বরেন্দ্র এলাকায় ভাদ্র মাসেও শুরু হচ্ছে আমের নতুন মৌসুম
বাংলার পঞ্জিকা অনুযায়ী দেশে আমের মৌসুম শেষ হয়ে গেছে বেশ আগেই। তবে মৌসুম শেষে বরেন্দ্র অঞ্চলে দেখা যাচ্ছে এক ভিন্ন চিত্র। এখানে এখনও গাছে গাছে ঝুলছে সুস্বাদু আম, ভাদ্র মাসের খরতাপেও নতুন করে শুরু হচ্ছে আমের মৌসুম। বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় শত শত বাগানজুড়ে ঝুলছে থোকায় থোকায় কাটিমন আম।
কাটিমন: আমের নতুন পরিচয়
কৃষিবিদদের মতে, কাটিমন বা সুইট কাটিমন হলো থাইল্যান্ড থেকে আনা একটি প্রজাতি। দেশীয় জাতের বাইরে সারাবছর চাষ করা যায় বলে এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা অনেক। মৌসুমের বাইরেও বাজারে এ আমের চাহিদা থাকে, ফলে দামও ভালো। চাষিরা বছরে দু’বার আম সংগ্রহ করতে পারেন। এজন্যই দিন দিন বাড়ছে কাটিমন চাষে আগ্রহ।
সরজমিনে বাগান ঘুরে দেখা যায়, গতকাল শনিবার সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আমনুরা থেকে নাচোল-আড্ডা, নওগাঁর পোরশা-নিয়ামতপুর সড়ক কিংবা তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা থেকে কলমা পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে অসংখ্য কাটিমন আমের বাগান।
নাচোল উপজেলার লক্ষ্মীপুর মোড়ের একটি বাগানে দেখা যায় ছোট ছোট গাছে ঝুলছে টসটসে আম, যা পথচারীদের দৃষ্টি কাড়ছে।
চাষিদের সাফল্যের গল্প
টি ইসলাম একজন আম বাগান মালিক। জানালেন, আট বছর আগে তিনি সাত বিঘা জমিতে কাটিমন আম চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তার সাতটি বাগানে ১৫-১৬ হাজার গাছ রয়েছে। সবটিতেই ফলন আসছে। বাজারে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি আম ২০০-৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বছরে দু’বার আম সংগ্রহ করে তিনি কয়েক লাখ টাকা আয় করছেন।
রাজশাহীর তানোর উপজেলার কৃষক তাবারক হোসেন জানান, আগে তিনি দেশি জাতের আম (গোপাল ভোগ, ন্যাংড়া, ক্ষিরসা) চাষ করতেন। কিন্তু খরচের তুলনায় লাভ না হওয়ায় সেগুলো কেটে এখন ২৫ বিঘা জমিতে প্রায় আড়াই হাজার কাটিমন গাছ করেছেন। চলতি বছরই তিনি ভালো ফলনের আশা করছেন।
কৃষিবিদের মতামত
চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের কৃষিবিদ ড. জহুরুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষামূলক সফলতার পর কাটিমন চাষ নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হর্টিকালচার সেন্টার ও নার্সারির মাধ্যমে এ আমের চারা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাষিরা বেশি আগ্রহী।
তিনি আরও জানান, কাটিমন চাষে বাড়তি যত্ন প্রয়োজন। এটি মূলত: শুষ্ক আবহাওয়ার ফসল। দেশি আমের তুলনায় কাটিমন গাছে আলাদা পরিচর্যা লাগে। মৌসুমের বাইরে ফলন চাইলে আমের মৌসুমে আসা মুকুল বা গুটি ছেঁটে দিতে হয়, যাকে বলা হয় প্রুনিং। এটি কাটিমন চাষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
অসময়ে আমের উৎসব
বরেন্দ্র অঞ্চলের গ্রামীণ সড়ক দিয়ে যে কোনো পথচারী গেলেই দেখতে পাবে আমে ভরা ছোট-বড় বাগান। মৌসুম শেষ হলেও গাছে ঝুলন্ত কাটিমন আম মনে করিয়ে দিচ্ছে বরেন্দ্র এলাকায় যেন বারোমাসই আমের উৎসব।
বরেন্দ্র এলাকায় ভাদ্র মাসেও শুরু হচ্ছে আমের নতুন মৌসুম
রোববার, ৩১ আগস্ট ২০২৫
বাংলার পঞ্জিকা অনুযায়ী দেশে আমের মৌসুম শেষ হয়ে গেছে বেশ আগেই। তবে মৌসুম শেষে বরেন্দ্র অঞ্চলে দেখা যাচ্ছে এক ভিন্ন চিত্র। এখানে এখনও গাছে গাছে ঝুলছে সুস্বাদু আম, ভাদ্র মাসের খরতাপেও নতুন করে শুরু হচ্ছে আমের মৌসুম। বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় শত শত বাগানজুড়ে ঝুলছে থোকায় থোকায় কাটিমন আম।
কাটিমন: আমের নতুন পরিচয়
কৃষিবিদদের মতে, কাটিমন বা সুইট কাটিমন হলো থাইল্যান্ড থেকে আনা একটি প্রজাতি। দেশীয় জাতের বাইরে সারাবছর চাষ করা যায় বলে এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা অনেক। মৌসুমের বাইরেও বাজারে এ আমের চাহিদা থাকে, ফলে দামও ভালো। চাষিরা বছরে দু’বার আম সংগ্রহ করতে পারেন। এজন্যই দিন দিন বাড়ছে কাটিমন চাষে আগ্রহ।
সরজমিনে বাগান ঘুরে দেখা যায়, গতকাল শনিবার সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আমনুরা থেকে নাচোল-আড্ডা, নওগাঁর পোরশা-নিয়ামতপুর সড়ক কিংবা তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা থেকে কলমা পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে অসংখ্য কাটিমন আমের বাগান।
নাচোল উপজেলার লক্ষ্মীপুর মোড়ের একটি বাগানে দেখা যায় ছোট ছোট গাছে ঝুলছে টসটসে আম, যা পথচারীদের দৃষ্টি কাড়ছে।
চাষিদের সাফল্যের গল্প
টি ইসলাম একজন আম বাগান মালিক। জানালেন, আট বছর আগে তিনি সাত বিঘা জমিতে কাটিমন আম চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তার সাতটি বাগানে ১৫-১৬ হাজার গাছ রয়েছে। সবটিতেই ফলন আসছে। বাজারে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি আম ২০০-৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বছরে দু’বার আম সংগ্রহ করে তিনি কয়েক লাখ টাকা আয় করছেন।
রাজশাহীর তানোর উপজেলার কৃষক তাবারক হোসেন জানান, আগে তিনি দেশি জাতের আম (গোপাল ভোগ, ন্যাংড়া, ক্ষিরসা) চাষ করতেন। কিন্তু খরচের তুলনায় লাভ না হওয়ায় সেগুলো কেটে এখন ২৫ বিঘা জমিতে প্রায় আড়াই হাজার কাটিমন গাছ করেছেন। চলতি বছরই তিনি ভালো ফলনের আশা করছেন।
কৃষিবিদের মতামত
চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের কৃষিবিদ ড. জহুরুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষামূলক সফলতার পর কাটিমন চাষ নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হর্টিকালচার সেন্টার ও নার্সারির মাধ্যমে এ আমের চারা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাষিরা বেশি আগ্রহী।
তিনি আরও জানান, কাটিমন চাষে বাড়তি যত্ন প্রয়োজন। এটি মূলত: শুষ্ক আবহাওয়ার ফসল। দেশি আমের তুলনায় কাটিমন গাছে আলাদা পরিচর্যা লাগে। মৌসুমের বাইরে ফলন চাইলে আমের মৌসুমে আসা মুকুল বা গুটি ছেঁটে দিতে হয়, যাকে বলা হয় প্রুনিং। এটি কাটিমন চাষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
অসময়ে আমের উৎসব
বরেন্দ্র অঞ্চলের গ্রামীণ সড়ক দিয়ে যে কোনো পথচারী গেলেই দেখতে পাবে আমে ভরা ছোট-বড় বাগান। মৌসুম শেষ হলেও গাছে ঝুলন্ত কাটিমন আম মনে করিয়ে দিচ্ছে বরেন্দ্র এলাকায় যেন বারোমাসই আমের উৎসব।