুল চর্চা ও গবেষণা কেন্দ্র ‘আমিই নজরুল’ তিনজন নজরুল গুণীকে সম্মাননা প্রদান করেছে। সম্মাননাপ্রাপ্ত হলেন- নজরুলের দৌহিত্রী, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইনস্টিটিউটের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সংগীতশিল্পী খিলখিল কাজী, প্রখ্যাত নজরুল সংগীতশিল্পী ইয়াসমিন মুশতারী ও নজরুল গবেষক ও লেখক অনুপম হায়াৎ।
সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে কবির দৌহিত্রী খিলখিল কাজী বলেন, ‘আমিই নজরুল সম্মাননা পেয়ে গর্বিত বোধ করছি। আমি দাদু নজরুল ইসলামকে পাশে পেয়ে বড় হয়েছি। দাদু ধর্মের চেয়ে মানুষকে ভালোবাসতেন। তিনি সারাজীবন অত্যাচার-অনাচারের বিরুদ্ধে লিখেছেন। ধর্মের বেড়া ভেঙে মানুষকেই বড় করে দেখেছেন। মানুষের চেয়ে মহান কিছু নেই এ জয়গান তিনি গেয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ‘কবির রচনা ও দর্শন বাংলাদেশের অমূল্য সম্পদ। নজরুল সব ধর্মের মানুষকে মিলেমিশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তার কথা ও গান শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিতে হবে।’
স্কুল-কলেজগুলোতে জাতীয় কবির জন্মদিন ও প্রয়াণদিবস পালনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে নজরুলকে পৌঁছে দেয়া জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শিল্পী ইয়াসমিন মুশতারী বলেন, ‘বাংলাদেশকে ভালোবাসতে হবে এ শিক্ষা আমাদের নজরুল শিখিয়েছেন। নজরুলকে ভালোবাসা মানেই বাংলাদেশকে ভালোবাসা। তিনি যে অমূল্য লেখা ও সৃষ্টিকর্ম আমাদের জন্য রেখে গেছেন, সেগুলো ছড়িয়ে দিতে পারলেই বাংলাদেশ সঠিক পথে অগ্রসর হবে।’
অনুপম হায়াৎ পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করে তার ছেলে ইশতিয়াক রহমান। বাবার লিখিত বক্তব্য পাঠ করার সময় তিনি বলেন, ‘আমিই নজরুল সংগঠনের নাম উচ্চারণ করলেই নজরুলের উপস্থিতি অনুভব করি। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে নজরুলচর্চা আরও বিকশিত হবে। কাজী নজরুল ইসলাম একজন মহাসমুদ্র। সাহিত্য থেকে চলচ্চিত্র সব শাখায় তিনি অনবদ্য অবদান রেখে গেছেন। মানবকবি নজরুল বেঁচে থাকলেই আমরা আমাদের অস্তিত্বে টিকে থাকব।’
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন- ‘আমিই নজরুল’-এর নির্বাহী পরিচালক আবু সাঈদ। তিনি বলেন, আমিই নজরুল চর্চা ও গবেষণা কেন্দ্র ২০১৮ সাল থেকে নিয়মিত নজরুল নিয়ে অনলাইন ও অফলাইনে কাজ করে যাচ্ছে। সেই বছরই এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। তরুণ প্রজন্মের কাছে কবির সাম্যবাদী চিন্তা ও মানবিক ভাবনা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইতিহাস অলিম্পিয়াড কমিটির সভাপতিম-লীর সদস্য এ কে এম শাহনাওয়াজ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান মো. এমরান জাহান, প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী সিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ বুক অলিম্পিয়াড কমিটির সভাপতি, কবি রোকেয়া ইসলাম, সভাপতিম-লীর সদস্য অনুবাদক এলহাম হোসেন, নজরুল গবেষক নাসির আহমেদ, কথাসাহিত্যিক মনি হায়দারসহ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন শিল্পী ইয়াসমিন মুশতারী, আমিই নজরুলের পরিচালক উম্মে রুমা ট্রফি, সদস্য শাহিনা পারভীন, শায়লা রহমান, সংগীতা পাল, ইশরাত জাহান, মো. সম্রাট, মোহনা রেজা, অদ্বিতীয়া। নজরুলের অভিভাষণ পাঠ করেন আবৃত্তিকার শওকত আলী তারা এবং নাচ পরিবেশন করেন সেজুতি দাস।