ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে অংশ নেওয়া বাম ধারার সাতটি ছাত্র সংগঠনের প্যানেল ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ রবিবার তাদের ১৮ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছে। মধুর ক্যান্টিনের পাশে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্যানেলের জিএস পদপ্রার্থী মেঘমল্লার বসু ইশতেহারটি প্রকাশ করেন।
ইশতেহারে শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার, নিরাপত্তা, শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা ও আবাসন, নারীবান্ধব ক্যাম্পাস এবং সকল জাতিসত্তার অধিকার নিশ্চিতকরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। প্রথম বর্ষ থেকেই প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সিট নিশ্চিত করার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গণরুম, গেস্টরুম এবং র্যাগিং নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে ক্যাম্পাস চার্টার বাস্তবায়নের পরিকল্পনা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিরোধ পর্ষদের ১৮ দফা প্রতিশ্রুতি সংক্ষেপে:
১. ডাকসুর কাঠামো সংস্কার ও ক্ষমতা বৃদ্ধি: নির্বাচন ক্যালেন্ডার নির্দিষ্টকরণ, সিনেটে ন্যূনতম ১০ জন নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধির উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
২. শিক্ষার্থীদের ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়ন: শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ ও সংকোচন বন্ধ, ইউজিসি কৌশলপত্র বাতিল।
৩. গবেষণায় অগ্রাধিকার: বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটের অন্তত ১০ ভাগ গবেষণায় বরাদ্দ, প্রতিটি গবেষণাগার আধুনিকায়ন।
৪. আবাসন সমস্যা সমাধান: হলে সন্ত্রাস ও দখলদারিত্ব বন্ধ, পুরনো ভবন সংস্কার ও নতুন ভবন নির্মাণ, প্রথম বর্ষ থেকে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সিট নিশ্চিত।
৫. নারীবান্ধব ক্যাম্পাস: নারী হলে সম্ভাব্য হয়রানি দূর, প্রবেশাধিকার নিশ্চিত, ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন।
৬. সকল জাতিসত্তার অধিকার: পাহাড় ও সমতলে ভাষা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি সংরক্ষণ এবং সমমর্যাদা নিশ্চিত করা।
৭. খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা: ক্যান্টিন প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালনা।
৮. শারীরিক স্বাস্থ্য: শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টার আধুনিকীকরণ ও ১০০ শয্যা নিশ্চিত।
৯. মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা: মেডিকেল সেন্টারে মেন্টাল হেলথ সাপোর্ট সেন্টার, মাদকমুক্ত ক্যাম্পাস, স্বাস্থ্য কর্মশালা।
১০. লাইব্রেরি ও কমনরুম: কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি সার্বক্ষণিক খোলা, নতুন ভবন নির্মাণ, ২৪ ঘণ্টা কার্যকর।
১১. প্রকাশনা সংস্থা সচলকরণ: নিয়মিত বই ও গবেষণাপত্র প্রকাশ, মাতৃভাষায় উচ্চশিক্ষার জন্য অনুবাদ কেন্দ্র।
১২. মুক্ত পরিসর রক্ষণাবেক্ষণ: বেহাত হওয়া জমি পুনরুদ্ধার।
১৩. সাহিত্য ও সংস্কৃতি: হল-অনুষদে নিয়মিত আড্ডা ও মাসিক পত্রিকা, ঐতিহ্যবাহী উৎসব আয়োজন।
১৪. পরিবহন: নিজস্ব অর্থায়নে বাসের ব্যবস্থা।
১৫. ক্রীড়া: বার্ষিক স্পোর্টস ক্যালেন্ডার, নারীবান্ধব খেলার মাঠ।
১৬. পরিবেশ ও প্রতিবেশ সুরক্ষা।
১৭. গণতন্ত্র, স্বায়ত্তশাসন ও মতপ্রকাশের অধিকার: ৭৩ সালের অধ্যাদেশ সংশোধন করে পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসন।
১৮. মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন: মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণ, আর্কাইভ ও গবেষণা বৃত্তি, ত্রৈমাসিক প্রকাশনা।
প্রতিরোধ পর্ষদ আশা করছে, এই ইশতেহার বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত হবে, গবেষণা ও শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাবে, এবং একটি স্বচ্ছ ও নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে উঠবে।
রোববার, ৩১ আগস্ট ২০২৫
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে অংশ নেওয়া বাম ধারার সাতটি ছাত্র সংগঠনের প্যানেল ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ রবিবার তাদের ১৮ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছে। মধুর ক্যান্টিনের পাশে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্যানেলের জিএস পদপ্রার্থী মেঘমল্লার বসু ইশতেহারটি প্রকাশ করেন।
ইশতেহারে শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার, নিরাপত্তা, শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা ও আবাসন, নারীবান্ধব ক্যাম্পাস এবং সকল জাতিসত্তার অধিকার নিশ্চিতকরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। প্রথম বর্ষ থেকেই প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সিট নিশ্চিত করার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গণরুম, গেস্টরুম এবং র্যাগিং নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে ক্যাম্পাস চার্টার বাস্তবায়নের পরিকল্পনা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিরোধ পর্ষদের ১৮ দফা প্রতিশ্রুতি সংক্ষেপে:
১. ডাকসুর কাঠামো সংস্কার ও ক্ষমতা বৃদ্ধি: নির্বাচন ক্যালেন্ডার নির্দিষ্টকরণ, সিনেটে ন্যূনতম ১০ জন নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধির উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
২. শিক্ষার্থীদের ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়ন: শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ ও সংকোচন বন্ধ, ইউজিসি কৌশলপত্র বাতিল।
৩. গবেষণায় অগ্রাধিকার: বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটের অন্তত ১০ ভাগ গবেষণায় বরাদ্দ, প্রতিটি গবেষণাগার আধুনিকায়ন।
৪. আবাসন সমস্যা সমাধান: হলে সন্ত্রাস ও দখলদারিত্ব বন্ধ, পুরনো ভবন সংস্কার ও নতুন ভবন নির্মাণ, প্রথম বর্ষ থেকে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সিট নিশ্চিত।
৫. নারীবান্ধব ক্যাম্পাস: নারী হলে সম্ভাব্য হয়রানি দূর, প্রবেশাধিকার নিশ্চিত, ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন।
৬. সকল জাতিসত্তার অধিকার: পাহাড় ও সমতলে ভাষা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি সংরক্ষণ এবং সমমর্যাদা নিশ্চিত করা।
৭. খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা: ক্যান্টিন প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালনা।
৮. শারীরিক স্বাস্থ্য: শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টার আধুনিকীকরণ ও ১০০ শয্যা নিশ্চিত।
৯. মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা: মেডিকেল সেন্টারে মেন্টাল হেলথ সাপোর্ট সেন্টার, মাদকমুক্ত ক্যাম্পাস, স্বাস্থ্য কর্মশালা।
১০. লাইব্রেরি ও কমনরুম: কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি সার্বক্ষণিক খোলা, নতুন ভবন নির্মাণ, ২৪ ঘণ্টা কার্যকর।
১১. প্রকাশনা সংস্থা সচলকরণ: নিয়মিত বই ও গবেষণাপত্র প্রকাশ, মাতৃভাষায় উচ্চশিক্ষার জন্য অনুবাদ কেন্দ্র।
১২. মুক্ত পরিসর রক্ষণাবেক্ষণ: বেহাত হওয়া জমি পুনরুদ্ধার।
১৩. সাহিত্য ও সংস্কৃতি: হল-অনুষদে নিয়মিত আড্ডা ও মাসিক পত্রিকা, ঐতিহ্যবাহী উৎসব আয়োজন।
১৪. পরিবহন: নিজস্ব অর্থায়নে বাসের ব্যবস্থা।
১৫. ক্রীড়া: বার্ষিক স্পোর্টস ক্যালেন্ডার, নারীবান্ধব খেলার মাঠ।
১৬. পরিবেশ ও প্রতিবেশ সুরক্ষা।
১৭. গণতন্ত্র, স্বায়ত্তশাসন ও মতপ্রকাশের অধিকার: ৭৩ সালের অধ্যাদেশ সংশোধন করে পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসন।
১৮. মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন: মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণ, আর্কাইভ ও গবেষণা বৃত্তি, ত্রৈমাসিক প্রকাশনা।
প্রতিরোধ পর্ষদ আশা করছে, এই ইশতেহার বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত হবে, গবেষণা ও শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাবে, এবং একটি স্বচ্ছ ও নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে উঠবে।