ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত
সামাজিক সংলাপ ছাড়া শ্রম আইন সংশোধন টেকসই হবে না বরং নতুন আইন শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় ব্যর্থ হতে পারে। শিল্প খাতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলার প্রয়োজনীয়তা আছে। কিন্তু দেশের বাস্তবতা ও সক্ষমতা উপেক্ষা করে নতুন আইন চাপিয়ে দেয়া হলে শ্রমবাজার ও বিনিয়োগ- উভয় ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। শনিবার,(৩০ আগস্ট ২০২৫) রাজধানীর গুলশানের মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) কার্যালয়ে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা।
নতুন আইন শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় ব্যর্থ হতে পারে
ভিয়েতনামে মাত্র একটি রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত ট্রেড ইউনিয়ন রয়েছে তাও কোনো সমস্যা হয় না
শ্রম আইন মূলত আনুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় সীমাবদ্ধ
শ্রম আইন সংশোধন নিয়ে সামাজিক সংলাপের অভাব ছিল
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বিইএফের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি কামরান টি রহমান, নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমই-এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও বিজিএমই-এর শ্রমবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান এ এন এম সাইফুদ্দিন প্রমুখ।
বিইএফের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, ‘পাঁচ হাজার শ্রমিকের কারখানায় যদি মাত্র ২০ জন মিলে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করে, তবে তা পুরো শ্রমিকের প্রতিনিধিত্ব করবে না। আবার সর্বোচ্চ পাঁচটি ইউনিয়ন করার সুযোগ থাকলে পাঁচ হাজার শ্রমিকের বিপরীতে সর্বোচ্চ ১৫০ সদস্য মিলেও পাঁচটি ইউনিয়ন হয়ে যাবে। শ্রম আইন সংশোধনের কিছু প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে শিল্পে অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে। আইন সংশোধনের কারণে যদি অস্থিরতা তৈরি হয়, তাহলে সময়মতো ক্রয়াদেশ সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। ফলে বৈশ্বিক বাজারে দেশের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
ফজলে শামীম এহসান আরও বলেন, ‘নানা কারণে বারবার শ্রম বিরোধ দেখা দেবে, তবে বিনিয়োগকারীরা বিকল্প গন্তব্য বেছে নেবেন। অতীতে এমন অস্থিতিশীলতার কারণে কম্বোডিয়ায় বিনিয়োগ কমেছিল, ভিয়েতনাম সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে।’
বিকেএমই-এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘শ্রমিক ও মালিক উভয়পক্ষ যখন এ ধরনের প্রস্তাবের বিপক্ষে, তখন কার স্বার্থে এমন পরিবর্তন আনা হচ্ছে? প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভিয়েতনাম ও ভারতে এ ধরনের চাপ নেই। অথচ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিষয়টি জোর করে চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে। ভিয়েতনামে মাত্র একটি রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত ট্রেড ইউনিয়ন রয়েছে। এমনকি সেখানকার শিল্পকারখানার জিএম নিজেই ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি। তবুও শ্রমিকদের অধিকার অক্ষুণ্য আছে। প্রস্তাবিত আইনে বলা হচ্ছে, ১০০ শ্রমিক থাকলেই ভবিষ্যৎ তহবিল চালু করতে হবে। এ ধরনের প্রস্তাবনা কতটা যৌক্তিক, তা আবার ভাবা উচিত।’
এমসিসিআইয়ের সভাপতি কামরান টি রহমান বলেন, ‘বর্তমানে দেশের শ্রমবাজারে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি মানুষ রয়েছেন। এরমধ্যে মাত্র ১ কোটি থেকে ১ কোটি ২০ লাখ শ্রমিক আনুষ্ঠানিক খাতে কাজ করছেন। অন্যরা অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করছেন। অথচ বিদ্যমান শ্রম আইন মূলত আনুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় সীমাবদ্ধ।’
বিইএফের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ বলেন, ‘শ্রম আইন সংশোধন নিয়ে সামাজিক সংলাপের অভাব ছিল। শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়নের ক্ষেত্রে একাধিক দুর্বল সংগঠন তৈরি করার চেয়ে একটি বা দুটি কার্যকর শ্রমিক সংগঠন বাস্তবসম্মত।’
ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত
শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫
সামাজিক সংলাপ ছাড়া শ্রম আইন সংশোধন টেকসই হবে না বরং নতুন আইন শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় ব্যর্থ হতে পারে। শিল্প খাতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলার প্রয়োজনীয়তা আছে। কিন্তু দেশের বাস্তবতা ও সক্ষমতা উপেক্ষা করে নতুন আইন চাপিয়ে দেয়া হলে শ্রমবাজার ও বিনিয়োগ- উভয় ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। শনিবার,(৩০ আগস্ট ২০২৫) রাজধানীর গুলশানের মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) কার্যালয়ে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা।
নতুন আইন শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় ব্যর্থ হতে পারে
ভিয়েতনামে মাত্র একটি রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত ট্রেড ইউনিয়ন রয়েছে তাও কোনো সমস্যা হয় না
শ্রম আইন মূলত আনুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় সীমাবদ্ধ
শ্রম আইন সংশোধন নিয়ে সামাজিক সংলাপের অভাব ছিল
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বিইএফের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি কামরান টি রহমান, নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমই-এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও বিজিএমই-এর শ্রমবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান এ এন এম সাইফুদ্দিন প্রমুখ।
বিইএফের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, ‘পাঁচ হাজার শ্রমিকের কারখানায় যদি মাত্র ২০ জন মিলে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করে, তবে তা পুরো শ্রমিকের প্রতিনিধিত্ব করবে না। আবার সর্বোচ্চ পাঁচটি ইউনিয়ন করার সুযোগ থাকলে পাঁচ হাজার শ্রমিকের বিপরীতে সর্বোচ্চ ১৫০ সদস্য মিলেও পাঁচটি ইউনিয়ন হয়ে যাবে। শ্রম আইন সংশোধনের কিছু প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে শিল্পে অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে। আইন সংশোধনের কারণে যদি অস্থিরতা তৈরি হয়, তাহলে সময়মতো ক্রয়াদেশ সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। ফলে বৈশ্বিক বাজারে দেশের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
ফজলে শামীম এহসান আরও বলেন, ‘নানা কারণে বারবার শ্রম বিরোধ দেখা দেবে, তবে বিনিয়োগকারীরা বিকল্প গন্তব্য বেছে নেবেন। অতীতে এমন অস্থিতিশীলতার কারণে কম্বোডিয়ায় বিনিয়োগ কমেছিল, ভিয়েতনাম সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে।’
বিকেএমই-এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘শ্রমিক ও মালিক উভয়পক্ষ যখন এ ধরনের প্রস্তাবের বিপক্ষে, তখন কার স্বার্থে এমন পরিবর্তন আনা হচ্ছে? প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভিয়েতনাম ও ভারতে এ ধরনের চাপ নেই। অথচ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিষয়টি জোর করে চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে। ভিয়েতনামে মাত্র একটি রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত ট্রেড ইউনিয়ন রয়েছে। এমনকি সেখানকার শিল্পকারখানার জিএম নিজেই ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি। তবুও শ্রমিকদের অধিকার অক্ষুণ্য আছে। প্রস্তাবিত আইনে বলা হচ্ছে, ১০০ শ্রমিক থাকলেই ভবিষ্যৎ তহবিল চালু করতে হবে। এ ধরনের প্রস্তাবনা কতটা যৌক্তিক, তা আবার ভাবা উচিত।’
এমসিসিআইয়ের সভাপতি কামরান টি রহমান বলেন, ‘বর্তমানে দেশের শ্রমবাজারে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি মানুষ রয়েছেন। এরমধ্যে মাত্র ১ কোটি থেকে ১ কোটি ২০ লাখ শ্রমিক আনুষ্ঠানিক খাতে কাজ করছেন। অন্যরা অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করছেন। অথচ বিদ্যমান শ্রম আইন মূলত আনুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় সীমাবদ্ধ।’
বিইএফের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ বলেন, ‘শ্রম আইন সংশোধন নিয়ে সামাজিক সংলাপের অভাব ছিল। শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়নের ক্ষেত্রে একাধিক দুর্বল সংগঠন তৈরি করার চেয়ে একটি বা দুটি কার্যকর শ্রমিক সংগঠন বাস্তবসম্মত।’