ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত
তিন বছর আগে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় বৃত্তি পেলেও এখন পর্যন্ত বৃত্তির টাকা না পাওয়ায় চরম হতাশা আর ক্ষোভে ফুঁসছেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ১৯৩ জন বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস দেয়া তথ্য মতে, ২০২২ সালের বৃত্তি পরীক্ষায় উপজেলার ২৮৪টি বিদ্যালয় থেকে মোট ২,৩১০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে মেধা ও সাধারণ গ্রেড বৃত্তি লাভ করে ১৯৩ জন শিক্ষার্থী। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও দু’একজন বাদে এখনো কেউ বৃত্তির টাকা পায়নি।
বিভিন্ন ব্যাংক ও শিক্ষা অফিসে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা বলছেন, দিনের পর দিন ঘুরেও তারা শুধু আশ্বাস পেয়েছেন, সমাধান নয়।
এ বিষয়ে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি প্রাপ্ত আবু ওবাইদুল্লাহ সিদ্দিক নামের এক ৮ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী বলেন, আমি তারাগুনিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থেকে ২২ সালে ট্যালেন্টপলে বৃত্তিপায় এখন আমি তারাগুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেনিতে পড়ি। এখন পর্যন্ত আমার প্রাপ?্য মাসে ৩০০ করে টাকা করে পাওয়ার কথা থাকলেও তা পাইনি। কিছুদিন হলো আমার দুই বন্ধু টাকা পেয়েছে তবে আমার মতো অনেকেই এখনও টাকা পাইনি। এই টাকাটা ৮ম শ্রেনি পর্যন্ত আমাদের ব্যাংক একাউন্টে আসার কথা ছিল।
তহমিনা খাতুন নামে এক অভিভাবক বলেন, আমার মেয়ে কঠোর পরিশ্রম করে বৃত্তি পেয়েছে। কিন্তু আজও সেই পরিশ্রমের স্বীকৃতির যে টাকা তা পায়নি। এতে সে মনোবল হারাচ্ছে।
আরেক অভিভাবক বুলবুল আহমেদ বলেন, টাকা বড় ব্যাপার নয়, কিন্তু জীবনের শুরুতেই এমন অভিজ্ঞতা ওদের মেধা বিকাশে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াতে পারে। সরকারের উচিত দ্রুত এই সমস্যা সমাধান করে ভবিষ্যতে যেন এমন না হয়, তা নিশ্চিত করা।
তারাগুনিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম জানান, আমাদের বিদ্যালয়ের ৯ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। কিন্তু তারা তাদের প্রাপ্য টাকা না পাওয়ায় অভিভাবকরা বারবার অভিযোগ করছেন। প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এ বিলম্ব হচ্ছে বলে আমরা ধারণা করছি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদ বলেন, আমি সদ্য যোগদান করেছি। তবে যতদূর জানি, যাচাই-বাছাই শেষে গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। অর্থ ছাড় সংক্রান্ত বিষয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর দেখছে। শুধু দৌলতপুর নয়, সারা দেশের বিভিন্ন জায়গাতেই একই ধরনের সমস্যা রয়েছে।
এবিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার কামাল হোসেনের বলেন, বৃত্তি প্রাপ্তদের সন্মান সরুপ পুরুষ্কার হিসেবে যে টাকা টা দেওয়া হয়। তা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের হাতে কিছু না। এগুলো শিক্ষার্থী যে সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভর্তি হয়েছে তারা দেখভাল করেন।
এ বিষয়ে উপজেলার কয়েকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে ফিলিপনগর ইউনিয়নের পিএসএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও দৌলতপুর সরকারি মডেল পাইলোট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, শিক্ষার্থীরা ভর্তির সময় তাদের বিত্তির কাগজ পত্র সহ আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়েছি। এখন পর্যন্ত তাদের বিত্তির টাকা তাদের ব্যাংক একাউন্টে আসেনি। তবে কেন আসেনি এবিষয়ে আমাদের জানা নাই।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল হাই সিদ্দিকী বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে বর্তমানে আমার কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য জানা নেই। সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে আলোচনা করে বিস্তারিত জেনে পরে আপনাকে জানাবো।
যদিও বৃত্তির অর্থ খুব বেশি নয়, তবুও তা শিক্ষার্থীদের জন্য এক ধরনের স্বীকৃতি ও অনুপ্রেরণা। সময়মতো এই অর্থ না পাওয়া সরকারে আস্থার সংকট তৈরি করছে বলে মনে করছেন অভিভাবকরা। তারা দ্রুত অর্থ ছাড় ও বৃত্তি বিতরণের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত
রোববার, ৩১ আগস্ট ২০২৫
তিন বছর আগে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় বৃত্তি পেলেও এখন পর্যন্ত বৃত্তির টাকা না পাওয়ায় চরম হতাশা আর ক্ষোভে ফুঁসছেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ১৯৩ জন বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস দেয়া তথ্য মতে, ২০২২ সালের বৃত্তি পরীক্ষায় উপজেলার ২৮৪টি বিদ্যালয় থেকে মোট ২,৩১০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে মেধা ও সাধারণ গ্রেড বৃত্তি লাভ করে ১৯৩ জন শিক্ষার্থী। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও দু’একজন বাদে এখনো কেউ বৃত্তির টাকা পায়নি।
বিভিন্ন ব্যাংক ও শিক্ষা অফিসে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা বলছেন, দিনের পর দিন ঘুরেও তারা শুধু আশ্বাস পেয়েছেন, সমাধান নয়।
এ বিষয়ে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি প্রাপ্ত আবু ওবাইদুল্লাহ সিদ্দিক নামের এক ৮ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী বলেন, আমি তারাগুনিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থেকে ২২ সালে ট্যালেন্টপলে বৃত্তিপায় এখন আমি তারাগুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেনিতে পড়ি। এখন পর্যন্ত আমার প্রাপ?্য মাসে ৩০০ করে টাকা করে পাওয়ার কথা থাকলেও তা পাইনি। কিছুদিন হলো আমার দুই বন্ধু টাকা পেয়েছে তবে আমার মতো অনেকেই এখনও টাকা পাইনি। এই টাকাটা ৮ম শ্রেনি পর্যন্ত আমাদের ব্যাংক একাউন্টে আসার কথা ছিল।
তহমিনা খাতুন নামে এক অভিভাবক বলেন, আমার মেয়ে কঠোর পরিশ্রম করে বৃত্তি পেয়েছে। কিন্তু আজও সেই পরিশ্রমের স্বীকৃতির যে টাকা তা পায়নি। এতে সে মনোবল হারাচ্ছে।
আরেক অভিভাবক বুলবুল আহমেদ বলেন, টাকা বড় ব্যাপার নয়, কিন্তু জীবনের শুরুতেই এমন অভিজ্ঞতা ওদের মেধা বিকাশে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াতে পারে। সরকারের উচিত দ্রুত এই সমস্যা সমাধান করে ভবিষ্যতে যেন এমন না হয়, তা নিশ্চিত করা।
তারাগুনিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম জানান, আমাদের বিদ্যালয়ের ৯ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। কিন্তু তারা তাদের প্রাপ্য টাকা না পাওয়ায় অভিভাবকরা বারবার অভিযোগ করছেন। প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এ বিলম্ব হচ্ছে বলে আমরা ধারণা করছি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদ বলেন, আমি সদ্য যোগদান করেছি। তবে যতদূর জানি, যাচাই-বাছাই শেষে গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। অর্থ ছাড় সংক্রান্ত বিষয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর দেখছে। শুধু দৌলতপুর নয়, সারা দেশের বিভিন্ন জায়গাতেই একই ধরনের সমস্যা রয়েছে।
এবিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার কামাল হোসেনের বলেন, বৃত্তি প্রাপ্তদের সন্মান সরুপ পুরুষ্কার হিসেবে যে টাকা টা দেওয়া হয়। তা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের হাতে কিছু না। এগুলো শিক্ষার্থী যে সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভর্তি হয়েছে তারা দেখভাল করেন।
এ বিষয়ে উপজেলার কয়েকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে ফিলিপনগর ইউনিয়নের পিএসএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও দৌলতপুর সরকারি মডেল পাইলোট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, শিক্ষার্থীরা ভর্তির সময় তাদের বিত্তির কাগজ পত্র সহ আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়েছি। এখন পর্যন্ত তাদের বিত্তির টাকা তাদের ব্যাংক একাউন্টে আসেনি। তবে কেন আসেনি এবিষয়ে আমাদের জানা নাই।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল হাই সিদ্দিকী বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে বর্তমানে আমার কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য জানা নেই। সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে আলোচনা করে বিস্তারিত জেনে পরে আপনাকে জানাবো।
যদিও বৃত্তির অর্থ খুব বেশি নয়, তবুও তা শিক্ষার্থীদের জন্য এক ধরনের স্বীকৃতি ও অনুপ্রেরণা। সময়মতো এই অর্থ না পাওয়া সরকারে আস্থার সংকট তৈরি করছে বলে মনে করছেন অভিভাবকরা। তারা দ্রুত অর্থ ছাড় ও বৃত্তি বিতরণের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।