alt

প্রবাস

সিআইএকে ইয়াসির আরাফাতের বিকল্প খুঁজতে বলেছিলেন ডব্লিউ বুশ

নিজস্ব বার্তা প্রতিনিধি : : বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডব্লিউ বুশ দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএকে ফিলিস্তিনি মুক্তিসংগ্রামের মহান নেতা ইয়াসির আরাফাতের বিকল্প খোঁজার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে দেশটির তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কলিন পাওয়েল আরাফাতের উত্তরসূরি খোঁজার ব্যাপারে বুশের সঙ্গে একমত ছিলেন না। ব্রিটিশ গোয়েন্দা তথ্যের আলোকে এ খবর প্রকাশ করেছে আল-জাজিরা।

২০০০ সালে ইয়াসির আরাফাত ও ইসরায়েলি নেতা এহুদ বারাকের মধ্যে ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপরই যুক্তরাষ্ট্র এ উদ্যোগ নেয় যে আরাফাতের বিকল্প খুঁজে বের করতে হবে।

যুক্তরাজ্যের নথি অনুসারে, ২০০১ সালে বুশ যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন পবিত্র আল আকসা মসজিদকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনে ব্যাপক উত্তেজনা চলছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশমতো উত্তেজনা থামাতে পারছিলেন না ইয়াসির আরাফাত।

এ কারণে গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএকে ইয়াসির আরাফাতের বিকল্প খোঁজার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বুশ। কিন্তু সিআইএ ফিলিস্তিন পরিস্থিতির ওপর ব্যাপক গবেষণা করে জানিয়েছিল, ‘ইয়াসির আরাফাতের কোনো উত্তরসূরি তারা খুঁজে পায়নি।’

২০০০ সালে ইয়াসির আরাফাত ও এহুদ বারাকের আলোচনা স্থগিত হওয়ার পর ডব্লিউ বুশ এবং তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের মধ্যে টেলিফোনে আলাপ হয়েছিল। টেলিফোনে দুই নেতা ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছিলেন। আলোচনার একপর্যায়ে টনি ব্লেয়ার বলেন, ইয়াসির আরাফাত এ জন্য দায়ী। তিনি বলেছিলেন, ‘ফিলিস্তিনি নেতা কেবল তার অবস্থান বজায় রাখার জন্য কাজ করছেন। আরাফাতের আর কিছু দেওয়ার নেই। তারা সম্ভাব্য সব ছাড় দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

টনি ব্লেয়ারের এ বক্তব্য সমর্থন করেছিলেন ডব্লিউ বুশ। তারপর ইয়াসির আরাফাতকে ‘দুর্বল ও ব্যর্থ’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, সিআইএকে ফিলিস্তিনের নেতার সম্ভাব্য উত্তরসূরি খুঁজতে বলেছিলেন। কিন্তু গোয়েন্দা সংস্থাটি বলেছে, ‘ফিলিস্তিনিদের পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যবেক্ষণ করে তারা এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে আরাফাতের কোনো উত্তরসূরি পাওয়া যাচ্ছে না।’

ব্রিটিশ এই নথিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কলিন পাওয়েল আরাফাতের উত্তরসূরি খোঁজার ব্যাপারে বুশের সঙ্গে একমত ছিলেন না। ফিলিস্তিনি মুক্তিসংগ্রামের মহান নেতা ইয়াসির আরাফাত আজীবন একটা স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বপ্ন লালন করেছেন। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার জন্য তিনি সংগ্রাম করেছেন অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে। নির্বাসিত জীবনের গ্লানি সহ্য করেছেন, এক দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে আশ্রয় নিয়েছেন অন্য দেশে।

কখনো সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে, আবার কখনো আলোচনার টেবিলে বসে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার দাবি জানিয়েছেন বারবার। জীবনের শেষ দিনগুলোয় ইসরায়েলের সেনাবাহিনী তাকে গৃহবন্দী করে রাখে। গৃহবন্দী থাকা অবস্থায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ২০০৪ সালের ১১ নভেম্বর তার মৃত্যু হয়। তাকে পোলোনিয়াম বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষ তার শরীর ও পোশাকে পাওয়া গিয়েছিল। এ ঘটনার জন্য ফিলিস্তিন ও আরবরা ইসরায়েলকে দায়ী করে। তবে ইসরায়েল অভিযোগ অস্বীকার করে। ইয়াসির আরাফাতের জন্ম ১৯২৯ সালে মিসরের কায়রোতে। কায়রোর ইউনিভার্সিটি অব কিং ফুয়াদ ওয়ানে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হন ১৯৪৪ সালে। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করলে তিনি অন্য ছাত্রদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করেন এবং ফিলিস্তিনের পক্ষে যুদ্ধে অংশ নেন। ১৯৪৯ সালের প্রথম দিকে কায়রো ফিরে এসে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনায় ফিরে যান ইয়াসির।

১৯৫০ সালে স্নাতক সম্পন্ন হলে ফিলিস্তিনকে মুক্ত করার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে যোগ দেন রাজনীতিতে। ১৯৫৯ সালে কুয়েতে নির্বাসিতকালে ফিলিস্তিনি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মুক্তির সংগঠন ‘ফাতাহ’ গঠন করেন। পরবর্তী সময়ে এই সংগঠনের নাম হয় প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও)। ১৯৬৭-৬৮ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে সম্মুখসারিতে থেকে যুদ্ধ করেন ইয়াসির আরাফাত।

১৯৬৯ সালে ইয়াসির আরাফাত নির্বাচিত হন পিএলওর চেয়ারম্যান হিসেবে। এ সময় তিনি জর্ডানে নির্বাসিত জীবন যাপন করছিলেন। ১৯৭০ সালে জর্ডান থেকে চলে যান লেবাননে। লেবাননের রাজধানী বৈরুতে গড়ে তোলেন পিএলওর সদর দপ্তর। ১৯৮২ সালে ইসরায়েল লেবানন আক্রমণ করলে পিএলওর সদর দপ্তর তিউনিসে স্থানান্তর করা হয়। ১৯৯৩ সালে ইয়াসির আরাফাত ফিরে আসেন ফিলিস্তিনে।

ছবি

লিবিয়ায় ভয়াবহ বন্যায় ৬ বাংলাদেশির মৃত্যু

ছবি

জলকামান থেকে পানি ছিটিয়ে নারিতার রানওয়েতে বিমানকে অভ্যর্থনা

ছবি

নিউইয়র্কের শুদ্ধভাবে বাংলা লেখার দাবীতে তিনদিনব্যাপী গণস্বাক্ষর কর্মসূচী

ছবি

যুক্তরাজ্য শেফিল্ড আওয়ামী লীগের শোক দিবস পালন

ছবি

পাকিস্তানে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস পালিত

ছবি

ইতালিতে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি নারীর মৃত্যু, আহত ৫

ছবি

যুক্তরাষ্ট্রে দুর্বৃত্তের গুলিতে ফের বাংলাদেশি নিহত

ছবি

বাংলাদেশের আম্রপালির স্বাদে মোহিত স্পেন

ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন ইউকের নতুন কমিটি গঠন

ছবি

বাংলাদেশি বন্ধুকে খুন, ৮ বছর পালিয়ে থাকার পর বিচারের মুখে যুবক

ছবি

মালয়েশিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ আরও এক বাংলাদেশির মৃত্যু

এবার নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ সন্ত্রাসী হামলার শিকার

ছবি

নিউইয়র্কে দু’দিনব্যাপী ‘উত্তর আমেরিকা রবীন্দ্র উৎসব’

দেশে ফিরিয়ে না আনলে আত্মহত্যার হুমকি

ছবি

‘সুদিনের স্বপ্ন’ ফেলে আতঙ্ক পেরিয়ে অনিশ্চিতে

ছবি

মালয়েশিয়ায় মেশিনে আটকে বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু

ছবি

মালয়েশিয়ায় ‘নরক যন্ত্রণায়’ ভুগছেন আটকে পড়া বাংলাদেশিরা

ছবি

বাগদাদে ‘মেহেরজানাত বাংলাদেশ’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

ছবি

দক্ষিণ আফ্রিকায় ডাকাতের গুলিতে বাংলাদেশির মৃত্যু

ছবি

আমিরাতে লটারিতে তিন কোটি টাকার জিতলেন বাংলাদেশী

ছবি

সুইডেন ক্রিকেটবোর্ড সচিব হলেন বাংলাদেশী তথ্যপ্রযুক্তিবিদ আতিকুর রহমান

ছবি

দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশি নিহত

ছবি

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করতে,তুরস্কে পৌঁছেছে বাংলাদেশের উদ্ধারকারী দল

ছবি

নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত ১০ জনের মধ্যে ৭ জনেরই মৃত্যু

ছবি

জিয়াউর রহমান আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি: মির্জা ফখরুল

ছবি

আবুধাবিতে লটারিতে ১০০ কোটি টাকা জিতলেন বাংলাদেশের রাইফুল

ছবি

পরীমনির আঙুল পড়ে গিয়ে মচকে গেছে

ছবি

প্রবাসীদের কল্যাণার্থে সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে : হাইকমিশনার এম আল্লামা সিদ্দিকী

ছবি

বিজয় দিবস উপলক্ষে যুক্তরাজ্য শেফিল্ড আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা

সৌদি আরবে গাড়ি চাপায় নোয়াখালীর প্রবাসী যুবকের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক মাইক্রোবায়োলজিস্ট সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ছবি

ড্রোন হামলার জের: শস্য রপ্তানি চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ালো রাশিয়া

ছবি

বিদেশে কৃষ্ণাঙ্গ নারীকে ধর্ষণ, আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার

ছবি

রানির স্মরণসভায় যাওয়া ইমামকে অপসারণের দাবি বাংলাদেশি মুসল্লিদের

ছবি

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি নিহত

ছবি

ভিয়েতনামে রাতের আঁধারে বারে আগুন, নিহত অন্তত ১২

tab

প্রবাস

সিআইএকে ইয়াসির আরাফাতের বিকল্প খুঁজতে বলেছিলেন ডব্লিউ বুশ

নিজস্ব বার্তা প্রতিনিধি :

বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডব্লিউ বুশ দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএকে ফিলিস্তিনি মুক্তিসংগ্রামের মহান নেতা ইয়াসির আরাফাতের বিকল্প খোঁজার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে দেশটির তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কলিন পাওয়েল আরাফাতের উত্তরসূরি খোঁজার ব্যাপারে বুশের সঙ্গে একমত ছিলেন না। ব্রিটিশ গোয়েন্দা তথ্যের আলোকে এ খবর প্রকাশ করেছে আল-জাজিরা।

২০০০ সালে ইয়াসির আরাফাত ও ইসরায়েলি নেতা এহুদ বারাকের মধ্যে ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপরই যুক্তরাষ্ট্র এ উদ্যোগ নেয় যে আরাফাতের বিকল্প খুঁজে বের করতে হবে।

যুক্তরাজ্যের নথি অনুসারে, ২০০১ সালে বুশ যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন পবিত্র আল আকসা মসজিদকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনে ব্যাপক উত্তেজনা চলছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশমতো উত্তেজনা থামাতে পারছিলেন না ইয়াসির আরাফাত।

এ কারণে গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএকে ইয়াসির আরাফাতের বিকল্প খোঁজার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বুশ। কিন্তু সিআইএ ফিলিস্তিন পরিস্থিতির ওপর ব্যাপক গবেষণা করে জানিয়েছিল, ‘ইয়াসির আরাফাতের কোনো উত্তরসূরি তারা খুঁজে পায়নি।’

২০০০ সালে ইয়াসির আরাফাত ও এহুদ বারাকের আলোচনা স্থগিত হওয়ার পর ডব্লিউ বুশ এবং তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের মধ্যে টেলিফোনে আলাপ হয়েছিল। টেলিফোনে দুই নেতা ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছিলেন। আলোচনার একপর্যায়ে টনি ব্লেয়ার বলেন, ইয়াসির আরাফাত এ জন্য দায়ী। তিনি বলেছিলেন, ‘ফিলিস্তিনি নেতা কেবল তার অবস্থান বজায় রাখার জন্য কাজ করছেন। আরাফাতের আর কিছু দেওয়ার নেই। তারা সম্ভাব্য সব ছাড় দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

টনি ব্লেয়ারের এ বক্তব্য সমর্থন করেছিলেন ডব্লিউ বুশ। তারপর ইয়াসির আরাফাতকে ‘দুর্বল ও ব্যর্থ’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, সিআইএকে ফিলিস্তিনের নেতার সম্ভাব্য উত্তরসূরি খুঁজতে বলেছিলেন। কিন্তু গোয়েন্দা সংস্থাটি বলেছে, ‘ফিলিস্তিনিদের পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যবেক্ষণ করে তারা এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে আরাফাতের কোনো উত্তরসূরি পাওয়া যাচ্ছে না।’

ব্রিটিশ এই নথিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কলিন পাওয়েল আরাফাতের উত্তরসূরি খোঁজার ব্যাপারে বুশের সঙ্গে একমত ছিলেন না। ফিলিস্তিনি মুক্তিসংগ্রামের মহান নেতা ইয়াসির আরাফাত আজীবন একটা স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বপ্ন লালন করেছেন। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার জন্য তিনি সংগ্রাম করেছেন অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে। নির্বাসিত জীবনের গ্লানি সহ্য করেছেন, এক দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে আশ্রয় নিয়েছেন অন্য দেশে।

কখনো সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে, আবার কখনো আলোচনার টেবিলে বসে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার দাবি জানিয়েছেন বারবার। জীবনের শেষ দিনগুলোয় ইসরায়েলের সেনাবাহিনী তাকে গৃহবন্দী করে রাখে। গৃহবন্দী থাকা অবস্থায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ২০০৪ সালের ১১ নভেম্বর তার মৃত্যু হয়। তাকে পোলোনিয়াম বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষ তার শরীর ও পোশাকে পাওয়া গিয়েছিল। এ ঘটনার জন্য ফিলিস্তিন ও আরবরা ইসরায়েলকে দায়ী করে। তবে ইসরায়েল অভিযোগ অস্বীকার করে। ইয়াসির আরাফাতের জন্ম ১৯২৯ সালে মিসরের কায়রোতে। কায়রোর ইউনিভার্সিটি অব কিং ফুয়াদ ওয়ানে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হন ১৯৪৪ সালে। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করলে তিনি অন্য ছাত্রদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করেন এবং ফিলিস্তিনের পক্ষে যুদ্ধে অংশ নেন। ১৯৪৯ সালের প্রথম দিকে কায়রো ফিরে এসে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনায় ফিরে যান ইয়াসির।

১৯৫০ সালে স্নাতক সম্পন্ন হলে ফিলিস্তিনকে মুক্ত করার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে যোগ দেন রাজনীতিতে। ১৯৫৯ সালে কুয়েতে নির্বাসিতকালে ফিলিস্তিনি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মুক্তির সংগঠন ‘ফাতাহ’ গঠন করেন। পরবর্তী সময়ে এই সংগঠনের নাম হয় প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও)। ১৯৬৭-৬৮ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে সম্মুখসারিতে থেকে যুদ্ধ করেন ইয়াসির আরাফাত।

১৯৬৯ সালে ইয়াসির আরাফাত নির্বাচিত হন পিএলওর চেয়ারম্যান হিসেবে। এ সময় তিনি জর্ডানে নির্বাসিত জীবন যাপন করছিলেন। ১৯৭০ সালে জর্ডান থেকে চলে যান লেবাননে। লেবাননের রাজধানী বৈরুতে গড়ে তোলেন পিএলওর সদর দপ্তর। ১৯৮২ সালে ইসরায়েল লেবানন আক্রমণ করলে পিএলওর সদর দপ্তর তিউনিসে স্থানান্তর করা হয়। ১৯৯৩ সালে ইয়াসির আরাফাত ফিরে আসেন ফিলিস্তিনে।

back to top