রপ্তানি পণ্যের কনটেইনার পরিচালনার মাশুল বা কনটেইনার হ্যান্ডলিং চার্জ বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার খাতের ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই কনটেইনার হ্যান্ডলিং মাশুল ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এই পদক্ষেপ রপ্তানিকারকদের জন্য বড় চাপ তৈরি করবে এবং দেশের সার্বিক আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে।
গত রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএএফএফএ) সাধারণ সদস্যরা।
অনুষ্ঠানে বিএএফএফএ সদস্যরা জানান, সম্প্রতি বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশন (বিআইসিডিএ) কনটেইনার হ্যান্ডলিং চার্জ ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। নতুন এই হার ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুসারে, বন্দরে ২০ ফুট রপ্তানি কনটেইনারের চার্জ ৬ হাজার ১৮৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯ হাজার ৯০০ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪০ ফুট কনটেইনারের চার্জ ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩ হাজার ২০০ টাকা ও ৪৫ ফুট হাই-কিউব কনটেইনার চার্জ ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪ হাজার ৯০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া খালি কনটেইনার, লিফট-অন অথবা লিফট-অফ, ডকুমেন্টেশন, গ্রাউন্ড রেন্টসহ প্রায় সব সেবাতেই অতিরিক্ত মাশুল আরোপ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য আবরারুল আলম। তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক ও সার্বিক বাজার সংকটের এই সংকটজনক অবস্থায় কনটেইনার হ্যান্ডলিং চার্জ বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে দেশের রপ্তানি অর্থনীতিতে বড় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।’
আবরারুল আলম আরও বলেন, ‘এ ধরনের পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান দুর্বল হবে। ক্রেতারা বিকল্প বাজারে চলে যেতে পারে। এটি রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা এই বাড়তি খরচ সামাল দিতে পারবে না। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান রপ্তানি সীমিত বা বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে।’
এ অবস্থায় কনটেইনার হ্যান্ডলিং চার্জ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির সাধারণ সদস্যরা বলেন, হ্যান্ডলিং চার্জ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। রপ্তানি বাণিজ্যের স্বার্থে সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘শুল্ক বাড়ানোর পরিবর্তে পরিষেবা উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও ডিপো পরিচালনার দক্ষতা বাড়াতে হবে।’
বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইসিডিএ) কাছে আরও কিছু দাবি জানিয়েছেন ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার ব্যবসায়ীরা। সেগুলো হচ্ছে- কার্গো আনলোডের সময় কমানো, পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ, দক্ষ শ্রমিক নিশ্চিত করা ও আধুনিক ইকুইপমেন্ট ব্যবহারের মাধ্যমে খরচ না বাড়িয়ে সেবার মানোন্নয়ন করা। কনটেইনার হ্যান্ডলিং চার্জ না বাড়িয়েই এসব কাজ করা সম্ভব বলে জানান তারা।
আবরারুল আলম বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি রপ্তানি খাত। অথচ এই খাতে অতিরিক্ত খরচ চাপিয়ে দিলে রপ্তানি আয় কমবে, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট তীব্র হবে ও জাতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য আনোয়ার হোসেন, আদনান ইকবাল, হাসনাত আবদুল্লাহ, মুনিম মাহফুজ ও শামসুল হক প্রমুখ।
শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫
রপ্তানি পণ্যের কনটেইনার পরিচালনার মাশুল বা কনটেইনার হ্যান্ডলিং চার্জ বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার খাতের ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই কনটেইনার হ্যান্ডলিং মাশুল ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এই পদক্ষেপ রপ্তানিকারকদের জন্য বড় চাপ তৈরি করবে এবং দেশের সার্বিক আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে।
গত রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএএফএফএ) সাধারণ সদস্যরা।
অনুষ্ঠানে বিএএফএফএ সদস্যরা জানান, সম্প্রতি বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশন (বিআইসিডিএ) কনটেইনার হ্যান্ডলিং চার্জ ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। নতুন এই হার ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুসারে, বন্দরে ২০ ফুট রপ্তানি কনটেইনারের চার্জ ৬ হাজার ১৮৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯ হাজার ৯০০ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪০ ফুট কনটেইনারের চার্জ ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩ হাজার ২০০ টাকা ও ৪৫ ফুট হাই-কিউব কনটেইনার চার্জ ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪ হাজার ৯০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া খালি কনটেইনার, লিফট-অন অথবা লিফট-অফ, ডকুমেন্টেশন, গ্রাউন্ড রেন্টসহ প্রায় সব সেবাতেই অতিরিক্ত মাশুল আরোপ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য আবরারুল আলম। তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক ও সার্বিক বাজার সংকটের এই সংকটজনক অবস্থায় কনটেইনার হ্যান্ডলিং চার্জ বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে দেশের রপ্তানি অর্থনীতিতে বড় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।’
আবরারুল আলম আরও বলেন, ‘এ ধরনের পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান দুর্বল হবে। ক্রেতারা বিকল্প বাজারে চলে যেতে পারে। এটি রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা এই বাড়তি খরচ সামাল দিতে পারবে না। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান রপ্তানি সীমিত বা বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে।’
এ অবস্থায় কনটেইনার হ্যান্ডলিং চার্জ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির সাধারণ সদস্যরা বলেন, হ্যান্ডলিং চার্জ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। রপ্তানি বাণিজ্যের স্বার্থে সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘শুল্ক বাড়ানোর পরিবর্তে পরিষেবা উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও ডিপো পরিচালনার দক্ষতা বাড়াতে হবে।’
বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইসিডিএ) কাছে আরও কিছু দাবি জানিয়েছেন ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার ব্যবসায়ীরা। সেগুলো হচ্ছে- কার্গো আনলোডের সময় কমানো, পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ, দক্ষ শ্রমিক নিশ্চিত করা ও আধুনিক ইকুইপমেন্ট ব্যবহারের মাধ্যমে খরচ না বাড়িয়ে সেবার মানোন্নয়ন করা। কনটেইনার হ্যান্ডলিং চার্জ না বাড়িয়েই এসব কাজ করা সম্ভব বলে জানান তারা।
আবরারুল আলম বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি রপ্তানি খাত। অথচ এই খাতে অতিরিক্ত খরচ চাপিয়ে দিলে রপ্তানি আয় কমবে, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট তীব্র হবে ও জাতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য আনোয়ার হোসেন, আদনান ইকবাল, হাসনাত আবদুল্লাহ, মুনিম মাহফুজ ও শামসুল হক প্রমুখ।