alt

সারাদেশ

তীব্র যানজটে জনদুর্ভোগ চরমে

কক্সবাজারে কচ্ছপগতিতে চলছে সড়কের কাজ

প্রতিনিধি, কক্সবাজার: : সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২

https://sangbad.net.bd/images/2022/January/24Jan22/news/%E0%A6%95%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B8%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87%20%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%9C%E0%A6%9F%20%E0%A7%A7.jpg

কক্সবাজারের যানজট । ছবি: সংবাদ

পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারের প্রধান সড়কের উভয় পাশে গর্ত করে বসানো হচ্ছে ড্রেন চাকা। যেখানে সাধারণ পথচারীদের হেঁটে চলার পথ একেবারে রুদ্ধ। শহরের প্রধান সড়কের হলিডে মোড় হতে শুরু করে রুমালিয়ার ছড়া পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলছে সড়কের খোঁড়াখুঁড়ি। এ কাজের গতিও চলছে কচ্ছপের মতো। যার কারনে তীব্র যানজটের শহরে পরিণত হয়েছে কক্সবাজার শহর। শহরের হাসপাতাল সড়কে চলছে পৌরসভার অধীনে নালা নির্মাণের কাজ। এতে মানুষের চলাচলের পাশাপাশি যানবাহন চলাচলেও দুর্ভোগের শেষ নেই। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ।

সোমবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে প্রতিবেদককে কক্সবাজার শহরের বিমান বন্দর সড়কের বাসিন্দা নুরুল আলম বলেন, মেইন রোডে কাজ করা হচ্ছে, কিন্তু বিকল্প সড়কগুলোতেও চলছের খোঁড়াখুঁড়ি। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ। অপর এক ব্যক্তিও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অপরিকল্পিত নির্মাণ কাজের কারণেই এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। পাঁচ মিনিটের রাস্তা যেতে ৩ ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে।

পর্যটন শহর কক্সবাজারে বাস টার্মিনাল থেকে কলাতলী মোড় পর্যন্ত রাস্তা অঘোষিত যানবাহন পার্কিংয়ের পরিণত হয়েছে। যার প্রভাবে তীব্র যানজটে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

পথচারীরা বলছেন, প্রশাসনের খামখেয়ালী ও উদাসীনতার কারণে সড়কের ব্যবস্থাপনার এই দৈন্যদশা। এতে কক্সবাজার শহরে ঢোকার আগেই পর্যটকদের কাছে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে।

ভুক্তভোগী মানুষরা বলেন, এখানে অবৈধভাবে অনেক গাড়ি পার্কিং করা হয়। এর কারনে এখানে যানজট লেগেই থাকে। আমরা হাঁটতে গেলেও কষ্ট হয়। অনেকেই বলেন এটা ঢাকার গাবতলী নাকি কক্সবাজারের কলাতলী।

এদিকে, শহরের প্রধান সড়কের কাজ করছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। আর উপ-সড়কের কাজ করছে কক্সবাজার পৌরসভা। এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠান দুইটির সমন্বয়হীনতার কারণেই দুভোর্গ বলছেন সচেতন মহল।

কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, যে উন্নয়ন জনগণের দুর্ভোগ ডেকে আনে সেই উন্নয়ন আমরা চাই না। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও পৌরসভার সমন্বয়হীনতার কারণেই এই জনদুর্ভোগ নেমে এসেছে।

কক্সবাজার পৌরসভা প্যানেল মেয়র হেলাল উদ্দিন কবির বলেন, আমরা চেষ্টা করছি যেন বর্ষার আগেই অন্তত কিছু সড়কের কাজ শেষ করা যায়। তাতে দুর্ভোগ কিছুটা কমবে।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ফোরকান আহমদ বলেন, আমরা দ্রুততম সময়ে কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি। আমরা আশা করছি চলিত বছরের জুন মাসের দিকে এই রাস্তার কাজ শেষের দিকে চলে যাবে।

সূত্র জানিয়েছে, কক্সবাজার পৌরসভা বাস্তবায়ন করছে ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ২৪ কিলোমিটার রাস্তা, ২৩ কিলোমিটার নালা ও ২৩ কিলোমিটার লাইটিংয়ের কাজ। আর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ৫ দশমিক ২ কিলোমিটার প্রধান সড়ক বাস্তবায়ন করছে প্রায় ২৫৮ কোটি টাকায়।

দরপত্রের কার্যাদেশ অনুসারে কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়ক উন্নয়ন কাজ শেষ হবে ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে। কিন্তু গত এক বছরে এখনো ড্রেনের কাজই শেষ করতে পারেনি কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ সড়কে এক সঙ্গে ড্রেনের কাজ শুরু করলেও হাতেগোনা কয়েকজন শ্রমিক দিয়ে মন্থর গতিতে কাজ চলায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। খোঁড়া অংশ সংস্কার করার আগে নতুন জায়গায় খুঁড়াখুঁড়ি চলছে প্রতিনিয়ত। ফলে দীর্ঘায়িত হচ্ছে জনদুর্ভোগ, ঘটছে দুর্ঘটনাও। কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লোক দেখানো কাজ করছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

https://sangbad.net.bd/images/2022/January/24Jan22/news/%E0%A6%95%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B8%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%9C%E0%A6%9F%20%E0%A7%A9.jpg

কক্সবাজারের যানজট । ছবি: সংবাদ

সূত্রমতে, এক সময়ের সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতাধীন থাকা জনগুরুত্বপূর্ণ কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়কটি প্রশস্তকরণ প্রকল্প হাতে নেয় ২০১৬ সালে যাত্রা হওয়া কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে হলিডে মোড়-বাজারঘাটা-লারপাড়া (বাসস্ট্যান্ড) সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পে ৪ দশমিক ৬৬ কিলোমিটার সড়কের ব্যয় ধরা হয়েছে একশ ৮২ কোটি ৭২ লাখ ৩৮ হাজার ৩০৮ দশমিক ৭৮৫ টাকা। সড়ক নির্মাণ শেষে সৌন্দর্য্য বর্ধণ প্রকল্পসহ অন্যান্য আনুষাঙ্গিক কাজ সম্পন্ন করতে আরও ৬৬ কোটি ১০ লাখ টাকা বাড়তি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়কের নতুন অবয়ব দিতে সরকার ব্যয় করছে ২৫৮ কেটি ৮২ লাখ টাকা।

২০১৯ সালের ১৬ জুলাইয়ে প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পাওয়ার পর দরপত্র আহ্বান করে কউক। দু’ভাগে বিভক্ত প্রকল্পটিতে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কাজ পেয়েছে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (এনডিই) এবং তাহের ব্রাদার্স নামে দুটি প্রতিষ্ঠান। এনডিই অনুমতি পেয়েছে হাশেমিয়া মাদ্রাসা হতে হলিডে মোড়’ ২ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার কাজের।

কউকের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২২ সালের জুলাই মাসে কাজ বুঝিয়ে দেয়ার কথা তাদের। আর তাহের ব্রাদার্স পেয়েছে প্রকল্পের হাশেমিয়া মাদ্রাসা হতে বাসস্ট্যান্ড ২ দশমিক ২১০ কিলোমিটার সড়কের কাজ। তারাও কাজ বুঝিয়ে দেবে একই সময়ে।

কিন্তু ২০২০ সালের অক্টোবরের শেষ দিকে শুরু হওয়া কাজের ১৬ মাস অতিক্রম হলেও এখনো ড্রেইন তৈরির কাজও সমাপ্ত করতে পারেনি প্রতিষ্ঠান দুটি। উল্টো পরিকল্পনাহীন খোঁড়াখুঁড়ির ফলে শহরের অভ্যন্তরে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। আদালত ও সরকারি দপ্তরবেষ্টিত এলাকা হিসেবে সবচেয়ে কাহিল অবস্থা হাশেমিয়া মাদ্রাসা হতে হলিডে মোড় সড়ক এলাকায়। কিছু কিছু স্থানে হাতে গোনা কয়েকজন শ্রমিক দিয়ে ড্রেনের কাজ করা হচ্ছে। কচ্ছপগতির কাজে ভোগান্তি বেড়েছে পৌরবাসী ও জেলা প্রশাসন অফিসে আসা সেবা প্রার্থীদের। ঘটছে দুর্ঘটনাও। সবচেয়ে বেশি ভেগান্তিতে পড়েছেন ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, রোগী, গর্ভবতীরা।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (এনডিই)’র প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর প্রকৌশলী আরিফুর রহমান বলেন, সহজভাবে কাজ করতে পর্যাপ্ত সুযোগ না পাওয়ায় আমাদের ব্যয়ভার বেড়ে যাচ্ছে। তবে সময় মতো কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, পর্যটন মৌসুমে অতিরিক্ত যানবাহন প্রবেশ, পার্কিংয়ের জায়গার সংকট এবং রাস্তার উন্নয়ন কাজ চলমান থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আশাকরি খুব দ্রুত এটি সমাধান হবে।

ছবি

সাভারে বকেয়া পরিশোধের দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

নগরকান্দায় পেরাক ডুকিয়ে ব্যবসায়ীকে হত্যা

শাহজীবাজার বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আগুন, আতংকে এলাকাবাসী

রাস্তা পার হতে গিয়ে গাড়ি চাপায় যুবকের মৃত্যু

লালমনিরহাটে দুই ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত

বেগমগঞ্জের ছাত্র হোষ্টেলে সন্ত্রাসীদের হামলা। আহত ৬

ছবি

প্লাস্টিক বর্জ্য মুক্ত হচ্ছে মাধবকুণ্ড

ছবি

মেঘনা থেকে বালু তুলতে পারবেন না সেলিম খান

কক্সবাজার হাসপাতালের মর্গের ফ্রিজ নষ্ট

ছবি

সুপ্রিম কোর্টে নিরাপত্তা জোরদার, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন

ছবি

বরিশালে গাছের সঙ্গে বাসের ধাক্কা, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০

ছবি

শাহজিবাজার বিদ্যুৎ প্লান্টে ভয়াবহ আগুন

নোয়াখালীতে ৯টি অবৈধ ক্লিনিক সিলগালা

ছবি

কিশোরী সংঘের ছোঁয়ায় রোধ হচ্ছে বাল্যবিবাহ, স্কুল থেকে ঝরে পড়া

রংপুরে ২৪ ঘণ্টায় দুই হত্যাকান্ড

ছবি

নতুন বিষয় ও গবেষণার কাজে আরও মনোযোগী হতে হবে: উপাচার্য

ছবি

বাঁশ দিয়ে ঘিরে দখল সরকারি পুকুর

আসামিদের হুমকিতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে পরিবার

সেতু সংস্কারের অভাবে বাড়ছে ভোগান্তি

কৃষি আবহাওয়ার পূর্বাভাস বঞ্চিত শেরপুরে প্রায় ৬০ হাজার কৃষক

ধর্ষণের শিকার শিশু মামলার পরও গ্রেপ্তার হয়নি অভিযুক্ত

ছাত্রীর পর এবার এমসি কলেজ ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

ছবি

২২ বছর ধরে পারাপারের ভরসা নড়বড়ে সাঁকো

ছবি

চুয়াডাঙ্গায় ৩ ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা

ছবি

নরসিংদীতে পৃথক দুর্ঘটনায় নিহত ২

ছবি

নরসিংদীতে নির্বাচনী সংঘাতে আহত ১৫

ছবি

উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সাথে ট্রেন চলাচল শুরু

অহিংস অগ্নিযাত্রা : তরুণীকে হেনস্থার প্রতিবাদ

ছবি

ভরা মৌসুমে ধান সরবরাহ কম, বাড়ছে দাম

ছবি

তারেককে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে: তথ্যমন্ত্রী

ছবি

‘যারা দেশের টাকা পাচার করেছে তাদের নামের তালিকা করা হচ্ছে’

ছবি

শহরের মুদি দোকানগুলো বাকিতে পণ্য বিক্রি বন্ধ করায় দুর্দশায় ক্রেতারা

ছবি

খুলনা-কলকাতা রুটে রোববার থেকে চলবে ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’

ছবি

‘জাতীয়ভাবে এমন উদ্যোগ নিতে হবে যেন আমাদের সন্তানেরা থাকে নিরাপদে’

ছবি

আজ আসছে খিরসাপাত, আমের বাজার চড়া

ছবি

আশ্রয়ণ প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতি করলেই ব্যবস্থা: আইনমন্ত্রী

tab

সারাদেশ

তীব্র যানজটে জনদুর্ভোগ চরমে

কক্সবাজারে কচ্ছপগতিতে চলছে সড়কের কাজ

প্রতিনিধি, কক্সবাজার:

সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২

https://sangbad.net.bd/images/2022/January/24Jan22/news/%E0%A6%95%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B8%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87%20%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%9C%E0%A6%9F%20%E0%A7%A7.jpg

কক্সবাজারের যানজট । ছবি: সংবাদ

পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারের প্রধান সড়কের উভয় পাশে গর্ত করে বসানো হচ্ছে ড্রেন চাকা। যেখানে সাধারণ পথচারীদের হেঁটে চলার পথ একেবারে রুদ্ধ। শহরের প্রধান সড়কের হলিডে মোড় হতে শুরু করে রুমালিয়ার ছড়া পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলছে সড়কের খোঁড়াখুঁড়ি। এ কাজের গতিও চলছে কচ্ছপের মতো। যার কারনে তীব্র যানজটের শহরে পরিণত হয়েছে কক্সবাজার শহর। শহরের হাসপাতাল সড়কে চলছে পৌরসভার অধীনে নালা নির্মাণের কাজ। এতে মানুষের চলাচলের পাশাপাশি যানবাহন চলাচলেও দুর্ভোগের শেষ নেই। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ।

সোমবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে প্রতিবেদককে কক্সবাজার শহরের বিমান বন্দর সড়কের বাসিন্দা নুরুল আলম বলেন, মেইন রোডে কাজ করা হচ্ছে, কিন্তু বিকল্প সড়কগুলোতেও চলছের খোঁড়াখুঁড়ি। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ। অপর এক ব্যক্তিও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অপরিকল্পিত নির্মাণ কাজের কারণেই এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। পাঁচ মিনিটের রাস্তা যেতে ৩ ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে।

পর্যটন শহর কক্সবাজারে বাস টার্মিনাল থেকে কলাতলী মোড় পর্যন্ত রাস্তা অঘোষিত যানবাহন পার্কিংয়ের পরিণত হয়েছে। যার প্রভাবে তীব্র যানজটে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

পথচারীরা বলছেন, প্রশাসনের খামখেয়ালী ও উদাসীনতার কারণে সড়কের ব্যবস্থাপনার এই দৈন্যদশা। এতে কক্সবাজার শহরে ঢোকার আগেই পর্যটকদের কাছে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে।

ভুক্তভোগী মানুষরা বলেন, এখানে অবৈধভাবে অনেক গাড়ি পার্কিং করা হয়। এর কারনে এখানে যানজট লেগেই থাকে। আমরা হাঁটতে গেলেও কষ্ট হয়। অনেকেই বলেন এটা ঢাকার গাবতলী নাকি কক্সবাজারের কলাতলী।

এদিকে, শহরের প্রধান সড়কের কাজ করছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। আর উপ-সড়কের কাজ করছে কক্সবাজার পৌরসভা। এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠান দুইটির সমন্বয়হীনতার কারণেই দুভোর্গ বলছেন সচেতন মহল।

কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, যে উন্নয়ন জনগণের দুর্ভোগ ডেকে আনে সেই উন্নয়ন আমরা চাই না। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও পৌরসভার সমন্বয়হীনতার কারণেই এই জনদুর্ভোগ নেমে এসেছে।

কক্সবাজার পৌরসভা প্যানেল মেয়র হেলাল উদ্দিন কবির বলেন, আমরা চেষ্টা করছি যেন বর্ষার আগেই অন্তত কিছু সড়কের কাজ শেষ করা যায়। তাতে দুর্ভোগ কিছুটা কমবে।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ফোরকান আহমদ বলেন, আমরা দ্রুততম সময়ে কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি। আমরা আশা করছি চলিত বছরের জুন মাসের দিকে এই রাস্তার কাজ শেষের দিকে চলে যাবে।

সূত্র জানিয়েছে, কক্সবাজার পৌরসভা বাস্তবায়ন করছে ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ২৪ কিলোমিটার রাস্তা, ২৩ কিলোমিটার নালা ও ২৩ কিলোমিটার লাইটিংয়ের কাজ। আর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ৫ দশমিক ২ কিলোমিটার প্রধান সড়ক বাস্তবায়ন করছে প্রায় ২৫৮ কোটি টাকায়।

দরপত্রের কার্যাদেশ অনুসারে কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়ক উন্নয়ন কাজ শেষ হবে ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে। কিন্তু গত এক বছরে এখনো ড্রেনের কাজই শেষ করতে পারেনি কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ সড়কে এক সঙ্গে ড্রেনের কাজ শুরু করলেও হাতেগোনা কয়েকজন শ্রমিক দিয়ে মন্থর গতিতে কাজ চলায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। খোঁড়া অংশ সংস্কার করার আগে নতুন জায়গায় খুঁড়াখুঁড়ি চলছে প্রতিনিয়ত। ফলে দীর্ঘায়িত হচ্ছে জনদুর্ভোগ, ঘটছে দুর্ঘটনাও। কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লোক দেখানো কাজ করছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

https://sangbad.net.bd/images/2022/January/24Jan22/news/%E0%A6%95%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B8%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%9C%E0%A6%9F%20%E0%A7%A9.jpg

কক্সবাজারের যানজট । ছবি: সংবাদ

সূত্রমতে, এক সময়ের সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতাধীন থাকা জনগুরুত্বপূর্ণ কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়কটি প্রশস্তকরণ প্রকল্প হাতে নেয় ২০১৬ সালে যাত্রা হওয়া কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে হলিডে মোড়-বাজারঘাটা-লারপাড়া (বাসস্ট্যান্ড) সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পে ৪ দশমিক ৬৬ কিলোমিটার সড়কের ব্যয় ধরা হয়েছে একশ ৮২ কোটি ৭২ লাখ ৩৮ হাজার ৩০৮ দশমিক ৭৮৫ টাকা। সড়ক নির্মাণ শেষে সৌন্দর্য্য বর্ধণ প্রকল্পসহ অন্যান্য আনুষাঙ্গিক কাজ সম্পন্ন করতে আরও ৬৬ কোটি ১০ লাখ টাকা বাড়তি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়কের নতুন অবয়ব দিতে সরকার ব্যয় করছে ২৫৮ কেটি ৮২ লাখ টাকা।

২০১৯ সালের ১৬ জুলাইয়ে প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পাওয়ার পর দরপত্র আহ্বান করে কউক। দু’ভাগে বিভক্ত প্রকল্পটিতে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কাজ পেয়েছে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (এনডিই) এবং তাহের ব্রাদার্স নামে দুটি প্রতিষ্ঠান। এনডিই অনুমতি পেয়েছে হাশেমিয়া মাদ্রাসা হতে হলিডে মোড়’ ২ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার কাজের।

কউকের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২২ সালের জুলাই মাসে কাজ বুঝিয়ে দেয়ার কথা তাদের। আর তাহের ব্রাদার্স পেয়েছে প্রকল্পের হাশেমিয়া মাদ্রাসা হতে বাসস্ট্যান্ড ২ দশমিক ২১০ কিলোমিটার সড়কের কাজ। তারাও কাজ বুঝিয়ে দেবে একই সময়ে।

কিন্তু ২০২০ সালের অক্টোবরের শেষ দিকে শুরু হওয়া কাজের ১৬ মাস অতিক্রম হলেও এখনো ড্রেইন তৈরির কাজও সমাপ্ত করতে পারেনি প্রতিষ্ঠান দুটি। উল্টো পরিকল্পনাহীন খোঁড়াখুঁড়ির ফলে শহরের অভ্যন্তরে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। আদালত ও সরকারি দপ্তরবেষ্টিত এলাকা হিসেবে সবচেয়ে কাহিল অবস্থা হাশেমিয়া মাদ্রাসা হতে হলিডে মোড় সড়ক এলাকায়। কিছু কিছু স্থানে হাতে গোনা কয়েকজন শ্রমিক দিয়ে ড্রেনের কাজ করা হচ্ছে। কচ্ছপগতির কাজে ভোগান্তি বেড়েছে পৌরবাসী ও জেলা প্রশাসন অফিসে আসা সেবা প্রার্থীদের। ঘটছে দুর্ঘটনাও। সবচেয়ে বেশি ভেগান্তিতে পড়েছেন ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, রোগী, গর্ভবতীরা।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (এনডিই)’র প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর প্রকৌশলী আরিফুর রহমান বলেন, সহজভাবে কাজ করতে পর্যাপ্ত সুযোগ না পাওয়ায় আমাদের ব্যয়ভার বেড়ে যাচ্ছে। তবে সময় মতো কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, পর্যটন মৌসুমে অতিরিক্ত যানবাহন প্রবেশ, পার্কিংয়ের জায়গার সংকট এবং রাস্তার উন্নয়ন কাজ চলমান থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আশাকরি খুব দ্রুত এটি সমাধান হবে।

back to top