alt

সারাদেশ

রোহিঙ্গা ক্যাম্প : অপরাধের অভয়ারণ্য

জসিম সিদ্দিকী, কক্সবাজার : বুধবার, ১০ আগস্ট ২০২২

কক্সবাজার : রোহিঙ্গা ক্যাম্প -সংবাদ

রোহিঙ্গা ক্যাম্প নয় যেন অপরাধের অভয়ারণ্য। ৩২টি শিবিরে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের একটি বড় অংশ খুন, অপহরণ, ধর্ষণ, অস্ত্র, মাদক, স্বর্ণ পাচার ও ডাকাতিসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। ক্যাম্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে উঠে আসছে রোহিঙ্গাদের নিত্য-নতুন এ অপরাধের চিত্র। এসব অপরাধ এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত পাঁচ বছরে শিবিরগুলোতে প্রায় ১০১টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।

রোহিঙ্গারা শুধু নিজেদের মধ্যে খুনোখুনি নয়, রোহিঙ্গাদের হামলায় কয়েকজন বাংলাদেশিও নিহত হয়েছে। পাশাপাশি অপহরণের শিকারও হচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগের জায়গা হলো উখিয়া এবং টেকনাফে এখন রোহিঙ্গারাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। বাংলাদেশিরা সেখানে এখন সংখ্যালঘু। সে কারণেই শরণার্থী ক্যাম্পের পরিস্থিতি কতদিন নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকবে সে উদ্বেগ রয়েই যাচ্ছে স্থানীয়দের মাঝে। তাই প্রত্যাবাসনে যত বেশি সময় লাগবে, ক্যাম্পের পরিস্থিতি ততই খারাপ হবে বলে ধারণা করছেন কক্সবাজারের সচেতন মহল।

এদিকে বুধবার (১০ আগস্ট) উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফের সন্ত্রাসীদের গুলিতে ২ রোহিঙ্গা মাঝি নিহত হয়েছে। পুলিশ জানায়, বুধবার ১২টার দিকে জামতলী ১৫ নম্বর ক্যাম্পে অবস্থানকালে সি ব্লকের হেড মাঝি আবু তালেব এবং সি/৯ সাব ব্লকের মাঝি সৈয়দ হোসেনকে গুলি করে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। নিহত হেড মাঝি আবু তালেব জামতলী ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্লক সি/১ এর আবদুর রহিমের ছেলে এবং সাব মাঝি ব্লক সি/৯ এর ইমান হোসেনের ছেলে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত ৮ এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মোহাম্মদ কামরান হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে পূর্বশত্রুতার জের ধরে ৮ থেকে ১০ জন দুষ্কৃতকারী পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্যাম্পে ব্লক অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।

এছাড়া সর্বশেষ গত দুই-আড়াই মাসে মায়ানমারভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মির (আরসা) ২ নেতাসহ অন্তত পাঁচজন খুন হয়েছে। এদের মধ্যে ১ আগস্ট বিকেলে কক্সবাজারের উখিয়ার মধুরছড়া রোহিঙ্গা শিবিরে নুরুল আমিন (২৬) নামের এক রোহিঙ্গা যুবক খুন হয়। জানাযায়, ক্যাম্প-৪ এক্সটেনশনের আই ব্লকে এই হত্যাকান্ড ঘটে। মৃত নুরুল আমিন ওই ক্যাম্পের আবু শামার ছেলে।

গত বছর ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা ও তাদের অধিকার আদায়ের সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মুহিব উল্লাহকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর থেকে নিহতের পরিবারের সদস্যরা রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরসাকে দায়ী করে আসছিল। এরপর ২২ অক্টোবর ১৮ নম্বর ক্যাম্পের একটি মাদ্রাসায় সশস্ত্র হামলা চালিয়ে গুলি করে ছয়জন ছাত্র-শিক্ষককে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।

এসব বড় ঘটনার পরেও একের পর এক হত্যাকান্ড ঘটলেও তা ঠেকানো যাচ্ছে না। এমনকি রোহিঙ্গা শিবিরে রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মির (আরসা) উপস্থিতির বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে এলেও এতদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সরকারের পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হয়। সর্বশেষ ১৩ জুন পুলিশের দেয়া রোহিঙ্গা নেতা মুহিব উল্লাহ হত্যাকান্ডের তদন্ত প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে শরণার্থী শিবিরে আরসা সদস্যদের উপস্থিতি স্বীকার করে পুলিশ। ওই তদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়, মুহিব উল্লাহকে আরসা প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনীর নির্দেশে হত্যা করা হয়। মুহিব উল্লাহ আরসা প্রধানের চেয়ে জনপ্রিয় নেতা হয়ে যাচ্ছিলেন বিধায় তাকে হত্যা করে আরসার সদস্যরা। মুহিব উল্লাহর সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের কারণে আরসার কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হচ্ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সাধারণ রোহিঙ্গাদের ভাষ্য, রোহিঙ্গা শিবিরে আরসা সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ সাধারণ রোহিঙ্গারা। শিবিরে ডাকাতি, চাঁদাবাজি, খুন, ধর্ষণসহ এমন কোন অপরাধ নেই যেখানে আরসা জড়িত নয়। তাদের মতে, নানা অপরাধের পাশাপাশি আরসা সন্ত্রাসীরা রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে প্রত্যাবাসনের বিপক্ষে কাজ করে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী ক্যাম্পগুলোর অপরাধের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও সেদিকে ইঙ্গিত করছে। জেলার দুর্গম সব এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ক্যাম্পগুলোতে পারিবারিক সংঘাত থেকে শুরু করে ডাকাতি যেমন হয়, তেমনি অপহরণ, মানবপাচার, ধর্ষণ বা পুলিশের ওপর হামলার মতো অপরাধের খবর হরহামেশাই আসছে। মামলাও হচ্ছে সংশ্লিষ্ট থানায়। অপরাধের তালিকায় মাদক ও অস্ত্রের আধিপত্য রয়ে গেছে আগের মতোই।

১০ ধরনের অপরাধে লিপ্ত রোহিঙ্গারা

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অস্ত্র কারবার, মাদক কারবার, মানবপাচার, কথায় কথায় খুন, অপহরণপূর্বক মুক্তিপণ, ডাকাতি, চুরি, আধিপত্য বিস্তার, সাইবার ক্রাইম, যৌন নির্যাতন, অবৈধ সিম বাণিজ্য, স্থানীয়দের জমি দখল, হুন্ডি, জাল টাকার কারবার, স্বর্ণ কারবার, বাল্য বিবাহ, চোরা কারবার, ভয়ংকর কিশোর গ্যাং, গ্রুপভিত্তিক আধিপত্য বিস্তার, ধর্ষণ, পুলিশের ওপর হামলাসহ অহরহ অপরাধ সংঘঠিত করছে রোহিঙ্গারা। তবে জেলা পুলিশের হিসাব বলছে, মূলত ১০ ধরনের অপরাধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে, অস্ত্র, মাদক, ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ, অবৈধ অনুপ্রবেশ, অপহরণ, পুলিশের ওপর হামলা, ডাকাতি ও ডাকাতির প্রস্তুতি, হত্যা ও মানবপাচার। অন্যদিকে, স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে মে মাসে দেশব্যাপী শুরু মাদকবিরোধী অভিযানে কক্সবাজারে বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে ২৭৯ জন। এদের মধ্যে রোহিঙ্গা ১০৯ জন। নিহত রোহিঙ্গাদের মধ্যে তিনজন নারী ছিলেন।

লম্বাশিয়া ক্যম্পের ওসমান গনি নামে এক যুবক বলেন, রাতের বেলায় ক্যাম্পের ভেতর অস্ত্রধারী লোকজনের ঘোরাফেরা দেখে এখানকার বাসিন্দারা অভ্যস্ত। এই অস্ত্রধারীদের অনেকেই নিজেদের আরসার উপদল আল ইয়াকিনের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেয়। আবার কিছু স্থানীয় দলও আছে উল্লেখ করে তিনি জানান, তারা ক্যাম্পের ভেতরে যারা ব্যবসা বা অন্য উপায়ে উপার্জন করে তাদের কাছ থেকে চাঁদা নেয়। বাইরের দিক থেকে এই শরণার্থী ক্যাম্প আপাতত শান্ত মনে হলেও ভেতরে-ভেতরে অস্থিরতা ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে।

ক্যাম্পের ভেতরে দিনের বেলায় এক রকম চিত্র থাকলেও রাতের বেলা চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন। দিনে নিরাপত্তা বাহিনীর টহল থাকলেও রাতে অরক্ষিত থাকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প। তাই রাতের আঁধার নামার সঙ্গে সঙ্গেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সশস্ত্র পদচারণা শুরু হয় বলেও জানান শরণার্থী যুবক ওসমান।

ক্যাম্পের ভেতর ২০টির বেশি সংঘবদ্ধ দল

ক্যাম্পের ভেতর ২০টির বেশি সংঘবদ্ধ দলের খবর জানিয়েছে একটি সূত্র। তবে আরসা বা হারাকা আল ইয়াকিন, আরএসও, ইসলামী মাহাজ সংগঠনের নামে এক ধরনের তৎপরতার খবর পাওয়া যায় উল্লেখ করে ওই যুবক বলেন, এর বাইরেও মুন্না গ্রুপ, হাকিম ডাকাত বাহিনীর মতো কিছু অপরাধী দল আছে বলে শোনা যায়। যারা মাদক চোরাচালান, ডাকাতি, অপহরণ, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ আছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিক্তিক বেশিরভাগ সন্ত্রাসী গ্রুপের সঙ্গে মায়ানমার সরকারের প্রতিনিধিদের যোগাযোগ রয়েছে। ক্যাম্প অশান্ত করার জন্য সন্ত্রাসী গ্রুপকে কোটি কোটি টাকার ইয়াবা ফ্রিতে দিচ্ছে মায়ানমার সরকার। মূলত বিশ্বের দরবারে রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসী হিসেবে তুলে ধরা, আন্তর্জাতিক আদালতে চলমান রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়াকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করা এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাধাগ্রস্ত করতে চায় মায়ানমার। তবে সরকারের পক্ষ থেকে ক্যাম্পে আরসার উপস্থিতি বরাবরই অস্বীকার করা হচ্ছে।

বর্তমানে ১১ লাখের বেশি আশ্রিত মায়ানমারের নাগরিক বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ার কারণে বিপুল পরিমাণ বনভূমি ও পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। তারা গাছ কাটার মাধ্যমে বনভূমি হ্রাস এবং এলাকার পরিবেশগত বিপর্যয় সৃষ্টি করছে। শুধু তাই নয়, প্রতি বছর ৪৫ হাজারের বেশি শিশুর জন্মগ্রহণ করছে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। ইতোমধ্যে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে সরকারের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাসহ ৩০ হাজার রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে আশ্রয় দিয়েছে। সরকার এক লাখ রোহিঙ্গাকে সাময়িকভাবে আশ্রয় দেয়ার জন্য ভাসানচরকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে গড়ে তুলেছে।

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিক শহীদুল্লাহ কায়সার বলেন, বিদেশে বসবাসকারী বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার সঙ্গে ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের চেয়ে সহজ পস্থায় বাংলাদেশের পাসপোর্ট হাতে পায় তারা। ফলে অপরাধ করেই বিদেশ চলে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের করার কিছুই থাকে না। অপরাধী শনাক্ত আগেই বিমানবন্দর পার হয়ে যায় অপরাধীরা।

প্রত্যাবাসনে দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তায় অপরাধ বাড়ছে

এদিকে গত ২৪ মে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি বলেছিলেন, প্রত্যাবাসনের দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তায় রোহিঙ্গারা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত হচ্ছে। ওই সময় তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা তাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার কারণে হতাশ হয়ে পড়ছে, যার একটি সম্ভাব্য ঝুঁকি রয়েছে। এটি তাদের অনেককে অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত হতে প্ররোচিত করছে। বৈঠকে ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি শেখ হাসিনার আশঙ্কার সঙ্গে একমত হন যে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ অবস্থান তাদের অনেককে অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত হতে প্ররোচিত করবে। মায়ানমার সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু করতে তিনি বর্তমান মায়ানমার সরকারকে অনুরোধ করেছেন। তিনি আরও বলেন, মায়ানমারের বর্তমান সরকার প্রত্যাবাসন শুরু করতে সম্মত হয়েছে। ইউএনএইচসিআর প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবে।

উল্লিখিত বিষয় নিয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন অতিরিক্ত কমিশনার শামশুদৌজা নয়নের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বভাবিক রয়েছে। অপরাধমূলক কর্মকান্ড রোধে ক্যাম্পের নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারাই বিষয়টি দেখভাল করছেন।

৩২টি শিবিরে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের একটি বড় অংশ খুন, অপহরণ, ধর্ষণ, অস্ত্র, মাদক, স্বর্ণ পাচার ও ডাকাতিসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। ক্যাম্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে উঠে আসছে রোহিঙ্গাদের নিত্যনতুন এ অপরাধের চিত্র। এসব অপরাধ এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত পাঁচ বছরে শিবিরগুলোতে প্রায় ১০১টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ জানান, রোহিঙ্গাদের নিজস্ব কারণে খুনোখুনিগুলো হচ্ছে এবং তার প্রভাব কক্সবাজারের আইশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপরও পড়ছে।

ছবি

টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ

ছবি

সখীপুর উপজেলা পরিষদ গেটে খাবারের সন্ধানে বানর

সারাদেশে নারায়ণগঞ্জ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মহা উদাহরণ: আইভী

ছবি

এসএসসি’র প্রশ্নফাঁস: আরও দুই শিক্ষক রিমান্ডে

ছবি

শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা, লাশ প্রতিবেশীর চালের ড্রামে

ছবি

টেকনাফে ২ দিন পর মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেলেন অপহৃত বাবা-ছেলে

ছবি

মহাসড়কে টোল আদায় না করতে মেয়রদের প্রতি নির্দেশনা

ছবি

রাজধানীতে স্বস্তির বৃষ্টি

ছবি

সবজির হাটে মালবাহী ট্রাকচাপায় নিহত ৪

ছবি

রংপুরে পদ্মা সেতুর আদলে পুজা মন্ডপ

ছবি

নারায়ণগঞ্জে গলা কেটে খুনের পর অটোরিকশা ছিনতাই : গ্রেপ্তার ১

জামালপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের দুর্নীতির প্রতিবাদে মানববন্ধন

ডেঙ্গু : সেপ্টেম্বরে হাসপাতালে ভর্তি ৯ হাজার ৯১১ রোগী

ফুলপুরে স্ত্রীকে পিটিয়ে মারার অভিযোগে স্বামী আটক

ছবি

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার রেকর্ড ৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা

ছবি

রংপুরেমুক্তিযোদ্ধাদের ডিজিটাল সার্টিফিকেট ও স্মার্ট আইডি কার্ড বিতরণ

ছবি

‘৬ লাখ টাকা’ মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেলেন টেকনাফের দুই কৃষক

ছবি

কক্সবাজারে ৩০৫টি পূজা মন্ডপে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু

ছবি

কক্সবাজারে বিকেএসপির আঞ্চলিক কেন্দ্র পরিদর্শন করলেন সংসদীয় কমিটি

ছবি

টেকনাফ থেকে আবারও কৃষক অপহরণ!

ছবি

কক্সবাজারে আরও ১২টি দোকান উচ্ছেদ করল কউক

ছবি

ফরিদপুরে মুখোমুখি রাজেন্দ্র কলেজ ও জেলা প্রশাসন সীমানা প্রাচির নির্মাণ কাজ বন্ধ

ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা : আটক ৩

ছবি

সিরাজগঞ্জে ফাঁকা বাড়িতে মা ও দুই ছেলের লাশ

চাঁদাবাজির অভিযোগে ২ ছাত্রলীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩ জন

রিকশাচালকের রক্তাক্ত মরদেহ

ছবি

প্রতিবন্ধী পরিবারকে উচ্ছেদের পাঁয়তারা

ছবি

পাগলা মস‌জি‌দের দানবাক্সে ১৫ বস্তা টাকা, চলছে গণনা

ফুলছড়িতে স্মার্ট কার্ড বিতরণে অব্যবস্থাপনা নাগরিক ভোগান্তি

কক্সবাজারে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত দুই পর্যটক হাসপাতালে

ডিবি পরিচয়ে ১০ দোকানে ডাকাতি

জমি বিবাদে দুই ভাতিজাকে অ্যাসিড নিক্ষেপ চাচার

ছবি

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে মানববন্ধন

ছবি

ফরিদপুরে ট্রাকচাপায় যুবক নিহত

ছবি

দুর্বৃত্তদের গুলিতে প্রাণ গেল যুবলীগ নেতার

ছবি

নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে কোন পরিবর্তন নেই

tab

সারাদেশ

রোহিঙ্গা ক্যাম্প : অপরাধের অভয়ারণ্য

জসিম সিদ্দিকী, কক্সবাজার

কক্সবাজার : রোহিঙ্গা ক্যাম্প -সংবাদ

বুধবার, ১০ আগস্ট ২০২২

রোহিঙ্গা ক্যাম্প নয় যেন অপরাধের অভয়ারণ্য। ৩২টি শিবিরে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের একটি বড় অংশ খুন, অপহরণ, ধর্ষণ, অস্ত্র, মাদক, স্বর্ণ পাচার ও ডাকাতিসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। ক্যাম্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে উঠে আসছে রোহিঙ্গাদের নিত্য-নতুন এ অপরাধের চিত্র। এসব অপরাধ এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত পাঁচ বছরে শিবিরগুলোতে প্রায় ১০১টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।

রোহিঙ্গারা শুধু নিজেদের মধ্যে খুনোখুনি নয়, রোহিঙ্গাদের হামলায় কয়েকজন বাংলাদেশিও নিহত হয়েছে। পাশাপাশি অপহরণের শিকারও হচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগের জায়গা হলো উখিয়া এবং টেকনাফে এখন রোহিঙ্গারাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। বাংলাদেশিরা সেখানে এখন সংখ্যালঘু। সে কারণেই শরণার্থী ক্যাম্পের পরিস্থিতি কতদিন নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকবে সে উদ্বেগ রয়েই যাচ্ছে স্থানীয়দের মাঝে। তাই প্রত্যাবাসনে যত বেশি সময় লাগবে, ক্যাম্পের পরিস্থিতি ততই খারাপ হবে বলে ধারণা করছেন কক্সবাজারের সচেতন মহল।

এদিকে বুধবার (১০ আগস্ট) উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফের সন্ত্রাসীদের গুলিতে ২ রোহিঙ্গা মাঝি নিহত হয়েছে। পুলিশ জানায়, বুধবার ১২টার দিকে জামতলী ১৫ নম্বর ক্যাম্পে অবস্থানকালে সি ব্লকের হেড মাঝি আবু তালেব এবং সি/৯ সাব ব্লকের মাঝি সৈয়দ হোসেনকে গুলি করে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। নিহত হেড মাঝি আবু তালেব জামতলী ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্লক সি/১ এর আবদুর রহিমের ছেলে এবং সাব মাঝি ব্লক সি/৯ এর ইমান হোসেনের ছেলে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত ৮ এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মোহাম্মদ কামরান হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে পূর্বশত্রুতার জের ধরে ৮ থেকে ১০ জন দুষ্কৃতকারী পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্যাম্পে ব্লক অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।

এছাড়া সর্বশেষ গত দুই-আড়াই মাসে মায়ানমারভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মির (আরসা) ২ নেতাসহ অন্তত পাঁচজন খুন হয়েছে। এদের মধ্যে ১ আগস্ট বিকেলে কক্সবাজারের উখিয়ার মধুরছড়া রোহিঙ্গা শিবিরে নুরুল আমিন (২৬) নামের এক রোহিঙ্গা যুবক খুন হয়। জানাযায়, ক্যাম্প-৪ এক্সটেনশনের আই ব্লকে এই হত্যাকান্ড ঘটে। মৃত নুরুল আমিন ওই ক্যাম্পের আবু শামার ছেলে।

গত বছর ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা ও তাদের অধিকার আদায়ের সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মুহিব উল্লাহকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর থেকে নিহতের পরিবারের সদস্যরা রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরসাকে দায়ী করে আসছিল। এরপর ২২ অক্টোবর ১৮ নম্বর ক্যাম্পের একটি মাদ্রাসায় সশস্ত্র হামলা চালিয়ে গুলি করে ছয়জন ছাত্র-শিক্ষককে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।

এসব বড় ঘটনার পরেও একের পর এক হত্যাকান্ড ঘটলেও তা ঠেকানো যাচ্ছে না। এমনকি রোহিঙ্গা শিবিরে রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মির (আরসা) উপস্থিতির বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে এলেও এতদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সরকারের পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হয়। সর্বশেষ ১৩ জুন পুলিশের দেয়া রোহিঙ্গা নেতা মুহিব উল্লাহ হত্যাকান্ডের তদন্ত প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে শরণার্থী শিবিরে আরসা সদস্যদের উপস্থিতি স্বীকার করে পুলিশ। ওই তদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়, মুহিব উল্লাহকে আরসা প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনীর নির্দেশে হত্যা করা হয়। মুহিব উল্লাহ আরসা প্রধানের চেয়ে জনপ্রিয় নেতা হয়ে যাচ্ছিলেন বিধায় তাকে হত্যা করে আরসার সদস্যরা। মুহিব উল্লাহর সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের কারণে আরসার কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হচ্ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সাধারণ রোহিঙ্গাদের ভাষ্য, রোহিঙ্গা শিবিরে আরসা সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ সাধারণ রোহিঙ্গারা। শিবিরে ডাকাতি, চাঁদাবাজি, খুন, ধর্ষণসহ এমন কোন অপরাধ নেই যেখানে আরসা জড়িত নয়। তাদের মতে, নানা অপরাধের পাশাপাশি আরসা সন্ত্রাসীরা রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে প্রত্যাবাসনের বিপক্ষে কাজ করে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী ক্যাম্পগুলোর অপরাধের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও সেদিকে ইঙ্গিত করছে। জেলার দুর্গম সব এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ক্যাম্পগুলোতে পারিবারিক সংঘাত থেকে শুরু করে ডাকাতি যেমন হয়, তেমনি অপহরণ, মানবপাচার, ধর্ষণ বা পুলিশের ওপর হামলার মতো অপরাধের খবর হরহামেশাই আসছে। মামলাও হচ্ছে সংশ্লিষ্ট থানায়। অপরাধের তালিকায় মাদক ও অস্ত্রের আধিপত্য রয়ে গেছে আগের মতোই।

১০ ধরনের অপরাধে লিপ্ত রোহিঙ্গারা

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অস্ত্র কারবার, মাদক কারবার, মানবপাচার, কথায় কথায় খুন, অপহরণপূর্বক মুক্তিপণ, ডাকাতি, চুরি, আধিপত্য বিস্তার, সাইবার ক্রাইম, যৌন নির্যাতন, অবৈধ সিম বাণিজ্য, স্থানীয়দের জমি দখল, হুন্ডি, জাল টাকার কারবার, স্বর্ণ কারবার, বাল্য বিবাহ, চোরা কারবার, ভয়ংকর কিশোর গ্যাং, গ্রুপভিত্তিক আধিপত্য বিস্তার, ধর্ষণ, পুলিশের ওপর হামলাসহ অহরহ অপরাধ সংঘঠিত করছে রোহিঙ্গারা। তবে জেলা পুলিশের হিসাব বলছে, মূলত ১০ ধরনের অপরাধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে, অস্ত্র, মাদক, ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ, অবৈধ অনুপ্রবেশ, অপহরণ, পুলিশের ওপর হামলা, ডাকাতি ও ডাকাতির প্রস্তুতি, হত্যা ও মানবপাচার। অন্যদিকে, স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে মে মাসে দেশব্যাপী শুরু মাদকবিরোধী অভিযানে কক্সবাজারে বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে ২৭৯ জন। এদের মধ্যে রোহিঙ্গা ১০৯ জন। নিহত রোহিঙ্গাদের মধ্যে তিনজন নারী ছিলেন।

লম্বাশিয়া ক্যম্পের ওসমান গনি নামে এক যুবক বলেন, রাতের বেলায় ক্যাম্পের ভেতর অস্ত্রধারী লোকজনের ঘোরাফেরা দেখে এখানকার বাসিন্দারা অভ্যস্ত। এই অস্ত্রধারীদের অনেকেই নিজেদের আরসার উপদল আল ইয়াকিনের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেয়। আবার কিছু স্থানীয় দলও আছে উল্লেখ করে তিনি জানান, তারা ক্যাম্পের ভেতরে যারা ব্যবসা বা অন্য উপায়ে উপার্জন করে তাদের কাছ থেকে চাঁদা নেয়। বাইরের দিক থেকে এই শরণার্থী ক্যাম্প আপাতত শান্ত মনে হলেও ভেতরে-ভেতরে অস্থিরতা ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে।

ক্যাম্পের ভেতরে দিনের বেলায় এক রকম চিত্র থাকলেও রাতের বেলা চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন। দিনে নিরাপত্তা বাহিনীর টহল থাকলেও রাতে অরক্ষিত থাকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প। তাই রাতের আঁধার নামার সঙ্গে সঙ্গেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সশস্ত্র পদচারণা শুরু হয় বলেও জানান শরণার্থী যুবক ওসমান।

ক্যাম্পের ভেতর ২০টির বেশি সংঘবদ্ধ দল

ক্যাম্পের ভেতর ২০টির বেশি সংঘবদ্ধ দলের খবর জানিয়েছে একটি সূত্র। তবে আরসা বা হারাকা আল ইয়াকিন, আরএসও, ইসলামী মাহাজ সংগঠনের নামে এক ধরনের তৎপরতার খবর পাওয়া যায় উল্লেখ করে ওই যুবক বলেন, এর বাইরেও মুন্না গ্রুপ, হাকিম ডাকাত বাহিনীর মতো কিছু অপরাধী দল আছে বলে শোনা যায়। যারা মাদক চোরাচালান, ডাকাতি, অপহরণ, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ আছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিক্তিক বেশিরভাগ সন্ত্রাসী গ্রুপের সঙ্গে মায়ানমার সরকারের প্রতিনিধিদের যোগাযোগ রয়েছে। ক্যাম্প অশান্ত করার জন্য সন্ত্রাসী গ্রুপকে কোটি কোটি টাকার ইয়াবা ফ্রিতে দিচ্ছে মায়ানমার সরকার। মূলত বিশ্বের দরবারে রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসী হিসেবে তুলে ধরা, আন্তর্জাতিক আদালতে চলমান রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়াকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করা এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাধাগ্রস্ত করতে চায় মায়ানমার। তবে সরকারের পক্ষ থেকে ক্যাম্পে আরসার উপস্থিতি বরাবরই অস্বীকার করা হচ্ছে।

বর্তমানে ১১ লাখের বেশি আশ্রিত মায়ানমারের নাগরিক বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ার কারণে বিপুল পরিমাণ বনভূমি ও পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। তারা গাছ কাটার মাধ্যমে বনভূমি হ্রাস এবং এলাকার পরিবেশগত বিপর্যয় সৃষ্টি করছে। শুধু তাই নয়, প্রতি বছর ৪৫ হাজারের বেশি শিশুর জন্মগ্রহণ করছে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। ইতোমধ্যে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে সরকারের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাসহ ৩০ হাজার রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে আশ্রয় দিয়েছে। সরকার এক লাখ রোহিঙ্গাকে সাময়িকভাবে আশ্রয় দেয়ার জন্য ভাসানচরকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে গড়ে তুলেছে।

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিক শহীদুল্লাহ কায়সার বলেন, বিদেশে বসবাসকারী বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার সঙ্গে ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের চেয়ে সহজ পস্থায় বাংলাদেশের পাসপোর্ট হাতে পায় তারা। ফলে অপরাধ করেই বিদেশ চলে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের করার কিছুই থাকে না। অপরাধী শনাক্ত আগেই বিমানবন্দর পার হয়ে যায় অপরাধীরা।

প্রত্যাবাসনে দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তায় অপরাধ বাড়ছে

এদিকে গত ২৪ মে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি বলেছিলেন, প্রত্যাবাসনের দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তায় রোহিঙ্গারা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত হচ্ছে। ওই সময় তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা তাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার কারণে হতাশ হয়ে পড়ছে, যার একটি সম্ভাব্য ঝুঁকি রয়েছে। এটি তাদের অনেককে অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত হতে প্ররোচিত করছে। বৈঠকে ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি শেখ হাসিনার আশঙ্কার সঙ্গে একমত হন যে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ অবস্থান তাদের অনেককে অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত হতে প্ররোচিত করবে। মায়ানমার সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু করতে তিনি বর্তমান মায়ানমার সরকারকে অনুরোধ করেছেন। তিনি আরও বলেন, মায়ানমারের বর্তমান সরকার প্রত্যাবাসন শুরু করতে সম্মত হয়েছে। ইউএনএইচসিআর প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবে।

উল্লিখিত বিষয় নিয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন অতিরিক্ত কমিশনার শামশুদৌজা নয়নের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বভাবিক রয়েছে। অপরাধমূলক কর্মকান্ড রোধে ক্যাম্পের নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারাই বিষয়টি দেখভাল করছেন।

৩২টি শিবিরে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের একটি বড় অংশ খুন, অপহরণ, ধর্ষণ, অস্ত্র, মাদক, স্বর্ণ পাচার ও ডাকাতিসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। ক্যাম্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে উঠে আসছে রোহিঙ্গাদের নিত্যনতুন এ অপরাধের চিত্র। এসব অপরাধ এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত পাঁচ বছরে শিবিরগুলোতে প্রায় ১০১টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ জানান, রোহিঙ্গাদের নিজস্ব কারণে খুনোখুনিগুলো হচ্ছে এবং তার প্রভাব কক্সবাজারের আইশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপরও পড়ছে।

back to top