দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪১ দশমিক ৯ শতাংশ নানাভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। এর মধ্যে নারী শিক্ষার্থীর হার ৫১ শতাংশ এবং পুরুষ ৪৯ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার হচ্ছে তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা। বৈষম্যের মূল ক্ষেত্র হলো- পরীক্ষা ও শ্রেণীকক্ষ।
শনিবার,(৩০ আগস্ট ২০২৫) বেসরকারি সংগঠন ‘আঁচল ফাউন্ডেশনের’ এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশিত জরিপে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের মধ্যে বিষণ্যতা, উদ্বিগ্নতা, ঘুমের সমস্যা, স্ট্রেসসহ নানা লক্ষণ রয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৈষম্যের অবস্থা বুঝতে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। চলতি বছরের মার্চ থেকে মে পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। জরিপে অংশ নেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক হাজার ১৭৩ জন শিক্ষার্থী।
এর মধ্যে নারী ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশ, পুরুষ ৪৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থী শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ। জরিপে অংশগ্রহণকারীর বেশিরভাগের বয়স ২৩-২৬ বছর।
জরিপ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রায় ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী পরীক্ষার ফলে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের শিকার হয়েছেন প্রায় ৩০ শতাংশ, ধর্মীয় কারণে ১৯ শতাংশ, জাতিগত কারণে ৯ শতাংশ, অর্থনৈতিক কারণে ২৩ শতাংশ, শারীরিক অবয়বের কারণে ২৯ শতাংশ এবং রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী বৈষম্যের মুখে পড়েছেন। বৈষম্যের স্থান হিসেবে শ্রেণীকক্ষের কথা বলেছে ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইভেন্টে বৈষম্যের শিকার হয়েছে ৩৭ শতাংশ, হলে ১৯ শতাংশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৩১ শতাংশ। আর বৈষম্যমূলক আচরণের সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে সহপাঠীদের কাছ থেকে (৫৮ শতাংশ) এবং শিক্ষকদের কাছ থেকে (৫৫ শতাংশ)।
বৈষম্যের শিকার ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থীর মানসিক স্বাস্থ্যে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে জানিয়ে জরিপে বলা হয়েছে, তাদের মধ্যে ৫৫ শতাংশ বিষণœতা, ৪৯ শতাংশ উদ্বেগ, ৪৩ শতাংশ একাকিত্ব এবং ৪১ শতাংশ হীনম্মন্যতায় ভুগছেন। ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থীর ঘুমের সমস্যা তৈরি হয়েছে, ২২ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছে তাদের প্যানিক অ্যাটাক বেড়েছে।
মানসিক সমস্যার কারণে ৫১ শতাংশ শিক্ষার্থী ক্লাসে অংশ নিলেও পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে পারছে না।
শুধু ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী বৈষম্যের শিকার হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছে। এর মধ্যে মাত্র ১১ শতাংশ শিক্ষার্থী মনে করেন, প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে এবং ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নেই।
জরিপ শেষে আঁচল ফাউন্ডেশন শিক্ষার্থীদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে মেন্টরিং, নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং, বৈষম্য প্রতিরোধে মনিটরিং টিম গঠন, প্রতিটি বিভাগে অভিযোগ বক্স রাখা, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং সেন্টার চালু এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করার সুপারিশ করেছে। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক সাইকিয়াট্রিস্ট সায়েদুল ইসলাম সাঈদ, ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশনের আইনজীবী হাবিবুর রহমান, পার্সপেক্টিভের নির্বাহী সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ সিবগা এবং আঁচল ফাউন্ডেশনের সভাপতি তানসেন রোজ সংযুক্ত ছিলেন।
শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫
দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪১ দশমিক ৯ শতাংশ নানাভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। এর মধ্যে নারী শিক্ষার্থীর হার ৫১ শতাংশ এবং পুরুষ ৪৯ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার হচ্ছে তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা। বৈষম্যের মূল ক্ষেত্র হলো- পরীক্ষা ও শ্রেণীকক্ষ।
শনিবার,(৩০ আগস্ট ২০২৫) বেসরকারি সংগঠন ‘আঁচল ফাউন্ডেশনের’ এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশিত জরিপে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের মধ্যে বিষণ্যতা, উদ্বিগ্নতা, ঘুমের সমস্যা, স্ট্রেসসহ নানা লক্ষণ রয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৈষম্যের অবস্থা বুঝতে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। চলতি বছরের মার্চ থেকে মে পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। জরিপে অংশ নেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক হাজার ১৭৩ জন শিক্ষার্থী।
এর মধ্যে নারী ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশ, পুরুষ ৪৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থী শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ। জরিপে অংশগ্রহণকারীর বেশিরভাগের বয়স ২৩-২৬ বছর।
জরিপ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রায় ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী পরীক্ষার ফলে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের শিকার হয়েছেন প্রায় ৩০ শতাংশ, ধর্মীয় কারণে ১৯ শতাংশ, জাতিগত কারণে ৯ শতাংশ, অর্থনৈতিক কারণে ২৩ শতাংশ, শারীরিক অবয়বের কারণে ২৯ শতাংশ এবং রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী বৈষম্যের মুখে পড়েছেন। বৈষম্যের স্থান হিসেবে শ্রেণীকক্ষের কথা বলেছে ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইভেন্টে বৈষম্যের শিকার হয়েছে ৩৭ শতাংশ, হলে ১৯ শতাংশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৩১ শতাংশ। আর বৈষম্যমূলক আচরণের সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে সহপাঠীদের কাছ থেকে (৫৮ শতাংশ) এবং শিক্ষকদের কাছ থেকে (৫৫ শতাংশ)।
বৈষম্যের শিকার ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থীর মানসিক স্বাস্থ্যে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে জানিয়ে জরিপে বলা হয়েছে, তাদের মধ্যে ৫৫ শতাংশ বিষণœতা, ৪৯ শতাংশ উদ্বেগ, ৪৩ শতাংশ একাকিত্ব এবং ৪১ শতাংশ হীনম্মন্যতায় ভুগছেন। ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থীর ঘুমের সমস্যা তৈরি হয়েছে, ২২ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছে তাদের প্যানিক অ্যাটাক বেড়েছে।
মানসিক সমস্যার কারণে ৫১ শতাংশ শিক্ষার্থী ক্লাসে অংশ নিলেও পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে পারছে না।
শুধু ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী বৈষম্যের শিকার হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছে। এর মধ্যে মাত্র ১১ শতাংশ শিক্ষার্থী মনে করেন, প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে এবং ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নেই।
জরিপ শেষে আঁচল ফাউন্ডেশন শিক্ষার্থীদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে মেন্টরিং, নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং, বৈষম্য প্রতিরোধে মনিটরিং টিম গঠন, প্রতিটি বিভাগে অভিযোগ বক্স রাখা, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং সেন্টার চালু এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করার সুপারিশ করেছে। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক সাইকিয়াট্রিস্ট সায়েদুল ইসলাম সাঈদ, ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশনের আইনজীবী হাবিবুর রহমান, পার্সপেক্টিভের নির্বাহী সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ সিবগা এবং আঁচল ফাউন্ডেশনের সভাপতি তানসেন রোজ সংযুক্ত ছিলেন।