ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে আটক করে মিয়ানমারে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো অন্তত ৪০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীর বিরুদ্ধে ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। শরণার্থীরা দাবি করেছেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের হাত বেঁধে, চোখ-মুখ ঢেকে সমুদ্রপথে পাঠিয়ে দিয়ে লাইফ জ্যাকেট পরিয়ে সমুদ্রে ঝাঁপ দিতে বাধ্য করেছে।
২৪ বছরের নুরুল আমিনের ভাই কায়রুল ও আরও কয়েকজন আত্মীয় এই দলের মধ্যে ছিলেন। ৯ মে শেষ ফোনকলে তিনি জানতে পারেন, ভারত সরকার তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাচ্ছে। “আমার বাবা-মাকে যে অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সেটা আমি মেনে নিতে পারছি না,” দিল্লিতে বিবিসিকে বলেন আমিন।
শরণার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী, ৬ মে দিল্লি থেকে বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের নামে থানায় ডেকে নেওয়ার পর তাদের আটক করা হয়। এরপর হিন্ডন বিমানবন্দর থেকে আন্দামানগামী বিমানে তোলা হয়। সেখান থেকে নৌবাহিনীর জাহাজে চাপিয়ে দেওয়া হয় তাদের।
শরণার্থী সোয়েদ নূর জানান, “বাসে তোলার পর আমাদের হাত প্লাস্টিকের দড়ি দিয়ে বাঁধা হয়, মুখ ঢাকা হয়। পরে বুঝতে পারি আমরা একটি বড় যুদ্ধজাহাজে।”
জাহাজে ১৪ ঘণ্টা কাটানোর পর, ৮ মে রাতে তাদের ছোট নৌকায় নামিয়ে দেওয়া হয়। লাইফ জ্যাকেট দিয়ে সমুদ্রে ঝাঁপ দিতে বাধ্য করা হয়। নূরের ভাষায়, “আমরা দড়ি ধরে ১০০ মিটারেরও বেশি সাঁতার কেটে তীরে পৌঁছাই।” পরে স্থানীয় মৎস্যজীবীরা জানান, তারা মিয়ানমারে এসে পড়েছেন।
শরণার্থীরা জানিয়েছেন, জাহাজে নিয়মিত খাবার দেওয়া হলেও তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। অনেককে মারধর করা হয়েছে, হেনস্তা করা হয়েছে। কেউ কেউ বলেন, খৎনা পরীক্ষা করতে প্যান্ট নামাতে বাধ্য করা হয় এবং ধর্মান্তরিত হওয়ার চাপ দেওয়া হয়।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষ দূত থমাস অ্যান্ড্রুজ বলেছেন, এসব অভিযোগের পক্ষে “উল্লেখযোগ্য প্রমাণ” আছে এবং তিনি বিষয়টি জেনেভায় ভারতের প্রতিনিধিদের কাছে তুলেছেন। তবে ভারত সরকারের কাছ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর একজন শরণার্থীর পরিবার ভারতের সুপ্রিম কোর্টে রিট দায়ের করে। সেখানে ফেরত পাঠানো ৪০ জনকে দিল্লিতে ফিরিয়ে আনা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তবে প্রাথমিক শুনানিতে আদালতের এক বিচারপতি অভিযোগকে “কল্পনাপ্রসূত” আখ্যা দেন। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে চূড়ান্ত শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
ভারতে বর্তমানে জাতিসংঘে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ২৪ হাজার হলেও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে প্রকৃত সংখ্যা অন্তত ৪০ হাজার। তবে ভারত সরকার তাদের শরণার্থী নয়, বরং অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বিবেচনা করে।
এমন পরিস্থিতিতে শরণার্থীরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। “আমাদেরও যেকোনো সময় ধরে নিয়ে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হতে পারে,” আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নুরুল আমিন।
শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫
ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে আটক করে মিয়ানমারে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো অন্তত ৪০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীর বিরুদ্ধে ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। শরণার্থীরা দাবি করেছেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের হাত বেঁধে, চোখ-মুখ ঢেকে সমুদ্রপথে পাঠিয়ে দিয়ে লাইফ জ্যাকেট পরিয়ে সমুদ্রে ঝাঁপ দিতে বাধ্য করেছে।
২৪ বছরের নুরুল আমিনের ভাই কায়রুল ও আরও কয়েকজন আত্মীয় এই দলের মধ্যে ছিলেন। ৯ মে শেষ ফোনকলে তিনি জানতে পারেন, ভারত সরকার তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাচ্ছে। “আমার বাবা-মাকে যে অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সেটা আমি মেনে নিতে পারছি না,” দিল্লিতে বিবিসিকে বলেন আমিন।
শরণার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী, ৬ মে দিল্লি থেকে বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের নামে থানায় ডেকে নেওয়ার পর তাদের আটক করা হয়। এরপর হিন্ডন বিমানবন্দর থেকে আন্দামানগামী বিমানে তোলা হয়। সেখান থেকে নৌবাহিনীর জাহাজে চাপিয়ে দেওয়া হয় তাদের।
শরণার্থী সোয়েদ নূর জানান, “বাসে তোলার পর আমাদের হাত প্লাস্টিকের দড়ি দিয়ে বাঁধা হয়, মুখ ঢাকা হয়। পরে বুঝতে পারি আমরা একটি বড় যুদ্ধজাহাজে।”
জাহাজে ১৪ ঘণ্টা কাটানোর পর, ৮ মে রাতে তাদের ছোট নৌকায় নামিয়ে দেওয়া হয়। লাইফ জ্যাকেট দিয়ে সমুদ্রে ঝাঁপ দিতে বাধ্য করা হয়। নূরের ভাষায়, “আমরা দড়ি ধরে ১০০ মিটারেরও বেশি সাঁতার কেটে তীরে পৌঁছাই।” পরে স্থানীয় মৎস্যজীবীরা জানান, তারা মিয়ানমারে এসে পড়েছেন।
শরণার্থীরা জানিয়েছেন, জাহাজে নিয়মিত খাবার দেওয়া হলেও তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। অনেককে মারধর করা হয়েছে, হেনস্তা করা হয়েছে। কেউ কেউ বলেন, খৎনা পরীক্ষা করতে প্যান্ট নামাতে বাধ্য করা হয় এবং ধর্মান্তরিত হওয়ার চাপ দেওয়া হয়।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষ দূত থমাস অ্যান্ড্রুজ বলেছেন, এসব অভিযোগের পক্ষে “উল্লেখযোগ্য প্রমাণ” আছে এবং তিনি বিষয়টি জেনেভায় ভারতের প্রতিনিধিদের কাছে তুলেছেন। তবে ভারত সরকারের কাছ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর একজন শরণার্থীর পরিবার ভারতের সুপ্রিম কোর্টে রিট দায়ের করে। সেখানে ফেরত পাঠানো ৪০ জনকে দিল্লিতে ফিরিয়ে আনা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তবে প্রাথমিক শুনানিতে আদালতের এক বিচারপতি অভিযোগকে “কল্পনাপ্রসূত” আখ্যা দেন। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে চূড়ান্ত শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
ভারতে বর্তমানে জাতিসংঘে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ২৪ হাজার হলেও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে প্রকৃত সংখ্যা অন্তত ৪০ হাজার। তবে ভারত সরকার তাদের শরণার্থী নয়, বরং অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বিবেচনা করে।
এমন পরিস্থিতিতে শরণার্থীরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। “আমাদেরও যেকোনো সময় ধরে নিয়ে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হতে পারে,” আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নুরুল আমিন।