ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত
দীর্র্ঘ ৩৩ বছর পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্র্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারিত হওয়ায় ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। তবে এর মধ্যে আবাসিক হলগুলোতে মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অবস্থান সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক হাজার মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থী হলগুলোতে অবস্থান করায় বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমাদান গত ২১ আগস্ট শেষ হয়েছে এবং খসড়া প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গত ১০ আগস্ট হল থেকে মেয়াদোত্তীর্ণদের বের হওয়ার নির্দেশ দিলেও, ১৬ আগস্টের অভিযান সত্ত্বেও তারা বের হননি। প্রশাসনের সিলগালা করা, রুমে তালা ভেঙে প্রবেশ করেছেন কেউ কেউ। প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আবেদা সুলতানা জানান, অনেকে স্বেচ্ছায় চলে গেলেও ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা অক্টোবর পর্যন্ত থাকার দাবি জানিয়েছেন। গত ২৫ আগস্ট উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসানের সঙ্গে আলোচনায় তারা নির্বাচনের প্রচারকালে হলে না থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কিন্তু প্রশাসনের মধ্যে দায়িত্বের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। প্রক্টর এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, এটি প্রশাসনের দায়িত্ব এবং লিখিত নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। উপাচার্য জানান, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং মেয়াদোত্তীর্ণদের হলে থাকতে দেয়া যাবে না।
এ সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গতকাল একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্নাতকোত্তর পরীক্ষা সমাপ্ত হওয়া শিক্ষার্থীদের ২৯ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হলে অবস্থান না করার নির্র্দেশ দেয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, জাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন-২০২৫ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা কামনা করেছে এবং মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যদি তারা নির্দেশনা মানতে অস্বীকার করে। সংশ্লিষ্ট হল প্রশাসনগুলো সতর্ক করা হয়েছে যাতে হলগুলোতে শুধুমাত্র সক্রিয় ভোটাররা অবস্থান করতে পারেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতারা মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করার দাবি জানিয়েছেন। শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, ‘তাদের হলে রেখে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।’ একইভাবে ছাত্রশিবিরের সভাপতি মহিবুর রহমান মুহিব প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের অভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ছাত্রদলের হল সংসদে
আংশিক প্যানেল
এদিকে, নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর মধ্যে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ১১টি ছাত্র হলে আংশিক প্যানেল ঘোষণা করেছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘোষিত এ প্যানেলে বিভিন্ন পদে প্রার্থীদের নাম সংযুক্ত করা হয়েছে। হলগুলোর বিস্তারিত নিম্নরূপ-
২১নং হল: সহ-সভাপতি এসএম তানিম হাসান, সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান সীমান্ত, সহ-সাধারণ সম্পাদক আল মুবদী নাফী, সাহিত্য সম্পাদক মো. অসীম মিয়া, রিডিং রুম সম্পাদক মো. মাহবুব আলম দ্বীপ, ডাইনিং ও ক্যান্টিন সম্পাদক তাহমিদ ইসলাম সৌখিন, স্বাস্থ্য সম্পাদক মুহাম্মদ আহনাফ আদিল, সমাজসেবা সম্পাদক রফিক হাসান ইমন, নাটক ও বিনোদন সম্পাদক রাশেদ আহমেদ জয়, সহ-ক্রীড়া সম্পাদক আশেক রাসুল নোমান, কার্যকরী সদস্য আল আমিন প্রান্ত ও কাজী আল আনাস।
কাজী নজরুল ইসলাম হল: সহ-সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন স্বাধীন, সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক সামিন ইয়াসার লাবিব, সাহিত্য সম্পাদক আল আমিন ভূঁইয়া, রিডিং রুম সম্পাদক খন্দকার মুতাহাম্মিদ মুয়িন, কমনরুম সম্পাদক অমিত হাসান অনিক, ডাইনিং ও ক্যান্টিন সম্পাদক সঞ্জয় রাজবংশী, স্বাস্থ্য সম্পাদক সাইদ হাসান, সমাজসেবা সম্পাদক ইরতিজা আলম হাসিন, সামাজিক বিনোদন ও নাট্য সম্পাদক অনিক সাহা সোহাগ, ক্রীড়া সম্পাদক রাতুল রেজা জিসান, সহ-ক্রীড়া সম্পাদক মো. আরাফাত হোসেন ভূঁইয়া,
কার্যকারী সদস্য মো. সোহেল রানা, রোহানুর ইসলাম ও আহনাফ হাসান।
শহীদ তাজউদ্দীন হল: সহ-সভাপতি আবু নাঈম, সাধারণ সম্পাদক আল রাফি আহমেদ রাজু, সহ-সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ, কমনরুম সম্পাদক উতসা বড়–য়া, রিডিং রুম সম্পাদক মো. তৌহিদুর রহমান শুভ, হেলথ সম্পাদক তাহসিন আনোয়ার সায়েম, সমাজসেবা সম্পাদক মো. আব্রার সাহরিয়ার মাহী, ক্রীড়া সম্পাদক শাকিব আল হাসান মিরাজ, সহ-ক্রীড়া সম্পাদক নাজমুল হাসান ইমন।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল: সহ-সভাপতি অমিত কুমার বণিক, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রুবেল, সহ-সাধারণ সম্পাদক মির্জা আদনান ইসলাম অয়ন, ডাইনিং ও ক্যান্টিনবিষয়ক সম্পাদক মো. শাহেদ শাহারিয়ার শোভন, রিডিং রুম সম্পাদক আলী আরাফাত খান, সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান আসাদ, কমনরুমবিষয়ক সম্পাদক আফতাব আহমেদ, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক মো. শাহরিয়ার সম্রাট, সমাজসেবাবিষয়ক সম্পাদক আবির হাসান, নাটক ও বিনোদনবিষয়ক সম্পাদক মো. মিফতাউল বরাত, সহ-ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক সরকার মোহাম্মদ সায়েম, কার্যকারী সদস্য শুভ্র আচার্য।
মীর মশাররফ হোসেন হল: সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ প্রিন্স, সাধারণ সম্পাদক মো. সাকিবুর রহমান মুগ্ধ, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. সোহাগ আহমেদ, রিডিং রুম সম্পাদক ওয়াজেদ হোসেন শরীফ, কমনরুম সম্পাদক মো. শিহাদ হাসান, ডাইনিং ও ক্যান্টিন সম্পাদক নাজমুল হাসান অপূর্ব, স্বাস্থ্য সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল আরাফ, সমাজসেবা সম্পাদক ফজলে আজওয়াদ, সামাজিক বিনোদন ও নাট্য সম্পাদক মীর আসিফুজ্জামান আসিফ, ক্রীড়া সম্পাদক হাসান আল মামুন আশিক।
শহীদ রফিক জব্বার হল: সহ-সভাপতি আসিফ মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক মো. হাসান, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদ খান, ক্রীড়া সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম, সমাজসেবা সম্পাদক ফারহান সাদিক, স্বাস্থ্য সম্পাদক মো. মাহিম।
১০নং ছাত্র হল: সহ-সভাপতি আব্দুল আল রোমান, সাধারণ সম্পাদক জিহাদ ওমর, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. সিয়াম মাহমুদ, রিডিং রুম সম্পাদক মোহাইমিন হুদা সিয়াম, ডাইনিং রুম সম্পাদক মো. রিফাত হোসেন, সমাজসেবা সম্পাদক তন্ময় মাহবুব, কার্যকারী সদস্য মো. শাকিল হোসেন।
আ ফ ম কামালউদ্দিন হল: সহ-সভাপতি মো. সাদিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সোহান মাহমুদ তালুকদার, সাহিত্য সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ, কমনরুম সম্পাদক মো. মারুফ ফকির, স্বাস্থ্য সম্পাদক রিফাত হোসেন, সমাজসেবা সম্পাদক মাহবুব মোহাম্মদ, সামাজিক বিনোদন নাট্য সম্পাদক আফিফ মুনতাসীর, ক্রীড়া সম্পাদক জোবায়ের হোসেন রিফাত।
শহীদ সালাম বরকত হল: সহ-সভাপতি মো. সাইদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আবু হানিফ আলিফ, সহ-সাধারণ সম্পাদক আবরার আজিম ভূঁইয়া তাইফ, কমনরুম সম্পাদক মোহাম্মদ নাইম, স্বাস্থ্য সম্পাদক মহিবুল্লাহ, সমাজসেবা সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাকিব, সামাজিক বিনোদন ও নাট্য সম্পাদক কামরুল হাসান হিরণ, ক্রীড়া সম্পাদক আবু জাফির মোহাম্মদ মুহিব, সহ-ক্রীড়া সম্পাদক মাহাবুর রহমান।
আল-বেরুনী হল: সহ-সভাপতি মো. রকিব হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক অপূর্ব রায় প্রিন্স, সহ-ক্রীড়া মাহদিন জুলফা, রিডিং রুম সম্পাদক সয়ফুর রহমান।
মওলানা ভাসানী হল: সহ-সভাপতি শাহাদাত হোসেন আকুল, সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. হিমেল বাবু, রিডিং রুম সম্পাদক আরাফাত আহমেদ, কমনরুম সম্পাদক ইবনে আসিফ তাসিন, স্বাস্থ্য সম্পাদক ফাহিম ফয়সাল চৌধুরী, সমাজসেবা সম্পাদক তানজির রায়হান হিমেল, সামাজিক নাটক ও বিনোদন সম্পাদক রায়হানুল ইসলাম দুর্জয়।
ছাত্রী হলগুলোতে প্রার্থী না দেয়ার কারণ হিসেবে আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর সাইবার বুলিংয়ের ভয় উল্লেখ করেন। তিনি জানান, যে কোনো নারী শিক্ষার্থী যদি নির্বাচনে অংশ নেন, তাদের পূর্ণ সমর্থন দেয়া হবে।
এর মধ্যে ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সৈয়দা অন্যন্যা ফারিয়া সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি গ্রুপিং, লেজুড়বৃত্তি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে এ সিদ্ধান্ত নেন। তিনি শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
এদিকে, ছাত্র ইউনিয়ন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ প্রশাসনের পদক্ষেপগুলো অগণতান্ত্রিক ও শিক্ষার্থীবিরোধী বলে সমালোচনা করেছে। সভাপতি অদ্রি অংকুর ও সাধারণ সম্পাদক ফাইজান আহমেদ অর্কের যুক্ত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অযৌক্তিক ছুটি ঘোষণা, হল ক্লিয়ারেন্স ও ব্যাংক ড্রাফটের শর্তসহ পদক্ষেপগুলো শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার প্রয়োগে নিরুৎসাহিত করছে। তারা চারটি দাবি জানিয়েছেন- অযৌক্তিক ছুটি বাতিল, ভোটার তালিকা সহজীকরণ, অপ্রয়োজনীয় শর্ত বাতিল এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক পরীক্ষা পিছিয়ে দেয়া।
এ নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করতে সবপক্ষের সহযোগিতা অপরিহার্র্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আরও উন্নয়নের জন্য পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখা হবে।
ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত
শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫
দীর্র্ঘ ৩৩ বছর পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্র্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারিত হওয়ায় ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। তবে এর মধ্যে আবাসিক হলগুলোতে মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অবস্থান সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক হাজার মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থী হলগুলোতে অবস্থান করায় বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমাদান গত ২১ আগস্ট শেষ হয়েছে এবং খসড়া প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গত ১০ আগস্ট হল থেকে মেয়াদোত্তীর্ণদের বের হওয়ার নির্দেশ দিলেও, ১৬ আগস্টের অভিযান সত্ত্বেও তারা বের হননি। প্রশাসনের সিলগালা করা, রুমে তালা ভেঙে প্রবেশ করেছেন কেউ কেউ। প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আবেদা সুলতানা জানান, অনেকে স্বেচ্ছায় চলে গেলেও ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা অক্টোবর পর্যন্ত থাকার দাবি জানিয়েছেন। গত ২৫ আগস্ট উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসানের সঙ্গে আলোচনায় তারা নির্বাচনের প্রচারকালে হলে না থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কিন্তু প্রশাসনের মধ্যে দায়িত্বের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। প্রক্টর এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, এটি প্রশাসনের দায়িত্ব এবং লিখিত নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। উপাচার্য জানান, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং মেয়াদোত্তীর্ণদের হলে থাকতে দেয়া যাবে না।
এ সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গতকাল একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্নাতকোত্তর পরীক্ষা সমাপ্ত হওয়া শিক্ষার্থীদের ২৯ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হলে অবস্থান না করার নির্র্দেশ দেয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, জাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন-২০২৫ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা কামনা করেছে এবং মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যদি তারা নির্দেশনা মানতে অস্বীকার করে। সংশ্লিষ্ট হল প্রশাসনগুলো সতর্ক করা হয়েছে যাতে হলগুলোতে শুধুমাত্র সক্রিয় ভোটাররা অবস্থান করতে পারেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতারা মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করার দাবি জানিয়েছেন। শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, ‘তাদের হলে রেখে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।’ একইভাবে ছাত্রশিবিরের সভাপতি মহিবুর রহমান মুহিব প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের অভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ছাত্রদলের হল সংসদে
আংশিক প্যানেল
এদিকে, নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর মধ্যে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ১১টি ছাত্র হলে আংশিক প্যানেল ঘোষণা করেছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘোষিত এ প্যানেলে বিভিন্ন পদে প্রার্থীদের নাম সংযুক্ত করা হয়েছে। হলগুলোর বিস্তারিত নিম্নরূপ-
২১নং হল: সহ-সভাপতি এসএম তানিম হাসান, সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান সীমান্ত, সহ-সাধারণ সম্পাদক আল মুবদী নাফী, সাহিত্য সম্পাদক মো. অসীম মিয়া, রিডিং রুম সম্পাদক মো. মাহবুব আলম দ্বীপ, ডাইনিং ও ক্যান্টিন সম্পাদক তাহমিদ ইসলাম সৌখিন, স্বাস্থ্য সম্পাদক মুহাম্মদ আহনাফ আদিল, সমাজসেবা সম্পাদক রফিক হাসান ইমন, নাটক ও বিনোদন সম্পাদক রাশেদ আহমেদ জয়, সহ-ক্রীড়া সম্পাদক আশেক রাসুল নোমান, কার্যকরী সদস্য আল আমিন প্রান্ত ও কাজী আল আনাস।
কাজী নজরুল ইসলাম হল: সহ-সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন স্বাধীন, সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক সামিন ইয়াসার লাবিব, সাহিত্য সম্পাদক আল আমিন ভূঁইয়া, রিডিং রুম সম্পাদক খন্দকার মুতাহাম্মিদ মুয়িন, কমনরুম সম্পাদক অমিত হাসান অনিক, ডাইনিং ও ক্যান্টিন সম্পাদক সঞ্জয় রাজবংশী, স্বাস্থ্য সম্পাদক সাইদ হাসান, সমাজসেবা সম্পাদক ইরতিজা আলম হাসিন, সামাজিক বিনোদন ও নাট্য সম্পাদক অনিক সাহা সোহাগ, ক্রীড়া সম্পাদক রাতুল রেজা জিসান, সহ-ক্রীড়া সম্পাদক মো. আরাফাত হোসেন ভূঁইয়া,
কার্যকারী সদস্য মো. সোহেল রানা, রোহানুর ইসলাম ও আহনাফ হাসান।
শহীদ তাজউদ্দীন হল: সহ-সভাপতি আবু নাঈম, সাধারণ সম্পাদক আল রাফি আহমেদ রাজু, সহ-সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ, কমনরুম সম্পাদক উতসা বড়–য়া, রিডিং রুম সম্পাদক মো. তৌহিদুর রহমান শুভ, হেলথ সম্পাদক তাহসিন আনোয়ার সায়েম, সমাজসেবা সম্পাদক মো. আব্রার সাহরিয়ার মাহী, ক্রীড়া সম্পাদক শাকিব আল হাসান মিরাজ, সহ-ক্রীড়া সম্পাদক নাজমুল হাসান ইমন।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল: সহ-সভাপতি অমিত কুমার বণিক, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রুবেল, সহ-সাধারণ সম্পাদক মির্জা আদনান ইসলাম অয়ন, ডাইনিং ও ক্যান্টিনবিষয়ক সম্পাদক মো. শাহেদ শাহারিয়ার শোভন, রিডিং রুম সম্পাদক আলী আরাফাত খান, সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান আসাদ, কমনরুমবিষয়ক সম্পাদক আফতাব আহমেদ, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক মো. শাহরিয়ার সম্রাট, সমাজসেবাবিষয়ক সম্পাদক আবির হাসান, নাটক ও বিনোদনবিষয়ক সম্পাদক মো. মিফতাউল বরাত, সহ-ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক সরকার মোহাম্মদ সায়েম, কার্যকারী সদস্য শুভ্র আচার্য।
মীর মশাররফ হোসেন হল: সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ প্রিন্স, সাধারণ সম্পাদক মো. সাকিবুর রহমান মুগ্ধ, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. সোহাগ আহমেদ, রিডিং রুম সম্পাদক ওয়াজেদ হোসেন শরীফ, কমনরুম সম্পাদক মো. শিহাদ হাসান, ডাইনিং ও ক্যান্টিন সম্পাদক নাজমুল হাসান অপূর্ব, স্বাস্থ্য সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল আরাফ, সমাজসেবা সম্পাদক ফজলে আজওয়াদ, সামাজিক বিনোদন ও নাট্য সম্পাদক মীর আসিফুজ্জামান আসিফ, ক্রীড়া সম্পাদক হাসান আল মামুন আশিক।
শহীদ রফিক জব্বার হল: সহ-সভাপতি আসিফ মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক মো. হাসান, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদ খান, ক্রীড়া সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম, সমাজসেবা সম্পাদক ফারহান সাদিক, স্বাস্থ্য সম্পাদক মো. মাহিম।
১০নং ছাত্র হল: সহ-সভাপতি আব্দুল আল রোমান, সাধারণ সম্পাদক জিহাদ ওমর, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. সিয়াম মাহমুদ, রিডিং রুম সম্পাদক মোহাইমিন হুদা সিয়াম, ডাইনিং রুম সম্পাদক মো. রিফাত হোসেন, সমাজসেবা সম্পাদক তন্ময় মাহবুব, কার্যকারী সদস্য মো. শাকিল হোসেন।
আ ফ ম কামালউদ্দিন হল: সহ-সভাপতি মো. সাদিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সোহান মাহমুদ তালুকদার, সাহিত্য সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ, কমনরুম সম্পাদক মো. মারুফ ফকির, স্বাস্থ্য সম্পাদক রিফাত হোসেন, সমাজসেবা সম্পাদক মাহবুব মোহাম্মদ, সামাজিক বিনোদন নাট্য সম্পাদক আফিফ মুনতাসীর, ক্রীড়া সম্পাদক জোবায়ের হোসেন রিফাত।
শহীদ সালাম বরকত হল: সহ-সভাপতি মো. সাইদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আবু হানিফ আলিফ, সহ-সাধারণ সম্পাদক আবরার আজিম ভূঁইয়া তাইফ, কমনরুম সম্পাদক মোহাম্মদ নাইম, স্বাস্থ্য সম্পাদক মহিবুল্লাহ, সমাজসেবা সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাকিব, সামাজিক বিনোদন ও নাট্য সম্পাদক কামরুল হাসান হিরণ, ক্রীড়া সম্পাদক আবু জাফির মোহাম্মদ মুহিব, সহ-ক্রীড়া সম্পাদক মাহাবুর রহমান।
আল-বেরুনী হল: সহ-সভাপতি মো. রকিব হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক অপূর্ব রায় প্রিন্স, সহ-ক্রীড়া মাহদিন জুলফা, রিডিং রুম সম্পাদক সয়ফুর রহমান।
মওলানা ভাসানী হল: সহ-সভাপতি শাহাদাত হোসেন আকুল, সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. হিমেল বাবু, রিডিং রুম সম্পাদক আরাফাত আহমেদ, কমনরুম সম্পাদক ইবনে আসিফ তাসিন, স্বাস্থ্য সম্পাদক ফাহিম ফয়সাল চৌধুরী, সমাজসেবা সম্পাদক তানজির রায়হান হিমেল, সামাজিক নাটক ও বিনোদন সম্পাদক রায়হানুল ইসলাম দুর্জয়।
ছাত্রী হলগুলোতে প্রার্থী না দেয়ার কারণ হিসেবে আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর সাইবার বুলিংয়ের ভয় উল্লেখ করেন। তিনি জানান, যে কোনো নারী শিক্ষার্থী যদি নির্বাচনে অংশ নেন, তাদের পূর্ণ সমর্থন দেয়া হবে।
এর মধ্যে ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সৈয়দা অন্যন্যা ফারিয়া সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি গ্রুপিং, লেজুড়বৃত্তি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে এ সিদ্ধান্ত নেন। তিনি শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
এদিকে, ছাত্র ইউনিয়ন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ প্রশাসনের পদক্ষেপগুলো অগণতান্ত্রিক ও শিক্ষার্থীবিরোধী বলে সমালোচনা করেছে। সভাপতি অদ্রি অংকুর ও সাধারণ সম্পাদক ফাইজান আহমেদ অর্কের যুক্ত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অযৌক্তিক ছুটি ঘোষণা, হল ক্লিয়ারেন্স ও ব্যাংক ড্রাফটের শর্তসহ পদক্ষেপগুলো শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার প্রয়োগে নিরুৎসাহিত করছে। তারা চারটি দাবি জানিয়েছেন- অযৌক্তিক ছুটি বাতিল, ভোটার তালিকা সহজীকরণ, অপ্রয়োজনীয় শর্ত বাতিল এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক পরীক্ষা পিছিয়ে দেয়া।
এ নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করতে সবপক্ষের সহযোগিতা অপরিহার্র্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আরও উন্নয়নের জন্য পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখা হবে।