alt

সারাদেশ

৫১ বছরেও বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি বঞ্চিত মানদা

প্রতিনিধি, চিতলমারী (বাগেরহাট) : বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২

চিতলমারী (বাগেরহাট) : বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা মানদা রায় মানবেতর জীবনে -সংবাদ

স্বাধীনতার বছর পরও সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন বীরাঙ্গনা মানদা রায়। বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতির জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করলেও নেই তদন্তের অগ্রগতি। স্বামী হারানোর শোক এবং পাকবাহিনী ও রাজাকারদের অত্যাচারের যন্ত্রণা আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। বীরাঙ্গনা মানদা রায় চিতলমারী উপজেলার চরবানিয়ারী ইউনিয়নের খলিশাখালী গ্রামের নির্মল চন্দ্র রায়ের স্ত্রী দুই কন্যার জননী। বর্তমানে তিনি চর-খলিশাখলী গ্রামের মেয়ে লিপিকার বাড়িতে থাকেন।

মানদা রায় জানান, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আষাঢ়ের পাঁচ তারিখ রোববার বাবুগঞ্জ বাজার থেকে পাকবাহিনী আক্রমণ চালিয়ে খলিশাখালী গ্রামের দিকে আসে। অন্যদিকে চিতলমারী বাজারের দিকে থেকে রাজাকার বাহিনী আক্রমণ চালিয়ে গ্রামের দিকে আসতে থাকে। তাদের ভয়ে আমরা কয়েক গ্রামের হাজার হাজার লোক মাঠের পাট ও ধান খেত এবং হোগলা বনের ভেতর লুকাই। আমি কোলে মেয়ে নিয়ে ছিলাম পাট খেতের মধ্যে। এ সময় আমাকে দেখে দুই রাজাকার মুচকি হাসতে থাকে। আমি দৌড়ে পালাতে গেলে ওরা আমার দেড় মাস বয়সি মেয়েকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে আমার কাপড় টেনে ধরে। এরপর আরও কিছু রাজাকার এসে আমাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। তখন আমার চিৎকার শুনে আমার স্বামী নির্মল চন্দ্র রায় ছুটে এলে ওরা তাকে গুলি করে হত্যা করে। এরপর আমার সঙ্গে কী হয়েছে বলতে পারব না, বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন মানদা রায়। তিনি আরও বলেন, ওইদিন শত শত লোককে হত্যা করা হয়েছে, মানুষের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আর কত মা-বোনদের নির্যাতন করা হয়েছে তার ঠিক নেই।

স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা বিপুল কান্তি মন্ডল, প্রমথ নাথ রায়, মৃম্ময় মন্ডল, শান্তি রঞ্জন মন্ডল, নির্মল চন্দ্র বিশ্বাস, মুকন্দ হীরা, হরবিলাস পোদ্দার ও যোগেন্দ্র নাথ রায় বলেন, মানদা রায় একজন প্রকৃত বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা। আমরা চাই তিনি মৃত্যুর আগে সরকারি স্বীকৃতি এবং সুযোগ-সুবিধা পান।

চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইয়েদা ফয়জুন্নেসা জানান, মানদা রায়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত চলছে। তদন্তে সত্যতা মিললে তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

ছবি

সুন্দরবনে টহল ফাঁরিতে ফের বাঘের গর্জন, আতঙ্কে ঘুমহারা বনকর্মীরা

ছবি

বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িতরা রাজাকারের পুত্র বা নাতি: মির্জা আজম

বাগেরহাটে লোকালয়ে বাঘ আতংক,গ্রামে চলছে রাত জেগে পাহারা

লক্ষ্যমাত্রার দ্বিগুন চাল ক্রয় দেখানো হলেও কৃষকদের কাছ থেকে ধান না কেনায় ক্ষোভ

ছবি

‘ক্রসফায়ার’: সাবেক ডিএমপি কমিশনারসহ ১৫ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

ছবি

তুমব্রু থেকে আরও ২৭৩ রোহিঙ্গা ট্রানজিট ক্যাম্পে

ছবি

পঞ্চগড়ে বিএসএফের `সাউন্ড গ্রেনেডে’ কৃষক আহত

ছবি

টাকা ছাড়া মেলে না ওয়াজ মাহফিলের অনুমতি, ভিডিও ফাঁস

ছবি

স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে ধর্ষণ, ইউপি সদস্যসহ তিনজনের নামে মামলা

ছবি

চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিন আহমদ আর নেই

ছবি

কুষ্টিয়ায় লালনের গান শুনলেন তুর্কি রাষ্ট্রদূত

ছবি

বীর প্রতীক জহুরুল হক আর নেই

ছবি

কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় সাংবাদিকসহ আহত ৫

ছবি

সিংড়ায় ট্রাকচাপায় একজন নিহত

ছবি

না.গঞ্জে রেস্তোরাঁয় ঢুকে বাড়ির মালিকের এলোপাতাড়ি গুলি, আহত ৩

ছবি

পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরে ধর্ষককে বিয়ে

ছবি

শূন্যরেখার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় হলো কুতুপালংয়ের পাশে ট্রানজিট ক্যাম্পে

ছবি

ই-মেইল হ্যাক করে প্রতারণা

রংপুরে খাদ্য বিভাগের নিম্নমানের চাল ক্রয়, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

ছবি

ফরিদপুরের চরাঞ্চলে বারি সরিষা-১১ জাতের উপর মাঠ দিবস পালিত

সংবাদে রিপোর্ট প্রকাশের পর ডিআইজির নির্দেশে বশিকপুরে হাঁস-মুরগি চুরির ঘটনার তদন্ত শুরু

ছবি

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত পর্যটন সংশ্লিষ্টদের অধীনে দেওয়া জরুরি: মোশারফ হোসেন

অস্ত্র-গুলিসহ আটক ২

বাগমারায় জঙ্গিবাদ ও মাদকমুক্ত জীবন গড়তে শপথ ৮১৫ শিক্ষার্থীর

খোকসা কালিবাড়ীতে অগ্নিকান্ডে ফার্নিচারের দোকান ভস্মীভূত

ঝিনাইগাতীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ২

মুন্সীগঞ্জে নদীতে গোসল করতে নেমে ছাত্রের মৃত্যু

রাস্তা মেরামতের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

ছবি

বামনায় বেড়িবাঁধ ও ফসলি জমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়

ভুট্টা আবাদ বাড়ছে চিলমারীর চরাঞ্চলে

মাদক সেবন-সংরক্ষণের দায়ে ৪ জনের কারাদন্ড

রাউজানে বিনামূল্যে পাওয়ার টিলার বিতরণ

বগুড়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩, আহত ১৫

ফরিদপুরে দুই স্প্রীট বোর্ডের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২

ছবি

তুমব্রু থেকে ৩৬ রোহিঙ্গা পরিবারকে উখিয়ায় স্থানান্তর

ছবি

রাকিব হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার

tab

সারাদেশ

৫১ বছরেও বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি বঞ্চিত মানদা

প্রতিনিধি, চিতলমারী (বাগেরহাট)

চিতলমারী (বাগেরহাট) : বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা মানদা রায় মানবেতর জীবনে -সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২

স্বাধীনতার বছর পরও সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন বীরাঙ্গনা মানদা রায়। বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতির জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করলেও নেই তদন্তের অগ্রগতি। স্বামী হারানোর শোক এবং পাকবাহিনী ও রাজাকারদের অত্যাচারের যন্ত্রণা আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। বীরাঙ্গনা মানদা রায় চিতলমারী উপজেলার চরবানিয়ারী ইউনিয়নের খলিশাখালী গ্রামের নির্মল চন্দ্র রায়ের স্ত্রী দুই কন্যার জননী। বর্তমানে তিনি চর-খলিশাখলী গ্রামের মেয়ে লিপিকার বাড়িতে থাকেন।

মানদা রায় জানান, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আষাঢ়ের পাঁচ তারিখ রোববার বাবুগঞ্জ বাজার থেকে পাকবাহিনী আক্রমণ চালিয়ে খলিশাখালী গ্রামের দিকে আসে। অন্যদিকে চিতলমারী বাজারের দিকে থেকে রাজাকার বাহিনী আক্রমণ চালিয়ে গ্রামের দিকে আসতে থাকে। তাদের ভয়ে আমরা কয়েক গ্রামের হাজার হাজার লোক মাঠের পাট ও ধান খেত এবং হোগলা বনের ভেতর লুকাই। আমি কোলে মেয়ে নিয়ে ছিলাম পাট খেতের মধ্যে। এ সময় আমাকে দেখে দুই রাজাকার মুচকি হাসতে থাকে। আমি দৌড়ে পালাতে গেলে ওরা আমার দেড় মাস বয়সি মেয়েকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে আমার কাপড় টেনে ধরে। এরপর আরও কিছু রাজাকার এসে আমাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। তখন আমার চিৎকার শুনে আমার স্বামী নির্মল চন্দ্র রায় ছুটে এলে ওরা তাকে গুলি করে হত্যা করে। এরপর আমার সঙ্গে কী হয়েছে বলতে পারব না, বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন মানদা রায়। তিনি আরও বলেন, ওইদিন শত শত লোককে হত্যা করা হয়েছে, মানুষের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আর কত মা-বোনদের নির্যাতন করা হয়েছে তার ঠিক নেই।

স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা বিপুল কান্তি মন্ডল, প্রমথ নাথ রায়, মৃম্ময় মন্ডল, শান্তি রঞ্জন মন্ডল, নির্মল চন্দ্র বিশ্বাস, মুকন্দ হীরা, হরবিলাস পোদ্দার ও যোগেন্দ্র নাথ রায় বলেন, মানদা রায় একজন প্রকৃত বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা। আমরা চাই তিনি মৃত্যুর আগে সরকারি স্বীকৃতি এবং সুযোগ-সুবিধা পান।

চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইয়েদা ফয়জুন্নেসা জানান, মানদা রায়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত চলছে। তদন্তে সত্যতা মিললে তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

back to top