alt

শিক্ষা

বাণিজ্যিক রূপ নিচ্ছে গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি

প্রতিনিধি, জবি : বৃহস্পতিবার, ১১ নভেম্বর ২০২১

দেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার শুরু থেকে আর্থিক সুবিধা, যাতায়াত সুবিধা, থাকা-খাওয়ার সুবিধাসহ সার্বিক ভোগান্তি হ্রাসে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার কথা জানায় আয়োজক কমিটি। তবে বিভাগ পরিবর্তন ইউনিট শুরুতেই বাদ দেয়া, পরীক্ষার ফি বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা, কর্মদিবসে পরীক্ষার তারিখ ফেলায় তীব্র যানজট, নিজের পছন্দের কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে না পারা এবং সর্বশেষ মানবিক ও বাণিজ্য অনুষদের পরীক্ষার ফলাফলে তীব্র অসংগতিতে সাধের গুচ্ছই তীব্র ভোগান্তির কারণ হয় হাজারো ভর্তিচ্ছুর জন্য।

ফলাফল ঘিরে শিক্ষার্থীদের আশঙ্কা দূর করতে সমাধান হিসেবে ফল চ্যালেঞ্জের সুযোগ দেয় কর্তৃপক্ষ। এর প্রেক্ষিতে গত ৬ নভেম্বর ফল চ্যালেঞ্জের আবেদনের সময়সীমা (৭-১১ নভেম্বর) ও ফি নির্ধারণ করে বিজ্ঞপ্তি দেয় কর্তৃপক্ষ। তবে এক্ষেত্রে আবেদন ফি দুই হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘোষণা করা হয়েছে কোন শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হলে তার সমুদয় টাকা ফেরত দেয়া হবে। ফল চ্যালেঞ্জের জন্য দুই হাজার টাকা ফি দেয়ার সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি এটি কোন শিক্ষাবান্ধব সিদ্ধান্ত নয় বরং বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে ফল পরিবর্তন হলে সমুদয় টাকা ফেরত দেয়ার বিষয়টিকে কর্তৃপক্ষের পরোক্ষ হুমকি বলেও দাবি করছেন তারা।

অপরদিকে পরীক্ষার পরে গুচ্ছভুক্ত প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও পছন্দের বিষয়ের জন্য আলাদাভাবে আবেদন করার নিয়ম রয়েছে। গত ৩ নভেম্বর গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক শ্রেণীতে ভর্তির জন্য পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। কিন্তু প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায় সেখানে প্রতি অনুষদের আওতাধীন বিষয়গুলোতে আবেদনের জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৫০ টাকা। যার ফলে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪টি অনুষদের বিষয়গুলোতে আবেদনের জন্য প্রতি শিক্ষার্থীর গুনতে হবে ২৬০০ টাকা। আগামী ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে। এতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এই বিজ্ঞপ্তি বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন করেছেন বলেও জানা যায়। এরপর গত ১০ নভেম্বর পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী প্রতি বিভাগে আবেদন করতে শিক্ষার্থীদের দিতে হবে ৬০০ টাকা। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা যাবে আগামী ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত।

শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়েই যদি এত টাকা ফি দিয়ে আবেদন করতে হয় তাহলে গুচ্ছভুক্ত ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে গুনতে হবে ১৫-১৬ হাজার টাকা। এমন সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীবান্ধব নয় বরং তা কর্তৃপক্ষের বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত। শুরুতে ভোগান্তি পোহানোর পর এখন আর্থিকভাবেও চাপে রাখার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের। আর এতে করে অনেকেরই আর আবেদন করা হয়ে উঠবে না পছন্দের জায়গায়। আশার আলো নিভে যাবে এখানেই।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ প্রথমে কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত আবেদনের ফি নির্ধারণ করেছিল ৬০০ টাকা। কিন্তু সর্বশেষ গত ২১ আগস্ট উপাচার্যদের বৈঠকে সেটা ৬০০ থেকে বাড়িয়ে ১২০০ টাকা করা হয়। কিন্তু পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের সার্বিক সুবিধার জন্যই গুচ্ছ পদ্ধতি আয়োজনের কথা বলা হয়েছিল। এখন প্রতিটি ধাপেই তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে।

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় ‘এ’ ইউনিটে অংশ নেয় ফেনী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মো. ফুয়াদুল ইসলাম ভূঁইয়া। ফুয়াদ বলেন, ভর্তি পরীক্ষা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীদের ভুগিয়ে যাচ্ছে গুচ্ছ কমিটি। ফল চ্যালেঞ্জের আবেদন ফি কিভাবে ২০০০ টাকা হয়! আবার এখন পর্যন্ত যেসব বিশ্ববিদ্যালয় বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে সেখানেও বেশি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত এসব সিদ্ধান্তে অনেকের স্বপ্ন ভেঙে যাচ্ছে। অথচ এই গুচ্ছ ভর্তি পদ্ধতিই আমাদের মতো অনেক শিক্ষার্থীর আশার অবলম্বন ছিল।

গুরুদয়াল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী জান্নাত আরা বলেন, ফল চ্যালেঞ্জের আবেদন ফি ২০০০ টাকা! আবার যবিপ্রবি আবেদনের যে সার্কুলার দিয়েছে সেখানে ৪টি অনুষদে মোট ২৬০০ টাকা গুনতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের ক্ষেত্রে এত টাকা গুনতে হলে ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ইউনিটে আবেদন করতেও প্রচুর টাকা গুনতে হবে। যা একজন মধ্যবিত্ত কিংবা নিম্ন মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীর পরিবারের সামর্থ্যরে বাইরে।

এই শিক্ষার্থী আরও বলেন, এখন প্রসঙ্গ আসতে পারে যে, একজন শিক্ষার্থী হয়তো সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করবে না। কিন্তু এটি ভুল। কারণ আমাদের কোন মেরিট পজিশন দেয়া হয়নি। তাই বোঝার উপায় নেই কে কোথায় চান্স পাবে। তাই সবাই চাইবে সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে। তাই এতটাকা ফি নির্ধারণ না করলেই ভালো হতো।

ভৃগু রায় নামের এক অভিভাবক বলেন, ফল চ্যালেঞ্জ এবারের প্রেক্ষাপটে খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেক্ষেত্রে উচিত ছিল ফি সাধ্যের মধ্যে রাখা। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির আবেদনে এতো টাকা রাখার সিদ্ধান্তে অনিশ্চিয়তা বেড়েছে। সার্বিকভাবে এবার অনেক কিছুতেই অসংগতি ছিল শুরু থেকে। তবে উচ্চ ফি নেয়ার সিদ্ধান্তে এটির মাত্রা বেড়েছে। কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ থাকবে ফি কমানোর বিষয়টি সাধ্যের মধ্যে রাখার জন্য।

এবিষয়ে গুচ্ছ ভর্তি কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ছাদেকুল আরেফিন বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল তিনটি ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবার পর প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় আলাদা আলাদাভাবে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ও ফিসহ যাবতীয় বিষয় নির্ধারণ করবে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নিজস্ব নিয়ম ও আইন অনুযায়ী একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত সাপেক্ষে ভর্তি ফি নির্ধারণ করছে। তাই ফি কমানো বা এ সংক্রান্ত বিষয়ে হস্তক্ষেপের কোন সুযোগ গুচ্ছ কমিটির নেই।

তিনি আরও বলেন, ফল চ্যালেঞ্জ করে কোন শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হলে তার সমুদয় টাকা ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে আবেদন ফি দুই হাজার টাকাই দিতে হবে শিক্ষার্থীদের।

বিয়ানীবাজারে নারী শিক্ষায় নীরব বিপ্লব, কর্মক্ষেত্রে পিছিয়ে

ছবি

মুক্তপাঠে চালু হলো পাঠাগার ব্যবস্থাপনা ও পড়ার ঘণ্টা পরিচালনা বিষয়ক অনলাইন প্রশিক্ষণ কোর্স

জবিতে সেশনজট কমাতে শীতকালীন ছুটিতেও চলবে পরীক্ষা

ছবি

সকল বিভাগের অভিন্ন প্রশ্নে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার দাবি

ছবি

শীতকালীন ছুটিতেও জবিতে চলবে পরীক্ষা

ছবি

জবিতে আবেদন পড়েছে ৪০ হাজার, আসন প্রতি লড়বে ১৪ জন

ছবি

এইচএসসি-সমমানের পরীক্ষা শুরু

ছবি

অপেক্ষার অবসান, এইচএসসি পরীক্ষা শুরু কাল

ছবি

শুরুর সুনাম ধরে রাখতে পারেনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: শিক্ষামন্ত্রী

এইচএসসি পরীক্ষা শুরু বৃহস্পতিবার

ছবি

৪৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

ছবি

ঢাবি মার্কেটিং অ্যালামনাইয়ের রজতজয়ন্তী উদযাপন ১৭ ডিসেম্বর

ছবি

বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ, প্রথম বগুড়ার সিয়াম

ছবি

ঢাবিতে জলবায়ু বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

ছবি

ঝরে পড়া ঠেকাতে কমাতে হবে বেতনের ‘বোঝা’: গবেষণা

ছবি

ছাপার কাজ শেষ হচ্ছে না শিক্ষার্থীরা বই পাবে বিলম্বে

ছবি

ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ, ৯০.১৩ শতাংশই ফেল

ছবি

রাজশাহী, যশোর ও দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে নতুন চেয়ারম্যান

ছবি

ঢাবির ‘গ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ, পাসের হার ২১.৭৫ শতাংশ

ছবি

ঢাবির ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, তিন বছরেও হয়নি পরীক্ষার নম্বরে অসঙ্গতির তদন্ত রিপোর্ট

ছবি

পোস্ট গ্রাজুয়েশন ডিপ্লোমা শুরু করতে যাচ্ছে বিআইটিএম ও ইউআইইউ

ছবি

শিক্ষার্থীদের টিকাদানে ধীরগতি

হলে হলে শিক্ষার্থী নির্যাতন, ঢাবিতে ছাত্র অধিকার পরিষদের বিক্ষোভ

ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদের আট মেধাবী শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করলো বার্জার

ছবি

প্রশ্নফাঁস: বুয়েট শিক্ষক নিখিলকে বিভাগীয় প্রধান থেকে অব্যাহতি

ছবি

ঢাবি ভর্তি পরীক্ষা : ‘গ’ ও ‘ঘ’ ইউনিটের ফল চলতি সপ্তাহে

ছবি

৩ জানুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ থাকবে সব কোচিং সেন্টার: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি

২ ডিসেম্বর শুরু এইচএসসি, পরীক্ষার্থী প্রায় ১৪ লাখ

ছবি

সাত কলেজের কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬৭.৯০%

ছবি

ঢাবির গার্হস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের ফল প্রকাশ, পাসের হার ৮১.০৬%

ছবি

সাত কলেজ ও গার্হস্থ্য অর্থনীতির ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

ছবি

যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী পাঠানো দেশের তালিকায় তিন ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ

মির্জাগঞ্জে এসএসসিতে একই বিষয়ে দু’বার পরীক্ষা!

ছবি

সারাদেশে মাধ্যমিকে ভর্তি আবেদন শুরু ২৫ নভেম্বর

এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি পেকুয়ার ১৯ শিক্ষার্থী

ছবি

পরীক্ষা শুরু আগে এসএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহনন

tab

শিক্ষা

বাণিজ্যিক রূপ নিচ্ছে গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি

প্রতিনিধি, জবি

বৃহস্পতিবার, ১১ নভেম্বর ২০২১

দেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার শুরু থেকে আর্থিক সুবিধা, যাতায়াত সুবিধা, থাকা-খাওয়ার সুবিধাসহ সার্বিক ভোগান্তি হ্রাসে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার কথা জানায় আয়োজক কমিটি। তবে বিভাগ পরিবর্তন ইউনিট শুরুতেই বাদ দেয়া, পরীক্ষার ফি বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা, কর্মদিবসে পরীক্ষার তারিখ ফেলায় তীব্র যানজট, নিজের পছন্দের কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে না পারা এবং সর্বশেষ মানবিক ও বাণিজ্য অনুষদের পরীক্ষার ফলাফলে তীব্র অসংগতিতে সাধের গুচ্ছই তীব্র ভোগান্তির কারণ হয় হাজারো ভর্তিচ্ছুর জন্য।

ফলাফল ঘিরে শিক্ষার্থীদের আশঙ্কা দূর করতে সমাধান হিসেবে ফল চ্যালেঞ্জের সুযোগ দেয় কর্তৃপক্ষ। এর প্রেক্ষিতে গত ৬ নভেম্বর ফল চ্যালেঞ্জের আবেদনের সময়সীমা (৭-১১ নভেম্বর) ও ফি নির্ধারণ করে বিজ্ঞপ্তি দেয় কর্তৃপক্ষ। তবে এক্ষেত্রে আবেদন ফি দুই হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘোষণা করা হয়েছে কোন শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হলে তার সমুদয় টাকা ফেরত দেয়া হবে। ফল চ্যালেঞ্জের জন্য দুই হাজার টাকা ফি দেয়ার সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি এটি কোন শিক্ষাবান্ধব সিদ্ধান্ত নয় বরং বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে ফল পরিবর্তন হলে সমুদয় টাকা ফেরত দেয়ার বিষয়টিকে কর্তৃপক্ষের পরোক্ষ হুমকি বলেও দাবি করছেন তারা।

অপরদিকে পরীক্ষার পরে গুচ্ছভুক্ত প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও পছন্দের বিষয়ের জন্য আলাদাভাবে আবেদন করার নিয়ম রয়েছে। গত ৩ নভেম্বর গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক শ্রেণীতে ভর্তির জন্য পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। কিন্তু প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায় সেখানে প্রতি অনুষদের আওতাধীন বিষয়গুলোতে আবেদনের জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৫০ টাকা। যার ফলে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪টি অনুষদের বিষয়গুলোতে আবেদনের জন্য প্রতি শিক্ষার্থীর গুনতে হবে ২৬০০ টাকা। আগামী ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে। এতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এই বিজ্ঞপ্তি বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন করেছেন বলেও জানা যায়। এরপর গত ১০ নভেম্বর পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী প্রতি বিভাগে আবেদন করতে শিক্ষার্থীদের দিতে হবে ৬০০ টাকা। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা যাবে আগামী ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত।

শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়েই যদি এত টাকা ফি দিয়ে আবেদন করতে হয় তাহলে গুচ্ছভুক্ত ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে গুনতে হবে ১৫-১৬ হাজার টাকা। এমন সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীবান্ধব নয় বরং তা কর্তৃপক্ষের বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত। শুরুতে ভোগান্তি পোহানোর পর এখন আর্থিকভাবেও চাপে রাখার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের। আর এতে করে অনেকেরই আর আবেদন করা হয়ে উঠবে না পছন্দের জায়গায়। আশার আলো নিভে যাবে এখানেই।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ প্রথমে কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত আবেদনের ফি নির্ধারণ করেছিল ৬০০ টাকা। কিন্তু সর্বশেষ গত ২১ আগস্ট উপাচার্যদের বৈঠকে সেটা ৬০০ থেকে বাড়িয়ে ১২০০ টাকা করা হয়। কিন্তু পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের সার্বিক সুবিধার জন্যই গুচ্ছ পদ্ধতি আয়োজনের কথা বলা হয়েছিল। এখন প্রতিটি ধাপেই তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে।

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় ‘এ’ ইউনিটে অংশ নেয় ফেনী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মো. ফুয়াদুল ইসলাম ভূঁইয়া। ফুয়াদ বলেন, ভর্তি পরীক্ষা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীদের ভুগিয়ে যাচ্ছে গুচ্ছ কমিটি। ফল চ্যালেঞ্জের আবেদন ফি কিভাবে ২০০০ টাকা হয়! আবার এখন পর্যন্ত যেসব বিশ্ববিদ্যালয় বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে সেখানেও বেশি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত এসব সিদ্ধান্তে অনেকের স্বপ্ন ভেঙে যাচ্ছে। অথচ এই গুচ্ছ ভর্তি পদ্ধতিই আমাদের মতো অনেক শিক্ষার্থীর আশার অবলম্বন ছিল।

গুরুদয়াল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী জান্নাত আরা বলেন, ফল চ্যালেঞ্জের আবেদন ফি ২০০০ টাকা! আবার যবিপ্রবি আবেদনের যে সার্কুলার দিয়েছে সেখানে ৪টি অনুষদে মোট ২৬০০ টাকা গুনতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের ক্ষেত্রে এত টাকা গুনতে হলে ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ইউনিটে আবেদন করতেও প্রচুর টাকা গুনতে হবে। যা একজন মধ্যবিত্ত কিংবা নিম্ন মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীর পরিবারের সামর্থ্যরে বাইরে।

এই শিক্ষার্থী আরও বলেন, এখন প্রসঙ্গ আসতে পারে যে, একজন শিক্ষার্থী হয়তো সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করবে না। কিন্তু এটি ভুল। কারণ আমাদের কোন মেরিট পজিশন দেয়া হয়নি। তাই বোঝার উপায় নেই কে কোথায় চান্স পাবে। তাই সবাই চাইবে সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে। তাই এতটাকা ফি নির্ধারণ না করলেই ভালো হতো।

ভৃগু রায় নামের এক অভিভাবক বলেন, ফল চ্যালেঞ্জ এবারের প্রেক্ষাপটে খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেক্ষেত্রে উচিত ছিল ফি সাধ্যের মধ্যে রাখা। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির আবেদনে এতো টাকা রাখার সিদ্ধান্তে অনিশ্চিয়তা বেড়েছে। সার্বিকভাবে এবার অনেক কিছুতেই অসংগতি ছিল শুরু থেকে। তবে উচ্চ ফি নেয়ার সিদ্ধান্তে এটির মাত্রা বেড়েছে। কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ থাকবে ফি কমানোর বিষয়টি সাধ্যের মধ্যে রাখার জন্য।

এবিষয়ে গুচ্ছ ভর্তি কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ছাদেকুল আরেফিন বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল তিনটি ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবার পর প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় আলাদা আলাদাভাবে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ও ফিসহ যাবতীয় বিষয় নির্ধারণ করবে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নিজস্ব নিয়ম ও আইন অনুযায়ী একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত সাপেক্ষে ভর্তি ফি নির্ধারণ করছে। তাই ফি কমানো বা এ সংক্রান্ত বিষয়ে হস্তক্ষেপের কোন সুযোগ গুচ্ছ কমিটির নেই।

তিনি আরও বলেন, ফল চ্যালেঞ্জ করে কোন শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হলে তার সমুদয় টাকা ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে আবেদন ফি দুই হাজার টাকাই দিতে হবে শিক্ষার্থীদের।

back to top