alt

শিক্ষা

গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি ঠেকাতে নীতিমালা প্রণয়ন ঢাবির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : মঙ্গলবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৩

গবেষণাপত্রে চৌর্যবৃত্তি ঠেকাতে প্লেজারিজম চেকিং বাংলা সফটওয়্যার dubd21 উদ্বোধনসহ বেশ কিছু উদ্যোগ হাতে নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। এবার চৌর্যবৃত্তি ঠেকাতে শাস্তির বিধান রেখে ‘দ্য রুলস ফর দ্য প্রিভেনশন অব প্লেজারিজম’ শীর্ষক নীতিমালা তৈরি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (২৩ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় প্রাথমিকভাবে এ সংক্রান্ত নীতিমালায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে নীতিমালার কিছু বিষয়ে সংযোজন-বিয়োজনের মাধ্যমে সংশোধন করা যায় কিনা সেজন্য নীতিমালা প্রণয়নকারী কমিটিকে আরও দু’সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, উদ্ধৃতি বা সূত্র ছাড়া কোনো গবেষণা বা লেখার সঙ্গে অন্য কারও তথ্য-উপাত্ত, ধারণা, লেখা বা কাজের সামঞ্জস্য চৌর্যবৃত্তি হিসেবে গণ্য হবে।

এতে গবেষণায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত সামঞ্জস্যকে ‘গ্রহণযোগ্য’ (লেভেল-০) বলা হয়েছে৷ এ ক্ষেত্রে কোনো শাস্তির মুখে পড়তে হবে না। তবে এ ক্ষেত্রে একক উৎস থেকে সর্বোচ্চ ২ শতাংশের বেশি তথ্য ব্যবহার করা যাবে না। একই উৎস বা সূত্র থেকে ২ শতাংশের বেশি তথ্য ব্যবহার করা হলে তা নিম্নমাত্রার সামঞ্জস্যের (লেভেল-১) আওতায় পড়বে। অন্যের লেখার সঙ্গে ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত মিলও এই লেভেলে রাখা হয়েছে।

৪০-৬০ শতাংশ হবে মধ্যমাত্রা (লেভেল-২), আর ৬০ শতাংশের বেশি সামঞ্জস্য উচ্চমাত্রার (লেভেল-৩) অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে । উচ্চমাত্রার অপরাধের পুনরাবৃত্তি হবে সবচেয়ে গুরুতর অপরাধ।

নীতিমালা অনুযায়ী, লেভেল-১ এর অপরাধ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ডিগ্রি বা ক্রেডিট ৬ মাসের জন্য স্থগিত করে লেখক বা গবেষককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়া সাপেক্ষে পাণ্ডুলিপি সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। ওই সময়েও সংশোধনে ব্যর্থ হলে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়া সাপেক্ষে তাদের আরও ৬ মাস সময় দেওয়া হতে পারে।

দ্বিতীয় পর্যায়েও সংশোধনে ব্যর্থ হলে লেখক বা গবেষকের ওই ডিগ্রি বা কোর্স বাতিল বা প্রত্যাহার করা হবে। একই সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্ট ডিগ্রি ৬ মাসের জন্য স্থগিত করে ২০ হাজার টাকা জরিমানা সাপেক্ষে ৬ মাসের মধ্যে পাণ্ডুলিপি সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে।

এই সময়ের মধ্যে ডিগ্রি চৌর্যবৃত্তিমুক্ত প্রমাণ করতে পারলে তা নবায়ন হবে। তবে ওই ব্যক্তি অন্য কোনো সুবিধা পাবেন না। কিন্তু ওই ব্যক্তি নির্দিষ্ট সময়ে পাণ্ডুলিপি সংশোধনে ব্যর্থ হলে পদাবনতি ও দুই বছরের জন্য পদোন্নতি বন্ধের শাস্তি পাবেন।

লেভেল-২ এর অপরাধ প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তি ২০ হাজার টাকা জরিমানা সাপেক্ষে পাণ্ডুলিপি সংশোধনে ১ বছর সময় পাবেন। এই সময়ে সংশ্লিষ্ট ডিগ্রি বা ক্রেডিট স্থগিত থাকবে। ওই সময়ে পাণ্ডুলিপি সংশোধনে ব্যর্থ হলে আরও ২০ হাজার টাকা জরিমানা সাপেক্ষে আরও ৬ মাস সময় দেওয়া হবে। পুরো সময় পর ওই ডিগ্রি বা কোর্সটি বাতিল করা হবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট ডিগ্রি বাতিলের পাশাপাশি এক ধাপ পদাবনতি ও চার বছরের জন্য পদোন্নতি বন্ধের শাস্তি হবে তার।

লেভেল-৩-এর অপরাধ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ডিগ্রি বা কোর্স ২ বছরের জন্য স্থগিত করে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা সাপেক্ষে পাণ্ডুলিপি সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ে সংশোধনে ব্যর্থ হলে ওই ডিগ্রি বাতিল ও কোর্সটি অনুত্তীর্ণ (এফ গ্রেড) বলে গণ্য হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিগ্রি বাতিলের পাশাপাশি এক ধাপ পদাবনতি ও ছয় বছরের জন্য পদোন্নতি বন্ধের শাস্তি হবে তার। কোনো ব্যক্তি লেভেল-৩-এর অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটালে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকরিচ্যুত করা হবে।

অপরাধের তিনটি লেভেলেই দায়ী ব্যক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা বা গবেষক হলে এবং তিনি নকল ডিগ্রির মাধ্যমে নিয়োগ-পদোন্নতি বা অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট সময়ে পাওয়া সব টাকা অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাগারে ফেরত নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ( শিক্ষা) অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল “যেহেতু এই নীতিমালাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর, আমরা শিক্ষকদের বলেছি আপনারা আরও দুই সপ্তাহ বিষয়টি ভালোভাবে দেখেন, কারও যদি গ্রহণযোগ্য মতামত থাকে, তাহলে সেটা আমরা বিবেচনা করব। দুই সপ্তাহ পর ডিনস কমিটির মিটিংয়ে উত্থাপন করে পরবর্তী সিন্ডিকেটের সভায় অনুমোদন নিয়ে আমরা এটা বাস্তবায়নে যাব।”

চৌর্যবৃত্তিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ডিগ্রি বা কোর্সের তত্ত্বাবধায়ক, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব জার্নালের ক্ষেত্রে সম্পাদনা পরিষদের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শাস্তির বিধান আছে নতুন এই নীতিমালায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান বা ইনস্টিটিউটের পরিচালক বরাবর যে কোনো ব্যক্তি লিখিতভাবে গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির বিষয়ে অভিযোগ করতে পারবেন।

ছবি

কওমী মাদ্রাসাকে সরকারি বেতনের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি: সংসদে শিক্ষামন্ত্রী

আবেদনকারীদের মধ্যে ৮০ হাজার শিক্ষার্থী এখনও ভর্তির বাইরে

ছবি

পাঠ্যপুস্তকে ভুলের কারণ তদন্ত ও সংশোধনে দুই কমিটি

ছবি

ছুটির দিনেও ঢাবির সেমিনার লাইব্রেরি খোলা রাখার সিদ্ধান্ত

ছবি

ফের আন্দোলনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলার শিক্ষার্থীরা

ঢাবি ও এর অধিভুক্ত কলেজের ১১৩ শিক্ষার্থী বহিস্কার

ছবি

এইচএসসির ফল ৮ ফেব্রুয়ারি

স্কুল পর্যায়ে পাঠ্যবই ছাপা এখনও শেষ হয়নি

ছবি

পাঠ্যবইয়ের অধিকাংশ ভুল ১০ বছর আগের: দীপু মনি

ছবি

শেখায়, পড়ায় ও মেলামেশায় অসুবিধায় পড়ছে শিক্ষার্থীরা: ইএবির গবেষণা

ছবি

বাংলাদেশি স্টুডেন্টস’ এসোসিয়েশন ইন কোরিয়া (বিএসএকে)’র শীতকালীন মিলনমেলা ২০২৩ অনুষ্ঠিত

ছবি

পাঠ্যবই সংশোধন ও দায়িত্ব অবহেলায় শাস্তির দাবিতে ঢাবিতে বিক্ষোভ

ছবি

সারাদেশে এখনও পৌঁছেনি সব পাঠ্যবই

ছবি

চার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধের নির্দেশ

ছবি

ইসলামপুরে শ্রেণিকক্ষে তালা, অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন

ছবি

এইচএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ

ছবি

নবম-দশমের ৩ বইয়ে ৯ ভুলের সংশোধনী দিল এনসিটিবি

ছবি

পাঠ্যবইয়ে হুবহু অনুবাদ: দায় স্বীকার করলেন জাফর ইকবাল ও হাসিনা খান

ছবি

পুলিশ- ছাত্রলীগের বাধায় পণ্ড শাহবাগের ‘লাল কার্ড’ সমাবেশ

ছবি

জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা বাতিল

ছবি

বন্ধ হয়ে গেল জেএসসি-জেডিসি বোর্ড পরীক্ষা, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন

সখীপুরে শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের অভিযোগে বদলি শিক্ষক ফের একই বিদ্যালয়ে যোগদান : শিক্ষা অফিসে অভিভাবকদের অভিযোগ

ছবি

ফের মাধ্যমিকে চালু হচ্ছে ‘মিড ডে মিল’

কাজে আসছে না প্রকল্পের আওতায় কেনা শত কোটি টাকার শিক্ষা উপকরণ

৬৪০ সাধারণ হাইস্কুলে ‘বৃত্তিমূলক শিক্ষা’, নেই পর্যাপ্ত শিক্ষক ও ইনস্ট্রাক্টর

ছবি

স্কুলের নতুন বইয়ে ভুল থাকলে জানাবেন: শিক্ষামন্ত্রী

ইবির অধীন ফাজিল পরীক্ষা ২৬ জানুয়ারি 

ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হলো ‘ট্রান্সজেন্ডার’ কোটা

ছবি

পৌঁছেনি সব বই,বিশৃঙ্খলার মুখোমুখি নতুন শিক্ষাক্রম

ছবি

ঢাবি ভর্তি পরীক্ষায় আবারও বড় পরিবর্তন

ছবি

কুবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ফলাফল জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত

ছবি

চবিতে ছাত্রলীগের দুই দফা সংঘর্ষ : কেন্দ্রীয় কমিটির শোকজ

একাদশে ভর্তি : ২০৪টি কলেজ কোন শিক্ষার্থী পাচ্ছে না

ছবি

শেখ হাসিনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়” আইন মন্ত্রীসভায় অনুমোদন

ছবি

একাদশে দ্বিতীয় ধাপের ভর্তি আবেদন শুরু

ছবি

দুই সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে শতভাগ বই পৌঁছে যাবে: দীপু মনি

tab

শিক্ষা

গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি ঠেকাতে নীতিমালা প্রণয়ন ঢাবির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৩

গবেষণাপত্রে চৌর্যবৃত্তি ঠেকাতে প্লেজারিজম চেকিং বাংলা সফটওয়্যার dubd21 উদ্বোধনসহ বেশ কিছু উদ্যোগ হাতে নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। এবার চৌর্যবৃত্তি ঠেকাতে শাস্তির বিধান রেখে ‘দ্য রুলস ফর দ্য প্রিভেনশন অব প্লেজারিজম’ শীর্ষক নীতিমালা তৈরি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (২৩ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় প্রাথমিকভাবে এ সংক্রান্ত নীতিমালায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে নীতিমালার কিছু বিষয়ে সংযোজন-বিয়োজনের মাধ্যমে সংশোধন করা যায় কিনা সেজন্য নীতিমালা প্রণয়নকারী কমিটিকে আরও দু’সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, উদ্ধৃতি বা সূত্র ছাড়া কোনো গবেষণা বা লেখার সঙ্গে অন্য কারও তথ্য-উপাত্ত, ধারণা, লেখা বা কাজের সামঞ্জস্য চৌর্যবৃত্তি হিসেবে গণ্য হবে।

এতে গবেষণায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত সামঞ্জস্যকে ‘গ্রহণযোগ্য’ (লেভেল-০) বলা হয়েছে৷ এ ক্ষেত্রে কোনো শাস্তির মুখে পড়তে হবে না। তবে এ ক্ষেত্রে একক উৎস থেকে সর্বোচ্চ ২ শতাংশের বেশি তথ্য ব্যবহার করা যাবে না। একই উৎস বা সূত্র থেকে ২ শতাংশের বেশি তথ্য ব্যবহার করা হলে তা নিম্নমাত্রার সামঞ্জস্যের (লেভেল-১) আওতায় পড়বে। অন্যের লেখার সঙ্গে ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত মিলও এই লেভেলে রাখা হয়েছে।

৪০-৬০ শতাংশ হবে মধ্যমাত্রা (লেভেল-২), আর ৬০ শতাংশের বেশি সামঞ্জস্য উচ্চমাত্রার (লেভেল-৩) অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে । উচ্চমাত্রার অপরাধের পুনরাবৃত্তি হবে সবচেয়ে গুরুতর অপরাধ।

নীতিমালা অনুযায়ী, লেভেল-১ এর অপরাধ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ডিগ্রি বা ক্রেডিট ৬ মাসের জন্য স্থগিত করে লেখক বা গবেষককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়া সাপেক্ষে পাণ্ডুলিপি সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। ওই সময়েও সংশোধনে ব্যর্থ হলে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়া সাপেক্ষে তাদের আরও ৬ মাস সময় দেওয়া হতে পারে।

দ্বিতীয় পর্যায়েও সংশোধনে ব্যর্থ হলে লেখক বা গবেষকের ওই ডিগ্রি বা কোর্স বাতিল বা প্রত্যাহার করা হবে। একই সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্ট ডিগ্রি ৬ মাসের জন্য স্থগিত করে ২০ হাজার টাকা জরিমানা সাপেক্ষে ৬ মাসের মধ্যে পাণ্ডুলিপি সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে।

এই সময়ের মধ্যে ডিগ্রি চৌর্যবৃত্তিমুক্ত প্রমাণ করতে পারলে তা নবায়ন হবে। তবে ওই ব্যক্তি অন্য কোনো সুবিধা পাবেন না। কিন্তু ওই ব্যক্তি নির্দিষ্ট সময়ে পাণ্ডুলিপি সংশোধনে ব্যর্থ হলে পদাবনতি ও দুই বছরের জন্য পদোন্নতি বন্ধের শাস্তি পাবেন।

লেভেল-২ এর অপরাধ প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তি ২০ হাজার টাকা জরিমানা সাপেক্ষে পাণ্ডুলিপি সংশোধনে ১ বছর সময় পাবেন। এই সময়ে সংশ্লিষ্ট ডিগ্রি বা ক্রেডিট স্থগিত থাকবে। ওই সময়ে পাণ্ডুলিপি সংশোধনে ব্যর্থ হলে আরও ২০ হাজার টাকা জরিমানা সাপেক্ষে আরও ৬ মাস সময় দেওয়া হবে। পুরো সময় পর ওই ডিগ্রি বা কোর্সটি বাতিল করা হবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট ডিগ্রি বাতিলের পাশাপাশি এক ধাপ পদাবনতি ও চার বছরের জন্য পদোন্নতি বন্ধের শাস্তি হবে তার।

লেভেল-৩-এর অপরাধ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ডিগ্রি বা কোর্স ২ বছরের জন্য স্থগিত করে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা সাপেক্ষে পাণ্ডুলিপি সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ে সংশোধনে ব্যর্থ হলে ওই ডিগ্রি বাতিল ও কোর্সটি অনুত্তীর্ণ (এফ গ্রেড) বলে গণ্য হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিগ্রি বাতিলের পাশাপাশি এক ধাপ পদাবনতি ও ছয় বছরের জন্য পদোন্নতি বন্ধের শাস্তি হবে তার। কোনো ব্যক্তি লেভেল-৩-এর অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটালে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকরিচ্যুত করা হবে।

অপরাধের তিনটি লেভেলেই দায়ী ব্যক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা বা গবেষক হলে এবং তিনি নকল ডিগ্রির মাধ্যমে নিয়োগ-পদোন্নতি বা অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট সময়ে পাওয়া সব টাকা অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাগারে ফেরত নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ( শিক্ষা) অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল “যেহেতু এই নীতিমালাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর, আমরা শিক্ষকদের বলেছি আপনারা আরও দুই সপ্তাহ বিষয়টি ভালোভাবে দেখেন, কারও যদি গ্রহণযোগ্য মতামত থাকে, তাহলে সেটা আমরা বিবেচনা করব। দুই সপ্তাহ পর ডিনস কমিটির মিটিংয়ে উত্থাপন করে পরবর্তী সিন্ডিকেটের সভায় অনুমোদন নিয়ে আমরা এটা বাস্তবায়নে যাব।”

চৌর্যবৃত্তিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ডিগ্রি বা কোর্সের তত্ত্বাবধায়ক, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব জার্নালের ক্ষেত্রে সম্পাদনা পরিষদের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শাস্তির বিধান আছে নতুন এই নীতিমালায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান বা ইনস্টিটিউটের পরিচালক বরাবর যে কোনো ব্যক্তি লিখিতভাবে গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির বিষয়ে অভিযোগ করতে পারবেন।

back to top