ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির ১৩ বছর পর এবারই প্রথম শেয়ারধারীদের কোনো লভ্যাংশ না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রিমিয়ার ব্যাংক। পাশাপাশি ব্যাংকটি চলতি বছরের প্রথমার্ধ (জানুয়ারি-জুন) শেষে শতকোটি টাকার বেশি লোকসান করেছে।
লভ্যাংশ না দেয়া ও লোকসানের খবরে বৃহস্পতিবার, (২৮ আগস্ট ২০২৫) ঢাকার শেয়ারবাজারে প্রিমিয়ার ব্যাংকের শেয়ারের দরপতন হয়েছে। এদিন লেনদেন শুরুর প্রথম দেড় ঘণ্টায় ব্যাংকটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ১০ পয়সা বা প্রায় দেড় শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৬ টাকা ৮০ পয়সায়। এ সময় লেনদেন হয়েছে ব্যাংকটির প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ শেয়ার, যার বাজারমূল্য ৩৬ লাখ টাকা
ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের গতকাল বুধবারের সভায় আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের পর এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছে ব্যাংকটি।
ডিএসইতে ব্যাংকটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটির পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভা বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে গত বছরের আর্থিক প্রতিবেদনের পাশাপাশি চলতি বছরের প্রথমার্ধের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়। গত বছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রিমিয়ার ব্যাংকের বর্তমান পর্ষদ শেয়ারধারীদের কোনো লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এ জন্য সভা থেকে ‘নো ডিভিডেন্ডের’ ঘোষণা দেওয়া হয়। যদিও ব্যাংকটি গত বছর ১৩৪ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। ২০২৩ সালে ব্যাংকটি মুনাফা করেছিল প্রায় ৪১৬ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে প্রিমিয়ার ব্যাংকের মুনাফা ২৮২ কোটি টাকা বা ৬৮ শতাংশ কমে গেছে।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, প্রিমিয়ার ব্যাংক শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ২০০৭ সালে। এটি বর্তমানে ভালো মৌলভিত্তির ‘এ’ শ্রেণীভুক্ত কোম্পানি। তালিকাভুক্তির পর ব্যাংকটি প্রতিবছর বিনিয়োগকারীদের হয় নগদ লভ্যাংশ, নয়তো বোনাস বা স্টক লভ্যাংশ দিয়ে আসছে। এর মধ্যে কয়েক বছর নগদ ও বোনাস—উভয় ধরনের লভ্যাংশও দিয়েছে ব্যাংকটি। সর্বশেষ ২০২৩ সালের জন্য ব্যাংকটি শেয়ারধারীদের সাড়ে ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল।
১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর প্রিমিয়ার ব্যাংক আওয়ামী লীগ নেতা এইচ বি এম ইকবাল ও তাঁর পরিবারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। গত বছরের আগস্টে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংকটির নেতৃত্বেও বদল আছে। সর্বশেষ গত ১৯ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক প্রিমিয়ার ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে পুরোপুরি ইকবাল পরিবারমুক্ত করে। পর্ষদ ভেঙে একজন শেয়ারধারী পরিচালক ও পাঁচজন স্বতন্ত্র পরিচালককে দিয়ে নতুন পর্ষদ গঠন করা হয়। সেই পর্ষদের গত বুধবারের সভায় ব্যাংকটির একাধিক আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়। গত বছরের আগস্টে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রিমিয়ার ব্যাংকের গত বছরের বার্ষিক ও চলতি বছরের দুই প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন আটকে ছিল। বুধবারের বৈঠকে সেগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়।
ডিএসইতে দেওয়া প্রিমিয়ার ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকটি ১৩৭ কোটি টাকা লোকসান করেছে। তাতে গত জুন শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস কমে দাঁড়িয়েছ ১ টাকা ১১ পয়সা ঋণাত্মক। অর্থাৎ চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকটি প্রতি শেয়ারের বিপরীতে ১ টাকা ১১ পয়সা লোকসান করেছে। সেখানে গত বছরের একই সময়ে ব্যাংকটি ১৯৫ কোটি টাকা মুনাফা করেছিল।
এদিকে লভ্যাংশ না দেওয়া ও লোকসানের খবরে বৃহস্পতিবার ঢাকার শেয়ারবাজারে প্রিমিয়ার ব্যাংকের শেয়ারের দরপতন হয়েছে। এদিন লেনদেন শুরুর প্রথম দেড় ঘণ্টায় ব্যাংকটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ১০ পয়সা বা প্রায় দেড় শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৬ টাকা ৮০ পয়সায়। এ সময় লেনদেন হয়েছে ব্যাংকটির প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ শেয়ার, যার বাজারমূল্য ৩৬ লাখ টাকা।
ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত
বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট ২০২৫
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির ১৩ বছর পর এবারই প্রথম শেয়ারধারীদের কোনো লভ্যাংশ না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রিমিয়ার ব্যাংক। পাশাপাশি ব্যাংকটি চলতি বছরের প্রথমার্ধ (জানুয়ারি-জুন) শেষে শতকোটি টাকার বেশি লোকসান করেছে।
লভ্যাংশ না দেয়া ও লোকসানের খবরে বৃহস্পতিবার, (২৮ আগস্ট ২০২৫) ঢাকার শেয়ারবাজারে প্রিমিয়ার ব্যাংকের শেয়ারের দরপতন হয়েছে। এদিন লেনদেন শুরুর প্রথম দেড় ঘণ্টায় ব্যাংকটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ১০ পয়সা বা প্রায় দেড় শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৬ টাকা ৮০ পয়সায়। এ সময় লেনদেন হয়েছে ব্যাংকটির প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ শেয়ার, যার বাজারমূল্য ৩৬ লাখ টাকা
ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের গতকাল বুধবারের সভায় আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের পর এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছে ব্যাংকটি।
ডিএসইতে ব্যাংকটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটির পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভা বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে গত বছরের আর্থিক প্রতিবেদনের পাশাপাশি চলতি বছরের প্রথমার্ধের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়। গত বছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রিমিয়ার ব্যাংকের বর্তমান পর্ষদ শেয়ারধারীদের কোনো লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এ জন্য সভা থেকে ‘নো ডিভিডেন্ডের’ ঘোষণা দেওয়া হয়। যদিও ব্যাংকটি গত বছর ১৩৪ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। ২০২৩ সালে ব্যাংকটি মুনাফা করেছিল প্রায় ৪১৬ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে প্রিমিয়ার ব্যাংকের মুনাফা ২৮২ কোটি টাকা বা ৬৮ শতাংশ কমে গেছে।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, প্রিমিয়ার ব্যাংক শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ২০০৭ সালে। এটি বর্তমানে ভালো মৌলভিত্তির ‘এ’ শ্রেণীভুক্ত কোম্পানি। তালিকাভুক্তির পর ব্যাংকটি প্রতিবছর বিনিয়োগকারীদের হয় নগদ লভ্যাংশ, নয়তো বোনাস বা স্টক লভ্যাংশ দিয়ে আসছে। এর মধ্যে কয়েক বছর নগদ ও বোনাস—উভয় ধরনের লভ্যাংশও দিয়েছে ব্যাংকটি। সর্বশেষ ২০২৩ সালের জন্য ব্যাংকটি শেয়ারধারীদের সাড়ে ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল।
১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর প্রিমিয়ার ব্যাংক আওয়ামী লীগ নেতা এইচ বি এম ইকবাল ও তাঁর পরিবারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। গত বছরের আগস্টে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংকটির নেতৃত্বেও বদল আছে। সর্বশেষ গত ১৯ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক প্রিমিয়ার ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে পুরোপুরি ইকবাল পরিবারমুক্ত করে। পর্ষদ ভেঙে একজন শেয়ারধারী পরিচালক ও পাঁচজন স্বতন্ত্র পরিচালককে দিয়ে নতুন পর্ষদ গঠন করা হয়। সেই পর্ষদের গত বুধবারের সভায় ব্যাংকটির একাধিক আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়। গত বছরের আগস্টে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রিমিয়ার ব্যাংকের গত বছরের বার্ষিক ও চলতি বছরের দুই প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন আটকে ছিল। বুধবারের বৈঠকে সেগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়।
ডিএসইতে দেওয়া প্রিমিয়ার ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকটি ১৩৭ কোটি টাকা লোকসান করেছে। তাতে গত জুন শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস কমে দাঁড়িয়েছ ১ টাকা ১১ পয়সা ঋণাত্মক। অর্থাৎ চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকটি প্রতি শেয়ারের বিপরীতে ১ টাকা ১১ পয়সা লোকসান করেছে। সেখানে গত বছরের একই সময়ে ব্যাংকটি ১৯৫ কোটি টাকা মুনাফা করেছিল।
এদিকে লভ্যাংশ না দেওয়া ও লোকসানের খবরে বৃহস্পতিবার ঢাকার শেয়ারবাজারে প্রিমিয়ার ব্যাংকের শেয়ারের দরপতন হয়েছে। এদিন লেনদেন শুরুর প্রথম দেড় ঘণ্টায় ব্যাংকটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ১০ পয়সা বা প্রায় দেড় শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৬ টাকা ৮০ পয়সায়। এ সময় লেনদেন হয়েছে ব্যাংকটির প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ শেয়ার, যার বাজারমূল্য ৩৬ লাখ টাকা।