alt

শিক্ষা

শিক্ষা অবকাঠামো নির্মাণে ‘দুর্নীতি’ স্বাভাবিক রীতিতে পরিণত হচ্ছে

রাকিব উদ্দিন

: সোমবার, ২০ মার্চ ২০২৩

অবকাঠামো নির্মাণে ‘দুর্নীতি’ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে (ইইডি) স্বাভাবিক রীতিতে পরিণত হচ্ছে। সংস্থার নিজস্ব তদন্তে বারবার নির্মাণকাজে দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রমাণ মিললেও অভিযুক্তরা ধরা ছুয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। দু’একটি ক্ষেত্রে ‘নামকাওয়াস্তে’ শাস্তির নামে বদলি করা হচ্ছে; পরবর্তীতে ‘প্রাইজ পোস্টিং’ দেয়া হয়। এ ধরণের অনিয়মের ঘটনায় ইইডিতে ‘অভ্যন্তরীণ দ্বন্ধ’ প্রকট হচ্ছে।

এছাড়া ইইডির অধীনে দেশব্যাপী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই পুরো কাজ না করে বা আংশিক কাজ সম্পন্ন করেই পুরো বিল ‘ভাগিয়ে’ নেয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এক শ্রেণীর প্রকৌশলী ও ঠিকাদার ‘সঙ্গবন্ধভাবে’ এ কাজ করছে। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যে সংস্থার (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর-মাউশি) অধীনে তারা এ নিয়ে ‘নির্বিকার’।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশির পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক একিউএম শফিউল আজম সংবাদকে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরাই মাউশির প্রতিনিধি। ইইডির নির্মাণ কাজ ঠিকমত না হলে তারা মাউশি জানাতে পারেন। তখন ব্যবস্থা নেয়া হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টাঙ্গাইলের বাসাইল ডিগ্রি কলেজে ‘সিডিউল বহির্ভূতভাবে নিম্নমানের আংশিক’ কাজ সম্পাদন করে এবং অন্য ‘অধিকাংশ কাজ বাস্তবায়ন না করেই’ চূড়ান্ত বিল দাখিলের জন্য সহকারি প্রকৌশলী শাহরিয়ার মো. নাজমুল আহসান এবং উপসহকারি প্রকৌশলী নুরুল ইসলামকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেন ইইডির টাঙ্গাইল জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান আলী।

নোটিশে বলা হয়েছে, নিম্নমানের টাইলস ব্যবহার, কম্পিউটার কক্ষ ও টয়লেট ব্লক নির্মাণ না করা, পাঁকা না করে নিম্নমানের কাঠ ও ডেউটিন দিয়ে গ্যারেজ নির্মাণ এবং আরও কয়েকটি কাজ না করার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সম্প্রতি রংপুরের ‘মর্ণেয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে’ও আংশিক কাজ করেই পুরো বিল ভাগিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিদ্যালয়ে ২০১৯ সালে এক কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন তলা ভবন সম্প্রসারণ এবং প্রথম ও দ্বিতীয় তলা ভবন সংস্থারের কার্যাদেশ দেয়া হয় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে।

কিন্তু ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর যোগসাজশে পুরো কাজেই নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠে। এক বছর যেতে না যেতেই দেয়ালের পলেস্তার খসে পড়তে থাকে। দরজা, জানালায় ব্যাবহৃত রডও খুলে পড়তে থাকে। ছাঁদ চুয়ে পানি চুইয়ে পড়ে। এতে দেয়ালও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ এসব কাজের জন্য ঠিকাদারের পুরো বিল পরিশোধ করা হয়েছে বলে ইইডির প্রধান কার্যালয় থেকে জানা গেছে।

রংপুরে এ ধরণের আরও কয়েকটি অনিয়মের ঘটনার অভিযোগ আসে ইইডির প্রধান কার্যালয়ে। রংপুরে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে অগ্রিম প্রায় এক কোটি টাকার বিল পরিশোধের পর এখন পর্যন্ত ‘ফাইলিং’ না হওয়ার প্রমাণ পেয়েছে ইইডির একটি তদন্ত কমিটি। এ অনিয়মের ঘটনা উদঘাটন করায় উল্টো পরিদর্শনকারী প্রকৌশলীদের নানাভাবে হেনস্তার অভিযোগ উঠে।

যদিও ইইডির প্রধান প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার সম্প্রতি রংপুর জোনের বিভিন্ন কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। তিনি জোন অফিসের নানা ‘নেতিবাচক’ কর্মকা-ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে তার সহকর্মীরা জানিয়েছেন।

দেলোয়ার হোসেন মজুমদার সংবাদকে জানিয়েছেন, তিনি প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব নেয়ার পর অনিয়ম-দুর্নীতিকে ‘বিন্দুমাত্র’ প্রশ্রয় দিচ্ছেন না। তবে এর আগে যেসব অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে সেগুলির দায়িত্ব তিনি নেবেন না; কাউকে ছাড়ও দেবেন না।

এ বিষয়ে মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ সংবাদকে বলেছেন, ‘আমরা প্রায়ই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবকাঠামো নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ পাচ্ছি। বিষয়গুলো খুবই দুঃখজনক।’

ইঞ্জিনিয়ারিং কাজ দেখভালের জন্য মাউশির নিজস্ব কোন জনবল নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে ইইডির ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয়। কিন্তু তারা স্কুল-কলেজে অবকাঠামো নির্মাণে অনেক প্রকল্প নিচ্ছেন, অথচ আমরা জানিই না। কাজও ঠিকমত হচ্ছে না।’

নিম্নমানের অবকাঠামো নির্মাণে সহায়তার অভিযোগে ঢাকা থেকে একজন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী দুই বছর আগে হবিগঞ্জে বদলি করা হয়েছিল। একটি মহলকে ‘ম্যানেজ’ করে ওই প্রকৌশলী সম্প্রতি নরসিংদীতে গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন পেয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আরও কয়েকজন অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ ‘স্টেশনে’ পদায়নের তোড়জোড় চলছে।

আটটি ‘দুর্নীতি’র ঘটনা বিশেষ করে কাজ না হওয়া সত্ত্বেও ঠিকাদারদের অগ্রিম বিল দেয়ার কারণে ইইডির ঢাকা জোন অফিসের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলীকে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ নোটিশ নিয়েও চলছে নানা রকম খেলাধুলা। একটি পক্ষ্য বিষয়টিকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে এবং অন্য একটি পক্ষ্য যেকোন মূল্যে ‘শাস্তি’ দিতে চাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঢাকা জোন অফিসের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ বিষয়ে ‘জোরেশোরে’ তৎপরতায় লিপ্ত রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নোটিশ অনুযায়ী, সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবকাঠামো নির্মাণ কাজ না হওয়া সত্ত্বেও ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ঢাকা জোন অফিস থেকে কয়েকজন ঠিকাদারকে প্রায় আট কোটি টাকা অগ্রিম পরিশোধ করা হয়।

এরমধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠানের কাজই ছিল একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কব্জায়, যার মালিক গত বছর মারা গেছেন। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ আর এগোয়নি। অন্য যেসব ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে অগ্রিম বিল দেয়া হয়েছে তাদের কাজও এগোয়নি। এরমধ্যে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে নির্মাণ সামগ্রীর দামও কয়েক দফা বেড়েছে। এর ফলে ঠিকারদার কাজেও আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। কিন্তু অগ্রিম টাকাও ফেরত পাচ্ছে না ইইডি।

প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রাজধানীর ‘আইডিয়াল কলেজ’ (নিউমার্কেট) ভবন নির্মাণের জন্য অগ্রিম ৯৩ লাখ টাকা দেয়া হলেও কাজ হয়নি। এছাড়া বাউথার মোমেছা বেগম বিদ্যালয়ে (উত্তর খান) এক কোটি ৪৬ লাখ টাকা, নুরজাহান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে (উত্তর খান) এক কোটি ৫০ লাখ টাকা, কাফরুলের আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে এক কোটি ১৮ লাখ টাকা, দক্ষিণ খানের গাওয়াইর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে এক কোটি ৫৪ লাখ টাকা, উত্তর খানের মৈনারটেক হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের ৯৮ লাখ টাকা এবং পল্লবীতে সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজে অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য ১৪ লাখ টাকা অগ্রিম পরিশোধের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজে অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য অগ্রিম যে টাকা দেয়া হয়েছিল সেই পরিমাণ কাজ ইতোমধ্যে হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এছাড়াও ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ইইডির ঢাকা জোন অফিসের অনুকূলে বরাদ্দকৃত ৩৯ কোটি ৩০ লাখ টাকার বিপরীতে বরাদ্দপত্রের নির্দেশনা উপেক্ষা করে বরাদ্দ অপেক্ষা পাঁচ কোটি ২১ লাখ ১০ হাজার ৬০৮ টাকা ‘অনিয়মিতভাবে অতিরিক্ত উত্তোলন’ করার অভিযোগ ইইডির তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

ওইসব অনিয়মের ঘটনায় ইইডির নির্র্র্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম মো. আখতারুজ্জামানকে গতমাসে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সোলেমান খান।

সবকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাজেই অগ্রিম বিল পরিশোধের সময় ঢাকা জোন অফিসের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী ছিলেন আবুল কালাম মো. আখতারুজ্জামানকে দায়ী করা হয়েছে। তাকে ২০২১ সালের অক্টোবরে রংপুর জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী পদে বদলি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই আছেন।

এ বিষয়ে আবুল কালাম মো. আখতারুজ্জামান সোমবার (২০ মার্চ) সংবাদকে জানিয়েছেন, তিনি ইতোমধ্যে নোটিশের জবাব দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘কাজগুলো ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়ে গেছে। একজন ঠিকাদার মারা যাওয়ায় এ সমস্যা হয়েছিল।’

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সালেমান খান স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়, ‘যেহেতু জনাব আবুল কালাম মো. আখতারুজ্জামান, নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল), শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, রংপুর এর উক্তরূপ কার্যকলাপ সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এ মোতাবেক ‘অসদাচরণ’ ও ‘দুর্নীতি’র পর্যায়ভুক্ত শাস্তিযুক্ত অপরাধ।’

‘সেহেতু উপর্যুক্ত অপরাধে আপনাকে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা মোতাবেক ‘অসদাচরণ’ ও ‘দুর্নীতি’র অভিযোগে অভিযুক্ত করা হলো। একই বিধিমালা অনুযায়ী কেন আপনার উপর ‘চাকরি হতে বরখাস্তকরণ’ অথবা অন্য কোন উপযুক্ত দন্ড কেন প্রদান করা হবে না তা এ অভিযোগনামা প্রাপ্তির ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানানোর জন্য বলা হলো।’

ছবি

পেনশন স্কিম বাতিলের দাবিতে জবি শিক্ষকরা ক্লাস নেয়নি ২ ঘন্টা

ছবি

গুচ্ছে আবেদনের সময় বাড়ছে ১ দিন

ছবি

গবেষণার ফলাফল সকলের বোধগম্য হওয়াই বিজ্ঞানীর স্বার্থকতা : সাদেকা হালিম

ছবি

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জবি উপাচার্যের

ছবি

সার্বজনীন পেনশন বাতিলের দাবিতে জবি শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন

ছবি

একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির আবেদন শুরু হলো আজ

ছবি

কারিগরি বোর্ড : সিস্টেম এনালিস্ট চুরি করেন ৫ হাজার পিস বিশেষ কাগজ

ছবি

শিক্ষার্থী সংকট, একীভূত হচ্ছে খুলনার ৪৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়

ছবি

ওয়াইল্ড লাইফ অলিম্পিয়াডের নিবন্ধন চলছে

ছবি

১৫-২৫ জুলাই একাদশে ভর্তি, ৩০ জুলাই ক্লাস শুরু

একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির আবেদন আগামী ২৬ মে শুরু হচ্ছে

ছবি

শুরু হচ্ছে এ এস ইসলাম স্কুল অব লাইফ ২০২৪ এর অফলাইন পর্ব

ছবি

শতভাগ ফেল স্কুল-মাদ্রাসা বাতিলের উদ্যোগ

ছবি

নতুন শিক্ষাক্রমে মূল্যায়নের নতুন প্রস্তাব

ছবি

পাসের হারে ধারাবাহিক এগিয়ে যাচ্ছে মেয়েরা

ছবি

ডাক্তার নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস, তদন্ত কমিটি গঠন

ছবি

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা: ৫১ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল

ছবি

এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ১২৯ জন

ছবি

গুচ্ছের ‘সি’ ইউনিটের ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬০. ৪২

ছবি

মাধ্যমিকের ফল জানা যাবে আগামীকাল

ছবি

দাবিতে স্মার্ট কার্ড পাঞ্চ করে ঢুকতে হবে ঢুকতে হবে

ছবি

দেরি করে আসা পরীক্ষার্থীদের প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি জবি কেন্দ্রে

আড়াই হাজার পদ শূন্য রেখেই নতুন ৮ শতাধিক পদ সৃষ্টির উদ্যোগ

‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ ৪৪টি শিক্ষা ভবন আপাতত ভাঙা হচ্ছে না

ছবি

মঙ্গলবার আগের সূচিতে ফিরছে প্রাথমিকের ক্লাস

ছবি

কেমব্রিজ পরীক্ষায় ডিপিএস শিক্ষার্থীদের সাফল্য

ছবি

গুচ্ছের ‘বি’ ইউনিটের ফল প্রকাশ, পাসের হার ৩৬.৩৩

ছবি

প্রয়োজনে শুক্রবারও ক্লাস নেওয়া হবে : শিক্ষামন্ত্রী

ছবি

সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে আজ

ছবি

২০২৪-এ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার শিক্ষক প্রশিক্ষণ: উপাচার্য

ছবি

আইডিইবি শিক্ষা কোর্সকে বিএসসি(পাস)সমমান মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন চায়

নর্থইস্ট ইউনিভার্সিটির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হলেন লিয়াকত শাহ ফরিদী

ছবি

এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ ১২ মে

টাইমস হায়ার এডুকেশন র‌্যাঙ্কিংয়ে দেশসেরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

ছবি

এসএসসি পরীক্ষার ফল ঘোষণা ৯ থেকে ১১ মে’র মধ্যেই

ছবি

ঢাকাসহ ৫ জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্ধ

tab

শিক্ষা

শিক্ষা অবকাঠামো নির্মাণে ‘দুর্নীতি’ স্বাভাবিক রীতিতে পরিণত হচ্ছে

রাকিব উদ্দিন

সোমবার, ২০ মার্চ ২০২৩

অবকাঠামো নির্মাণে ‘দুর্নীতি’ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে (ইইডি) স্বাভাবিক রীতিতে পরিণত হচ্ছে। সংস্থার নিজস্ব তদন্তে বারবার নির্মাণকাজে দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রমাণ মিললেও অভিযুক্তরা ধরা ছুয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। দু’একটি ক্ষেত্রে ‘নামকাওয়াস্তে’ শাস্তির নামে বদলি করা হচ্ছে; পরবর্তীতে ‘প্রাইজ পোস্টিং’ দেয়া হয়। এ ধরণের অনিয়মের ঘটনায় ইইডিতে ‘অভ্যন্তরীণ দ্বন্ধ’ প্রকট হচ্ছে।

এছাড়া ইইডির অধীনে দেশব্যাপী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই পুরো কাজ না করে বা আংশিক কাজ সম্পন্ন করেই পুরো বিল ‘ভাগিয়ে’ নেয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এক শ্রেণীর প্রকৌশলী ও ঠিকাদার ‘সঙ্গবন্ধভাবে’ এ কাজ করছে। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যে সংস্থার (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর-মাউশি) অধীনে তারা এ নিয়ে ‘নির্বিকার’।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশির পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক একিউএম শফিউল আজম সংবাদকে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরাই মাউশির প্রতিনিধি। ইইডির নির্মাণ কাজ ঠিকমত না হলে তারা মাউশি জানাতে পারেন। তখন ব্যবস্থা নেয়া হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টাঙ্গাইলের বাসাইল ডিগ্রি কলেজে ‘সিডিউল বহির্ভূতভাবে নিম্নমানের আংশিক’ কাজ সম্পাদন করে এবং অন্য ‘অধিকাংশ কাজ বাস্তবায়ন না করেই’ চূড়ান্ত বিল দাখিলের জন্য সহকারি প্রকৌশলী শাহরিয়ার মো. নাজমুল আহসান এবং উপসহকারি প্রকৌশলী নুরুল ইসলামকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেন ইইডির টাঙ্গাইল জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান আলী।

নোটিশে বলা হয়েছে, নিম্নমানের টাইলস ব্যবহার, কম্পিউটার কক্ষ ও টয়লেট ব্লক নির্মাণ না করা, পাঁকা না করে নিম্নমানের কাঠ ও ডেউটিন দিয়ে গ্যারেজ নির্মাণ এবং আরও কয়েকটি কাজ না করার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সম্প্রতি রংপুরের ‘মর্ণেয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে’ও আংশিক কাজ করেই পুরো বিল ভাগিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিদ্যালয়ে ২০১৯ সালে এক কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন তলা ভবন সম্প্রসারণ এবং প্রথম ও দ্বিতীয় তলা ভবন সংস্থারের কার্যাদেশ দেয়া হয় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে।

কিন্তু ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর যোগসাজশে পুরো কাজেই নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠে। এক বছর যেতে না যেতেই দেয়ালের পলেস্তার খসে পড়তে থাকে। দরজা, জানালায় ব্যাবহৃত রডও খুলে পড়তে থাকে। ছাঁদ চুয়ে পানি চুইয়ে পড়ে। এতে দেয়ালও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ এসব কাজের জন্য ঠিকাদারের পুরো বিল পরিশোধ করা হয়েছে বলে ইইডির প্রধান কার্যালয় থেকে জানা গেছে।

রংপুরে এ ধরণের আরও কয়েকটি অনিয়মের ঘটনার অভিযোগ আসে ইইডির প্রধান কার্যালয়ে। রংপুরে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে অগ্রিম প্রায় এক কোটি টাকার বিল পরিশোধের পর এখন পর্যন্ত ‘ফাইলিং’ না হওয়ার প্রমাণ পেয়েছে ইইডির একটি তদন্ত কমিটি। এ অনিয়মের ঘটনা উদঘাটন করায় উল্টো পরিদর্শনকারী প্রকৌশলীদের নানাভাবে হেনস্তার অভিযোগ উঠে।

যদিও ইইডির প্রধান প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার সম্প্রতি রংপুর জোনের বিভিন্ন কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। তিনি জোন অফিসের নানা ‘নেতিবাচক’ কর্মকা-ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে তার সহকর্মীরা জানিয়েছেন।

দেলোয়ার হোসেন মজুমদার সংবাদকে জানিয়েছেন, তিনি প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব নেয়ার পর অনিয়ম-দুর্নীতিকে ‘বিন্দুমাত্র’ প্রশ্রয় দিচ্ছেন না। তবে এর আগে যেসব অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে সেগুলির দায়িত্ব তিনি নেবেন না; কাউকে ছাড়ও দেবেন না।

এ বিষয়ে মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ সংবাদকে বলেছেন, ‘আমরা প্রায়ই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবকাঠামো নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ পাচ্ছি। বিষয়গুলো খুবই দুঃখজনক।’

ইঞ্জিনিয়ারিং কাজ দেখভালের জন্য মাউশির নিজস্ব কোন জনবল নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে ইইডির ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয়। কিন্তু তারা স্কুল-কলেজে অবকাঠামো নির্মাণে অনেক প্রকল্প নিচ্ছেন, অথচ আমরা জানিই না। কাজও ঠিকমত হচ্ছে না।’

নিম্নমানের অবকাঠামো নির্মাণে সহায়তার অভিযোগে ঢাকা থেকে একজন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী দুই বছর আগে হবিগঞ্জে বদলি করা হয়েছিল। একটি মহলকে ‘ম্যানেজ’ করে ওই প্রকৌশলী সম্প্রতি নরসিংদীতে গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন পেয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আরও কয়েকজন অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ ‘স্টেশনে’ পদায়নের তোড়জোড় চলছে।

আটটি ‘দুর্নীতি’র ঘটনা বিশেষ করে কাজ না হওয়া সত্ত্বেও ঠিকাদারদের অগ্রিম বিল দেয়ার কারণে ইইডির ঢাকা জোন অফিসের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলীকে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ নোটিশ নিয়েও চলছে নানা রকম খেলাধুলা। একটি পক্ষ্য বিষয়টিকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে এবং অন্য একটি পক্ষ্য যেকোন মূল্যে ‘শাস্তি’ দিতে চাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঢাকা জোন অফিসের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ বিষয়ে ‘জোরেশোরে’ তৎপরতায় লিপ্ত রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নোটিশ অনুযায়ী, সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবকাঠামো নির্মাণ কাজ না হওয়া সত্ত্বেও ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ঢাকা জোন অফিস থেকে কয়েকজন ঠিকাদারকে প্রায় আট কোটি টাকা অগ্রিম পরিশোধ করা হয়।

এরমধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠানের কাজই ছিল একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কব্জায়, যার মালিক গত বছর মারা গেছেন। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ আর এগোয়নি। অন্য যেসব ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে অগ্রিম বিল দেয়া হয়েছে তাদের কাজও এগোয়নি। এরমধ্যে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে নির্মাণ সামগ্রীর দামও কয়েক দফা বেড়েছে। এর ফলে ঠিকারদার কাজেও আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। কিন্তু অগ্রিম টাকাও ফেরত পাচ্ছে না ইইডি।

প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রাজধানীর ‘আইডিয়াল কলেজ’ (নিউমার্কেট) ভবন নির্মাণের জন্য অগ্রিম ৯৩ লাখ টাকা দেয়া হলেও কাজ হয়নি। এছাড়া বাউথার মোমেছা বেগম বিদ্যালয়ে (উত্তর খান) এক কোটি ৪৬ লাখ টাকা, নুরজাহান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে (উত্তর খান) এক কোটি ৫০ লাখ টাকা, কাফরুলের আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে এক কোটি ১৮ লাখ টাকা, দক্ষিণ খানের গাওয়াইর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে এক কোটি ৫৪ লাখ টাকা, উত্তর খানের মৈনারটেক হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের ৯৮ লাখ টাকা এবং পল্লবীতে সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজে অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য ১৪ লাখ টাকা অগ্রিম পরিশোধের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজে অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য অগ্রিম যে টাকা দেয়া হয়েছিল সেই পরিমাণ কাজ ইতোমধ্যে হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এছাড়াও ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ইইডির ঢাকা জোন অফিসের অনুকূলে বরাদ্দকৃত ৩৯ কোটি ৩০ লাখ টাকার বিপরীতে বরাদ্দপত্রের নির্দেশনা উপেক্ষা করে বরাদ্দ অপেক্ষা পাঁচ কোটি ২১ লাখ ১০ হাজার ৬০৮ টাকা ‘অনিয়মিতভাবে অতিরিক্ত উত্তোলন’ করার অভিযোগ ইইডির তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

ওইসব অনিয়মের ঘটনায় ইইডির নির্র্র্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম মো. আখতারুজ্জামানকে গতমাসে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সোলেমান খান।

সবকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাজেই অগ্রিম বিল পরিশোধের সময় ঢাকা জোন অফিসের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী ছিলেন আবুল কালাম মো. আখতারুজ্জামানকে দায়ী করা হয়েছে। তাকে ২০২১ সালের অক্টোবরে রংপুর জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী পদে বদলি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই আছেন।

এ বিষয়ে আবুল কালাম মো. আখতারুজ্জামান সোমবার (২০ মার্চ) সংবাদকে জানিয়েছেন, তিনি ইতোমধ্যে নোটিশের জবাব দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘কাজগুলো ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়ে গেছে। একজন ঠিকাদার মারা যাওয়ায় এ সমস্যা হয়েছিল।’

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সালেমান খান স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়, ‘যেহেতু জনাব আবুল কালাম মো. আখতারুজ্জামান, নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল), শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, রংপুর এর উক্তরূপ কার্যকলাপ সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এ মোতাবেক ‘অসদাচরণ’ ও ‘দুর্নীতি’র পর্যায়ভুক্ত শাস্তিযুক্ত অপরাধ।’

‘সেহেতু উপর্যুক্ত অপরাধে আপনাকে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা মোতাবেক ‘অসদাচরণ’ ও ‘দুর্নীতি’র অভিযোগে অভিযুক্ত করা হলো। একই বিধিমালা অনুযায়ী কেন আপনার উপর ‘চাকরি হতে বরখাস্তকরণ’ অথবা অন্য কোন উপযুক্ত দন্ড কেন প্রদান করা হবে না তা এ অভিযোগনামা প্রাপ্তির ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানানোর জন্য বলা হলো।’

back to top