alt

শিক্ষা

৬৪০ সাধারণ হাইস্কুলে ‘বৃত্তিমূলক শিক্ষা’, নেই পর্যাপ্ত শিক্ষক ও ইনস্ট্রাক্টর

রাকিব উদ্দিন : শনিবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৩

শিক্ষা প্রশাসন ২০২০ সালে ৬৪০টি সাধারণ হাইস্কুলে ‘বৃত্তিমূলক শিক্ষা’ চালু করেছে। পর্যাপ্ত শিক্ষা উপকরণও সরবরাহ করেছে। কিন্তু বেশিরভাগ স্কুলেই বিষয় বা ‘ট্রেড’ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারের জন্য ‘ল্যাব অ্যাসিসটেন্ট’ও নিয়োগ দেয়া হয়নি। এ কারণে নতুন কোর্স চালু করে ‘সমস্যায়’ পড়েছেন প্রধান শিক্ষকরা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অষ্টগ্রাম হাইস্কুলে ২০২০ সালে নবম ও দশম শ্রেণীতে দুটি ট্রেডে ‘বৃত্তিমূলক শিক্ষা’ (ভোকেশনাল কোর্স) চালু হয়। ট্রেড দুটি হলো- ‘ড্রেসি মেকিং’ ও ‘জেনারেল ইলেকট্রনিকস’। প্রতি বিষয়ে ৪০ জন করে মোট ৮০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন দেয়া হয়। এর বিপরীতে প্রথম বছর এক বিষয়ে ৩০ জন ও অন্য বিষয়ে ৩৫ জন, ২০২১ সালে ২৮ জন করে এবং ২০২২ সালে এক বিষয়ে ২০ জন এবং অন্য বিষয়ে ২৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয় বলে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক সতেন্দ্র চন্দ্র চৌধুরী সংবাদকে জানিয়েছেন।

সাধারণ ধারার বিদ্যালয়ে বৃত্তিমূলক শিক্ষা চালু করাকে ‘ভালো উদ্যোগ’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, সমস্যা হলো জনবল সংকট। প্রতি বিষয়ে দু’জন শিক্ষক এবং একজন করে ‘ল্যাব অ্যাসিস্টটেন্ট’ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু এ পর্যন্ত মাত্র ‘ড্রেস মেকিং’য়ের একজন শিক্ষক, আর সম্প্রতি জেনারেল ইলেকট্রনিকস’ বিষয়ের একজন ‘ল্যাব অ্যাসিসটেন্ট’ দিয়েছে।

দুটি বিষয়ের শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে জানিয়ে সতেন্দ্র চন্দ্র চৌধুরী বলেন, ‘বিভিন্ন ধরনের মালামাল দেয়া হয়েছে। সেগুলো ইনস্টলমেন্ট করা যাচ্ছে না, কার্টনেই রয়েছে। কিছুদিন আগে আমি কুমিল্লায় একটি ট্রেনিংয়ে গিয়েছিলাম। সেখানে আমাদের এসব মালামাল ব্যবহারের কিছু দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

এদিকে নারায়ণগঞ্জের পাগলা হাইস্কুলে ২০২০ শিক্ষাবর্ষে নবম ও দশম শ্রেণীতে দুটি বিষয়ে ‘বৃত্তিমূলক শিক্ষা’য় ৩২ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। এরপর ২০২১ শিক্ষাবর্ষে ৮৫ জন এবং ২০২২ শিক্ষাবর্ষে দুটি ট্রেডে ৪০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। এই স্কুলে ভোকেশনাল কোর্সে দুটি ‘ট্রেড’- ‘ড্রেস মেকিং’ ও ‘কম্পিউটার অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি’ (আইসিটি) চালু হয়েছে। এই স্কুলকে ৬৪০টির মধ্যে ‘মডেল’ হিসেবে ধরা হলেও প্রতিষ্ঠানটিতে তিন বছরে অর্ধেক জনবলও নিয়োগ হয়নি।

পাগলা স্কুলে দুটি ট্রেড পাঠদানের জন্য ২০২০ সালে মাত্র দু’জন শিক্ষক পদায়ন দিয়েছে জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যায়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। পরবর্তীতে আর কোন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়নি। আইসিটির মালামাল ও অন্যান্য শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করা হলেও এগুলো ব্যবহারের জন্য ‘ল্যাব অ্যাসিস্টটেন্ট’ দেয়া হয়নি।

ল্যাব অ্যাসিসটেন্ট ছাড়া মেশিনারিজ ও আইসিটি শিক্ষা উপকরণ কীভাবে পরিচালনা করছেন, জানতে চাইলে পাগলা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ব্রজেন্দ্রনাথ সরকার সংবাদকে বলেন, ‘ল্যাব অ্যাসিসটেন্ট দেয়া হয়নি। আমরা খন্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে চালাচ্ছি। আমার স্কুলটি ইতোমধ্যে মাউশি মহাপরিচালক, প্রকল্প কর্মকর্তা ও অন্যান্য কর্মকর্তারা তিনবার পরিদর্শন করেছেন। এখানেই ঢাকা বিভাগের অন্যান্য স্কুলের ট্রেডভিত্তিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এজন্য আমি আশা করছি, শীঘ্রই জনবল সংকট কেটে যাবে।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০২০ শিক্ষাবর্ষে সারাদেশের ৫৩২টি সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবম ও দশম শ্রেণীতে ‘বৃত্তিমূলক শিক্ষা’ চালু করেছে। পরবর্তীতে আরও ১০৮টি বিদ্যালয়ে এই শিক্ষা চালু করা হয়। সবমিলিয়ে ৬৪০টি বৃত্তিমূলক শিক্ষা চালু হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৫৩১টি বেসরকারি ও ২০টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং সমস্তরের ৮৯টি মাদ্রাসা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিটিতে দুই শ্রেণীতে দুটি বিষয় ‘ট্রেড’ চালু করা হয়েছে। বিষয়ভিত্তিক প্রতিটি বিদ্যালয়ে ন্যূনতম দুইজন শিক্ষক ও দুইজন ল্যাব অ্যাসিসটেন্ট আবশ্যক।

তিনটি শিক্ষাবর্ষ অতিবাহিত হলেও সবকটি বিদ্যালয়ে এখন পর্যন্ত ট্রেডভিত্তিক শিক্ষকই নিয়োগ হয়নি; ল্যাব অ্যাসিসটেন্টও নিয়োগ দেয়া হয়নি। সরকারি ২০টি বিদ্যালয়ের একটিতেও ‘বৃত্তিমূলক শিক্ষা’ পাঠদানের জন্য শিক্ষক ও শিক্ষা উপকরণ পরিচালনার জন্য জনবল নিয়োগ দেয়া হয়নি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়ন হওয়া ‘সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম’র (সেসিপ) আওতায় ওইসব বিদ্যালয়ে বৃত্তিমূলক শিক্ষা চালু করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ৬৪০টি স্কুলে এই শিক্ষা চালু হয়েছে।

‘সেসিপ’ প্রোগ্রামের পক্ষ থেকে বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোতে ন্যূনতম দুইজন করে শিক্ষক এবং কয়েকজন ‘প্রশিক্ষক’সহ মোট এক হাজার ৯৯ জনবল নিয়োগ দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল ‘এনটিআরসিএ’র। প্রতিষ্ঠানটি ২০২০ সালে ৬৭৬ জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে। পরবর্তীতে আরও ১৩৮ জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে এনটিআরসিএ। সব মিলিয়ে মোট ৬৪০টি বিদ্যালয়ে এ পর্যন্ত মাত্র ৮১৪ জন শিক্ষক নিয়াগ পেয়েছে।

এতে সবকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ট্রেড’ভিত্তিক ন্যূনতম দু’জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হলেও মোট শিক্ষকের সংখ্যা দাঁড়ায় এক হাজার ২৮০ জন।

বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ‘সেসিপ’র যুগ্ম প্রোগ্রাম পরিচালক প্রফেসর ড. সামসুন নাহার সংবাদকে বলেন, ‘মামলা সংক্রান্ত কারণে এনটিআরসিএ সবকটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারেনি। আর সরকারি হাইস্কুলে শিক্ষক নিয়োগ দেয় সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।’

দ্বৈত শাসনের কবলে শিক্ষার্থীরা

‘বৃত্তিমূলক শিক্ষা’ চালু হওয়ায় দ্বৈত প্রশাসনিক শাসনের কবলে পড়ার আশঙ্কা করছে ৬৪০টি সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাদ্রাসা। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে এখন থেকে তিন বোর্ড অর্থাৎ ‘সাধারণ’ ও ‘কারিগরি’ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় বসতে হচ্ছে। শিক্ষকদের নিয়ন্ত্রণও থাকবে একই মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের তিন অধিদপ্তর- মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষা অধিপ্তরের অধীনে। এ কারণে শিক্ষকদের এমপিওভুক্তিতে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। বেশিরভাগ শিক্ষক এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি। ‘অগ্রাধিকার’ ভিত্তিতে কয়েকটি স্কুলের শিক্ষককে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে।

‘কারিগরি শিক্ষা’ বা ‘ট্রেড’ চালুর শুরুতেই পাঠলাভে বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন ওইসব প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী। কারণ সাধারণ স্কুলের শিক্ষকরা কারিগরির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে পারছেন না; বিদ্যালয়গুলোর সবকটিতে ‘ইন্সট্রাক্টর’ও (শিক্ষক) নিয়োগ দেয়া সম্ভব হয়নি। আবার প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যবহারিক শিক্ষার পর্যাপ্ত শিক্ষা উপকরণ অর্থাৎ ‘যন্ত্রপাতি’ বা ‘ম্যাশিনারিজ’ও সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। আবার যেসব উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে ‘ল্যাব ইন্সট্রাক্টর’ নিয়াগ না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা এর সুবিধা পাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে মাউশির একজন পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদকে বলেন, ‘স্কুলগুলো পরিচালনা হচ্ছে মাউশির অধীনে। পরীক্ষাও নেয়া হচ্ছে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে। আবার নতুন ট্রেডগুলোর খাতা মূল্যায়ন করছে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। এটি এক ধরনের জটিলতা। আবার কারিগরি এবং মাদ্রাসার জন্য পৃথক অধিদপ্তর, নিজস্ব বোর্ড ও জনবল কাঠামো থাকা সত্ত্বেও সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুই শ্রেণীতে কারিগরি কোর্স চালু করা হয়েছে। এটি আরেক ধরনের জটিলতা।’

এতে স্বাভাবিক কারণেই একজন প্রতিষ্ঠান প্রধানকে এখন থেকে দুই বিভাগের অধীনে তিন অধিদপ্তর ও তিন শিক্ষা বোর্ডের কার্যক্রম সামলাতে হচ্ছে মন্তব্য করে ওই পরিচালক বলেন, ‘এজন্য প্রতিষ্ঠান কোন বাড়তি আর্থিক সুবিধাও পাবেন না। আবার অনেক শিক্ষক কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের আন্তরিকতা নিয়ে পাঠদান করবেন কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।’

জনবল নিয়োগেও কর্তৃত্বের লড়াই

অভিযোগ রয়েছে, তালিকাভুক্ত স্কুলগুলোতে ‘বৃত্তিমূলক শিক্ষা’য় নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির কার্যক্রম শুরু করেছে মাউশি। ইতোমধ্যে ‘বৃত্তিমূলক শিক্ষা’য় নিয়োগ পাওয়া কিছু শিক্ষক এমপিওভুক্ত হয়েছেন মাউশি’র অধীনে; বেতনভাতাও পাচ্ছেন মাউশি থেকে। পরবর্তীতে এই এমপিওভুক্তি বন্ধ রাখার দাবি জানায় ‘সেসিপ’ কর্মকর্তারা।

সেসিপ প্রকল্পের যুগ্ম প্রোগ্রাম পরিচালক প্রফেসর সামসুন নাহার ২০২০ সালের ৩০ ডিসেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের কাছে এক চিঠিতে ৫৩২টি প্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্তি বন্ধ রাখার অনুরোধ করেন।

‘বৃত্তিমূলক কোর্সের আওতায় নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্তি প্রসঙ্গে’ শীর্ষক চিঠি বলা হয়, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে সেসিপ’র আওতায় মাধ্যমিক পর্যায়ে সাধারণ ধারার ৬৪০টি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃত্তিমূলক কোর্স বাস্তবায়নের সংস্থান রয়েছে।

বর্ণিত সংস্থানের আওতায় নির্বাচিত সাধারণ ধারার ৫৩২টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিটিতে ২টি ট্রেড ইন্সট্রাক্টর ও ২টি ল্যাব অ্যাসিন্ট্যান্ট/কম্পিউটার ল্যাব অ্যাসিসটেন্ট পদ অন্তর্ভুক্ত করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ সংশোধন করা হয়।

বর্ণিত বিদ্যালয়সমূহে ইতোমধ্যে মাউশির আওতায় শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ ও এমপিওভুক্তি চলমান রয়েছে। এমতাবস্থায়, সেসিপর আওতায় বৃত্তিমূলক কোর্স চালু হওয়া ৫৩২টি বিদ্যালয়কে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আওতা বহির্ভূত রাখার জন্য অনুরোধ করা হলো।’

ছবি

শিক্ষা অবকাঠামো নির্মাণে ‘দুর্নীতি’ স্বাভাবিক রীতিতে পরিণত হচ্ছে

ছবি

সব বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা গুচ্ছতে, থাকছে জবি-ইবিও

ছবি

৪৫তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ১৯ মে

ছবি

গুচ্ছে যাচ্ছে না ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

নতুন শিক্ষাবর্ষের চার মাস, দুই বই সংশোধনের জটিলতা কাটছে না

শ্রমিকের ছেলে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ, অর্থের অভাবে ভর্তি হতে পারছেনা

ছবি

করোনা মহামারি: প্রতি ৫ জন শিশুর মধ্যে মাত্র এক জন লাইভ ক্লাসে অংশ নেয়

ছবি

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা থেকে বের হওয়ার সিদ্ধান্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে

ছবি

ঢাবিতে আন্তর্জাতিক গণিত দিবস পালিত

ছবি

ইবিতে বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ, মাইকে প্রচার

ছবি

ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে কোনো পরীক্ষা নয়

ছবি

আগুন জ্বালিয়ে রাবি শিক্ষার্থীদের রেলপথ অবরোধ, রেল কর্তৃপক্ষের মামলা

দেশে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা-উপশাখা খোলার উদ্যোগ, দেশীয় উদ্যোক্তাদের উদ্বেগ

ছবি

ঢাবির সঙ্গে যৌথ কাজ করতে আগ্রহী অস্ট্রেলিয়ার ডারউইন ইউনিভার্সিটি

ছবি

ফাতেমা ইকবাল ট্রাস্ট ও প্রভোস্ট বৃত্তি পেলেন ঢাবির ৩২ ছাত্রী

ছবি

মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয় করণের দাবীতে ফরিদপুরে শিক্ষকদের মানববন্ধন

প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ : ভর্তিতে সতর্কতা জারি বিএমডিসির

ছবি

বঙ্গবন্ধু মডেকিলে বশ্বিবদ্যিালয়ে চর্তুথ সমার্বতন কাল

ছবি

রাবির ভিসিকে অবরুদ্ধ করে শিক্ষার্থীদের আপত্তিকর স্লোগান

ছবি

জাবির ছাত্রী হলে মধ্যরাতে হয়রানি, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা

ছবি

দুপুরে প্রকাশ হবে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফল, জানা যাবে যেভাবে

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ : রাবির প্রশাসন ভবনে তালা, বিক্ষোভ

খাতা চ্যালেঞ্জ করে নতুন করে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেলেন ৩১৫ জন

ছবি

বঙ্গবন্ধু মেডিকেল ভার্সিটিতে সকালে পরীক্ষা,সন্ধ্যায় ফল প্রকাশ

ছবি

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন, লড়াইয়ে ১ লাখ ৩৯ হাজার শিক্ষার্থী

ছবি

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা শুক্রবার

ছবি

পাঠ্যবইয়ের দরপত্রে পরিবর্তন আসছে

১৫ মার্চ শুরু হচ্ছে ‘ন্যাশনাল স্টিম অলিম্পিয়াড-২০২৩’

ছবি

বঙ্গবন্ধু মেডিকেল ভার্সিটিতে নবাগত শিক্ষার্থীদের ইনডাকশন প্রোগ্রাম

এইচএসসি পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়ণের আবেদন বেড়েছে ৬৫ শতাংশ

ছবি

প্রাথমিকের বৃত্তির সংশোধিত ফল প্রকাশ

ছবি

স্থগিতকৃত ‘প্রাথমিক বৃত্তি’র ফল আজ রাতেই

ছবি

প্রাথমিকের বৃত্তির সংশোধিত ফল প্রকাশ বিকেলে

ছবি

কোডিং ভুলে প্রাথমিক বৃত্তির ফল প্রকাশের পর স্থগিত

ছবি

বিতর্কহীন থাকতে বই প্রত্যাহার করা হয়েছে

ছবি

প্রাথমিকের বৃত্তির ফল প্রকাশ

tab

শিক্ষা

৬৪০ সাধারণ হাইস্কুলে ‘বৃত্তিমূলক শিক্ষা’, নেই পর্যাপ্ত শিক্ষক ও ইনস্ট্রাক্টর

রাকিব উদ্দিন

শনিবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৩

শিক্ষা প্রশাসন ২০২০ সালে ৬৪০টি সাধারণ হাইস্কুলে ‘বৃত্তিমূলক শিক্ষা’ চালু করেছে। পর্যাপ্ত শিক্ষা উপকরণও সরবরাহ করেছে। কিন্তু বেশিরভাগ স্কুলেই বিষয় বা ‘ট্রেড’ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারের জন্য ‘ল্যাব অ্যাসিসটেন্ট’ও নিয়োগ দেয়া হয়নি। এ কারণে নতুন কোর্স চালু করে ‘সমস্যায়’ পড়েছেন প্রধান শিক্ষকরা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অষ্টগ্রাম হাইস্কুলে ২০২০ সালে নবম ও দশম শ্রেণীতে দুটি ট্রেডে ‘বৃত্তিমূলক শিক্ষা’ (ভোকেশনাল কোর্স) চালু হয়। ট্রেড দুটি হলো- ‘ড্রেসি মেকিং’ ও ‘জেনারেল ইলেকট্রনিকস’। প্রতি বিষয়ে ৪০ জন করে মোট ৮০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন দেয়া হয়। এর বিপরীতে প্রথম বছর এক বিষয়ে ৩০ জন ও অন্য বিষয়ে ৩৫ জন, ২০২১ সালে ২৮ জন করে এবং ২০২২ সালে এক বিষয়ে ২০ জন এবং অন্য বিষয়ে ২৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয় বলে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক সতেন্দ্র চন্দ্র চৌধুরী সংবাদকে জানিয়েছেন।

সাধারণ ধারার বিদ্যালয়ে বৃত্তিমূলক শিক্ষা চালু করাকে ‘ভালো উদ্যোগ’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, সমস্যা হলো জনবল সংকট। প্রতি বিষয়ে দু’জন শিক্ষক এবং একজন করে ‘ল্যাব অ্যাসিস্টটেন্ট’ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু এ পর্যন্ত মাত্র ‘ড্রেস মেকিং’য়ের একজন শিক্ষক, আর সম্প্রতি জেনারেল ইলেকট্রনিকস’ বিষয়ের একজন ‘ল্যাব অ্যাসিসটেন্ট’ দিয়েছে।

দুটি বিষয়ের শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে জানিয়ে সতেন্দ্র চন্দ্র চৌধুরী বলেন, ‘বিভিন্ন ধরনের মালামাল দেয়া হয়েছে। সেগুলো ইনস্টলমেন্ট করা যাচ্ছে না, কার্টনেই রয়েছে। কিছুদিন আগে আমি কুমিল্লায় একটি ট্রেনিংয়ে গিয়েছিলাম। সেখানে আমাদের এসব মালামাল ব্যবহারের কিছু দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

এদিকে নারায়ণগঞ্জের পাগলা হাইস্কুলে ২০২০ শিক্ষাবর্ষে নবম ও দশম শ্রেণীতে দুটি বিষয়ে ‘বৃত্তিমূলক শিক্ষা’য় ৩২ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। এরপর ২০২১ শিক্ষাবর্ষে ৮৫ জন এবং ২০২২ শিক্ষাবর্ষে দুটি ট্রেডে ৪০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। এই স্কুলে ভোকেশনাল কোর্সে দুটি ‘ট্রেড’- ‘ড্রেস মেকিং’ ও ‘কম্পিউটার অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি’ (আইসিটি) চালু হয়েছে। এই স্কুলকে ৬৪০টির মধ্যে ‘মডেল’ হিসেবে ধরা হলেও প্রতিষ্ঠানটিতে তিন বছরে অর্ধেক জনবলও নিয়োগ হয়নি।

পাগলা স্কুলে দুটি ট্রেড পাঠদানের জন্য ২০২০ সালে মাত্র দু’জন শিক্ষক পদায়ন দিয়েছে জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যায়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। পরবর্তীতে আর কোন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়নি। আইসিটির মালামাল ও অন্যান্য শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করা হলেও এগুলো ব্যবহারের জন্য ‘ল্যাব অ্যাসিস্টটেন্ট’ দেয়া হয়নি।

ল্যাব অ্যাসিসটেন্ট ছাড়া মেশিনারিজ ও আইসিটি শিক্ষা উপকরণ কীভাবে পরিচালনা করছেন, জানতে চাইলে পাগলা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ব্রজেন্দ্রনাথ সরকার সংবাদকে বলেন, ‘ল্যাব অ্যাসিসটেন্ট দেয়া হয়নি। আমরা খন্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে চালাচ্ছি। আমার স্কুলটি ইতোমধ্যে মাউশি মহাপরিচালক, প্রকল্প কর্মকর্তা ও অন্যান্য কর্মকর্তারা তিনবার পরিদর্শন করেছেন। এখানেই ঢাকা বিভাগের অন্যান্য স্কুলের ট্রেডভিত্তিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এজন্য আমি আশা করছি, শীঘ্রই জনবল সংকট কেটে যাবে।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০২০ শিক্ষাবর্ষে সারাদেশের ৫৩২টি সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবম ও দশম শ্রেণীতে ‘বৃত্তিমূলক শিক্ষা’ চালু করেছে। পরবর্তীতে আরও ১০৮টি বিদ্যালয়ে এই শিক্ষা চালু করা হয়। সবমিলিয়ে ৬৪০টি বৃত্তিমূলক শিক্ষা চালু হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৫৩১টি বেসরকারি ও ২০টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং সমস্তরের ৮৯টি মাদ্রাসা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিটিতে দুই শ্রেণীতে দুটি বিষয় ‘ট্রেড’ চালু করা হয়েছে। বিষয়ভিত্তিক প্রতিটি বিদ্যালয়ে ন্যূনতম দুইজন শিক্ষক ও দুইজন ল্যাব অ্যাসিসটেন্ট আবশ্যক।

তিনটি শিক্ষাবর্ষ অতিবাহিত হলেও সবকটি বিদ্যালয়ে এখন পর্যন্ত ট্রেডভিত্তিক শিক্ষকই নিয়োগ হয়নি; ল্যাব অ্যাসিসটেন্টও নিয়োগ দেয়া হয়নি। সরকারি ২০টি বিদ্যালয়ের একটিতেও ‘বৃত্তিমূলক শিক্ষা’ পাঠদানের জন্য শিক্ষক ও শিক্ষা উপকরণ পরিচালনার জন্য জনবল নিয়োগ দেয়া হয়নি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়ন হওয়া ‘সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম’র (সেসিপ) আওতায় ওইসব বিদ্যালয়ে বৃত্তিমূলক শিক্ষা চালু করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ৬৪০টি স্কুলে এই শিক্ষা চালু হয়েছে।

‘সেসিপ’ প্রোগ্রামের পক্ষ থেকে বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোতে ন্যূনতম দুইজন করে শিক্ষক এবং কয়েকজন ‘প্রশিক্ষক’সহ মোট এক হাজার ৯৯ জনবল নিয়োগ দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল ‘এনটিআরসিএ’র। প্রতিষ্ঠানটি ২০২০ সালে ৬৭৬ জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে। পরবর্তীতে আরও ১৩৮ জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে এনটিআরসিএ। সব মিলিয়ে মোট ৬৪০টি বিদ্যালয়ে এ পর্যন্ত মাত্র ৮১৪ জন শিক্ষক নিয়াগ পেয়েছে।

এতে সবকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ট্রেড’ভিত্তিক ন্যূনতম দু’জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হলেও মোট শিক্ষকের সংখ্যা দাঁড়ায় এক হাজার ২৮০ জন।

বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ‘সেসিপ’র যুগ্ম প্রোগ্রাম পরিচালক প্রফেসর ড. সামসুন নাহার সংবাদকে বলেন, ‘মামলা সংক্রান্ত কারণে এনটিআরসিএ সবকটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারেনি। আর সরকারি হাইস্কুলে শিক্ষক নিয়োগ দেয় সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।’

দ্বৈত শাসনের কবলে শিক্ষার্থীরা

‘বৃত্তিমূলক শিক্ষা’ চালু হওয়ায় দ্বৈত প্রশাসনিক শাসনের কবলে পড়ার আশঙ্কা করছে ৬৪০টি সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাদ্রাসা। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে এখন থেকে তিন বোর্ড অর্থাৎ ‘সাধারণ’ ও ‘কারিগরি’ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় বসতে হচ্ছে। শিক্ষকদের নিয়ন্ত্রণও থাকবে একই মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের তিন অধিদপ্তর- মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষা অধিপ্তরের অধীনে। এ কারণে শিক্ষকদের এমপিওভুক্তিতে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। বেশিরভাগ শিক্ষক এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি। ‘অগ্রাধিকার’ ভিত্তিতে কয়েকটি স্কুলের শিক্ষককে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে।

‘কারিগরি শিক্ষা’ বা ‘ট্রেড’ চালুর শুরুতেই পাঠলাভে বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন ওইসব প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী। কারণ সাধারণ স্কুলের শিক্ষকরা কারিগরির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে পারছেন না; বিদ্যালয়গুলোর সবকটিতে ‘ইন্সট্রাক্টর’ও (শিক্ষক) নিয়োগ দেয়া সম্ভব হয়নি। আবার প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যবহারিক শিক্ষার পর্যাপ্ত শিক্ষা উপকরণ অর্থাৎ ‘যন্ত্রপাতি’ বা ‘ম্যাশিনারিজ’ও সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। আবার যেসব উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে ‘ল্যাব ইন্সট্রাক্টর’ নিয়াগ না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা এর সুবিধা পাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে মাউশির একজন পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদকে বলেন, ‘স্কুলগুলো পরিচালনা হচ্ছে মাউশির অধীনে। পরীক্ষাও নেয়া হচ্ছে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে। আবার নতুন ট্রেডগুলোর খাতা মূল্যায়ন করছে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। এটি এক ধরনের জটিলতা। আবার কারিগরি এবং মাদ্রাসার জন্য পৃথক অধিদপ্তর, নিজস্ব বোর্ড ও জনবল কাঠামো থাকা সত্ত্বেও সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুই শ্রেণীতে কারিগরি কোর্স চালু করা হয়েছে। এটি আরেক ধরনের জটিলতা।’

এতে স্বাভাবিক কারণেই একজন প্রতিষ্ঠান প্রধানকে এখন থেকে দুই বিভাগের অধীনে তিন অধিদপ্তর ও তিন শিক্ষা বোর্ডের কার্যক্রম সামলাতে হচ্ছে মন্তব্য করে ওই পরিচালক বলেন, ‘এজন্য প্রতিষ্ঠান কোন বাড়তি আর্থিক সুবিধাও পাবেন না। আবার অনেক শিক্ষক কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের আন্তরিকতা নিয়ে পাঠদান করবেন কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।’

জনবল নিয়োগেও কর্তৃত্বের লড়াই

অভিযোগ রয়েছে, তালিকাভুক্ত স্কুলগুলোতে ‘বৃত্তিমূলক শিক্ষা’য় নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির কার্যক্রম শুরু করেছে মাউশি। ইতোমধ্যে ‘বৃত্তিমূলক শিক্ষা’য় নিয়োগ পাওয়া কিছু শিক্ষক এমপিওভুক্ত হয়েছেন মাউশি’র অধীনে; বেতনভাতাও পাচ্ছেন মাউশি থেকে। পরবর্তীতে এই এমপিওভুক্তি বন্ধ রাখার দাবি জানায় ‘সেসিপ’ কর্মকর্তারা।

সেসিপ প্রকল্পের যুগ্ম প্রোগ্রাম পরিচালক প্রফেসর সামসুন নাহার ২০২০ সালের ৩০ ডিসেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের কাছে এক চিঠিতে ৫৩২টি প্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্তি বন্ধ রাখার অনুরোধ করেন।

‘বৃত্তিমূলক কোর্সের আওতায় নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্তি প্রসঙ্গে’ শীর্ষক চিঠি বলা হয়, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে সেসিপ’র আওতায় মাধ্যমিক পর্যায়ে সাধারণ ধারার ৬৪০টি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃত্তিমূলক কোর্স বাস্তবায়নের সংস্থান রয়েছে।

বর্ণিত সংস্থানের আওতায় নির্বাচিত সাধারণ ধারার ৫৩২টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিটিতে ২টি ট্রেড ইন্সট্রাক্টর ও ২টি ল্যাব অ্যাসিন্ট্যান্ট/কম্পিউটার ল্যাব অ্যাসিসটেন্ট পদ অন্তর্ভুক্ত করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ সংশোধন করা হয়।

বর্ণিত বিদ্যালয়সমূহে ইতোমধ্যে মাউশির আওতায় শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ ও এমপিওভুক্তি চলমান রয়েছে। এমতাবস্থায়, সেসিপর আওতায় বৃত্তিমূলক কোর্স চালু হওয়া ৫৩২টি বিদ্যালয়কে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আওতা বহির্ভূত রাখার জন্য অনুরোধ করা হলো।’

back to top