রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার শাস্তি হিসাবে ভারতের পণ্যের ওপর শুল্ক দ্বিগুণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এবার আরেক ধাপ এগিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর যুদ্ধ বলে বসলেন ট্রাম্পের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো।
দিল্লিকে মস্কো থেকে তেল কেনা বন্ধে চাপ আরও বাড়িয়ে তিনি এ মন্তব্য করলেন। বুধবার ট্রাম্পের আরোপ করা ৫০ শতাংশ শুল্ক ভারতের পণ্যে কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নাভারোর এই বক্তব্য আসে।
বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ এই শুল্কে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে রাশিয়া থেকে তেল ও অস্ত্র কেনার জন্য ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনাই মস্কোর ইউক্রেইন আগ্রাসনে তহবিল জোগাচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের উপরে বোঝা বাড়িয়েছে।
ভারত ট্রাম্পের চাপানো শুল্ককে ‘অন্যায়’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলেছে, তেল ক্রয় কমানো হবে না। বরং ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের স্বার্থে তেলের ক্ষেত্রে ‘সেরা চুক্তি’ করা হবে।
রাশিয়া ২০২২ সালে ইউক্রেইন আগ্রাসনের আগে ভারতের তেলের ২ শতাংশও সরবরাহ করত না, এখন ভারতের তেলের মোট আমদানির ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশের যোগানদাতা হয়ে উঠেছে রাশিয়া।
ভারতের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র চীনের ওপর কিংবা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর একই ধরনের শুল্ক চাপায়নি। অথচ চীন রাশিয়ার সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা দেশ এবং ইইউ এখনও মস্কোর সঙ্গে বিপুল বাণিজ্য করছে।
কিন্তু মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো ভারতের রুশ তেল কেনা প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করেছেন।
তিনি বলেন, “ভারত যা করছে, তার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভোক্তা, ব্যবসায়ী, শ্রমিক— সবাই। ভারতের উচ্চ শুল্ক আমাদের কাজ, কারখানা, আয় ও মজুরি কেড়ে নিচ্ছে। করদাতারাও ক্ষতিগ্রস্ত, কারণ তাদের অর্থ দিয়েই আমাদেরকে মোদীর যুদ্ধ চালাতে হচ্ছে।”
তার এই মন্তব্যে সঞ্চালক নাভারোকে জিজ্ঞাসা করেন, “আপনি (রুশ প্রেসিডেন্ট) ‘পুতিনের যুদ্ধ’ কথাটি বলতে চাইছেন কিনা।” জবাবে নাভারো বলেন, “আমি (ভারতের প্রধানমন্ত্রী) ‘মোদীর যুদ্ধই’ বলছি। কারণ, শান্তির পথ অনেকটাই নয়া দিল্লির ওপর নির্ভর করছে।”
বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তিপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা আছে। ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করলেই ইউক্রেইনে যুদ্ধ চালানোর রসদ পাবে না মস্কো।
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কারোপ নিয়ে ভারতের যে অবস্থান, তা নিয়েও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন নাভারো।
তিনি বলেন, “ভারতীয়রা এ নিয়ে এতটাই উদ্ধত যে, তারা বলছে আমরা এত চড়া শুল্ক নেই না। এটি আমাদের সার্বভৌমত্ব। আমরা যেখান থেকে খুশি তেল কিনব। ভারত, আপনারা বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ, তাহলে সেই মতো আচরণ করুন।”
ভারতের পণ্যে কার্যকর হওয়া ৫০ শতাংশ শুল্ক দেশটির রপ্তানিনির্ভর শিল্পে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকা এতে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে ভারত সরবরাহ করে পোশাক, হীরা, চিংড়ি থেকে শুরু করে নানান পণ্য।
তবে দিল্লি-ওয়াশিংটনের এই বাকযুদ্ধ ও বাণিজ্য আলোচনার স্থগিত হওয়ার পরও সমাধানের সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, ভারত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অংশীদার।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে আস্থা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ; যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বড় অর্থনীতি। শেষ পর্যন্ত আমরা একত্রিত হব।”
গত ৬ অগাস্ট ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্কের উপর আরও ২৫ শতাংশ জরিমানা (অর্থাৎ মোট ৫০ শতাংশ) শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। যা ব্রাজিল ছাড়া অন্য সব দেশের উপর আরোপিত মার্কিন শুল্কের মধ্যে সর্বোচ্চ।
বুধবার থেকে এই শাস্তিমূলক শুল্ক কার্যকর হয়েছে। শুল্ক আরোপের প্রভাব মোকাবেলায় ভারত দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে। দিল্লি বলেছে, রপ্তানিতে তাৎক্ষণিক প্রভাব সীমিত হলেও অর্থনীতিতে এর চাপ সামলাতে জরুরি সমাধান দরকার।
মাসের শুরুতে নরেন্দ্র মোদী শুল্কের প্রভাব কমাতে কর হ্রাসের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয় জুলাই মাসের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলমান ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য আলোচনা এ ক্ষেত্রে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হবে।
বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট ২০২৫
রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার শাস্তি হিসাবে ভারতের পণ্যের ওপর শুল্ক দ্বিগুণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এবার আরেক ধাপ এগিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর যুদ্ধ বলে বসলেন ট্রাম্পের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো।
দিল্লিকে মস্কো থেকে তেল কেনা বন্ধে চাপ আরও বাড়িয়ে তিনি এ মন্তব্য করলেন। বুধবার ট্রাম্পের আরোপ করা ৫০ শতাংশ শুল্ক ভারতের পণ্যে কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নাভারোর এই বক্তব্য আসে।
বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ এই শুল্কে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে রাশিয়া থেকে তেল ও অস্ত্র কেনার জন্য ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনাই মস্কোর ইউক্রেইন আগ্রাসনে তহবিল জোগাচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের উপরে বোঝা বাড়িয়েছে।
ভারত ট্রাম্পের চাপানো শুল্ককে ‘অন্যায়’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলেছে, তেল ক্রয় কমানো হবে না। বরং ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের স্বার্থে তেলের ক্ষেত্রে ‘সেরা চুক্তি’ করা হবে।
রাশিয়া ২০২২ সালে ইউক্রেইন আগ্রাসনের আগে ভারতের তেলের ২ শতাংশও সরবরাহ করত না, এখন ভারতের তেলের মোট আমদানির ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশের যোগানদাতা হয়ে উঠেছে রাশিয়া।
ভারতের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র চীনের ওপর কিংবা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর একই ধরনের শুল্ক চাপায়নি। অথচ চীন রাশিয়ার সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা দেশ এবং ইইউ এখনও মস্কোর সঙ্গে বিপুল বাণিজ্য করছে।
কিন্তু মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো ভারতের রুশ তেল কেনা প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করেছেন।
তিনি বলেন, “ভারত যা করছে, তার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভোক্তা, ব্যবসায়ী, শ্রমিক— সবাই। ভারতের উচ্চ শুল্ক আমাদের কাজ, কারখানা, আয় ও মজুরি কেড়ে নিচ্ছে। করদাতারাও ক্ষতিগ্রস্ত, কারণ তাদের অর্থ দিয়েই আমাদেরকে মোদীর যুদ্ধ চালাতে হচ্ছে।”
তার এই মন্তব্যে সঞ্চালক নাভারোকে জিজ্ঞাসা করেন, “আপনি (রুশ প্রেসিডেন্ট) ‘পুতিনের যুদ্ধ’ কথাটি বলতে চাইছেন কিনা।” জবাবে নাভারো বলেন, “আমি (ভারতের প্রধানমন্ত্রী) ‘মোদীর যুদ্ধই’ বলছি। কারণ, শান্তির পথ অনেকটাই নয়া দিল্লির ওপর নির্ভর করছে।”
বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তিপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা আছে। ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করলেই ইউক্রেইনে যুদ্ধ চালানোর রসদ পাবে না মস্কো।
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কারোপ নিয়ে ভারতের যে অবস্থান, তা নিয়েও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন নাভারো।
তিনি বলেন, “ভারতীয়রা এ নিয়ে এতটাই উদ্ধত যে, তারা বলছে আমরা এত চড়া শুল্ক নেই না। এটি আমাদের সার্বভৌমত্ব। আমরা যেখান থেকে খুশি তেল কিনব। ভারত, আপনারা বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ, তাহলে সেই মতো আচরণ করুন।”
ভারতের পণ্যে কার্যকর হওয়া ৫০ শতাংশ শুল্ক দেশটির রপ্তানিনির্ভর শিল্পে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকা এতে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে ভারত সরবরাহ করে পোশাক, হীরা, চিংড়ি থেকে শুরু করে নানান পণ্য।
তবে দিল্লি-ওয়াশিংটনের এই বাকযুদ্ধ ও বাণিজ্য আলোচনার স্থগিত হওয়ার পরও সমাধানের সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, ভারত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অংশীদার।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে আস্থা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ; যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বড় অর্থনীতি। শেষ পর্যন্ত আমরা একত্রিত হব।”
গত ৬ অগাস্ট ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্কের উপর আরও ২৫ শতাংশ জরিমানা (অর্থাৎ মোট ৫০ শতাংশ) শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। যা ব্রাজিল ছাড়া অন্য সব দেশের উপর আরোপিত মার্কিন শুল্কের মধ্যে সর্বোচ্চ।
বুধবার থেকে এই শাস্তিমূলক শুল্ক কার্যকর হয়েছে। শুল্ক আরোপের প্রভাব মোকাবেলায় ভারত দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে। দিল্লি বলেছে, রপ্তানিতে তাৎক্ষণিক প্রভাব সীমিত হলেও অর্থনীতিতে এর চাপ সামলাতে জরুরি সমাধান দরকার।
মাসের শুরুতে নরেন্দ্র মোদী শুল্কের প্রভাব কমাতে কর হ্রাসের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয় জুলাই মাসের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলমান ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য আলোচনা এ ক্ষেত্রে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হবে।