বই ছাপার কাজ দিলে এনসিটিবির কার্যক্রম বন্ধের হুঁশিয়ারি এনসিপি নেতাদের
ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক দরপত্রে পাঠ্যবই ছাপার সিদ্ধান্ত হয়নি বলে দাবি এনসিটিবির। তবে পাঠ্যবই ছাপার কাজ বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দিলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিক উইংয়ের নেতারা। তারা বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়ার পাঁয়তারা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
রোববার,(৩১ আগস্ট ২০২৫) দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে এনসিটিবি কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে এ হুঁশিয়ারি দেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এসময় তারা স্লোগান দেন- ‘শ্রমিক মরবে মানি না, বিদেশি ছাপা চাই না’, ‘দুনিয়ার মজদুর, এক হও লড়াই করো’, ‘বিদেশি কালো হাত, ভেঙ্গে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’। কর্মসূচিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাসহ পুস্তক শাখার অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচিতে শ্রমিক উইংয়ের প্রধান সমন্বয়কারী মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘শ্রমিকের রুটি-রুজির হক অন্য দেশের হাতে তুলে দিতে চাই না আমরা। বিদেশিদের হাতে কাজ দেয়ার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা না হলে আমরা আরও কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেবো। দ্রুতই সেটি বাস্তবায়ন করা না হলে এনসিটিবি ভবনের সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হবে।’
এই সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে শ্রমিকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি মন্তব্য করে মাজহারুল বলেন, ‘শত শত শ্রমিক চব্বিশের অভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছেন। তারা যে নতুন বন্দোবস্তের জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন সেটা বাস্তবায়ন হয়নি। বরং মালিকপক্ষের বন্দোবস্ত ঠিকঠাক মতো হয়েছে। দেশের লাখ লাখ শ্রমিক বেকার। তাদের বঞ্চিত করে বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়ার পাঁয়তারা রয়েছে।’ এনসিপির শ্রমিং উইংয়ের নেতা হাসান বলেন, দেশের লাখ লাখ শ্রমিক বেকার, ঠিকমতো তারা খেতে পারে না। গত বহু বছর ধরে বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের শ্রমিকদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। তারা আর এসব মেনে নেবে না। দেশের কাজ দেশেই রাখার দাবি জানিয়ে সংগঠনের আরেক নেতা মেহেদী হাসান বলেন, ‘দেশে কী দক্ষ জনবল নেই যে, নিজের দেশের কাজ বিদেশিদের দিতে হবে? দেশের শ্রমিকরা কাজ না পেয়ে অসহায় দিন পার করছে। অথচ এদিকে বিদেশে কাজ দেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। আমরা এসব মানবো না।’
এনসিপির শ্রমিক উইংয়ের মুখ্য সংগঠক শিপন বলেন, রাষ্ট্রের সংবিধান পরিবর্তন করে শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। কারণ বিভিন্ন শ্রমিক নেতা ও ব্যবসায়ীরা হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। সরকার যদি কথা না শোনে তাহলে বুঝতে হবে বিদেশিদের হাতে কাজ দিয়ে আবার বড় অংক পাচার করা হবে।
# এনসিটিবির বক্তব্য:
পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণে আন্তর্জাতিক টেন্ডার (দরপত্র) আহ্বানের বিষয়টি সঠিক নয় বলে জানিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।
রোববার সংস্থাটির সচিব অধ্যাপক সাহতাব উদ্দিনের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি কিছু প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় তথ্যের সঠিকতা যাচাই না করে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণে আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বান সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত খবরের যথার্থতা না থাকায় এ ধরনের সংবাদে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সবাইকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হল।
বই ছাপার কাজ দিলে এনসিটিবির কার্যক্রম বন্ধের হুঁশিয়ারি এনসিপি নেতাদের
ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত
রোববার, ৩১ আগস্ট ২০২৫
আন্তর্জাতিক দরপত্রে পাঠ্যবই ছাপার সিদ্ধান্ত হয়নি বলে দাবি এনসিটিবির। তবে পাঠ্যবই ছাপার কাজ বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দিলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিক উইংয়ের নেতারা। তারা বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়ার পাঁয়তারা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
রোববার,(৩১ আগস্ট ২০২৫) দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে এনসিটিবি কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে এ হুঁশিয়ারি দেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এসময় তারা স্লোগান দেন- ‘শ্রমিক মরবে মানি না, বিদেশি ছাপা চাই না’, ‘দুনিয়ার মজদুর, এক হও লড়াই করো’, ‘বিদেশি কালো হাত, ভেঙ্গে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’। কর্মসূচিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাসহ পুস্তক শাখার অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচিতে শ্রমিক উইংয়ের প্রধান সমন্বয়কারী মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘শ্রমিকের রুটি-রুজির হক অন্য দেশের হাতে তুলে দিতে চাই না আমরা। বিদেশিদের হাতে কাজ দেয়ার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা না হলে আমরা আরও কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেবো। দ্রুতই সেটি বাস্তবায়ন করা না হলে এনসিটিবি ভবনের সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হবে।’
এই সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে শ্রমিকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি মন্তব্য করে মাজহারুল বলেন, ‘শত শত শ্রমিক চব্বিশের অভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছেন। তারা যে নতুন বন্দোবস্তের জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন সেটা বাস্তবায়ন হয়নি। বরং মালিকপক্ষের বন্দোবস্ত ঠিকঠাক মতো হয়েছে। দেশের লাখ লাখ শ্রমিক বেকার। তাদের বঞ্চিত করে বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়ার পাঁয়তারা রয়েছে।’ এনসিপির শ্রমিং উইংয়ের নেতা হাসান বলেন, দেশের লাখ লাখ শ্রমিক বেকার, ঠিকমতো তারা খেতে পারে না। গত বহু বছর ধরে বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের শ্রমিকদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। তারা আর এসব মেনে নেবে না। দেশের কাজ দেশেই রাখার দাবি জানিয়ে সংগঠনের আরেক নেতা মেহেদী হাসান বলেন, ‘দেশে কী দক্ষ জনবল নেই যে, নিজের দেশের কাজ বিদেশিদের দিতে হবে? দেশের শ্রমিকরা কাজ না পেয়ে অসহায় দিন পার করছে। অথচ এদিকে বিদেশে কাজ দেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। আমরা এসব মানবো না।’
এনসিপির শ্রমিক উইংয়ের মুখ্য সংগঠক শিপন বলেন, রাষ্ট্রের সংবিধান পরিবর্তন করে শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। কারণ বিভিন্ন শ্রমিক নেতা ও ব্যবসায়ীরা হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। সরকার যদি কথা না শোনে তাহলে বুঝতে হবে বিদেশিদের হাতে কাজ দিয়ে আবার বড় অংক পাচার করা হবে।
# এনসিটিবির বক্তব্য:
পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণে আন্তর্জাতিক টেন্ডার (দরপত্র) আহ্বানের বিষয়টি সঠিক নয় বলে জানিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।
রোববার সংস্থাটির সচিব অধ্যাপক সাহতাব উদ্দিনের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি কিছু প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় তথ্যের সঠিকতা যাচাই না করে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণে আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বান সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত খবরের যথার্থতা না থাকায় এ ধরনের সংবাদে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সবাইকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হল।