alt

শিক্ষা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় খুলছে ৯ জুন

কুবি প্রতিনিধি : বৃহস্পতিবার, ০৬ জুন ২০২৪

উপাচার্য-শিক্ষকের দ্বন্দ্বে ৩৯ দিন বন্ধ থাকার পর আগামী রোববার (৯ জুন) খুলছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)। তবে সকল শ্রেণি কার্যক্রম ও পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ২৩ জুন।

বুধবার (৫ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৫ তম সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিন্ডিকেট সদস্য উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেল চারটায় উপাচার্যের দপ্তরে শিক্ষক সমিতির নবনির্বাচিত সদস্যদের সঙ্গে বিভিন্ন দাবি নিয়ে উপাচার্যের বাগবিতণ্ডা হয়। ওই সময় ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা ও কর্মকর্তা সমিতির এক নেতা শিক্ষকদের হেনস্তা করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষক সমিতি তিন দফা দাবি দেয়। সেই সঙ্গে থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেন।

১৯ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত ক্লাস বর্জন কর্মসূচি পালন করে শিক্ষক সমিতি। এরপর ঈদুল ফিতরের বন্ধ হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হয়। কিন্তু তিন দিন ক্লাস হওয়ার পর আবারও আন্দোলন শুরু হয়।

২৫ এপ্রিল সাত দফা দাবি বাস্তবায়ন নিয়ে উপাচার্য এ এফ এম আবদুল মঈন, কোষাধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামান ও প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকীর দপ্তরে তালা দেয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। একই সঙ্গে তাঁদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে।

শিক্ষক সমিতির ৭ দফা দাবির মধ্যে ছিল ১৯ ফেব্রুয়ারি উপাচার্যের দপ্তরে শিক্ষকদের ওপর হামলার নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির হোসেনকে সাময়িক বহিষ্কার করা ও ঘটনার তদন্ত করা। পাশাপাশি প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকীকে অপসারণ করা। অন্য দাবিগুলোর মধ্যে আছে ঢাকার অতিথিশালা শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য অবমুক্ত করা; অধ্যাপক গ্রেড ১ ও ২-তে আবেদন করা শিক্ষকদের পদোন্নতির ব্যবস্থা করা; কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী বিভাগীয় প্রধান ও ডিন নিয়োগ এবং ইতিমধ্যে বেআইনিভাবে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের প্রত্যাহার করা; শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি স্থায়ীকরণে আইনবহির্ভূত শর্তারোপ করে জ্যেষ্ঠতা ক্ষুণ্নের বিষয়টি নিষ্পত্তি করা; ৯০তম সিন্ডিকেট সভায় বিতর্কিত শিক্ষা ছুটি নীতিমালা প্রত্যাহার করে আগের নীতিমালা বহাল এবং ৮৬তম সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদিত স্থায়ীকরণ সিদ্ধান্ত বাতিল করা।

২৭ এপ্রিল বিকেল পাঁচটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামানের গাড়ি প্রধান ফটকে আটকে দেয়।

পরদিন ২৮ এপ্রিল বেলা একটায় উপাচার্য এ এফ এম আবদুল মঈন প্রশাসনিক ভবনের নিজ দপ্তরে যাওয়ার জন্য ছাত্রলীগের সাবেক অন্তত ২০ জন নেতা ও তাঁর অনুসারী কিছু শিক্ষককে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢোকেন। এসময় শিক্ষক সমিতির নেতারা তাঁদের বাধা দেন।

এই সময়ে উপাচার্য ও ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা শিক্ষক সমিতির নেতাদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি, কিলঘুষি ও হামলায় জড়িয়ে পড়েন। এতে অন্তত ১০ জন শিক্ষক হেনস্তার শিকার হন।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্যসহ ছাত্রলীগের সাবেক নেতাসহ ২০ জনের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন শিক্ষক সমিতি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও শিক্ষক সমিতির ছয়জনের নামে পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেন।

৩০ এপ্রিল রাতে জরুরি সিন্ডিকেট সভা করে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও হল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে শিক্ষকদের দাবি দাওয়া ও ২৮ এপ্রিলের ঘটনা নিয়ে দুটি তদন্ত কমিটি হয়। এরপর থেকে আর বিশ্ববিদ্যালয় খোলেনি। তবে গতকাল বুধবার পর্যন্ত টানা ১৮ কর্মদিবস শিক্ষক সমিতি প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার বিকেল সাড়ে চারটায় সিন্ডিকেটের সভা শুরু হয়। সিন্ডিকেট সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এস এম মাকসুদ কামালের দপ্তরের পাশের একটি কক্ষে ওই সভা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিন্ডিকেটের সভাপতি ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এফ এম আবদুল মঈন। সভায় ১৬ জন সিন্ডিকেট সদস্যের মধ্যে ১১ জন উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত ওই সভা চলে।

সভায় বলা হয়, ৬ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি। ২১ ও ২২ জুন শুক্র-শনিবার। এ অবস্থায় ২৩ জুন থেকে ক্লাস শুরু করতে হবে। অফিস খোলা হবে ৯ জুন থেকে। পরে সিন্ডিকেট সদস্যরা ঐকমত্য হয়ে ওই সিদ্ধান্তে পৌঁছান। সভায় শিক্ষকদের সাত দফা দাবি নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা হয়। দাবিগুলোর বেশির ভাগই পূরণ হওয়ার পথে বলে সিন্ডিকেটকে জানানো হয়।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এস এম মাকসুদ কামালের বাংলোতে শিক্ষক সমিতির নেতা, উপাচার্য ও উপাচার্যপন্থী শিক্ষকেরা প্রাথমিক আলোচনায় বসেন। সেখানে বিবদমান পক্ষগুলোর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

সিন্ডিকেট সদস্য উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবির গণমাধ্যমকে জানান শিক্ষক সমিতির সাত দফা দাবির বেশির ভাগই পূরণ করা হয়েছে। কিছু দাবি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ও কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জাকির হোসেনকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে উপাচার্যের দপ্তরে শিক্ষকদের ‘থাপড়িয়ে দাঁত ফেলে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছিলেন তিনি।

এ ছাড়া শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়।

ছবি

এইচএসসি পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণা

ছবি

ডিজিটালাইজিং ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড বিষয়ে আইসিসি’র কর্মশালা

ছবি

গোপালগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য স্ক্র্যাচ প্রোগ্রামিং প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ছবি

শেষ ধাপেও কলেজ পায়নি ১২ হাজার শিক্ষার্থী, আবার থাকবে আবেদনের সুযোগ

ছবি

বেসিসে সেন্ট্রাল লজিস্টিকস ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম (সিএলটিপি) বাস্তবায়ন সম্পর্কিত কর্মশালা

ছবি

পাঁচ হাজার প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম নেই

ছবি

নবম দিনের মতো সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে জবি শিক্ষকরা

ছবি

এনার্জিপ্যাক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক পরিদর্শনে এইউএসটি’র শিক্ষার্থীরা

ছবি

গোপালগঞ্জে স্ক্র্যাচ প্রোগ্রামিং ভাষার উপর ২ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ছবি

ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি পরিদর্শন করলেন ব্রুনাই দারুস সালামের হাইকমিশনার

ছবি

‘স্মার্ট শিক্ষা ও স্মার্ট গবেষণার মাধ্যমে স্মার্ট সিটিজেন গড়ে তুলতে হবে’

ছবি

প্রাথমিক বিদ্যালয় হবে শুদ্ধাচার চর্চার আঁতুড়ঘর : প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

ছবি

নারী, প্রতিবন্ধী ও নৃগোষ্ঠীর জন্য কোটা চায় গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট

ছবি

সপ্তাহ পেরোলো জবি শিক্ষকদের সর্বাত্মক কর্মবিরতি 

ছবি

কুমিল্লায় বৃত্তি প্রদান ও পুরস্কার বিতরণ, প্রাথমিকে সেরা সাহস স্কুল

ছবি

বারি ও ডিআইইউ এর মধ্যে সমঝোতা চুক্তি

ছবি

মোবাইল ও ডিজিটাল স্টোরিটেলিং ফেস্টিভ্যালে অংশ নিতে বাংলাদেশে অষ্ট্রেলিয়ার ২২ শিক্ষার্থী

প্রত্যয় স্কিম নিয়ে পেনশন কর্তৃপক্ষের ব্যাখা শুভঙ্করের ফাঁকি : জবি শিক্ষক সমিতি

ছবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্বর্ণপদক পেলেন

ছবি

শাহরাস্তিতে মোবাইল ফোনে নকল করার দায়ে শিক্ষার্থী বহিষ্কার

ছবি

এইচএসসি পরীক্ষার দিনে বৃষ্টি হলে সময় বাড়ানোর নির্দেশ

ছবি

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু

ছবি

জামালপুরে একটি সংস্থার কার্যালয় থেকে এইচএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র প্রদান

এইচ এসসি পরীক্ষা শুরু আগামীকাল

ছবি

পেনশন স্কিম বাতিলের দাবিতে এবার কর্মবিরতিতে যাচ্ছে জবির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

ছবি

ঢাবিতে দুদিনব্যাপী সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত

ছবি

স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে বাজারমুখী দক্ষ জনশক্তি প্রস্তুত করতে হবে -শিক্ষামন্ত্রী

ছবি

পেনশন নয়, এটা তো ইন্স্যুরেন্স!

ছবি

গবেষণায় বাজেট বরাদ্দে বৈষম্যের শিকার জবি

ছবি

২০ কোটি টাকা ঢাবির বাজেট গবেষণায় বরাদ্দ

ছবি

বৃষ্টি উপেক্ষা করে জবি শিক্ষকদের কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি

ছবি

যবিপ্রবি ছাত্রলীগ সভাপতিসহ ৯ শিক্ষার্থী আজীবন বহিষ্কার

ছবি

প্রত্যয় স্কিম বাতিলের দাবিতে জবি শিক্ষককদের কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি

প্রথম ধাপে কলেজ পায়নি ৪৮ হাজার শিক্ষার্থী

ছবি

১০-১৯ বছর বয়সের ৬৫ লাখ ছাত্রীকে ‘আয়রন ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট’ খাওয়ানো হচ্ছে

ছবি

একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির আবেদনে প্রথম ধাপে কলেজ পায়নি ৪৮ হাজার শিক্ষার্থী

tab

শিক্ষা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় খুলছে ৯ জুন

কুবি প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার, ০৬ জুন ২০২৪

উপাচার্য-শিক্ষকের দ্বন্দ্বে ৩৯ দিন বন্ধ থাকার পর আগামী রোববার (৯ জুন) খুলছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)। তবে সকল শ্রেণি কার্যক্রম ও পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ২৩ জুন।

বুধবার (৫ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৫ তম সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিন্ডিকেট সদস্য উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেল চারটায় উপাচার্যের দপ্তরে শিক্ষক সমিতির নবনির্বাচিত সদস্যদের সঙ্গে বিভিন্ন দাবি নিয়ে উপাচার্যের বাগবিতণ্ডা হয়। ওই সময় ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা ও কর্মকর্তা সমিতির এক নেতা শিক্ষকদের হেনস্তা করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষক সমিতি তিন দফা দাবি দেয়। সেই সঙ্গে থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেন।

১৯ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত ক্লাস বর্জন কর্মসূচি পালন করে শিক্ষক সমিতি। এরপর ঈদুল ফিতরের বন্ধ হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হয়। কিন্তু তিন দিন ক্লাস হওয়ার পর আবারও আন্দোলন শুরু হয়।

২৫ এপ্রিল সাত দফা দাবি বাস্তবায়ন নিয়ে উপাচার্য এ এফ এম আবদুল মঈন, কোষাধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামান ও প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকীর দপ্তরে তালা দেয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। একই সঙ্গে তাঁদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে।

শিক্ষক সমিতির ৭ দফা দাবির মধ্যে ছিল ১৯ ফেব্রুয়ারি উপাচার্যের দপ্তরে শিক্ষকদের ওপর হামলার নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির হোসেনকে সাময়িক বহিষ্কার করা ও ঘটনার তদন্ত করা। পাশাপাশি প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকীকে অপসারণ করা। অন্য দাবিগুলোর মধ্যে আছে ঢাকার অতিথিশালা শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য অবমুক্ত করা; অধ্যাপক গ্রেড ১ ও ২-তে আবেদন করা শিক্ষকদের পদোন্নতির ব্যবস্থা করা; কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী বিভাগীয় প্রধান ও ডিন নিয়োগ এবং ইতিমধ্যে বেআইনিভাবে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের প্রত্যাহার করা; শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি স্থায়ীকরণে আইনবহির্ভূত শর্তারোপ করে জ্যেষ্ঠতা ক্ষুণ্নের বিষয়টি নিষ্পত্তি করা; ৯০তম সিন্ডিকেট সভায় বিতর্কিত শিক্ষা ছুটি নীতিমালা প্রত্যাহার করে আগের নীতিমালা বহাল এবং ৮৬তম সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদিত স্থায়ীকরণ সিদ্ধান্ত বাতিল করা।

২৭ এপ্রিল বিকেল পাঁচটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামানের গাড়ি প্রধান ফটকে আটকে দেয়।

পরদিন ২৮ এপ্রিল বেলা একটায় উপাচার্য এ এফ এম আবদুল মঈন প্রশাসনিক ভবনের নিজ দপ্তরে যাওয়ার জন্য ছাত্রলীগের সাবেক অন্তত ২০ জন নেতা ও তাঁর অনুসারী কিছু শিক্ষককে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢোকেন। এসময় শিক্ষক সমিতির নেতারা তাঁদের বাধা দেন।

এই সময়ে উপাচার্য ও ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা শিক্ষক সমিতির নেতাদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি, কিলঘুষি ও হামলায় জড়িয়ে পড়েন। এতে অন্তত ১০ জন শিক্ষক হেনস্তার শিকার হন।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্যসহ ছাত্রলীগের সাবেক নেতাসহ ২০ জনের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন শিক্ষক সমিতি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও শিক্ষক সমিতির ছয়জনের নামে পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেন।

৩০ এপ্রিল রাতে জরুরি সিন্ডিকেট সভা করে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও হল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে শিক্ষকদের দাবি দাওয়া ও ২৮ এপ্রিলের ঘটনা নিয়ে দুটি তদন্ত কমিটি হয়। এরপর থেকে আর বিশ্ববিদ্যালয় খোলেনি। তবে গতকাল বুধবার পর্যন্ত টানা ১৮ কর্মদিবস শিক্ষক সমিতি প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার বিকেল সাড়ে চারটায় সিন্ডিকেটের সভা শুরু হয়। সিন্ডিকেট সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এস এম মাকসুদ কামালের দপ্তরের পাশের একটি কক্ষে ওই সভা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিন্ডিকেটের সভাপতি ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এফ এম আবদুল মঈন। সভায় ১৬ জন সিন্ডিকেট সদস্যের মধ্যে ১১ জন উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত ওই সভা চলে।

সভায় বলা হয়, ৬ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি। ২১ ও ২২ জুন শুক্র-শনিবার। এ অবস্থায় ২৩ জুন থেকে ক্লাস শুরু করতে হবে। অফিস খোলা হবে ৯ জুন থেকে। পরে সিন্ডিকেট সদস্যরা ঐকমত্য হয়ে ওই সিদ্ধান্তে পৌঁছান। সভায় শিক্ষকদের সাত দফা দাবি নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা হয়। দাবিগুলোর বেশির ভাগই পূরণ হওয়ার পথে বলে সিন্ডিকেটকে জানানো হয়।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এস এম মাকসুদ কামালের বাংলোতে শিক্ষক সমিতির নেতা, উপাচার্য ও উপাচার্যপন্থী শিক্ষকেরা প্রাথমিক আলোচনায় বসেন। সেখানে বিবদমান পক্ষগুলোর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

সিন্ডিকেট সদস্য উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবির গণমাধ্যমকে জানান শিক্ষক সমিতির সাত দফা দাবির বেশির ভাগই পূরণ করা হয়েছে। কিছু দাবি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ও কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জাকির হোসেনকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে উপাচার্যের দপ্তরে শিক্ষকদের ‘থাপড়িয়ে দাঁত ফেলে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছিলেন তিনি।

এ ছাড়া শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়।

back to top