alt

অপরাধ ও দুর্নীতি

পাবনা জেনারেল হাসপাতালে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সামগ্রী ক্রয়ে দুর্নীতি!

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, পাবনা : সোমবার, ২০ জুন ২০২২

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডাক্তার ওমর ফারুক মীরের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বাজার দরের চেয়ে উচ্চমূল্যে নিম্নমানের মালামাল ক্রয় ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালে মালামাল সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাখিলকৃত বিলের কপি সংযুক্ত করে এই বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ করেছেন হাসপাতালের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী সাদেক হোসেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশ করে সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে গোপন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সহকারী পরিচালক কার্যাদেশ প্রদান করেছেন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে সাদেক হোসেন জানান, সম্প্রতি হাসপাতালে ব্যক্তিগত কাজে গিয়ে অফিস কক্ষের সামনে সদ্য কেনা বর্জ্য ফেলার প্লাস্টিক বক্স দেখতে পান। বক্সগুলোর বিষয়ে কয়েকজন সাবেক সহকর্মীর সঙ্গে আলাপ করে তিনি জানতে পারেন প্রতিটি বক্স কেনা হয়েছে ৫ হাজার ৭৯০ টাকায়। সাধারণত এ ধরনের বক্স বাজারে ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যায়।

সাদেক হোসেন আরও বলেন, সরকারি অর্থের অপচয় করে বাজারমূল্যের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মূল্যে এসব পণ্য কেন নেয়া হচ্ছে জানতে চাইলে হাসপাতাল কর্মচারীরা বলেন, এডি স্যার জানেন। পরে আমি সহকারী পরিচালক ডাক্তার ওমর ফারুক মীরকে বেশি দামে পণ্য ক্রয় করা হচ্ছে জানালে তিনি আমাকে এ বিষয়ে নাক গলাতে নিষেধ করেন। মালামাল নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে ফল ভালো হবে না বলেও জানান।

সাদেক হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে আরও খোঁজ নিয়ে জানতে পারি সম্পূর্ণ নীতিমালা বহির্ভূতভাবে দরপত্র বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশ কিংবা নোটিশ বোর্ডে না টানিয়েই ঢাকার এস.টি.এম. করপোরেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে গত ১১ জুন কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে। অফিসে যোগাযোগ করেও দরপত্র বিজ্ঞপ্তির কোন কপি পাওয়া যায়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশে সহকারী পরিচালক এসব নিম্নমানের মালামাল উচ্চমূল্যে কিনেছেন, যা দাখিলকৃত বিলে প্রমাণিত। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে দুদকে আবেদন করেছি।

এই প্রতিবেদকের হাতে আসা হাসপাতালে এস.টি.এম করপোরেশনের দাখিলকৃত বিলে দেখা যায়, বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য কালো, হলুদ, সবুজ ও লাল রঙের প্লাস্টিকের বড় বিন কেনা হয়েছে ১৬০টি। যার প্রতিটির মূল্য ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৭৯০ টাকা। কালো, হলুদ, সবুজ ও লাল রঙের ১২০টি ছোট বিনের প্রতিটির মূল্য ধরা হয়েছে ৭৪০ টাকা করে। ৪০১টি প্লাস্টিকের লাল সেফটি বক্সের প্রতিটির দাম ধরা হয়েছে ৩১৪ টাকা করে। ৩৫০টি নীল প্লাস্টিক গামলার প্রতিটির দাম ধরা হয়েছে ১৫৫ টাকা করে। ৩৬০টি নীল বালতির প্রতিটির দাম ধরা হয়েছে ২০৬ টাকা করে।

এছাড়া, পচনশীল দ্রব্য সংরক্ষণে কালো, হলুদ, সবুজ ও লাল রঙের বড় ব্যাগ কেনা হয়েছে ৪৭ হাজার ২০০টি। যার প্রতিটির দাম ধরা হয়েছে ৬৪.৯৫ টাকা। প্রতিটি ২৪.৯৫ টাকা দরে কালো, হলুদ, সবুজ ও লাল রঙের মাঝারি ব্যাগ কেনা হয়েছে ১২০০০ পিস, মৃতদেহ সংরক্ষণের ৯৬টি ব্যাগ কেনা হয়েছে প্রতিটি ১৩৭০ টাকা দরে।

এর পাশাপাশি নিরপত্তা সরঞ্জাম হিসেবে আরও কেনা হয়েছে ৪,৭৯০ টাকা দরে ৩টি নিডল কাটার, ৩৯৯০ টাকা দরে ২টি নিডল ডিস্ট্রয়ার, ২৪৯০ টাকা দরে ১০০টি এপ্রোন, ২৪৭ টাকা জোড়া দরে ২০০টি হ্যান্ডগ্লাবস, ৯৭ টাকা দরে ১০৬টি মাস্ক, ৭৪৫ টাকা দরে ৫০ জোড়া গামবুট, ১২২ টাকা পিস দরে ৬০টি গগলস এবং ২২৯৯০ টাকা দরে ১৪টি বর্জ্য পরিবহন ট্রলি।

দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান মালামাল ক্রয়ের দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র ঠিক না থাকায় এস.টি.এম করপোরেশন যে দর দেয় তাই অনুমোদন পায়। বিষয়টি সন্দেহজনক। পণ্যমূল্য অধিকাংশই বাজার দরের দ্বিগুণের চেয়ে বেশি। কোন কোনটি কয়েকগুণ বেশি। তবে তা কৌশলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্ট্যান্ডার্ড রেটের মধ্যেই রাখা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একাধিক ঠিকাদার জানান, জুন মাস সামনে রেখে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করতেই উচ্চমূল্যে নি¤œমানের মালামাল কেনা হয়েছে। দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বা নোটিশ বোর্ডে টানানো হয়নি। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এস.টি.এম করপোরেশনকে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড রেটে মালামাল কেনা হয়েছে বলা হলেও, পণ্যের কোন বিশেষ বৈশিষ্ট্য নির্ধারিত না থাকায় এখানে তা বিবেচ্য হওয়ার কথা নয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে টেন্ডারে প্রতিযোগী না রেখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় সর্বোচ্চ মূল্য হাতিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করেছে।

এ বিষয়ে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের প্রধান সহকারী সনজিৎ কুমার দাসের কাছে জানতে চাইলে কোন পত্রিকায় কবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিল সুনির্দিষ্ট করে জানাতে পারেননি। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। সহকারী পরিচালক স্যার জানেন।

তবে, মালামাল ক্রয়ে কোন দুর্নীতি হয়নি বলে দাবি করেছেন পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডাক্তার ওমর ফারুক মীর। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনেই দরপত্র আহ্বান ও কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। মূল্যায়ন কমিটি নীতিমালা মেনে যাচাই-বাছাই করে কার্যাদেশ দিয়েছে। এখানে দুর্নীতি বা অনিয়মের সুযোগ নেই। জাতীয় পত্রিকায় দরপত্র আহ্বান ও নোটিশ বোর্ডে বিজ্ঞপ্তিও দেয়া হয়েছে। কেউ কেউ সুবিধা না পেয়ে অসত্য অভিযোগ করছেন। তবে, অফিসিয়াল গোপনীয় বিষয় বলে তিনি পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি দেখাতে রাজি হননি।

ছবি

পদ্মা সেতুর নাট-বল্টু খোলা নিয়ে যা বলল সিআইডি

ছবি

পদ্মা সেতুর বিরোধিতাকারীরা জাতির শত্রু, তাদের চিহ্নিত করা দরকার: হাইকোর্ট

সোনাইমুড়ীতে আ’লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত-৯

অর্থ আত্মসাৎ : গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু

ছবি

ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল শেখ হাসিনা হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি পিন্টু

ছবি

পদ্মা সেতু নিয়ে গুজবের শিকার রেনুর পরিবার কেমন আছে

ছবি

মোবাইলের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করে বেশি দামে বিক্রি করত তারা

হাতিয়ার মেঘনাপাড় থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার

১৮ বছর পর গৃহবধূ গণধর্ষণ মামলার রায় : ২ জনের যাবজ্জীবন

ছবি

মুক্তিযোদ্ধা হোসেন হত্যা: ৬ জেএমবির ফাঁসির রায়

ছবি

অর্থ আত্মসাৎ: ওয়াসার এমডিসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

র‌্যাবকে ঘুষ দিতে গিয়ে মামলার আসামি

মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে সোয়াবিন ভর্তি ট্রাক ছিনতাই

ছবি

১৫ পর কৃষক হত্যার রায়, ৮ জনের যাবজ্জীবন

ময়মনসিংহের ছোট ভাইয়ের দায়ের কোপে বড় ভাই নিহত

ছবি

‘এমন আচরণ রাষ্ট্রের জন্য কলঙ্ক’

সিরাজগঞ্জে হেরোইন বহনের দায়ে দু’জনের যাবজ্জীবন

ছবি

সাতক্ষীরায় আ. লীগ নেতা মোশাররফ হোসেন গুলিবিদ্ঘধ, হাসপাতালে ভর্তি

ছবি

নন্দীগ্রামের জীবন কুমারের আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

ছবি

হানিফের হেলপার নিহতের ঘটনায় শতাব্দীর বাসচালক গ্রেপ্তার

নোয়াখালীতে অটোরিকশা চোর চক্রের ৯সদস্য গ্রেপ্তার

পুলিশ পরিচয়ে বিদেশ ফেরত যাত্রীর গাড়িতে ডাকাতি সর্বস্ব লুট

ছবি

ড. কামালের কর ফাঁকি নিয়ে রিটের আদেশ ২১ জুন

ছবি

উত্তরা থেকে ‘ধর্ষক’ গ্রেপ্তার

সাইবার অপরাধ বাড়ছে, ৬ মাসে ৪ হাজার অভিযোগ

যুক্তরাস্ট্টে দোকানের সামনেই গুলি করে নোয়াখালীর মাহফুজ হত্যা

ছবি

ঋন নিয়ে আত্মসাত: পিকে সহ ২৩ জনের নামে চার্জশিট দিচ্ছে দুদক

ছবি

চিকিৎসক বুলবুল হত্যা: প্রধান আসামি রিপন গ্রেপ্তার

ছবি

দুই মামলায় স্থায়ী জামিন পেলেন খালেদা জিয়া

মহেশখালীতে হিন্দু পাড়ায় পরাজিত মেম্বার প্রার্থীর হামলায় আহত - ৭

ছবি

জাজিরায় ভোটে পরাজিত প্রার্থীর হামলা; পুলিশের গুলিতে শিশু সহ আহত ৩

ছবি

দুদকের মামলায় ময়মনসিংহের সাবেক ওসি কারাগারে

বগুড়ার নন্দীগ্রামে স্ত্রী ও সম্বন্ধীর প্রতারণার শিকার হয়ে যুবকের আত্মহত্যা

ছবি

ভবন হস্তান্তর : তুরিন আফরোজকে শোকজ

ছবি

হাইকোর্ট বলছে, অর্থ পাচারের মাস্টারমাইন্ড খন্দকার মোহতেশাম

tab

অপরাধ ও দুর্নীতি

পাবনা জেনারেল হাসপাতালে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সামগ্রী ক্রয়ে দুর্নীতি!

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, পাবনা

সোমবার, ২০ জুন ২০২২

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডাক্তার ওমর ফারুক মীরের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বাজার দরের চেয়ে উচ্চমূল্যে নিম্নমানের মালামাল ক্রয় ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালে মালামাল সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাখিলকৃত বিলের কপি সংযুক্ত করে এই বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ করেছেন হাসপাতালের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী সাদেক হোসেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশ করে সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে গোপন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সহকারী পরিচালক কার্যাদেশ প্রদান করেছেন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে সাদেক হোসেন জানান, সম্প্রতি হাসপাতালে ব্যক্তিগত কাজে গিয়ে অফিস কক্ষের সামনে সদ্য কেনা বর্জ্য ফেলার প্লাস্টিক বক্স দেখতে পান। বক্সগুলোর বিষয়ে কয়েকজন সাবেক সহকর্মীর সঙ্গে আলাপ করে তিনি জানতে পারেন প্রতিটি বক্স কেনা হয়েছে ৫ হাজার ৭৯০ টাকায়। সাধারণত এ ধরনের বক্স বাজারে ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যায়।

সাদেক হোসেন আরও বলেন, সরকারি অর্থের অপচয় করে বাজারমূল্যের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মূল্যে এসব পণ্য কেন নেয়া হচ্ছে জানতে চাইলে হাসপাতাল কর্মচারীরা বলেন, এডি স্যার জানেন। পরে আমি সহকারী পরিচালক ডাক্তার ওমর ফারুক মীরকে বেশি দামে পণ্য ক্রয় করা হচ্ছে জানালে তিনি আমাকে এ বিষয়ে নাক গলাতে নিষেধ করেন। মালামাল নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে ফল ভালো হবে না বলেও জানান।

সাদেক হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে আরও খোঁজ নিয়ে জানতে পারি সম্পূর্ণ নীতিমালা বহির্ভূতভাবে দরপত্র বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশ কিংবা নোটিশ বোর্ডে না টানিয়েই ঢাকার এস.টি.এম. করপোরেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে গত ১১ জুন কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে। অফিসে যোগাযোগ করেও দরপত্র বিজ্ঞপ্তির কোন কপি পাওয়া যায়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশে সহকারী পরিচালক এসব নিম্নমানের মালামাল উচ্চমূল্যে কিনেছেন, যা দাখিলকৃত বিলে প্রমাণিত। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে দুদকে আবেদন করেছি।

এই প্রতিবেদকের হাতে আসা হাসপাতালে এস.টি.এম করপোরেশনের দাখিলকৃত বিলে দেখা যায়, বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য কালো, হলুদ, সবুজ ও লাল রঙের প্লাস্টিকের বড় বিন কেনা হয়েছে ১৬০টি। যার প্রতিটির মূল্য ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৭৯০ টাকা। কালো, হলুদ, সবুজ ও লাল রঙের ১২০টি ছোট বিনের প্রতিটির মূল্য ধরা হয়েছে ৭৪০ টাকা করে। ৪০১টি প্লাস্টিকের লাল সেফটি বক্সের প্রতিটির দাম ধরা হয়েছে ৩১৪ টাকা করে। ৩৫০টি নীল প্লাস্টিক গামলার প্রতিটির দাম ধরা হয়েছে ১৫৫ টাকা করে। ৩৬০টি নীল বালতির প্রতিটির দাম ধরা হয়েছে ২০৬ টাকা করে।

এছাড়া, পচনশীল দ্রব্য সংরক্ষণে কালো, হলুদ, সবুজ ও লাল রঙের বড় ব্যাগ কেনা হয়েছে ৪৭ হাজার ২০০টি। যার প্রতিটির দাম ধরা হয়েছে ৬৪.৯৫ টাকা। প্রতিটি ২৪.৯৫ টাকা দরে কালো, হলুদ, সবুজ ও লাল রঙের মাঝারি ব্যাগ কেনা হয়েছে ১২০০০ পিস, মৃতদেহ সংরক্ষণের ৯৬টি ব্যাগ কেনা হয়েছে প্রতিটি ১৩৭০ টাকা দরে।

এর পাশাপাশি নিরপত্তা সরঞ্জাম হিসেবে আরও কেনা হয়েছে ৪,৭৯০ টাকা দরে ৩টি নিডল কাটার, ৩৯৯০ টাকা দরে ২টি নিডল ডিস্ট্রয়ার, ২৪৯০ টাকা দরে ১০০টি এপ্রোন, ২৪৭ টাকা জোড়া দরে ২০০টি হ্যান্ডগ্লাবস, ৯৭ টাকা দরে ১০৬টি মাস্ক, ৭৪৫ টাকা দরে ৫০ জোড়া গামবুট, ১২২ টাকা পিস দরে ৬০টি গগলস এবং ২২৯৯০ টাকা দরে ১৪টি বর্জ্য পরিবহন ট্রলি।

দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান মালামাল ক্রয়ের দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র ঠিক না থাকায় এস.টি.এম করপোরেশন যে দর দেয় তাই অনুমোদন পায়। বিষয়টি সন্দেহজনক। পণ্যমূল্য অধিকাংশই বাজার দরের দ্বিগুণের চেয়ে বেশি। কোন কোনটি কয়েকগুণ বেশি। তবে তা কৌশলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্ট্যান্ডার্ড রেটের মধ্যেই রাখা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একাধিক ঠিকাদার জানান, জুন মাস সামনে রেখে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করতেই উচ্চমূল্যে নি¤œমানের মালামাল কেনা হয়েছে। দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বা নোটিশ বোর্ডে টানানো হয়নি। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এস.টি.এম করপোরেশনকে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড রেটে মালামাল কেনা হয়েছে বলা হলেও, পণ্যের কোন বিশেষ বৈশিষ্ট্য নির্ধারিত না থাকায় এখানে তা বিবেচ্য হওয়ার কথা নয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে টেন্ডারে প্রতিযোগী না রেখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় সর্বোচ্চ মূল্য হাতিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করেছে।

এ বিষয়ে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের প্রধান সহকারী সনজিৎ কুমার দাসের কাছে জানতে চাইলে কোন পত্রিকায় কবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিল সুনির্দিষ্ট করে জানাতে পারেননি। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। সহকারী পরিচালক স্যার জানেন।

তবে, মালামাল ক্রয়ে কোন দুর্নীতি হয়নি বলে দাবি করেছেন পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডাক্তার ওমর ফারুক মীর। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনেই দরপত্র আহ্বান ও কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। মূল্যায়ন কমিটি নীতিমালা মেনে যাচাই-বাছাই করে কার্যাদেশ দিয়েছে। এখানে দুর্নীতি বা অনিয়মের সুযোগ নেই। জাতীয় পত্রিকায় দরপত্র আহ্বান ও নোটিশ বোর্ডে বিজ্ঞপ্তিও দেয়া হয়েছে। কেউ কেউ সুবিধা না পেয়ে অসত্য অভিযোগ করছেন। তবে, অফিসিয়াল গোপনীয় বিষয় বলে তিনি পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি দেখাতে রাজি হননি।

back to top