alt

news » crime-corruption

শিক্ষক কার্জনকে জামিন দেয়নি আদালত

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট : রোববার, ৩১ আগস্ট ২০২৫

ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধান নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানে গিয়ে ‘মব’ হামলার শিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জনকে জামিন দেয়নি আদালত। হামলার শিকার হয়েও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কারাগারে পাঠানো কার্জনসহ দুইজনের জামিন আবেদন রোববার,(৩১ আগস্ট ২০২৫) শুনানি শেষে নাকচ করে দেড ঢাকার মহানগর হাকিম মেহেরা মাহবুব। জামিন না পাওয়া অন্যজন হলেন মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জিন্নাত আলী তাদের জামিন নামঞ্জুরের তথ্য দিয়েছেন। দুইজনের পক্ষে শুনানি করেন ফারজানা ইয়াসমিন রাখী। তিনি আদালতে বলেন, ‘হাফিজুর রহমান কার্জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তিনি একজন গুণী মানুষ। আপনাদেরও (বিচারক) শিক্ষক। আর প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই, কিন্তু সেখানে প্রোগ্রাম করেছিলেন। তাদের জামিনের প্রার্থনা করছি।’ রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন জামিনের বিরোধিতা করেন। তিনি আদালতে বলেন, ‘গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাশাসক হাসিনার বিদায় হয়। সেই দিনই তারা ‘মঞ্চ ৭১’ প্রতিষ্ঠা করেন। তাদের উদ্দেশে হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা।’ এ আইনজীবী বলেন,‘মঞ্চ ৭১’ এর সঙ্গে জড়িত জেড আই খান পান্না, লতিফ সিদ্দিকী, তার ভাই কাদের সিদ্দিকী। এরা প্রত্যেকে আওয়ামী লীগার। এরা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে ছিল। কেউ অভিমানে, আবার কেউ বহিষ্কার হয়ে চুপ ছিলেন। তাদের এ মঞ্চের উদ্দেশে হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা। ‘আওয়ামী লীগ এদেশ থেকে পালিয়ে গেছে। তারা আর ফিরতে পারবে না। তারা যে স্বপ্ন দেখে তা দুঃস্বপ্ন হবে। তাদের জামিন নামঞ্জুরের প্রার্থনা করছি।’ শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুরের আদেশ দেয়। এ মামলায় অন্য আসামিরা হলো- আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা লতিফ সিদ্দিকী, সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না, কাজী এ টি এম আনিসুর রহমান বুলবুল, গোলাম মোস্তফা, মো. মহিউল ইসলাম ওরফে বাবু, মো. জাকির হোসেন, মো. তৌছিফুল বারী খাঁন, মো. আমির হোসেন সুমন, মো. নাজমুল আহসান, সৈয়দ শাহেদ হাসান, মো. শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, দেয়ান মোহম্মদ আলী ও মো. আব্দুল্লাহিল কাইয়ুম।

রাজধানীর শাহবাগ থানায় করা এ মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বন্ধের লক্ষ্যে গত ৫ আগস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এ সংগঠনের উদ্দেশ্য জাতির অর্জনকে মুছে ফেলার সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আত্মত্যাগের প্রস্তুতি নেয়া। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ২৮ আগস্ট সকাল ১০টায় একটি গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

‘সেগুনবাগিচায় বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) অনুষ্ঠান শুরু হয়। এর মধ্যেই এক দল ব্যক্তি হট্টগোল করে স্লোগান দিয়ে সভাস্থলে ঢুকে পড়েন। একপর্যায়ে তারা অনুষ্ঠানস্থলের দরজা বন্ধ করে দেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া কয়েকজনকে লাঞ্ছিত করেন। হট্টগোলকারীরা গোলটেবিল আলোচনার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন এবং আলোচনায় অংশ নেয়াদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। ‘একপর্যায়ে অতিথিদের অনেককেই বের করে দেয়া হলেও আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী এবং অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানকে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। পরে পুলিশ এসে ১৬ জনকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় গত শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন এসআই আমিরুল ইসলাম। পরবর্তীতে এ মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।’ তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনে বলা হয়, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ‘মঞ্চ ৭১’-এর ব্যানারকে পুঁজি করে প্রকৃতপক্ষে দেশকে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে অস্থিতিশীল করে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র ও উপস্থিত অন্যদের প্ররোচিত করে বক্তব্য প্রদান করছিলেন। তার এই ষড়যন্ত্রমূলক বক্তব্যের জন্য উপস্থিত লোকজন তাদেরকে ঘেরাও করে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বলে স্লোগান দেয়। পরস্পর সহায়তাকারী হিসেবে দেশকে অস্থিতিশীল করে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র ও প্ররোচণার অপরাধ করেছে। মামলাটি তদন্তাধীন।

‘এ অবস্থায় মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং আসামিদের নাম-ঠিকানা যাচাই না হওয়ায় পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন। এছাড়া মামলার তদন্তের স্বার্থে পরবর্তীতে ব্যাপক ও নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামিদের পুলিশ রিমান্ডে পাওয়ার আবেদন করা হবে।’

কী ঘটেছিল

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সংবিধান’ শিরোনামে গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে ‘মঞ্চ ৭১’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম। এ প্ল্যাটফর্মের সমন্বয় করছেন গণফোরামের নেতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ (বীর প্রতীক) ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল গণফোরামের সাবেক সভাপতি কামাল হোসেনের। তবে তিনি আসার আগেই সেখানে একদল ব্যক্তি হট্টগোল শুরু করে। তাদের হামলায় আহত হন অনেকে। ওই ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, ‘জুলাইযোদ্ধা’ পরিচয়ে আল আমিন রাসেলের নেতৃত্বে কয়েকজন গিয়ে উপস্থিত লোকজনদের ঘেরাও করেন। তারা আলোচনা অনুষ্ঠান থেকে অনেকেকে জোর করে তুলে দেয় এবং অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা বয়স্ক মুক্তিযোদ্ধাদেরও মারধর করে। ২০-৩০ বছর বয়সী ওই হামলাকারীদের জামায়াত ও শিবিরপন্থি বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় চিহ্নিত করছেন অনেকে। ঘটনার বিবরণ দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আমি এখানে প্রোগ্রামে এসেছি। দল মতের হিসেবে নয়, এখানে সব মুক্তিযোদ্ধাদের ডাকা হয়েছে, তাই এসেছি। ‘আমরা প্রোগ্রাম শুরু করেছিলাম। লতিফ সিদ্দিকী সাহেব এসেছেন। কামাল হোসেন সাহেব আসেননি। ২০/২৫ জন ছেলে এসে হট্টগোল করে। আমাদের ঘিরে ফেলে।’ সাবেক বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে ঘিরে কয়েকজন তরুণ লাফাতে লাফাতে স্লোগান দেয়, ‘একটা একটা লীগ ধর, ধইরা ধইরা জেলে ভর’-এরকম ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছে। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলে কেশব রঞ্জন সরকার নামের একজনকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেয়া হয়। আর রিপোর্টার্স ইউনিটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর মারধরের শিকার হন জাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল্লাহিল কাইয়ূম। ওই ঘটনার পর ডিআরইউ থেকে সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মেজবাহ কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন ও সাংবাদিক মনজুরুল ইসলাম পান্নাসহ বেশ কয়েকজনকে পুলিশের গাড়িতে করে তুলে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

পুলিশ তখন বলেছিল, ‘মব’ হামলার মুখে নিরাপত্তাজনিত কারণে তাদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরে তাদের মধ্যে কয়েকজনতে মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে এবং কয়েকজনকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়ার খবর আসে। তবে পুলিশ তখন কারও নাম জানায়নি। রাত ১০টা অবধি তাদের আটক করার বিষয়েও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেনি। রাত সাড়ে ১০টার পরে তাদের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হবে বলে জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। এর কিছু সময় পর তিনি মামলা হওয়ার তথ্য দিয়ে তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর কথা বলেন।

ছবি

ছাগলকাণ্ড: স্ত্রীসহ মতিউরের রিমান্ড শুনানিতে আসেননি তদন্ত কর্মকর্তা

ছবি

অতিরিক্ত ডিআইজি ও তার স্ত্রীর সম্পদ বিবরণী চেয়েছে দুদক

ছবি

রাতের আঁধারে কেটে দেওয়া হলো কৃষকের স্বপ্নের লাউগাছ

ছবি

সীতাকুণ্ডে যৌথবাহিনীর অভিযানে দেশীয় অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক ৪

ছবি

জাহিদ হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার দাবি

ছবি

সিলেটে হাঁস মারার প্রতিবাদে খুন

ছবি

জামিন নাকচ, কারাগারে তৌহিদ আফ্রিদি

ছবি

যমেক: এসি ও প্রজেক্টর চুরিতে তুমুল হইচই

ছবি

গুমের বিচার হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় আছে: মাইকেল চাকমা

ছবি

আইন অমান্য করায় ১২২ জেলে আটক

ছবি

উপদেষ্টা হতে সমন্বয়ককে ২শ’ কোটির চেক, ‘সত্যতা’ পেয়েছে দুদক

পীরগাছায় বাড়ির উঠোনে শুকোচ্ছে গাঁজা, কলাবাগানে লুকানো ৩০ গাছ

ছবি

চট্টগ্রাম থেকে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ, কক্সবাজারে উদ্ধার

ছবি

জনশক্তি রপ্তানি ‘সিন্ডিকেট’: লে. জে. (অব.) মাসুদ উদ্দিনসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে ‘মানিলন্ডারিং’ মামলা

ছবি

জেনেভা ক্যাম্পে যৌথ অভিযান: সামুরাই-চাপাতিসহ গ্রেপ্তার ১১

ছবি

আরেক সাবেক এমপির অফিসে চাঁদাবাজি: ‘বৈষম্যবিরোধী’ সেই ৪ নেতা রিমান্ডে

ছবি

কারাগারে থাকা জ্বালাময়ী জালালের ভোটাধিকারের বিষয়ে নিশ্চিত নয় ডাকসু

ছবি

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের মামলায় সাবেক উপাচার্য কলিমউল্লাহর পাঁচ দিনের রিমান্ড

পীরগাছায় চাঁদাবাজির অভিযোগে ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

ছবি

চার মামলায় দণ্ড: কারাগারে বিএনপি নেতা মামুন হাসান

ছবি

সাদা পাথর পর্যটন স্পট পরিদর্শন করলো মন্ত্রিপরিষদ তদন্ত কমিটি

ছবি

মহিলা পরিষদের প্রতিবেদন: ৬ মাসেই ধর্ষণের ঘটনা গত বছরের প্রায় সমান

ছবি

ঢাকা বিমানবন্দর: সাড়ে ৮ কেজি কোকেনসহ গায়ানার নাগরিক গ্রেপ্তার

ছবি

ফরিদপুরে দুই কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

ছবি

৩১০ টাকার বিদ্যুৎ বিল ৩ লক্ষাধিক টাকা!

ছবি

সিরাজগঞ্জে স্বর্ণ চুরির ঘটনায় ২ জন গ্রেপ্তার

ছবি

যুবদল নেতা মাসুদ রানা হত্যা: ছয় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ছবি

সৈকতে নারী পর্যটকের আপত্তিকর ভিডিও ধারণে টিকটকার গ্রেপ্তার

ছবি

সহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ : আদালতে বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ, কারাগারে পাঠানো হলো কনস্টেবল সাফিউরকে

ছবি

ছাগলকান্ডের মতিউরের দ্বিতীয় স্ত্রী ও মেয়েকে দেশে ফেরাতে ইন্টারপোলে আবেদন

ছবি

চলন্ত বাসে কুবি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা, দুজনের কারাদণ্ড

ছবি

বিমানের চাকা বেসরকারি এয়ারলাইন্সে দেওয়ার ঘটনায় দুই কর্মীর চাকরিচ্যুতি

ফার্স্ট সিকিউরিটির ১১০ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি: সিকদার পরিবার ও এস আলমের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

রাজশাহীতে স্কুল ফটকে শিক্ষকের উপর ছুরি হামলা ছাত্রীর

মৌলভীবাজারের ব্যবসায়ি রুবেল ছুরিকাঘাতে খুন , গ্রেফতার ১

ছবি

এক্সিম ব্যাংকের ৮৫৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ: সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

tab

news » crime-corruption

শিক্ষক কার্জনকে জামিন দেয়নি আদালত

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

রোববার, ৩১ আগস্ট ২০২৫

মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধান নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানে গিয়ে ‘মব’ হামলার শিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জনকে জামিন দেয়নি আদালত। হামলার শিকার হয়েও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কারাগারে পাঠানো কার্জনসহ দুইজনের জামিন আবেদন রোববার,(৩১ আগস্ট ২০২৫) শুনানি শেষে নাকচ করে দেড ঢাকার মহানগর হাকিম মেহেরা মাহবুব। জামিন না পাওয়া অন্যজন হলেন মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জিন্নাত আলী তাদের জামিন নামঞ্জুরের তথ্য দিয়েছেন। দুইজনের পক্ষে শুনানি করেন ফারজানা ইয়াসমিন রাখী। তিনি আদালতে বলেন, ‘হাফিজুর রহমান কার্জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তিনি একজন গুণী মানুষ। আপনাদেরও (বিচারক) শিক্ষক। আর প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই, কিন্তু সেখানে প্রোগ্রাম করেছিলেন। তাদের জামিনের প্রার্থনা করছি।’ রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন জামিনের বিরোধিতা করেন। তিনি আদালতে বলেন, ‘গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাশাসক হাসিনার বিদায় হয়। সেই দিনই তারা ‘মঞ্চ ৭১’ প্রতিষ্ঠা করেন। তাদের উদ্দেশে হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা।’ এ আইনজীবী বলেন,‘মঞ্চ ৭১’ এর সঙ্গে জড়িত জেড আই খান পান্না, লতিফ সিদ্দিকী, তার ভাই কাদের সিদ্দিকী। এরা প্রত্যেকে আওয়ামী লীগার। এরা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে ছিল। কেউ অভিমানে, আবার কেউ বহিষ্কার হয়ে চুপ ছিলেন। তাদের এ মঞ্চের উদ্দেশে হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা। ‘আওয়ামী লীগ এদেশ থেকে পালিয়ে গেছে। তারা আর ফিরতে পারবে না। তারা যে স্বপ্ন দেখে তা দুঃস্বপ্ন হবে। তাদের জামিন নামঞ্জুরের প্রার্থনা করছি।’ শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুরের আদেশ দেয়। এ মামলায় অন্য আসামিরা হলো- আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা লতিফ সিদ্দিকী, সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না, কাজী এ টি এম আনিসুর রহমান বুলবুল, গোলাম মোস্তফা, মো. মহিউল ইসলাম ওরফে বাবু, মো. জাকির হোসেন, মো. তৌছিফুল বারী খাঁন, মো. আমির হোসেন সুমন, মো. নাজমুল আহসান, সৈয়দ শাহেদ হাসান, মো. শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, দেয়ান মোহম্মদ আলী ও মো. আব্দুল্লাহিল কাইয়ুম।

রাজধানীর শাহবাগ থানায় করা এ মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বন্ধের লক্ষ্যে গত ৫ আগস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এ সংগঠনের উদ্দেশ্য জাতির অর্জনকে মুছে ফেলার সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আত্মত্যাগের প্রস্তুতি নেয়া। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ২৮ আগস্ট সকাল ১০টায় একটি গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

‘সেগুনবাগিচায় বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) অনুষ্ঠান শুরু হয়। এর মধ্যেই এক দল ব্যক্তি হট্টগোল করে স্লোগান দিয়ে সভাস্থলে ঢুকে পড়েন। একপর্যায়ে তারা অনুষ্ঠানস্থলের দরজা বন্ধ করে দেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া কয়েকজনকে লাঞ্ছিত করেন। হট্টগোলকারীরা গোলটেবিল আলোচনার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন এবং আলোচনায় অংশ নেয়াদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। ‘একপর্যায়ে অতিথিদের অনেককেই বের করে দেয়া হলেও আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী এবং অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানকে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। পরে পুলিশ এসে ১৬ জনকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় গত শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন এসআই আমিরুল ইসলাম। পরবর্তীতে এ মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।’ তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনে বলা হয়, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ‘মঞ্চ ৭১’-এর ব্যানারকে পুঁজি করে প্রকৃতপক্ষে দেশকে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে অস্থিতিশীল করে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র ও উপস্থিত অন্যদের প্ররোচিত করে বক্তব্য প্রদান করছিলেন। তার এই ষড়যন্ত্রমূলক বক্তব্যের জন্য উপস্থিত লোকজন তাদেরকে ঘেরাও করে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বলে স্লোগান দেয়। পরস্পর সহায়তাকারী হিসেবে দেশকে অস্থিতিশীল করে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র ও প্ররোচণার অপরাধ করেছে। মামলাটি তদন্তাধীন।

‘এ অবস্থায় মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং আসামিদের নাম-ঠিকানা যাচাই না হওয়ায় পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন। এছাড়া মামলার তদন্তের স্বার্থে পরবর্তীতে ব্যাপক ও নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামিদের পুলিশ রিমান্ডে পাওয়ার আবেদন করা হবে।’

কী ঘটেছিল

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সংবিধান’ শিরোনামে গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে ‘মঞ্চ ৭১’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম। এ প্ল্যাটফর্মের সমন্বয় করছেন গণফোরামের নেতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ (বীর প্রতীক) ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল গণফোরামের সাবেক সভাপতি কামাল হোসেনের। তবে তিনি আসার আগেই সেখানে একদল ব্যক্তি হট্টগোল শুরু করে। তাদের হামলায় আহত হন অনেকে। ওই ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, ‘জুলাইযোদ্ধা’ পরিচয়ে আল আমিন রাসেলের নেতৃত্বে কয়েকজন গিয়ে উপস্থিত লোকজনদের ঘেরাও করেন। তারা আলোচনা অনুষ্ঠান থেকে অনেকেকে জোর করে তুলে দেয় এবং অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা বয়স্ক মুক্তিযোদ্ধাদেরও মারধর করে। ২০-৩০ বছর বয়সী ওই হামলাকারীদের জামায়াত ও শিবিরপন্থি বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় চিহ্নিত করছেন অনেকে। ঘটনার বিবরণ দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আমি এখানে প্রোগ্রামে এসেছি। দল মতের হিসেবে নয়, এখানে সব মুক্তিযোদ্ধাদের ডাকা হয়েছে, তাই এসেছি। ‘আমরা প্রোগ্রাম শুরু করেছিলাম। লতিফ সিদ্দিকী সাহেব এসেছেন। কামাল হোসেন সাহেব আসেননি। ২০/২৫ জন ছেলে এসে হট্টগোল করে। আমাদের ঘিরে ফেলে।’ সাবেক বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে ঘিরে কয়েকজন তরুণ লাফাতে লাফাতে স্লোগান দেয়, ‘একটা একটা লীগ ধর, ধইরা ধইরা জেলে ভর’-এরকম ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছে। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলে কেশব রঞ্জন সরকার নামের একজনকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেয়া হয়। আর রিপোর্টার্স ইউনিটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর মারধরের শিকার হন জাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল্লাহিল কাইয়ূম। ওই ঘটনার পর ডিআরইউ থেকে সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মেজবাহ কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন ও সাংবাদিক মনজুরুল ইসলাম পান্নাসহ বেশ কয়েকজনকে পুলিশের গাড়িতে করে তুলে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

পুলিশ তখন বলেছিল, ‘মব’ হামলার মুখে নিরাপত্তাজনিত কারণে তাদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরে তাদের মধ্যে কয়েকজনতে মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে এবং কয়েকজনকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়ার খবর আসে। তবে পুলিশ তখন কারও নাম জানায়নি। রাত ১০টা অবধি তাদের আটক করার বিষয়েও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেনি। রাত সাড়ে ১০টার পরে তাদের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হবে বলে জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। এর কিছু সময় পর তিনি মামলা হওয়ার তথ্য দিয়ে তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর কথা বলেন।

back to top