ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ভয়াবহ আগুনে দুইটি পাদুকা ফ্যাক্টরি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গতকাল শনিবার রাত পৌনে ৯টায় পৌর শহরের লক্ষ্মীপুর মধ্যপাড়া মডেল টাউনের আব্দুর রহমান কালা মিয়া রোড এলাকার মোল্লা মার্কেটে এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ভৈরব বাজার ফায়ার সার্ভিস ও নদী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ২ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে আগুন নেভাতে কাজ করতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিন সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েন। এছাড়াও আগুন নেভাতে গিয়ে ঈগল পিও ফুট ওয়ার ফ্যাক্টরির কর্মচারী উজ্জ্বল মিয়া আহত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসকে কাজে সহযোগিতা করেন ভৈরব রেড ক্রিসেন্ট-এর স্বেচ্ছাসেবীরা ও থানা পুলিশ সদস্যরা। এদিকে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ না জানালেও ফ্যাক্টরিগুলোর মালিক পক্ষের দাবি প্রায় ১০ কোটি টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, গতকাল শনিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে মোল্লা মার্কেটের চেঞ্জ পিও ফুট ওয়ার ফ্যাক্টরিতে আগুনের লেলিহান শিখা দেখে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ২ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ভয়াবহ আগুনে চেঞ্জ পিও ফুট ওয়ার ফ্যাক্টরি থেকে ঈগল পিও ফুট ওয়ার ফ্যাক্টরিতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে করে দুইটি ফ্যাক্টরিতে থাকা কেমিক্যাল থেকে আগুন দ্রুত চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। ফ্যাক্টরিতে পাদুকা তৈরির বিভিন্ন কাঁচামাল সামগ্রীসহ নামিদামি জুতা তৈরির মেশিন ছিল। এছাড়াও ফ্যাক্টরি দুইটিতে তৈরি জুতাসহ আটা, রাবার, পেস্টিং, সলিউশন জাতীয় পণ্য ছিল। এ বিষয়ে চেঞ্জ পিও ফুট ওয়ার ফ্যাক্টরি মালিক হাবিব মিয়া বলেন, আমি খবর পেয়ে এসেছি। সন্ধ্যায় ফ্যাক্টরি বন্ধ করে যাওয়ার পর সাত পৌনে আটটায় খবর পায় ফ্যাক্টরিতে আগুন লেগেছে। এসে দেখি সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ঈগল ফুট ওয়ার মালিক সোহাগ মিয়া বলেন, চেঞ্জ ফুট ওয়ার থেকে আগুন আমাদের ফ্যাক্টরিতে এসে ছড়িয়ে পড়ে। আমাদের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেলো। এতো গুলো কর্মচারী তাদের কি হবে। দুইটা ফ্যাক্টরি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এই ক্ষতি কি করে পুষাবো। ভৈরব ফুট ওয়ার ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক বাহালুল আলম বাচ্চু বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলেও পুড়ে দুইটি ফ্যাক্টরি ছাই হয়ে গেছে। সামনে শীতের জন্য অনেক পুঁজি খাটিয়েছিল ফ্যাক্টরি দুইটিতে। কয়েক কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। কোন কিছুই নেই সব পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। দুইটি ফ্যাক্টরিতে ৫শ কর্মচারী ছিল। মালিক কর্মচারী সবাইকে পথে বসতে হবে। সরকার যদি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রতি সুনজর না দেয় তাহলে দুই ফ্যাক্টরির সাথে সম্পৃক্ত সবগুলো পরিবারকে পথে বসতে হবে। এ বিষয়ে পাদুকা মালিক সমিতির সভাপতি মো. আল আমিন মিয়া বলেন, বাংলাদেশ একটি বৃহত্তর পাদুকা মার্কেট ফ্যাক্টরি বন্দর নগরী ভৈরব। এখানে হাজার হাজার মালিক শ্রমিক রয়েছে। কয়েকদিন যেতে না যেতেই পাদুকা মার্কেটে আগুন লাগে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন সরকার ভৈরব পাদুকা শিল্পে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলেও সহযোগিতা করেনি। আজ দুইটি ফ্যাক্টরির কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তাদেরকে সরকার সহযোগিতা না করলে পথে বসতে হবে। আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি পূরণের ব্যবস্থা করবে সরকার। ভৈরব ফায়ার সার্ভিস ওয়ারহাউজ ইন্সপেক্টর আজিজুল হক রাজন বলেন, খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ আমরা ভৈরব বাজার ফায়ার সার্ভিস ও নদী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট কাজ শুরু করি। ২ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখন জানা না গেলেও তদন্ত সাপেক্ষে পরে বলা যাবে।
ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত
রোববার, ৩১ আগস্ট ২০২৫
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ভয়াবহ আগুনে দুইটি পাদুকা ফ্যাক্টরি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গতকাল শনিবার রাত পৌনে ৯টায় পৌর শহরের লক্ষ্মীপুর মধ্যপাড়া মডেল টাউনের আব্দুর রহমান কালা মিয়া রোড এলাকার মোল্লা মার্কেটে এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ভৈরব বাজার ফায়ার সার্ভিস ও নদী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ২ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে আগুন নেভাতে কাজ করতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিন সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েন। এছাড়াও আগুন নেভাতে গিয়ে ঈগল পিও ফুট ওয়ার ফ্যাক্টরির কর্মচারী উজ্জ্বল মিয়া আহত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসকে কাজে সহযোগিতা করেন ভৈরব রেড ক্রিসেন্ট-এর স্বেচ্ছাসেবীরা ও থানা পুলিশ সদস্যরা। এদিকে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ না জানালেও ফ্যাক্টরিগুলোর মালিক পক্ষের দাবি প্রায় ১০ কোটি টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, গতকাল শনিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে মোল্লা মার্কেটের চেঞ্জ পিও ফুট ওয়ার ফ্যাক্টরিতে আগুনের লেলিহান শিখা দেখে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ২ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ভয়াবহ আগুনে চেঞ্জ পিও ফুট ওয়ার ফ্যাক্টরি থেকে ঈগল পিও ফুট ওয়ার ফ্যাক্টরিতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে করে দুইটি ফ্যাক্টরিতে থাকা কেমিক্যাল থেকে আগুন দ্রুত চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। ফ্যাক্টরিতে পাদুকা তৈরির বিভিন্ন কাঁচামাল সামগ্রীসহ নামিদামি জুতা তৈরির মেশিন ছিল। এছাড়াও ফ্যাক্টরি দুইটিতে তৈরি জুতাসহ আটা, রাবার, পেস্টিং, সলিউশন জাতীয় পণ্য ছিল। এ বিষয়ে চেঞ্জ পিও ফুট ওয়ার ফ্যাক্টরি মালিক হাবিব মিয়া বলেন, আমি খবর পেয়ে এসেছি। সন্ধ্যায় ফ্যাক্টরি বন্ধ করে যাওয়ার পর সাত পৌনে আটটায় খবর পায় ফ্যাক্টরিতে আগুন লেগেছে। এসে দেখি সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ঈগল ফুট ওয়ার মালিক সোহাগ মিয়া বলেন, চেঞ্জ ফুট ওয়ার থেকে আগুন আমাদের ফ্যাক্টরিতে এসে ছড়িয়ে পড়ে। আমাদের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেলো। এতো গুলো কর্মচারী তাদের কি হবে। দুইটা ফ্যাক্টরি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এই ক্ষতি কি করে পুষাবো। ভৈরব ফুট ওয়ার ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক বাহালুল আলম বাচ্চু বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলেও পুড়ে দুইটি ফ্যাক্টরি ছাই হয়ে গেছে। সামনে শীতের জন্য অনেক পুঁজি খাটিয়েছিল ফ্যাক্টরি দুইটিতে। কয়েক কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। কোন কিছুই নেই সব পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। দুইটি ফ্যাক্টরিতে ৫শ কর্মচারী ছিল। মালিক কর্মচারী সবাইকে পথে বসতে হবে। সরকার যদি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রতি সুনজর না দেয় তাহলে দুই ফ্যাক্টরির সাথে সম্পৃক্ত সবগুলো পরিবারকে পথে বসতে হবে। এ বিষয়ে পাদুকা মালিক সমিতির সভাপতি মো. আল আমিন মিয়া বলেন, বাংলাদেশ একটি বৃহত্তর পাদুকা মার্কেট ফ্যাক্টরি বন্দর নগরী ভৈরব। এখানে হাজার হাজার মালিক শ্রমিক রয়েছে। কয়েকদিন যেতে না যেতেই পাদুকা মার্কেটে আগুন লাগে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন সরকার ভৈরব পাদুকা শিল্পে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলেও সহযোগিতা করেনি। আজ দুইটি ফ্যাক্টরির কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তাদেরকে সরকার সহযোগিতা না করলে পথে বসতে হবে। আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি পূরণের ব্যবস্থা করবে সরকার। ভৈরব ফায়ার সার্ভিস ওয়ারহাউজ ইন্সপেক্টর আজিজুল হক রাজন বলেন, খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ আমরা ভৈরব বাজার ফায়ার সার্ভিস ও নদী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট কাজ শুরু করি। ২ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখন জানা না গেলেও তদন্ত সাপেক্ষে পরে বলা যাবে।