alt

মিডিয়া

খন্দকার মুনীরুজ্জামানের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী বুধবার

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট : মঙ্গলবার, ২৩ নভেম্বর ২০২১

দৈনিক সংবাদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মুনীরুজ্জামানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী বুধবার (২৪ নভেম্বর)। গত বছর (২০২০ সালে) এই দিনে করোনা পরবর্তী শারীরিক জটিলতায় রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।

বুধবার খন্দকার মুনীরুজ্জামানের ১ম মৃত্যুবার্ষিকীতে সকালে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং বিকেলে তার বাসভবনে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। দোয়া মাহফিলে তার শুভাকাক্সক্ষী, শুভানুধ্যায়ী ও আত্মীয়স্বজনদের অংশ নিতে তার পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

খন্দকার মুনীরুজ্জামান ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী, আপোষহীন, নীতিবান, আদর্শ সাংবাদিক; নিরপেক্ষ, বস্তুনিষ্ঠ ও নির্ভীক সাংবাদিকতার প্রতীক। গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি সব সময় সোচ্চার ছিলেন। তার লেখনী ছিল ক্ষুরধার। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, প্রগতিশীল চিন্তা ও গণতন্ত্রের বিকাশে তিনি ছিলেন অবিচল।

দেশের প্রতিটি প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অসামান্য অবদান রাখা সাংবাদিক খন্দকার মুনীরুজ্জামান স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। স্বাধীন সাংবাদিকতার বিকাশ ও রক্ষায় এবং গণমাধ্যমকে গণমানুষের দর্পণে পরিণত করতে খন্দকার মুনীরুজ্জামানের অবদান অনস্বীকার্য।

খন্দকার মুনীরুজ্জামান ১৯৪৮ সালের ১২ মার্চ ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। ডন স্কুলে তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার হাতেখড়ি। সেখান থেকে মুসলিম বয়েজ স্কুলে পড়েছেন দু’বছর। এরপর ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে ১৯৬৫ সালে ম্যাট্রিকুলেশন, ঢাকা কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ইন্টারমেডিয়েট, জগন্নাথ কলেজ থেকে সয়েল সায়েন্সে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগে এম.এ. ভর্তি হয়ে অধ্যয়ন শুরু করলেও নানা জটিলতায় শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত পরীক্ষা দেয়া হয়নি।

মুনীরুজ্জামান ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে পড়ার সময় ১৯৬৩ সালের নভেম্বর মাসে জগন্নাথ কলেজ ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন। ’৬৫ সালে গোপন কর্মী হিসেবে কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যুক্ত হন। ’৬৯-এর মহান গণঅভ্যুত্থানে সাহসী ভূমিকা পালন করেন। ’৭০-এর দিকে শ্রমিক আন্দোলনে যোগদান করেন। একাত্তরে ন্যাপ-ছাত্র ইউনিয়ন-কমিউনিস্ট পার্টির সম্মিলিত বিশেষ গেরিলা বাহিনীর প্রথম ব্যাচে আসামের তেজপুরে সামরিক প্রশিক্ষণ নেন। তিনি আগরতলায় পার্টির একটি মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের ‘ইনচার্জ’ ছিলেন।

খন্দকার মুনীরুজ্জামান স্বাধীনতার পর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে তিনি ঢাকা মহানগর কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত তিনি ওই দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কমিউনিস্ট পার্টির মুখপাত্র সাপ্তাহিক একতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে ’৯০-এর দশকে সাপ্তাহিক যায়যায়দিনে যোগদান করেন। পরে রাজনৈতিক বিশ্লেষণধর্মী কলাম লেখক হিসেবে তিনি পরিচিতি পান।

খন্দকার মুনীরুজ্জামান ১৯৯৬ সালের ১৪ মে সহকারী সম্পাদক হিসেবে সংবাদে যোগ দেন। ২০১০ সালের ৪ জানুয়ারি সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হন এবং আমৃত্যু এই দায়িত্বে ছিলেন।

২০১৯ সালে মুনীরুজ্জামান প্রেস কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে মনোনীত হন। তিনি দীর্ঘদিন কমিউনিস্ট পার্টির ঢাকা জেলা কমিটির সম্পাদক ছিলেন। সাংবাদিকতা ছাড়াও তিনি কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, চিত্র সমালোচনা এবং নিয়মিত কলাম লিখতেন।

খন্দকার মুনীরুজ্জামানের স্ত্রী ডা. রোকেয়া খাতুন (রেখা) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (অব.)। তার একমাত্র ছেলে ডা. ইশতিয়াক আলম সঞ্জু সরকারি হাসপাতালে সহকারী অধ্যাপক (সার্জারি) হিসেবে কর্মরত। পুত্রবধূ ডা. ফারজানা হক (পর্ণা) সরকারি হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট।

ছবি

ডিআরইউর সভাপতি মিঠু, সা. সম্পাদক হাসিব

ছবি

উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে ডিআরইউ নির্বাচন

ছবি

‘মফস্বলে নিরাপত্তার অভাবই অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার প্রধান বাঁধা’

ছবি

আহমদুল কবিরের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী

ছবি

এফজেএফডির সভাপতি ইসা, সম্পাদক আলী আজম

ছবি

ডিজিটাল এবং ওটিটিতে গণমাধ্যমের ভবিষ্যৎ: মিডিয়া ইনোভেশন কনফারেন্সে বক্তারা

ছবি

ষড়যন্ত্রকারীদের জন্য মানুষ পরিবর্তন চায় কি না সেটিই প্রশ্ন: তথ্যমন্ত্রী

ছবি

‘ফ্রি প্রেস অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম

ছবি

গণমাধ্যমের বিকাশ হলেও লেখার মান বাড়ছে না: তথ্যমন্ত্রী

ছবি

নভেম্বরের পর ‘সেট টপ বক্স ছাড়া কেবল টিভি দেখা যাবে না’

ছবি

কলকাতা প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধু সংবাদ কেন্দ্র উদ্বোধন করলেন তথ্যমন্ত্রী

ছবি

আগামীকাল কলকাতা প্রেসক্লাবে ‘বঙ্গবন্ধু সংবাদ কেন্দ্র’ উদ্বোধন করবেন তথ্যমন্ত্রী

ছবি

৮২ বার পেছালো সাগর-রুনির তদন্ত প্রতিবেদন

ছবি

ভোটগ্রহণ চলছে বিএফইউজে নির্বাচনের

স্থায়ী সদস্য এস. এম. শওকত হোসেন আর নেই

ছবি

ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

ছবি

না ফেরার দেশে রফিকুল হক ‘দাদু ভাই’

ছবি

শাহরুখপুত্র আরিয়ান খানকে ১৪ দিন কারা হেফাজতে রাখার নির্দেশ

ছবি

সাংবাদিক অরুণ বসু মারা গেছেন

ছবি

সংবাদের খন্দকার মুনীরুজ্জামানসহ প্রেসক্লাবের ৩৪ সদস্যের স্মরণসভা

প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দুই সপ্তাহের অনুষ্ঠান

ছবি

বিএফইউজের একাংশের নির্বাচন স্থগিত করলো হাইকোর্ট

ছবি

শীর্ষ ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলবে সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগ

ছবি

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নতুন বই ‘বাংলাদেশ- একুশ শতকের পররাষ্ট্রনীতি: উন্নয়ন ও নেতৃত্ব’

ছবি

প্রেস কাউন্সিল অ্যাওয়ার্ড পেলেন মাজহারুল ইসলাম মিচেল

ছবি

সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ বিষয়ক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত

ছবি

জেলা পরিষদের অর্থায়নে মাদারীপুর প্রেসক্লাব ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

সম্পাদক পরিষদে নঈম নিজামের পদত্যাগপত্র গৃহীত

ছবি

সভাপতি মোজাম্মেল বাবু, সাধারণ সম্পাদক ইনাম আহমেদ

ছবি

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের ব্যাংক হিসাব তলব

ছবি

বাংলাদেশি সাংবাদিকদের জন্য ফেসবুকের মোবাইল প্রশিক্ষণ কর্মসূচি

ছবি

ঢাকার গণহত্যা নিয়ে প্রথম প্রতিবেদন এবং সাইমন ড্রিং

ছবি

প্রধান তথ্য অফিসারের দায়িত্ব পেলেন শাহেনুর মিয়া

ছবি

আর শোনা যাবে না ভয়েস অফ আমেরিকার বাংলা বেতার সম্প্রচার

ছবি

কবি অরুণ দাশগুপ্ত আর নেই

ছবি

‘ওভারনাইট বান্দরবান পাঠিয়ে দেবো’ সংলাপের বিজ্ঞাপন বন্ধের নির্দেশ

tab

মিডিয়া

খন্দকার মুনীরুজ্জামানের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী বুধবার

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

মঙ্গলবার, ২৩ নভেম্বর ২০২১

দৈনিক সংবাদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মুনীরুজ্জামানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী বুধবার (২৪ নভেম্বর)। গত বছর (২০২০ সালে) এই দিনে করোনা পরবর্তী শারীরিক জটিলতায় রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।

বুধবার খন্দকার মুনীরুজ্জামানের ১ম মৃত্যুবার্ষিকীতে সকালে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং বিকেলে তার বাসভবনে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। দোয়া মাহফিলে তার শুভাকাক্সক্ষী, শুভানুধ্যায়ী ও আত্মীয়স্বজনদের অংশ নিতে তার পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

খন্দকার মুনীরুজ্জামান ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী, আপোষহীন, নীতিবান, আদর্শ সাংবাদিক; নিরপেক্ষ, বস্তুনিষ্ঠ ও নির্ভীক সাংবাদিকতার প্রতীক। গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি সব সময় সোচ্চার ছিলেন। তার লেখনী ছিল ক্ষুরধার। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, প্রগতিশীল চিন্তা ও গণতন্ত্রের বিকাশে তিনি ছিলেন অবিচল।

দেশের প্রতিটি প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অসামান্য অবদান রাখা সাংবাদিক খন্দকার মুনীরুজ্জামান স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। স্বাধীন সাংবাদিকতার বিকাশ ও রক্ষায় এবং গণমাধ্যমকে গণমানুষের দর্পণে পরিণত করতে খন্দকার মুনীরুজ্জামানের অবদান অনস্বীকার্য।

খন্দকার মুনীরুজ্জামান ১৯৪৮ সালের ১২ মার্চ ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। ডন স্কুলে তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার হাতেখড়ি। সেখান থেকে মুসলিম বয়েজ স্কুলে পড়েছেন দু’বছর। এরপর ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে ১৯৬৫ সালে ম্যাট্রিকুলেশন, ঢাকা কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ইন্টারমেডিয়েট, জগন্নাথ কলেজ থেকে সয়েল সায়েন্সে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগে এম.এ. ভর্তি হয়ে অধ্যয়ন শুরু করলেও নানা জটিলতায় শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত পরীক্ষা দেয়া হয়নি।

মুনীরুজ্জামান ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে পড়ার সময় ১৯৬৩ সালের নভেম্বর মাসে জগন্নাথ কলেজ ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন। ’৬৫ সালে গোপন কর্মী হিসেবে কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যুক্ত হন। ’৬৯-এর মহান গণঅভ্যুত্থানে সাহসী ভূমিকা পালন করেন। ’৭০-এর দিকে শ্রমিক আন্দোলনে যোগদান করেন। একাত্তরে ন্যাপ-ছাত্র ইউনিয়ন-কমিউনিস্ট পার্টির সম্মিলিত বিশেষ গেরিলা বাহিনীর প্রথম ব্যাচে আসামের তেজপুরে সামরিক প্রশিক্ষণ নেন। তিনি আগরতলায় পার্টির একটি মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের ‘ইনচার্জ’ ছিলেন।

খন্দকার মুনীরুজ্জামান স্বাধীনতার পর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে তিনি ঢাকা মহানগর কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত তিনি ওই দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কমিউনিস্ট পার্টির মুখপাত্র সাপ্তাহিক একতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে ’৯০-এর দশকে সাপ্তাহিক যায়যায়দিনে যোগদান করেন। পরে রাজনৈতিক বিশ্লেষণধর্মী কলাম লেখক হিসেবে তিনি পরিচিতি পান।

খন্দকার মুনীরুজ্জামান ১৯৯৬ সালের ১৪ মে সহকারী সম্পাদক হিসেবে সংবাদে যোগ দেন। ২০১০ সালের ৪ জানুয়ারি সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হন এবং আমৃত্যু এই দায়িত্বে ছিলেন।

২০১৯ সালে মুনীরুজ্জামান প্রেস কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে মনোনীত হন। তিনি দীর্ঘদিন কমিউনিস্ট পার্টির ঢাকা জেলা কমিটির সম্পাদক ছিলেন। সাংবাদিকতা ছাড়াও তিনি কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, চিত্র সমালোচনা এবং নিয়মিত কলাম লিখতেন।

খন্দকার মুনীরুজ্জামানের স্ত্রী ডা. রোকেয়া খাতুন (রেখা) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (অব.)। তার একমাত্র ছেলে ডা. ইশতিয়াক আলম সঞ্জু সরকারি হাসপাতালে সহকারী অধ্যাপক (সার্জারি) হিসেবে কর্মরত। পুত্রবধূ ডা. ফারজানা হক (পর্ণা) সরকারি হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট।

back to top