alt

শিক্ষা

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন শুরু, ক্লাস ১ ফেব্রুয়ারি

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক : শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২

একাদশ শ্রেণিতে ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে এই আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। চলবে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এবারও একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে। ভর্তির জন্য কোনো পরীক্ষা হবে না। অনলাইনে হবে ভর্তির কাজ।

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ১ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদনের গ্রহণের এই তারিখসহ অন্যান্য বিষয় ঠিক করা হয়। অনলাইনে সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম দিয়ে আবেদন করা যাবে।

২৮ নভেম্বর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১৯ লাখ ৯৪ হাজার ১৩৭ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ১৭ লাখ ৪৩ হাজার ৬১৯ জন। বিপুল এই শিক্ষার্থীরা এখন উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তির অপেক্ষায় আছে।

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালা

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ করা হয়েছে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, ২০২০, ২০২১ ও ২০২২ সালে দেশের যেকোনো শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে নীতিমালার অন্যান্য বিধানাবলি সাপেক্ষে কোনো কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির যোগ্য বিবেচিত হবে। এ ছাড়া উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণসহ অন্যান্য বছরের শিক্ষার্থীরাও ভর্তির জন্য বোর্ডে ম্যানুয়ালি আবেদন করতে পারবে। বিদেশি কোনো বোর্ড বা অনুরূপ কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা কর্তৃক তার সনদের মান নির্ধারণের পর ভর্তির যোগ্য বিবেচিত হবে।

ভর্তির জন্য কোনো বাছাই বা ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে না। শুধু শিক্ষার্থীর এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে ভর্তি করা হবে।

কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানের ৯৩ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে যা মেধার ভিত্তিতে নির্বাচন করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দপ্তর/সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের সন্তানদের ক্ষেত্রে মহানগর, বিভাগীয় ও জেলা সদরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য ন্যূনতম যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে ২ শতাংশ কোটা সংরক্ষিত থাকবে। যদি আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হয়, সে ক্ষেত্রে তাদের নিজেদের মধ্যে মেধার ভিত্তিতে ভর্তির সুযোগ পাবে। মোট আসনের ৫ শতাংশ বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বা নাতি–নাতনিদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। উপর্যুক্ত কোটায় যদি প্রার্থী না পাওয়া যায়, তবে এ আসন কার্যকরী থাকবে না।

সমান জিপিএ প্রাপ্তদের ক্ষেত্রে সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে। বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে গ্রেড পয়েন্ট ও প্রাপ্ত নম্বর সমতুল্য করে হিসাব করতে হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন সালের গ্রেড পয়েন্ট ও প্রাপ্ত নম্বর সমতুল্য করে হিসাব করতে হবে।

স্কুল অ্যান্ড কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত যোগ্যতা সাপেক্ষে নিজ নিজ বিভাগে (বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা) অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভর্তির সুযোগ পাবে। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বিভাগে ভর্তি নিশ্চিত করেই শুধু অবশিষ্ট শূন্য আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো যাবে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের ভর্তিই অনলাইনেই হবে।

সব কলেজ/উচ্চমাধ্যমিক/সমমানের প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে মন্ত্রণালয় তথা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক ভর্তির জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা ও সময় অনুযায়ী শিক্ষার্থী ভর্তি করবে। কোনো প্রতিষ্ঠান মন্ত্রণালয় ও বোর্ড নির্ধারিত তারিখের বাইরে নিজ ইচ্ছেমাফিক ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

অনলাইনে ভর্তি

শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। অনলাইনে এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।

অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে ১৫০ টাকা আবেদন ফি জমা সাপেক্ষে সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানের জন্য পছন্দক্রমের ভিত্তিতে আবেদন করতে পারবে। একজন শিক্ষার্থী যতগুলো কলেজে আবেদন করবে তার মধ্য থেকে শিক্ষার্থীর মেধা, কোটা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে একটি মাত্র কলেজে তার অবস্থান নির্ধারণ করা হবে।

ভর্তি ফি

এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সেশন চার্জ ও ভর্তি ফি গ্রহণ করতে হবে। এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান কোনোক্রমেই উন্নয়ন ফি গ্রহণ করতে পারবে না।

ঢাকা মেট্রোপলিটনে বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে ভর্তি ফি পাঁচ হাজার টাকা; মেট্রোপলিটনে (ঢাকা ছাড়া) বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে ভর্তি ফি তিন হাজার টাকা; জেলায় বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে ভর্তি ফি দুই হাজার টাকা এবং উপজেলা/মফস্‌সলে বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে ভর্তি ফি ১ হাজার ৫০০ টাকা।

নন এমপিও/আংশিক এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে উন্নয়ন ফি, সেশন চার্জ ও ভর্তি ফি নিতে হবে। ঢাকা মেট্রোপলিটনে বাংলা ভার্সনে ভর্তি ফি ৭ হাজার ৫০০ টাকা ও ইংরেজি ভার্সনে ভর্তি ফি ৮ হাজার ৫০০ টাকা; মেট্রোপলিটনে (ঢাকা ছাড়া) বাংলা ভার্সনে ভর্তি ফি পাঁচ হাজার টাকা ও ইংরেজি ভার্সনে ভর্তি ফি ছয় হাজার টাকা; জেলায় বাংলা ভার্সনে ভর্তি ফি তিন হাজার টাকা ও ইংরেজি ভার্সনে ভর্তি ফি চার হাজার টাকা এবং উপজেলা/মফস্‌সলে বাংলা ভার্সনে ভর্তি ফি ২ হাজার ৫০০ টাকা ও ইংরেজি ভার্সনে ভর্তি ফি তিন হাজার টাকা।

সরকারি কলেজগুলো সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ফি সংগ্রহ করবে। দরিদ্র, মেধাবী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী ভর্তিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উল্লিখিত ফি যতদূর সম্ভব মওকুফের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ভর্তির আবেদন, ফল প্রকাশ, ভর্তি ও ক্লাস শুরু

ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন গ্রহণ (যারা পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করবে, আবেদনের যোগ্য হলে তাদেরও এই সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে) ৮ ডিসেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর। আবেদন যাচাই–বাছাই ও আপত্তি নিষ্পত্তি ১৮ ডিসেম্বর থেকে ২২ ডিসেম্বর। পুনঃনিরীক্ষণে ফলাফল পরিবর্তিত শিক্ষার্থীদের আবেদন গ্রহণ ও সবার পছন্দক্রম পরিবর্তনের সময় ২৬ ডিসেম্বর।

প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ ৩১ ডিসেম্বর। শিক্ষার্থীর নির্বাচন নিশ্চায়ন (শিক্ষার্থী নিশ্চায়ন না করলে প্রথম পর্যায়ের নির্বাচন এবং আবেদন বাতিল হবে এবং তাকে পুনরায় ফিসহ আবেদন করতে হবে) ১ জানুয়ারি থেকে ৮ জানুয়ারি। দ্বিতীয় পর্যায়ে আবেদন গ্রহণ ৯ থেকে ১০ জানুয়ারি। পছন্দক্রম অনুযায়ী প্রথম মাইগ্রেশনের ফল ও দ্বতীয় পর্যায়ের আবেদনের ফল প্রকাশ ১২ জানুয়ারি।

দ্বিতীয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীর নির্বাচন নিশ্চায়ন (শিক্ষার্থী নিশ্চায়ন না করলে দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্বাচন এবং আবেদন বাতিল হবে এবং তাকে পুনরায় ফিসহ আবেদন করতে হবে) ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি।

তৃতীয় পর্যায়ে আবেদন গ্রহণ ১৬ জানুয়ারি। পছন্দক্রম অনুযায়ী দ্বিতীয় মাইগ্রেশনের ফল ও তৃতীয় পর্যায়ের আবেদনের ফল প্রকাশ ১৮ জানুয়ারি।

তৃতীয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীর নির্বাচন নিশ্চায়ন (শিক্ষার্থী নিশ্চায়ন না করলে তৃতীয় পর্যায়ের নির্বাচন এবং আবেদন বাতিল হবে) ১৯ ও ২০ জানুয়ারি। ভর্তিপ্রক্রিয়া ২২ থেকে ২৬ জানুয়ারি এবং ক্লাস শুরু হবে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি।

আবেদনকারীদের মধ্যে ৮০ হাজার শিক্ষার্থী এখনও ভর্তির বাইরে

ছবি

পাঠ্যপুস্তকে ভুলের কারণ তদন্ত ও সংশোধনে দুই কমিটি

ছবি

ছুটির দিনেও ঢাবির সেমিনার লাইব্রেরি খোলা রাখার সিদ্ধান্ত

ছবি

ফের আন্দোলনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলার শিক্ষার্থীরা

ঢাবি ও এর অধিভুক্ত কলেজের ১১৩ শিক্ষার্থী বহিস্কার

ছবি

এইচএসসির ফল ৮ ফেব্রুয়ারি

স্কুল পর্যায়ে পাঠ্যবই ছাপা এখনও শেষ হয়নি

ছবি

পাঠ্যবইয়ের অধিকাংশ ভুল ১০ বছর আগের: দীপু মনি

ছবি

শেখায়, পড়ায় ও মেলামেশায় অসুবিধায় পড়ছে শিক্ষার্থীরা: ইএবির গবেষণা

ছবি

বাংলাদেশি স্টুডেন্টস’ এসোসিয়েশন ইন কোরিয়া (বিএসএকে)’র শীতকালীন মিলনমেলা ২০২৩ অনুষ্ঠিত

ছবি

গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি ঠেকাতে নীতিমালা প্রণয়ন ঢাবির

ছবি

পাঠ্যবই সংশোধন ও দায়িত্ব অবহেলায় শাস্তির দাবিতে ঢাবিতে বিক্ষোভ

ছবি

সারাদেশে এখনও পৌঁছেনি সব পাঠ্যবই

ছবি

চার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধের নির্দেশ

ছবি

ইসলামপুরে শ্রেণিকক্ষে তালা, অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন

ছবি

এইচএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ

ছবি

নবম-দশমের ৩ বইয়ে ৯ ভুলের সংশোধনী দিল এনসিটিবি

ছবি

পাঠ্যবইয়ে হুবহু অনুবাদ: দায় স্বীকার করলেন জাফর ইকবাল ও হাসিনা খান

ছবি

পুলিশ- ছাত্রলীগের বাধায় পণ্ড শাহবাগের ‘লাল কার্ড’ সমাবেশ

ছবি

জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা বাতিল

ছবি

বন্ধ হয়ে গেল জেএসসি-জেডিসি বোর্ড পরীক্ষা, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন

সখীপুরে শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের অভিযোগে বদলি শিক্ষক ফের একই বিদ্যালয়ে যোগদান : শিক্ষা অফিসে অভিভাবকদের অভিযোগ

ছবি

ফের মাধ্যমিকে চালু হচ্ছে ‘মিড ডে মিল’

কাজে আসছে না প্রকল্পের আওতায় কেনা শত কোটি টাকার শিক্ষা উপকরণ

৬৪০ সাধারণ হাইস্কুলে ‘বৃত্তিমূলক শিক্ষা’, নেই পর্যাপ্ত শিক্ষক ও ইনস্ট্রাক্টর

ছবি

স্কুলের নতুন বইয়ে ভুল থাকলে জানাবেন: শিক্ষামন্ত্রী

ইবির অধীন ফাজিল পরীক্ষা ২৬ জানুয়ারি 

ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হলো ‘ট্রান্সজেন্ডার’ কোটা

ছবি

পৌঁছেনি সব বই,বিশৃঙ্খলার মুখোমুখি নতুন শিক্ষাক্রম

ছবি

ঢাবি ভর্তি পরীক্ষায় আবারও বড় পরিবর্তন

ছবি

কুবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ফলাফল জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত

ছবি

চবিতে ছাত্রলীগের দুই দফা সংঘর্ষ : কেন্দ্রীয় কমিটির শোকজ

একাদশে ভর্তি : ২০৪টি কলেজ কোন শিক্ষার্থী পাচ্ছে না

ছবি

শেখ হাসিনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়” আইন মন্ত্রীসভায় অনুমোদন

ছবি

একাদশে দ্বিতীয় ধাপের ভর্তি আবেদন শুরু

ছবি

দুই সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে শতভাগ বই পৌঁছে যাবে: দীপু মনি

tab

শিক্ষা

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন শুরু, ক্লাস ১ ফেব্রুয়ারি

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২

একাদশ শ্রেণিতে ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে এই আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। চলবে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এবারও একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে। ভর্তির জন্য কোনো পরীক্ষা হবে না। অনলাইনে হবে ভর্তির কাজ।

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ১ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদনের গ্রহণের এই তারিখসহ অন্যান্য বিষয় ঠিক করা হয়। অনলাইনে সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম দিয়ে আবেদন করা যাবে।

২৮ নভেম্বর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১৯ লাখ ৯৪ হাজার ১৩৭ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ১৭ লাখ ৪৩ হাজার ৬১৯ জন। বিপুল এই শিক্ষার্থীরা এখন উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তির অপেক্ষায় আছে।

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালা

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ করা হয়েছে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, ২০২০, ২০২১ ও ২০২২ সালে দেশের যেকোনো শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে নীতিমালার অন্যান্য বিধানাবলি সাপেক্ষে কোনো কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির যোগ্য বিবেচিত হবে। এ ছাড়া উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণসহ অন্যান্য বছরের শিক্ষার্থীরাও ভর্তির জন্য বোর্ডে ম্যানুয়ালি আবেদন করতে পারবে। বিদেশি কোনো বোর্ড বা অনুরূপ কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা কর্তৃক তার সনদের মান নির্ধারণের পর ভর্তির যোগ্য বিবেচিত হবে।

ভর্তির জন্য কোনো বাছাই বা ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে না। শুধু শিক্ষার্থীর এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে ভর্তি করা হবে।

কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানের ৯৩ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে যা মেধার ভিত্তিতে নির্বাচন করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দপ্তর/সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের সন্তানদের ক্ষেত্রে মহানগর, বিভাগীয় ও জেলা সদরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য ন্যূনতম যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে ২ শতাংশ কোটা সংরক্ষিত থাকবে। যদি আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হয়, সে ক্ষেত্রে তাদের নিজেদের মধ্যে মেধার ভিত্তিতে ভর্তির সুযোগ পাবে। মোট আসনের ৫ শতাংশ বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বা নাতি–নাতনিদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। উপর্যুক্ত কোটায় যদি প্রার্থী না পাওয়া যায়, তবে এ আসন কার্যকরী থাকবে না।

সমান জিপিএ প্রাপ্তদের ক্ষেত্রে সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে। বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে গ্রেড পয়েন্ট ও প্রাপ্ত নম্বর সমতুল্য করে হিসাব করতে হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন সালের গ্রেড পয়েন্ট ও প্রাপ্ত নম্বর সমতুল্য করে হিসাব করতে হবে।

স্কুল অ্যান্ড কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত যোগ্যতা সাপেক্ষে নিজ নিজ বিভাগে (বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা) অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভর্তির সুযোগ পাবে। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বিভাগে ভর্তি নিশ্চিত করেই শুধু অবশিষ্ট শূন্য আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো যাবে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের ভর্তিই অনলাইনেই হবে।

সব কলেজ/উচ্চমাধ্যমিক/সমমানের প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে মন্ত্রণালয় তথা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক ভর্তির জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা ও সময় অনুযায়ী শিক্ষার্থী ভর্তি করবে। কোনো প্রতিষ্ঠান মন্ত্রণালয় ও বোর্ড নির্ধারিত তারিখের বাইরে নিজ ইচ্ছেমাফিক ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

অনলাইনে ভর্তি

শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। অনলাইনে এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।

অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে ১৫০ টাকা আবেদন ফি জমা সাপেক্ষে সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানের জন্য পছন্দক্রমের ভিত্তিতে আবেদন করতে পারবে। একজন শিক্ষার্থী যতগুলো কলেজে আবেদন করবে তার মধ্য থেকে শিক্ষার্থীর মেধা, কোটা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে একটি মাত্র কলেজে তার অবস্থান নির্ধারণ করা হবে।

ভর্তি ফি

এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সেশন চার্জ ও ভর্তি ফি গ্রহণ করতে হবে। এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান কোনোক্রমেই উন্নয়ন ফি গ্রহণ করতে পারবে না।

ঢাকা মেট্রোপলিটনে বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে ভর্তি ফি পাঁচ হাজার টাকা; মেট্রোপলিটনে (ঢাকা ছাড়া) বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে ভর্তি ফি তিন হাজার টাকা; জেলায় বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে ভর্তি ফি দুই হাজার টাকা এবং উপজেলা/মফস্‌সলে বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে ভর্তি ফি ১ হাজার ৫০০ টাকা।

নন এমপিও/আংশিক এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে উন্নয়ন ফি, সেশন চার্জ ও ভর্তি ফি নিতে হবে। ঢাকা মেট্রোপলিটনে বাংলা ভার্সনে ভর্তি ফি ৭ হাজার ৫০০ টাকা ও ইংরেজি ভার্সনে ভর্তি ফি ৮ হাজার ৫০০ টাকা; মেট্রোপলিটনে (ঢাকা ছাড়া) বাংলা ভার্সনে ভর্তি ফি পাঁচ হাজার টাকা ও ইংরেজি ভার্সনে ভর্তি ফি ছয় হাজার টাকা; জেলায় বাংলা ভার্সনে ভর্তি ফি তিন হাজার টাকা ও ইংরেজি ভার্সনে ভর্তি ফি চার হাজার টাকা এবং উপজেলা/মফস্‌সলে বাংলা ভার্সনে ভর্তি ফি ২ হাজার ৫০০ টাকা ও ইংরেজি ভার্সনে ভর্তি ফি তিন হাজার টাকা।

সরকারি কলেজগুলো সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ফি সংগ্রহ করবে। দরিদ্র, মেধাবী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী ভর্তিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উল্লিখিত ফি যতদূর সম্ভব মওকুফের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ভর্তির আবেদন, ফল প্রকাশ, ভর্তি ও ক্লাস শুরু

ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন গ্রহণ (যারা পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করবে, আবেদনের যোগ্য হলে তাদেরও এই সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে) ৮ ডিসেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর। আবেদন যাচাই–বাছাই ও আপত্তি নিষ্পত্তি ১৮ ডিসেম্বর থেকে ২২ ডিসেম্বর। পুনঃনিরীক্ষণে ফলাফল পরিবর্তিত শিক্ষার্থীদের আবেদন গ্রহণ ও সবার পছন্দক্রম পরিবর্তনের সময় ২৬ ডিসেম্বর।

প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ ৩১ ডিসেম্বর। শিক্ষার্থীর নির্বাচন নিশ্চায়ন (শিক্ষার্থী নিশ্চায়ন না করলে প্রথম পর্যায়ের নির্বাচন এবং আবেদন বাতিল হবে এবং তাকে পুনরায় ফিসহ আবেদন করতে হবে) ১ জানুয়ারি থেকে ৮ জানুয়ারি। দ্বিতীয় পর্যায়ে আবেদন গ্রহণ ৯ থেকে ১০ জানুয়ারি। পছন্দক্রম অনুযায়ী প্রথম মাইগ্রেশনের ফল ও দ্বতীয় পর্যায়ের আবেদনের ফল প্রকাশ ১২ জানুয়ারি।

দ্বিতীয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীর নির্বাচন নিশ্চায়ন (শিক্ষার্থী নিশ্চায়ন না করলে দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্বাচন এবং আবেদন বাতিল হবে এবং তাকে পুনরায় ফিসহ আবেদন করতে হবে) ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি।

তৃতীয় পর্যায়ে আবেদন গ্রহণ ১৬ জানুয়ারি। পছন্দক্রম অনুযায়ী দ্বিতীয় মাইগ্রেশনের ফল ও তৃতীয় পর্যায়ের আবেদনের ফল প্রকাশ ১৮ জানুয়ারি।

তৃতীয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীর নির্বাচন নিশ্চায়ন (শিক্ষার্থী নিশ্চায়ন না করলে তৃতীয় পর্যায়ের নির্বাচন এবং আবেদন বাতিল হবে) ১৯ ও ২০ জানুয়ারি। ভর্তিপ্রক্রিয়া ২২ থেকে ২৬ জানুয়ারি এবং ক্লাস শুরু হবে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি।

back to top